بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল ...
بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম এবং তার সকল অনুসারীদের উপর।
সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম ভাই ও বোনেরা!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
হামদ ও সালাতের পর…
জায়নিস্ট দখলদার জোট তাদের সৈন্যদের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোতে ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছে। আঘাতের তীব্রতা ও ব্যাপকতায় মুসলিম ভূমিগুলো আজ জর্জরিত। এই জোট নিরবচ্ছিন্ন ভাবে আমাদের ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। প্রধানত জেরুজালেম ও পবিত্র আল আকসা মসজিদের চারপাশের ফিলিস্তিনবাসীদের লক্ষ্য করে এসকল হামলা চালানো হচ্ছে।
জায়নিস্ট জোট বিগত ৭০ বছর ধরে তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আলোচনা সংক্ষিপ্ত রাখার উদ্দেশ্যে এসকল সন্ত্রাসী কার্যক্রমের খুঁটিনাটি আলোচনার দিকে যাব না। সংক্ষেপে মূল কথা হচ্ছে – আন্তর্জাতিক ক্রুসেডার জোট মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে আমেরিকা। সাথে আছে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া। সাথে আরও আছে তাদের সকল আঞ্চলিক দোসররা। আমি আমার আলোচনা দুইটি পয়েন্টে আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।
প্রথম পয়েন্টঃ আমাদের ফিলিস্তিনী অধিবাসীরা আজ দুই ধরণের আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছেন। হয় সরাসরি ইসরাইলি দখলদারদের সম্মুখীন হচ্ছেন, অথবা ইসরাইলের হয়ে কাজ করা দোসরদের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হচ্ছেন। ইসরাইলের হয়ে কাজ করা দোসরদের অন্যতম দৃষ্টান্ত – ‘ফাতাহ’ দলের মাহমুদ আব্বাস। দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ছদ্মবেশে সে ফিলিস্তিনবাসীর বিরুদ্ধে চালানো ইসরাইলের আগ্রাসনে সাহায্য করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে সে নিজেকে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
তৃতীয়ত, ফিলিস্তিনে আরেক দল অধিবাসী আছেন যারা গাজাতে বসবাস করেন। গাজাবাসী একপ্রান্তে ইসরাইল দ্বারা অবরুদ্ধ, অন্যপ্রান্তে জায়নবাদি মিসর সরকারের কাঁটাতার দ্বারা অবরুদ্ধ। গাজায় অবস্থানরত মুজাহিদদেরকে প্রায়ই ইসরাইলের নিপীড়নের বিপরীতে; আত্মরক্ষা, নিজেদের সম্মানের সুরক্ষা ও আল আকসার পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে পাল্টা আক্রমণ চালাতে হয়। সেক্ষেত্রে গাজাবাসীকে তীব্র ইসরাইলি বিমান হামলার সম্মুখীন হতে হয় এবং প্রচুর ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা গাজাবাসী ও মুজাহিদদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তাদের শহিদদের কবুল করে নিন, আহতদের সুস্থতা দান করুন। বিধবা ও এতিমদের হেফাজত করুন, আমীন।
আমাদের ফিলিস্তিনবাসী ভাই বোনদের সাহায্য করার সবচাইতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদ্ধতি হল – ফিলিস্তিনবাসীদের বিরুদ্ধে যারাই আগ্রাসন চালাবে বা চালাতে সাহায্য করবে তাদের সকলের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা। সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একযোগে সারা পৃথিবী জুড়ে ফিলিস্তিনে আগ্রাসন পরিচালনাকারী ও আগ্রাসনে সাহায্যকারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আঘাত হানতে হবে। একাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের ফিলিস্তিনবাসীদের উপর চেপে থাকা বিশাল দায়িত্বের কিছুটা ভার লাঘব করতে পারবো।
জায়নিস্ট-ক্রুসেডার জোট সমগ্র ফিলিস্তিন দখল করতে চায়। আল আকসা মসজিদ ধ্বংস করে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটাস পর্যন্ত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ গঠন করতে চায়। মুসলিম উম্মাহ যদি এই জোটের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর উপর সারা পৃথিবী জুড়ে হামলা চালাতে পারে, তবে তা তাদের এসকল প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের পথে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবেও কাজ করবে।
মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই জেগে উঠতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর দখলদার সরকারগুলোর আশায় বসে থাকা যাবে না। এসকল শাসক ও সরকার কখনোই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করতে পারবে না। ইসরাইলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর হামলা করা ছাড়া এবং যে শক্তি ইসরাইলকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাকে ধ্বংস করা ছাড়া ফিলিস্তিনের মুক্তি সম্ভব হবে না। ফিলিস্তিনের মুক্তির দায়িত্ব সমগ্র মুসলিম উম্মাহর। বিশেষ করে উম্মাহর যুবক মুজাহিদদের, যারা এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
দ্বিতীয় পয়েন্টঃ আমি ফিলিস্তিনের ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল মুসলিম উম্মাহকে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। বিশেষ করে যারা আল আকসা মসজিদের কাছাকাছি বসবাস করেন তাদের প্রতি আমার আহবান থাকবে –
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাদের ফিলিস্তিন ও আল আকসা মসজিদ রক্ষার দায়িত্বের নিয়ামত প্রদান করে সম্মানিত করেছেন। তাই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের চেষ্টা করুন। আজ ‘দুই দেশ নীতি’, ‘ইন্টারন্যাশনাল রেজুলেশন’, ‘অসলো চুক্তি’ ও অন্যান্য প্রতারণামূলক চুক্তির নামে ফিলিস্তিনের ভূমি বিক্রি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। নামসর্বস্ব চুক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যেসকল ছদ্মবেশী বিশ্বাসঘাতক ফিলিস্তিনের ভূমি বিক্রি করে দিতে চায় তাদের প্রতিরোধ করুন।
এসকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সমগ্র পৃথিবীকে জানিয়ে দিন; এই বরকতময় ভূমির প্রতিটি বালুকণা রক্ষার স্বার্থে আপনারা আপনাদের পথে অটল থাকবেন। এই ভূমির প্রতিরক্ষার দায়িত্বের নিয়ামত আল্লাহ আপনাদের দান করেছেন এবং আপনাদের এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত করেছেন। আপনাদের এই প্রতিরক্ষার যাত্রায় সেই ঐতিহাসিক ফতোয়াকে সামনে রাখুন যা ফিলিস্তিনের পূর্বসূরি শাইখরা আপনাদের জন্য রেখে গিয়েছেন। হাজি আমিন হুসাইন রহিমাহুল্লাহ এর নেতৃত্ব ফিলিস্তিনী উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত্যে আল একসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ফতোয়া প্রদান করা হয়েছিল। ১৩৫৩ হিজরির ২০শে শাওয়াল মোতাবেক ২৬শে জানুয়ারি, ১৯৩৫ সালে এই ফতোয়া সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।
এই ফতোয়া অনুসারে, ‘ইহুদীদের নিকট ফিলিস্তিনী ভূমি বিক্রি করা হারাম এবং এর মধ্যস্থতা, সহযোগিতা করাও হারাম। এ সমস্ত বিষয়াদিতে সন্তুষ্ট হওয়া ও জেনেশুনে চুপ থাকাও হারাম। যেহেতু প্রত্যেক ফিলিস্তিনী নাগরিক এই ফতোয়া জানে এবং এর ফলাফলের বিষয়ে সন্তুষ্ট সেহেতু যে ব্যক্তি ফতোয়া লঙ্ঘন করাকে বৈধ মনে করবে, সে কাফের এবং মুরতাদ হয়ে যাবে[1]’।
আপনাদের পুণ্যবান পূর্বসূরিদের এই ফতোয়ার উপর জমে থাকুন। নিজেদের সন্তানদের এই ফতোয়া শিক্ষা দিন। প্রত্যেক ভণ্ড, বিশ্বাসঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীদের এই ফতোয়ার আলোকে প্রতিহত করুন।
আমি আপনাদের সেই আল্লাহর জিম্মায় সোপর্দ করলাম, যিনি তাঁর উপর ভরসাকারীর বিশ্বাসকে রক্ষা করেন।
প্রত্যেক সকল স্বাধীন, সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি আমার আহবান –
যদি আপনি এই বার্তায় সত্য ও উপকারী কিছু পেয়ে থাকেন, তবে তা অনুবাদ করে যথাসম্ভব অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। আর যদি এই বার্তায় ভুল কিছু পেয়ে থাকেন তবে আমাদেরকে উপদেশ দিন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন ইনশা আল্লাহ।
وآخرُ دعوانا أن الحمدُ للهِ ربِ العالمين، وصلى اللهُ على سيدِنا محمدٍ وآلِه وصحبِه وسلم. والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.
********
[1] কুদসের মুফতি, ইসলামী শূরার উচ্চপদস্থ নেতা ‘সায়্যেদ আমীন হোসাইন’ এর ফতোয়ায় এসেছে যে, সমস্ত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং দলিলের আলোকে এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে,
ইহুদীদের নিকট ফিলিস্তিনের ভূমি বিক্রেতা কয়েক কারণে অপরাধী।
১. মুসলমানদেরকে তাদের বাড়ি ঘর থেকে বের করার ব্যাপারে পদক্ষেপগ্রহণকারী এবং সাহায্যকারী।
২. মসজিদে আল্লাহর ইবাদত করা থেকে বাঁধা প্রদানকারী এবং তা বিরান করার জন্য সচেষ্ট।
৩. ইয়াহুদীদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণকারী। কেননা তার সকল কার্যক্রম মুসলমানদের বিরুদ্ধে, ইয়াহুদীদের পক্ষে সাহায্য হিসেবে ধরা হবে।
৪. আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের কষ্টদানকারী।
৫. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আমানতের খেয়ানতকারী।
———————
(আল কুদস কখনোই ইহুদীদের হবে না! পর্ব-১ | আরব জায়নবাদী ফয়সাল থেকে বিন যায়েদ – পৃষ্ঠা – ২৯-৩১)
বই বর্ণনা
অনুবাদ ও প্রকাশনা
-মূল প্রকাশনা সম্পর্কিত কিছু তথ্য-
মূল নাম:
كيف ندعم فلسطين؟ – للشيخ أيمن الظواهري.
ভিডিও দৈর্ঘ্য: ০৮:৩৭ মিনিট
প্রকাশের তারিখ: রজব, ১৪৪৪ হিজরি
প্রকাশক: আস সাহাব মিডিয়া
কোন মন্তব্য নেই