Page Nav

HIDE

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Grid

GRID_STYLE

শিরোনাম

latest

নাস্তিকতার করালগ্রাসে বাংলাদেশ

____ইবনে আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ একটি জনপদ । বিশ্বাসে বেড়ে ওঠার কথা তাবৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী । কারণ যে জনপদের সিংহভাগই মুসলিম । সেখানে আজ নাস্তিক ব...

____ইবনে আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশ একটি জনপদ । বিশ্বাসে বেড়ে ওঠার কথা তাবৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী । কারণ যে জনপদের সিংহভাগই মুসলিম । সেখানে আজ নাস্তিক বেঁধেছে বাসা, উদ্ধত উলঙ্গ প্রকাশ তার । অবাধ ও প্রকাশ্য । সমাজের উঁচু স্তরে বসত করে এরা । বাহ্য দৃষ্টিতে মনে হয় অপরিমেয় শ্রদ্ধা ভাজন । বিশ্ববিদ্যালয়, এন,জি,ও কিংবা সরকারী কোন উচ্চ পদমর্যদায় ঘাপটি মেরে থাকে । কেশাগ্র স্পর্শ করার অবকাশ নেই । প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র যাদের পৃষ্ঠপোষক । ওরা নাস্তিক, ওদের শিকড় প্রোথিত তেলআবিব, ওয়াশিংটন বা লন্ডন পর্যন্ত । আবার কখনও কখনও শিকড় যেন ব্রাহ্মন্যবাদের জটাধারীদের জটায়-জটায় মিলে মিশে এক হয়ে যায় । তাই ওরা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালায় । সূর্য দেবের স্মৃতি গায় । অথচ নিজেকে আড়াল করে পিতৃ প্রদত্ত মুসলিম নামের ছদ্মাবরনে । যেমনঃ মোহাম্মদ শরীফ, নারায়ন আজাদ, শাহ আমসুর রহমান ।

এখানে এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা একটু আলোকপাত করি । উদ্ধৃত ব্যক্তিত্রয়ের প্রথম জন প্রয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক । তিনি ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বদেশ চিন্তা সংঘ ।মূলত! এটি ছিল মুসলিম মনস্ক ছেলে-মেয়েদের ইসলাম থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং ক্রমান্বয়ে নাস্তিকতার বোধ জাগ্রত করা ।

তিনি মনে করতেন, ইসলাম উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধক । আর দরিদ্র মানুষরাই এর অনুসরণ করে । তাই তিনি বলেন, দরিদ্র দোষে মানুষ ধার্মিক হয় ।

উদ্ধৃত দ্বিতীয় ব্যক্তির বক্তব্যঃ আমরা সৃষ্টি একটি প্রকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল মাত্র । এখানে কোন মহা সত্তার অস্তিত্ব বা উপস্থিতি বিশ্বাস নিছক বোকামী ।

তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার ধর্মে তেমন মতি ছিলনা । রাঢ়িখালের (রাঢ়িখাল তার গ্রামের নাম) অধিকাংশ মানুষ’ই মছিদে (মসজিদে এর বিকৃত লিখন) খুব একটা যাতায়াত করতনা ।

তিনি আরো বলেন, যে কোন নির্বোধের পক্ষে ধার্মিক হওয়া সহজ, কিন্তু শুধু জ্ঞানী ও মানবিক ব্যক্তিই হতে পারে নাস্তিক । নাস্তিক হত্যা আর ধ্বংস করে না; কিন্তু ধার্মিক সব সময় হত্যা ও ধ্বংসের জন্য ব্যগ্র থাকে । নাস্তিক চায় মানুষের চেতনাকে বদলে দিতে, মানুষকে বিকশিত করতে; আর ধার্মিক চায় মানুষের চেতনাকে নষ্ট করতে, মানুষকে রুদ্ধ করতে । ধার্মিকদের নৈতিকতাবোধ খুবই শোচনীয় ।

এভাবে তিনি প্রকাশ্যে কোমল মতি ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে নাস্তিকতার বীজ বপন করেন, লালন করেন এবং মহীরুহ রুপে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন ।

তিনি বলেন, ধার্মিকদের নৈতিকতাবোধ খুবই শোচনীয় । অথচ, তাঁর রচিত একটি উপন্যাসের অংশবিশেষঃ যেখানে এক মওলানা মুজাহিদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ মালাউন গো মাইয়া গো লগে করবা । অইতে গুনা নাই। সোবহানাল্লা ।

Òহাতদিয়াদ্যাখো, তোমাদেরদুইরানেরমাঝখানেকিআছে ? কিঝুলছে ? তারাহাতদিয়েদৃঢ়দন্ডঅনুভবকরে, স্বরমপায়।আমিজিজ্ঞেসকরি, কিআছেওখানে ? ওরাবলেহুযুরআমাগোলিঙ্গ।আমিবলিওটালিঙ্গনয়,পিস্তল, এম-১৬।ওইটাখোদারদেওয়াপিস্তল।ওইটাচালাতেহবেমালাউনমেয়েগুলারপেটে।জিহাদেরএটাইনিয়ম।

এর পরেও এরা শালীন, নৈতিকতার দাবীদার। নীতি হীন, বিবেক বিবর্জিত কর্মকান্ডের পরেও শ্রদ্ধাভাজন ওরা।

নবী রাসুলদের পর্যন্ত তাচ্ছিল্য করতে ছাড়েনি । যেমন তিনি বলেন,নবীদের অনেকেই ছিল শস্তা জ্যোতিষ । মোজেস বা মূসা তোতলা ছিলেন,ঠিক মতো কথা বলতে পারতেন না । নবী হওয়ার ইচ্ছেও তার ছিল না। অনিচ্ছায়ই তিনি নবী হয়েছিলেন। ওই অন্ঝলের পথে পথে নবী পাওয়া যেত।

এভাবে সম্মানিত নবী রাসুলরা পর্যন্ত বাংলার জমীনের তথাকথিত নাস্তিকদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ।

তিনি মদ্যপান প্রসঙ্গে প্রিয় রাসূলের সমালোচনা করে বলেন, পৃথিবী জুড়েই মুসলমান মদ্যপান করে, আর আরবরা পান করে না,মাছের মত গিলে । মদ্যপান মুসলমানের জন্য একদিনে নিষিদ্ধ হয়নি,হয়েছে ক্রমশ, এক বিখ্যাত ব্যাক্তির (রাসূলকে ইংগিত করা হয়েছে) মত্ততার কারণেই এটা নিষিদ্ধ হয়ে যায় চিরকালের জন্য । এর জন্য ব্যাবস্হা হয় আশিটি চাবুকের ,এমনকি মৃতুদন্ডের । এ অসুস্হতা থেকে উঠে আসতে হবে মুসলমানকে । মদকে মনে করতে হবে একটি পানীয় । যা প্রাপ্ত বয়স্ক পান করে।

উক্ত নাস্তিক কুরআনের আয়াতের সমালোচনা করে বলেন; কোরানে আছেঃ পুরুষ নারীর কর্তা , কারণ আল্লাহ তাদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত দান করেছেন এবং এজন্য যে পুরুষ ধন সম্পদ ব্যয় করে । স্ত্রীদের মধ্য যাদের অব্যাধতার আশংকা করো তাদের সুদপদেশ দাও,তারপর তাদের শয্যা বর্জন করো এবং তাদের প্রহার করো।(সুরা নিসা ৩৪)

পুরুষ ও নারী ইসলামে ব্যাক্তি হিসেবে প্রভু ও দাসী । নারী দাসী ও সম্ভোগের বস্তু। ইসলামে নারীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে চুড়ান্তভাবে পুরুষের কাম সামগ্রীরুপে উপস্হাপিত হওয়ার জন্য।

নাস্তিক বলেন,বেহেশত পুরুষের বিলাস স্থল । সেখানে পার্থিব নারী বা স্ত্রীদের স্হান নেই । পৃথীবিতে তারা চুক্তিবদ্ধ দাসী, স্বর্গে অনুপস্হিত বা উপস্হিত বা উপেক্ষিত । ইসলামি আইনে নারীকে নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে এ দৃষ্টকোণ থেকেই ।“উদ্ধত নাস্তিক । এটা মুসলিম বিশাল জনগোষ্ঠীর বিস্তৃত বাংলাদেশ । ভাবতে আবাক লাগে । আরো অসংখ্য অগনন ইসলাম বিরুদ্ধ উক্তিতে মুখর নাস্তিক ।

এখনই সময়, মহান রব্বুল আলামিন,প্রিয় রাসুল,পবিত্র কুরআন যাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর । প্রয়োজন মর্দে মুজাহি্দ, সাহাবাদের মত জানাবাজ ইসলামী সেনানী । আল্লাহর জমীনে দাড়িয়ে যারা আল্লাহর হুকুমের বিপক্ষে অবস্হান নিয়েছে চিহ্নিত সেই নাস্তিকদের সমূলে উৎপাটন করার এখনই সময় । বাংলার ঐ প্রত্যন্ত প্রান্তর হাতছানি দিয়ে ডাকে আয় মুজাহিদ, ছুটে আয় । নাস্তিকতার করালগ্রাস থেকে বাংলাদেশ বাচঁতে চায় । (১ম পর্ব সমাপ্ত)

কোন মন্তব্য নেই