Page Nav

HIDE

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Grid

GRID_STYLE

শিরোনাম

latest

নারী ধ্বংসের মূল তিনটি কারণ

একটি অনুগল্প বিটিএন24: কোর্টের ভিতর বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আট বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে। যার নাম মিষ্টি মেয়েটির নামের মতো মেয়েটি দেখতেও...

একটি অনুগল্প
বিটিএন24: কোর্টের ভিতর বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আট বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে। যার নাম মিষ্টি মেয়েটির নামের মতো মেয়েটি দেখতেও মিষ্টি। বিচারক তাকে প্রশ্ন করছে,
– তুমি কার সাথে থাকতে চাও তোমার বাবা সাথে নাকি তোমার মায়ের সাথে?
মিষ্টি বিচারকের কথা শুনে সবার দিকে একবার তাকায় এবং বলে,
– আমি আমার বড় মা ও বাবা সাথে থাকতে চাই যদি তারা আমাকে তাদের সাথে রাখতে চায়।
বিচারক একটু অবাক হয় মিষ্টির উত্তর শুনে। বিচারক জিজ্ঞাসা করে তার বড় মা – বাবা কে। মিষ্টি জানায় তারা সম্পর্কে তার বড় কাকা – কাকি হয়। বিচারক মিষ্টির বড় মা ও বাবার কাছে জানতে চায় তারা মিষ্টির দায়িত্ব নিতে চায় কিনা। তারা জানায় তারা মিষ্টির দায়িত্ব নিতে রাজি আছে। অতএব তার শেষ রায় দিয়ে দেয় যে মিষ্টি এখন থেকে তার বড় মা ও বাবার কাছেই থাকবে। তার এই মন্তব্যে মিষ্টির বাবা – মা একটু কষ্ট অথবা বিরোধিতা করে না।
মিষ্টির বাবা মায়ের বিয়ে হয়েছে দশ বছর হবে। তারা দুজনই চাকরিজীবি। মিষ্টি হওয়ার পর তাকে কোলেপিটে তার বড় মাই মানুষ করে। মিষ্টির বাবা – মা চাকরির জন্য দিনের বেশি ভাগ সময়ই বাসার বাইরে থাকে। মিষ্টির বাবা কাকারা একসাথেই থাকতো। তাই মিষ্টিকে তার বাবা মায়ের অবর্তমানে তার বড় মা খেয়াল রাখতো। মিষ্টির বড় বাবা – মায়ের বিয়ের হয়েছে প্রায় চৌদ্দ বছরের মতো কিন্তু তাদের কোনো সন্তান। কিন্তু তাদের মধ্যে আছে অঢেল ভালোবাসা যার কারণে তারা একে অপরকে ছেড়ে যায়নি। কিন্তু ভালবাসা জিনিসটা মিষ্টি বাবা-মায়ের মধ্যে নেই। থাকলেও হয়তো সেটা বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই ফিকে হয়ে গেছে। মিষ্টির বাবা মা সারাদিন অফিস করে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাই মিষ্টিকে তারা একদমই সময় দিতে পারে না।
গত দুই তিন বছর ধরে মিষ্টির বাবা মায়ের মধ্যের সম্পর্ক একদমই ভালো যাচ্ছিল না। এবং তারা আর একে অপরের সাথে থাকতে চাচ্ছে না। তারা এখন অন্য আরেক জনকে ভালোবাসে এবং উভয়ই তাদের নতুন ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে চায়। তাই অবশেষে তারা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের ফ্যামিলি অনেক বুঝানো চেষ্টা করছে কিন্তু তারা আর একসাথে থাকতে চায় না। মিষ্টির বাবা মায়ের ফ্যামিলির লোকজন জানিয়ে দিয়েছে তাদের ডিভোর্স হওয়ার পর যেন মিষ্টির বাবা মা তাদের পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ না করে। কারণ ডিভোর্স হওয়ার পর তাদের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না। বাবা মায়ের মধ্যে সারাদিন ঝগড়া লেগেই থাকতো যা দেখে মিষ্টি তাদের কাছে যেতো না ভয়ে । আর গেলেও তারা মিষ্টিকে একদমই সময় দিতো না। মিষ্টির সকল আবদার তার বড় মাই পূর্ণ করতো।
আজ বিচারক যখন মিষ্টির বাবা মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের মধ্যে কে মিষ্টিকে রাখতে চায়। তখন মিষ্টি মা বলেছে যে মিষ্টি তার বাবা সাথে থাকবে এবং মিষ্টির বাবা বলেছে মিষ্টি তার মায়ের সাথে থাকবে। প্রধান কথা হলো তারা কেউ মিষ্টিকে রাখতে চায় না। তারা উভয় নতুন সংসার শুরু করবে তার মধ্যে মিষ্টিকে নিয়ে ঝামেলা করতে চায় না।
বিচারক তাদের কথা শুনে খুবই অবাক হয় আর ভাবে এরা মানুষ হিসেবে কতোটা জঘন্য যে নিজেদের সন্তানকে ঝামেলা মনে করে।
তাই সে বাধ্য সে মিষ্টির কাছেই জানতে চায় সে কার কাছে থাকবে।
মিষ্টিও তার উত্তর দিয়ে দেয়। মিষ্টি ছোট হলেও সে যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে জানে সে যদি তার বাবা মায়ের সাথে থাকে তাহলে সে কোন ভাবেই ভালো থাকবে না। তাই সে তাদের মধ্যে থেকে কাউকেই বেছে নেয়নি।
মিষ্টির বাবা মায়ের ডিভোর্স সম্পূর্ণ হয়েছে তারা যে যার মতো চলে গেছে। মিষ্টির কথা তাদের মনেই নেই। আজ তাদের মিষ্টির কথা মনে না আসলেও একদিন ঠিকই মনে আসবে। যতই হোক তার সাথে রক্তের সম্পর্ক যে আছে। সেদিন হয়তো মিষ্টি তাদের আর মা – বাবা বলে মেনে নিতে চাইবে না। বাবা মায়ের বিচ্ছেদ একটা সন্তানের মনে কতটা আঘাত করে সেটা শুধু সেই সন্তানই জানে। মিষ্টি কেমন থাকবে সেটা সময়ের উপর নির্ভর করে।

কোন মন্তব্য নেই