ডাঃ ইসরার আহমাদ রহিমাহুল্লাহ ভারতের হারিয়ানা নামক জেলায় ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দাদা হাফেজ নুরুল্লাহ ছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহি যুদ্ধের পরো...
ডাঃ ইসরার আহমাদ রহিমাহুল্লাহ ভারতের হারিয়ানা নামক জেলায় ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দাদা হাফেজ নুরুল্লাহ ছিলেন ১৮৫৭ সালের সিপাহি যুদ্ধের পরোক্ষ সৈনিক। মা ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনুহু এর বংশধর। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় পিতার সাথে পাকিস্তান চলে আসেন। ব্রিটিশ ভারতে তিনি মেট্রিক সমাপন করেন। হাইস্কুলে থাকতে তিনি এরাবিক গ্রামারসহ আরবি ভাষায় ভালো দক্ষতা অর্জন করেন। পরে পাকিস্তানে এমবিবিএস সমাপন করার পর লাহোর ভার্সিটিতে ইসলামিয়্যাত নিয়ে মাস্টার্স করেন।
মেট্রিকের সময় তিনি মাওলানা মওদুদির কিছু বই পড়ে তার চিন্তা ও গবেষণার প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়েন। আরো যাদের মাধ্যমে তিনি প্রভাবিত হন, তারা হলেন- শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি, শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান, আল্লামা ইকবাল, আমিন আহসান ইসলাহি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ রহিমাহুল্লাহুম প্রমুখ।
পাকিস্তানে এসে তিনি জামায়াতে ইসলামিতে যোগ দেন। অসম্ভব মেধা ও যোগ্যতার কারণে তিনি অল্পবয়সে জামায়াতে ইসলামির রোকন হোন।
ডাঃ ইসরার আহমাদ বৈপ্লবিক চিন্তার মানুষ ছিলেন। পাকিস্তানে এসে মাওলানা মওদুদি যখন আওয়াজ তুললেন এই বলে “পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে ইসলামের নামে। সুতরাং এখানে আইন ও বিধান চলবে ইসলামের”। তখন ইসরার আহমাদ এই বৈপ্লবিক ঘোষণায় আরো প্রভাবিত হলেন। কিন্তু তিনি জামায়াতের ইসলামির বৈপ্লবিক চিন্তায় প্রভাবিত হলেও ইসলামের মৌলিক জ্ঞান ও নির্দেশনাকে সবকিছুর উর্ধ্বে রাখতেন।
ইসরার আহমাদ প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করাকে কিছুতেই সঠিক মনে করতেন না। এই পথে কোনভাবেই ইসলামি হুকুমত কায়েম করা যাবে না বলে তিনি বদ্ধমূল বিশ্বাস করেন। তাই জামায়াতে ইসলামি যখনই প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে, তখনই তিনি জামায়াতে ইসলামি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। জামায়াতে ইসলামির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে তিনি সংগঠনের সবচে’ বড় ক্ষতিকর বিষয় মনে করেন। একজন রোকন হিসেবে জামায়াতে ইসলামি সম্পর্কে এই মূল্যায়ন অনেক বিজ্ঞজনের মাঝে ভাবনা সৃষ্টি করে। যেমন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুর রহিম রহিমাহুল্লাহ এর জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হবার বিষয়টাও ভাবিয়ে তুলে!
১৯৭৫ সালে ডাঃ ইসরার আহমাদ কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য তানজিমে ইসলামি নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। এই সংস্থা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বিশেষত কুরআনের প্রোগ্রামগুলো অত্যন্ত সমাদৃত হয়। বিভিন্ন গবেষণামূলক বইপত্রও প্রকাশ হয়ে থাকে।
ইউটিউবে ইসরার আহমাদের শত শত ভিডিও আছে বিভিন্ন বিষয়ে। বিশেষত কুরআনের তাফসির। ৩০ পারা কুরআনের ভাগ ভাগ করা ভিডিও থেকে যে কোন স্তরের মানুষ উপকৃত হতে পারে। খেলাফত, জিহাদ, কিতাল, কিয়ামত নিয়ে তার লেকচারগুলো অসাধারণ মুগ্ধকর। সিরাত, তাফসির, ফিকহ, মানতিক বিষয়ে তার বিস্তর অধ্যয়ন ছিলো। জাগতিক জ্ঞানের পাশাপাশি আলিমানা আন্দাজে তার ইসলামিক জ্ঞান অবাক করার মতো।
ডাঃ ইসরার আহমাদ মাওলানা মওদুদি রহিমাহুল্লাহ এর লিখনীতে প্রভাবিত হলে আদর্শের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় মানতেন শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রহিমাহুল্লাহকে। তাত্ত্বিকভাবে তিনি আল্লামা ইকবাল রহিমাহুল্লাহকে সবসময় সামনে রাখতেন।
পাকিস্তানের উলামায়ে কেরামের সাথে ইসরার আহমাদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিশেষত আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরি রহিমাহুল্লাহ এর সাথে এবং তার কোন এক কিতাবে বিন্নুরি সাহেবের ভূমিকাও আছে। ইসরার আহমাদ সম্পর্কে পাকিস্তানের গ্রান্ড মুফতি আল্লামা রফি উসমানি সাহেবের মুল্যায়ন আছে। তার জানাযার ভিডিওতে দেখা যায় পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শাইখ শহিদ সামিউল হক হক্কানি রহিমাহুল্লাহ।
আল্লাহ শাইখ ডাঃ ইসরার আহমাদ রহিমাহুল্লাহকে কে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
-মোর্শেদ চৌধুরী হাফিজাহুল্লাহ
কৃতজ্ঞতায়ঃমিজানুর রহমান
(অনুবাদক- দ্বীনি দায়িত্বের সামগ্রিক রূপরেখা)
কোন মন্তব্য নেই