Page Nav

HIDE

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Grid

GRID_STYLE

শিরোনাম

latest

পরকালের কাঠগড়ায় আসামি হলে, আজহারী ছাড়িয়ে নিবেন।

ড.মিজানুর রহমান আজহারী পরকালের কাঠগড়ায় পর্দা আর ক্বাজা নামাজের জন্য যদি আসামি সাব্যস্ত হই, আজহারী সাহেব যদি বাদী হন আর কোরান মাথায়...

ড.মিজানুর রহমান আজহারী
পরকালের কাঠগড়ায় পর্দা আর ক্বাজা নামাজের জন্য যদি আসামি সাব্যস্ত হই, আজহারী সাহেব যদি বাদী
হন আর কোরান মাথায় হলফ করেন, তবে তাঁর ফতোয়া মানতে আমার কোনো সংশয় নেই।
------------------------------------------------------------------------
ডক্টরেট গবেষক তরুণ আলিম, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব যিনি তাঁর সুমধুর তানে, সাবলীল ভাষা শৈলী এবং ইংরেজি বাকপটুতা তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা দক্ষতায় সাড়া পেয়ে জয়
করে নিয়েছেন লক্ষ তরুণ তরুণী'র অন্তর। সুন্নাতি পোশাকে বেষ্টিত আকর্ষণীয় সুঠাম কায়া আর সুন্দর সদাহাস্যজ্বল মুখাবয়ব, সে সাথে তাঁর নম্র ভদ্র স্বভাব আর শিষ্টাচার দিয়ে স্হান করে নিয়েছেন ইয়ং সোসাইটির হৃদয় মণিকোঠায়। তাঁর অনুসরণ, অনুকরণে দিশাহীন প্রজন্মের অনেকেই ফিরে পেয়েছেন সঠিক পথের দিশা। ধর্মীয় লাইনচ্যুত
অনেক ব্যক্তি তাঁর তাফসীর বা বক্তৃতায় পরিবর্তন এনেছেন নিজেদের লাইফস্টাইলে। আমিও তাঁর
ব্যক্তিত্ব ভক্তকুলের নগণ্য একজন ফ্যান।

একজন আলিমের মুখে মহান আল্লাহর শানে "আবে হালা", নবীর (সঃ) শানে "সিক্সপ্যাক, নিরক্ষর" নবীপত্নী'র শানে "ভার্জিন" যদিও তার কিছুটা সত্য তবুও তাঁদের শানে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ কখনো মেনে নেয়ার মতো নয়। তবে তিনি অজ্ঞতাবসরে মুখ ফসকে বের হওয়া এসব অশ্রাব্য, হীন শব্দ উইড্রো করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আপন কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে ছোট করে অনুশোচনা করা মানুষগুলি আল্লাহ'র কাছে সবচেয়ে প্রিয় হন সমাদৃত হন জাতির কাছেও। মানুষ কখনো ভুলের ঊর্ধ্বে নন, সে হিসেবে তিনিও ক্ষমা পেলেন। অতপর তাঁকে অত্যধিক ধর্মপ্রিয়, রাসূলপ্রেমীক আপামর জনতা সাদরে পুনঃগ্রহণ করলেন।
সম্প্রতি তাঁর বিশেষ কিছু মতভেদপূর্ণ ফতওয়া নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে সমাজে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি বিশৃঙ্খলার। যারা শরয়ী জ্ঞান রাখেন তারা, দ্বীনি জ্ঞান শুণ্য মূর্খরাও আলোচনা সমালোচনায় সরব তাঁর দেয়া বক্তব্যে। চলছে অনলাইনে,অফলাইনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তর্কবিতর্ক আর কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি। পরস্পর দিচ্ছে ভ্রান্ত,পথভ্রষ্ট, আর কুফুরীর ট্যাগ।
ঝোপ বুঝে সুযোগসন্ধানী স্বার্থন্বেষী একটি কুচক্রী মহল উম্মাহ্'র ঐক্যকে ফাটল ধরাতে মরিয়া। উস্কে দিয়ে মুসলিম মিল্লাহ্'র ঐকতানকে বিনষ্ট করতে দিচ্ছে নিজেদের অভ্যন্তরে দলদলি লাগিয়ে। জ্ঞানসল্পতার ধরুন আপন মতকে শতোসিদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করতে হেফাজত, জামাত, তাবলীগ, চরমোনাই এই ধর্মীয় মোবারক সংঘগুলি গালি তিরস্কার হিসেবে ব্যবহার করছে অনায়াসে। যা আমাকে প্রতিনিয়ত অবাক করছে। ক্ষতবিক্ষত আহত হৃদয় থেকে ফোটা ফোটা রক্ত ঝরছে। এ ব্যাপারে অদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি ভীষণ শঙ্কিত।
পর্দা ইসলামের অনস্বীকার্য একটি শাশ্বত বিধান। নামাজ, রোজা, হজ্ব ইত্যাদি যেমন ফরজ তেমনি
পর্দাও সর্বদা নারী-পুরুষ উভয়ের উপর ফরজে আইন। তবে নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষ থেকে সমস্ত শরীর, দৃষ্টি আর কণ্ঠস্বরকে হেফাজত করা এবং পুরুষের ক্ষেত্রে পরনারী থেকে আপন দৃষ্টিকে সংযত করা। পর্দা নিয়ে কারো মতানৈক্য না থাকলেও তার সীমারেখা নিয়ে তাফসীর এবং ফিকহ শাস্ত্রে "মুতাকাদ্দিমীন" এবং "মুতাআখখীরিন" মুফাচ্ছিরীনে কিরাম এবং আহলে ইলম ইমামগণের একটি অংশে সামান্য মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়।
পর্দা দু'প্রকারঃ- ১.আপাদমস্তক আবৃত করা। ২. প্রয়োজন অনুসারে চেহরা এবং দু'হাতের কব্জি দু'পায়ের টাকনু ব্যতিরেখে শরীরকে চাদরে আবৃত রাখা। প্রথম প্রকার বাস্তব পর্দা, শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম পর্দা তাতে কারো কোনো দ্বিমত নেই। সবাই তাতে একমত। মতানৈক্যের যত বেঁড়াজাল দ্বিতীয় প্রকার নিয়ে। কোনোকোনো আলিম প্রয়োজন সাপেক্ষে
দ্বিতীয় প্রকারের পর্দাকে জায়েজ বলেছেন এবং তা করলেও পর্দা আদায় হয়ে যাবে এমনটা বলেছেন। মাওলানা আজহারী সাহেবও এর উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় প্রকারের পর্দার উপর আপন মতামত ব্যক্ত করেছেন। এবং তাকে বৈধতা দিয়েছেন। যদিও তিনি প্রথমটাকে সর্বোৎকৃষ্ট আখ্যা দিয়েছেন।
পর্দা ক্ষেত্রে যদিও মতানৈক্য থাকে তবে জমহুর সমস্ত ওলামায়ে ক্বিরাম একথার উপর একমত যে প্রথম প্রকার পর্দাই শরীয়ত গ্রহণীয়, বরণীয় একমাত্র পর্দা। দ্বীতিয় প্রকার পর্দা বলতে কিছুই নেই। এবং তা কেউ করলে আদায়ও হবেনা বরং উল্টো পর্দা নিয়ে ঠাট্টা করা হবে। আর একথার উপরই ফতোয়া। দ্বীমতের কোনো সুযোগ নেই।
যদি বলেন কেনো(?) কিভাবে(?) কোন আয়াত আর হাদীসের ভিত্তিতে(?) তবে আমি বলবো এ সম্পর্কে ধর্মীয় কিতাবাদীতে বিশদ আলোচনা আছে, আপনার একান্ত জানতে ইচ্ছে হলে যেকোনো মূলধারার মাদরাসা আর জামিয়ার ফতওয়া বিভাগ থেকে লিখিত ফতওয়া সংগ্রহ করতে পারেন। তাছাড়া একজন হক্কানি বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ মুফতি সাহেবের স্মরণাপন্নও হতে পারেন। কারণ, এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আর তা আমার লিখার উদ্দেশ্যও নয়। আমি ভিন্ন উদ্দেশ্যে যযাতিটা লিখছি।
এবার আসুন "ওমরী ক্বাজা" বা জীবনে ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজগুলির ক্বাজা নিয়ে কথা বলি। অহরহ বর্ণিত সহীহ হাদীসের আলোকে আয়িম্মায়ে ক্বিরামের ঐক্যমতে জীবনে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় ছুটে যাওয়া নমাজগুলির যখনই স্মরণ হবে তা ক্বাজা দিতে হবে। সর্বোপরি শরীয়ত আমাদের এটিই বলছে। পক্ষান্তরে মাওলানা আজহারী সাহেব ফতওয়া দিলেন শুধু ইসতেগফার পড়লে বা তাওবা করলে হয়ে যাবে। যা সরাসরি হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক। এ সম্পর্কেও আপনি ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বা ফতোয়া
বিভাগ থেকে সবিস্তারে ফতোয়া নিতে পারেন।
বিতর্ক কিংবা উশৃংখলতা এড়াতে বিতর্কিত ফতোয়া
বা ভুল ফতওয়া মাহফিলে না দিতে হক্কানি ওলামায়ে ক্বেরাম এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে ওনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বারংবার আর ভুলগুলিকে শুদ্রিয়ে দেয়ার নিতান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও কেনো যেনো ওনি সেদিকটা কর্ণপাত করছেননা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে এ বিষয়ে কোনো একটা সিদ্ধান্ত বা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হয় পরিবেশটা এভাবেই ঘোলাটে থেকেই যাবে। আর ঘোলাটে পরিবেশ থেকে পরিশুদ্ধি আশা করাটা বোকামি বৈ কিছুই নয়।
ইদানিং আমরা মাওলানা আজহারী সাহেবের মাহফিলগুলিতে লক্ষোর্ধ স্রোতার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আর ইলেকট্রনিকস মিডিয়া, ইউটিউব, ফেসবুকেও তাঁর বক্তৃতার লক্ষ লক্ষ ভিউয়ার্স পরিলক্ষণ করছি। তাঁকে অনুসরণ করে তাঁর বক্তব্যকে অনেকে বাস্তব জীবনে ফলো করছেন বা আমল করছেন। এমতাবস্থায় যদি ওনার ভুল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফতওয়াগুলি কোনো ব্যক্তি আমল করেন আর ভুল আমলের কারণে শেষ বিচারে আল্লাহর দরবারে পাকড়াও হন, আর লোকটি মাওলানা আজহারী সাহেবের পদাঙ্ক অনুসারী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তবে কি মাওলানা আজহারী সাহেব ভুলগুলির দায়ভার গ্রহণ করবেন? এতগুলি মানুষের ভুল আমলের গোনাহের বুঝার জামিন তিনি কি হবেন?
মাওলানা আজহারী সাহেবের ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই। শুধু আজহারী সাহেব কেনো; এ যুগে কোনো আলিম ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখেননা। সে হিসেবে আজহারী সাহেবও মুজতাহিদ (শরীয়তের পরিভাষায় কোরআনা হাদীস চষে তাদের নির্যাশ থেকে বিশেষ নিয়মনীতি অনুসারে নিত্যনতুন মাসআলার উদ্ভব করার যোগ্যতাকে ইজতিহাদ বলে এবং ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলে) নন যে, তিনি ফতওয়ায় ভুল করলে "ইজতিহাদ" করার জন্য একটি সওয়াব আর শুদ্ধ হলে "ইজতিহাদ আর সহীহ" হওয়াতে দু'টি সওয়াব পাবেন। বরং অশুদ্ধ ফতোয়া এবং হাদীসের ভুল তথ্য দেয়ার জন্য ভয়ানক শাস্তির কথা উল্লেখ আছে হাদীসে। হাদীস অনুযায়ী তিনিও হতে পারেন কঠিন সাজার সম্মুখীন। আল্লাহ্
হেফাজত করুন।
সুতরাং আধুনিক পর্দা আর ক্বাজা নামাজ আদায় না করার নিমিত্তে, পরকালের কাঠগড়ায় পর্দা আর ক্বাজা নামাজের ব্যাপারে যদি আমরা আসামী সাব্যস্ত কিংবা প্রশ্নের সম্মুখীন হই, আর মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব যদি "ইয়া নফসী'র" প্রক্ষালে আমাদের পক্ষ হয়ে বাদী হন আর মহান আল্লাহ'র সামনে আমাদের ব্যাপারে জবাবদিহিতা বা পক্ষপাতিত্ব করেন, অন্তত ওনার ফলোকৃত মাসআলাগুলির শুনানিতে যেনো আমরা মুক্তি পাই সে বিষয়ে কোরান মাথায় শপথবাক্য পাঠে নিশ্চয়তা দেন তবে তাঁর ফতোয়ার উপর আমল করতে আমার কোনো সংশয় নেই। বরং ওনার দেয়া ফতোয়ার উপর আমল করা অধিক সহজতর। কে'না চায় সৌন্দর্যের রাজধানী সজ্জিত উদোম চেহারা নিয়ে ঘুরতে। শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম নিকাব খুলে, কাজা নামাজের জন্য কেবল ইসতিগফার পড়ে এমন জান্নাতের সোজা পথের সন্ধান পেতে। এমন রাস্তার খুঁজে ছিলাম, অবশেষে হাতের নাগাল হলো।
হ্যাঁ, যদি মাওলানা আজহারী সাহেব তাঁর দেয়া ভুল ফতওয়ার উপর আমলকারীদের দায়ভার নিতে না পারেন তবে কোরআন হাদীসের অনুসৃত পথকে আঁকড়ে ধরুন। ওনার কোরআন হাদীস ভিত্তিক সঠিক বয়ানগুলিকে আমল করুন আর ভুলগুলিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন ভক্তির অনেক ঊর্ধ্বে ইসলাম আর তার শরীয়াত। আমিও ওনার একান্ত ভক্ত। আমি ওনার ভালো দিকগুলি গ্রহণ করে থাকি সর্বদা। কোরআন হাদীস সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলি এড়িয়ে চলি তবে, তা নিয়ে মারামারি টানাটানি হানাহানি করিনা।
বিঃদ্রঃ- অবাঞ্ছিত কুরুচিপূর্ণ হিংসাত্মক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। এটি মোটেও কাম্য নয়। বিনা অনুমতিতে কপি না করার জন্য ধন্যবাদ। কারণ, আপনি কপি করলে পরে আমি জানতে পারবোনা পাঠকের ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে। যদি একান্ত কপি করতেই হয় তবে আইডি ম্যানসন করুন।
মা'সালাম!
তরুণ লেখক ও গবেষকঃ মোহাম্মদ আন্-নাজমুস সাকিব

1 টি মন্তব্য

  1. অসংখ্য ধন্যবাদ বিটিএন পরিবারকে লিখাটি প্রকাশ করার জন্যে। শোকরান!

    উত্তরমুছুন