দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – ০১ بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته [ উল্লেখ্য ,...
দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – ০১
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته
[উল্লেখ্য, নিম্নে দাজ্জাল সম্পর্কিত উল্লেখিত হাদিস ও আছার সমূহ ও তার অনুবাদ গুলিকে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।]
দাজ্জাল -এর ফিতনাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنِّي أُنْذِرُكُمُوهُ وَمَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا قَدْ أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَهُ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنْ سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلًا لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ . رواه البخاري في صحيحه , كتاب الجهاد والسير , باب كيف يعرض الإسلام على الصبي : رقم ٣٠٥٧ – ‘নিশ্চই আমি তোমাদেরকে তার (তথা দাজ্জালের) ব্যাপারে সতর্ক করছি। আর এমন কোনো নবী নেই যিনি তাঁর কওমকে তার ব্যাপারে সতর্ক করেননি। এমনকি (নবী) নূহও তাঁর কওম’কে তার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। তবে তার সম্পর্কে আমি এখন তোমাদেরকে এমন কথা বলবো, যা কোনো নবী তাঁর কওম’কে বলেননি। তোমরা জেনে রেখো, (সে নিজকে বিশ্ব জাহানের রব/প্রভু দাবী করবে, অথচ) নিশ্চই সে হবে (এক চোখ) অন্ধ (ব্যাক্তি)। আর নিশ্চই (তোমাদের প্রকৃত রব/প্রভু) আল্লাহ অন্ধ নন’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩০৫৭]
# ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ خَلْقٌ أَكْبَرُ مِنْ الدَّجَّالِ . رواه مسلم في صحيحه: ٥٢٣٩, و احمد: ١٥٨٣١ – ‘(আদি পিতা নবী) আদমের সৃষ্টি থেকে নিয়ে কেয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত (সময়ের) মাঝে দাজ্জালের চাইতে বড় (ও ভয়ানক ফিতনাবাজ আর কোনো সৃষ্টি) নেই’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ৫২৩৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫৮৩১]
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَا بُعِثَ نَبِيٌّ إِلا أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الأَعْوَرَ الْكَذَّابَ ، أَلا إِنَّهُ أَعْوَرُ ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ، وَإِنَّ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَكْتُوبٌ “كَافِرٌ . رواه البخاري في الفتن باب ذكر الدجال: ٧١٣١ ، وأبو داود في الملاحم: ٣٧٦١، وأحمد: ١١٥٩٣ – ‘এমন কোনো নবী প্রেরিত হন নাই, যিনি তাঁর উম্মতকে (ওই) অন্ধ মিথ্যুক (দাজ্জাল)-এর ব্যাপারে সতর্ক করেননি। জেনে রেখো, (সে নিজকে বিশ্ব জাহানের রব/প্রভু দাবী করবে, অথচ) সে হবে অন্ধ। আর তোমাদের (প্রকৃত) রব (ও প্রভু আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন। আর তার দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) লিখা থাকবে ‘কাফের’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭১৩১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১১৫৯৩]
ফায়দা: অন্য সূত্রে আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত অারেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الدَّجَّالُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ثُمَّ تَهَجَّاهَا : “ك ف ر” ، يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُسْلِمٍ . رواه مسلم في الفتن باب ذكر الدجال: ٢٩٣٣، والترمذي في الفتن: ٢١٧١، وأحمد: ١٢٧٩٤ – ‘দাজ্জাল হল এক চোখ অন্ধ (ব্যাক্তি)। তার দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) লিখা থাকবে ‘কাফের’। অতঃপর তিনি (আলাদা আলাদা করে) বিশেষভাবে বললেন: ك ف ر (কাফ, ফা, রা)। তা প্রত্যেক মুসলীম পড়তে পারবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৩; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১২৭৯৪]
# ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَنْ سَمِعَ بِالدَّجَّالِ فَلْيَنْأَ عَنْهُ فَوَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يَبْعَثُ بِهِ مِنْ الشُّبُهَاتِ أَوْ لِمَا يَبْعَثُ بِهِ مِنْ الشُّبُهَاتِ . رواه أبو داود: ٤٣١٩; و صححه الألباني في صحيح أبي داود – ‘যে ব্যাক্তি দাজ্জালের (আগমনের) কথা শুনবে, (তার জন্য অপরিহার্য হল) সে তার থেকে দূরে (কোথাও) চলে যাবে। আল্লাহ’র কসম, নিশ্চই (কোনো কোনো) ব্যাক্তি নিজকে মু’মিন ধারনা করে তার কাছে আসবে, পরে (ইমান নষ্টকারী) সন্দেহ-সংশয় সমূহের মধ্য থেকে যা নিয়ে (দাজ্জাল) প্রেরিত হয়েছে কিংবা সন্দেহ-সংশয় সমূহের মধ্য থেকে যে উদ্দেশ্যে তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছে, সে তার অনুসরণ করে বসবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩১৯]
# হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لَأَنَا لَفِتْنَةُ بعْضِكُمْ أَخْوَفُ عِنْدِي مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ ، وَلَنْ يَنْجُوَ أَحَدٌ مِمَّا قَبلَهَا إِلَّا نَجَا مِنْهَا ، وَمَا صُنِعَتْ فِتْنَةٌ مُنْذُ كَانَتْ الدُّنْيَا صَغِيرَةٌ وَلَا كَبيرَةٌ ، إِلَّا لِفِتْنَةِ الدَّجَّالِ . رواه الإمام أحمد: ٥/٣٨٩, وقال الشيخ شعيب الأرناءوط: إسناده صحيح; و البزار في كشف الأستار: رقم ٣٣٩٢; قال الهيثمي: ٧/٣٣٥ رواه الإمام أحمد، والبزار و رجاله رجال الصحيح , و صححه الالباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة: رقم ٣٠٨٢ – ‘তোমাদের (মুসলমানদের মধ্যে) কোনো কোনো গোষ্ঠি ফিতনাগ্রস্থ হওয়ার ব্যাপারে আমার কাছে অবশ্যই দাজ্জালের ফিতনাই সর্বাধিক আশংকাজনক। অার যারা তার সম্মুখিন হবে তাদের মধ্যে যে তার থেকে (ইমান নিয়ে) বাঁচার সে বাদে তাদের একজনও (তার ফিতনা থেকে) বাঁচতে পারবে না। দুনিয়ার সৃষ্টি থেকে নিয়ে (যত) ছোট ও বড় ফিতনা সংঘটিত হয়েছে, (সেগুলোর একটাও) দাজ্জালের ফিতনার মতো (ভয়ানক) নয়’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস- ৫/৩৮৯; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৩৩৯২; মাজমাউ যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩৬]
# অায়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَعِيذُ فِي صَلاتِهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ . رواه البخاري في الفتن باب ذكر الدجال: ٧١٢٩ ، وأحمد: ٢٥٧٩٥ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ’কে তাঁর নামাযের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনা থেকে (আল্লাহ তাআলার) আশ্রয় চাইতে শুনেছি’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭১২৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৫৭৯৫]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ- إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ. رواه مسلم في المساجد باب ما يستعاذ منه في الصلاة: ٥٨٨ ، والترمذي في الدعوات: ٣٥٢٨، والنسائي في السهو: ١٢٩٣ ; وأبو داود في الصلاة: ٣٣، وابن ماجه في إقامة الصلاة: ٨٩٩ ، وأحمد: ٧١٩٦; والدارمي في الصلاة: ١٣١٠ – ‘তোমাদের কেউ যখন (নামাযের মধ্যে) তাশাহুদ পাঠ করবে, তখন সে যেন (আমার প্রতি দরূদ পাঠের পর দোয়ার মধ্যে) অবশ্যই চারটি জিনিস থেকে আল্লাহ’র আশ্রয় চায়। সে (যেন) বলে: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ – ‘অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ৫৮৮; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ৩৫২৮; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ১২৯৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৮৯৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮১৯৬; সুনানে দারেমী, হাদিস ১৩১]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ- ثَلاثٌ إِذَا خَرَجْنَ لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا : طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الأَرْضِ . رواه مسلم في الإيمان باب بيان الزمن الذي لا يقبل فيه الإيمان: ١٥٨، والترمذي في تفسير القرآن: ٢٩٩٨ – ‘তিনটি জিনিস যখন বেড় হবে, তখন এমন কারোর ইমান (আনায়ন) উপকারী (সাব্যস্থ) হবে না, যে (সে ঘটনা ঘটার) আগে ইমান আনেনি কিংবা (যে সে ঘটনা ঘটার আগেই) তার ইমানের মধ্যে কোনো কল্যান আনতে পারেনি: (১) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, (২) দাজ্জাল এবং (২) দাব্বাতুল আরদ’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৫৮; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২৯৯৮]
দাজ্জাল একজন মানব সন্তান, তার জীবন আছে এবং সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে
রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর হাদিস সমূহ থেকে সকল সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন, আয়িম্মায়ে মুহাদ্দেসীন ও পরবর্তী সকল যুগের মুহাক্কিক আলেমে দ্বীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র সকলের আক্বিদা হল: দাজ্জাল একজন মানব সন্তান, তার জীবন আছে এবং একসময় সে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর হাতে মাড়া যাবে।
কিন্তু আমাদের এই অত্যাধুনি নেটনোলচির যুগে অনেকেই মনে করে যে, দাজ্জাল কোনো মানুষ/ব্যাক্তি নয়, বরং রাসুলুল্লাহ ﷺ শেষ জামানার আধুনিক টেকনোলজি ও যন্ত্র ব্যবহারকারী চরম মিথ্যুক, প্রতারক ও ধোকাবাজ ইহূদী-খৃষ্টানদের সম্মিলিত সৃষ্ট পশ্চিমা সভ্যতাকে বোঝানোর জন্য রূপকার্থে ‘দাজ্জাল’ (চরম প্রতারক/ধোকাবাজ/ফিতনাবাজ) কথাটি উল্লেখ করেছেন। অনেকে এও মনে করে যে, দাজ্জালের এক চোখ কানা হওয়ার অর্থ হল: পশ্চিমাদের মিথ্যা, প্রতারনা, ধোকাবাজী ও অন্যায়-অবিচার গুলোকে একপেশে ভাবেই জনমানুষের সামনে ‘প্রকৃত সত্য, প্রকৃত কল্যান, প্রকৃত মানব উন্নতি’র চাবিকাঠি নাম দিয়ে তাদেরকে ধোকায় সম্মহিত করাকেই রূপকার্থে এক চোখ কানা/অন্ধ বলা হয়েছে। আবার দাজ্জালের কপালে ‘কাফের’ লেখা থাকা এবং শুধুমাত্র মুমিনরা তা বুঝতে পারার অর্থ অনেকে এভাবে করে থাকে যে: এর অর্থ পশ্চিমাদের প্রচারিত ‘প্রকৃত সত্য, প্রকৃত কল্যান, প্রকৃত মানব উন্নতি’ -এসব কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আল্লাদ্রোহীতা ও কুফরী, যা শুধুমাত্র মুমিনরা চিনতে পাবে, আর বাদবাকি মুনাফেকরা পশ্চিমাদের আহবান বুঝতে না পেরে তাদের অনুসরণ করবে। তাদের এই মত ও ব্যাখ্যাটি শুনতে ভাল লাগলেও বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারনা। নিম্নের হাদিসগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন-
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ، فَإِذَا رَجُلٌ آدَمُ، سَبِطُ الشَّعْرِ، بَيْنَ رَجُلَيْنِ يَنْطِفُ رَأْسُهُ مَاءً – أَوْ يُهَرَاقُ رَأْسُهُ مَاءً . قُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: هَذَا ابْنُ مَرْيَمَ . ثُمَّ ذَهَبْتُ أَلْتَفِتُ، فَإِذَا رَجُلٌ أَحْمَرُ، جَسِيمٌ، جَعْدُ الرَّأْسِ، أَعْوَرُ الْعَيْنِ، كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ . قُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: الدَّجَّالُ، أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا ابْنُ قَطَنٍ . رواه بخاري: رقم٣٤٤١; و مسلم: رقم ١٧١ – ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমি আমাকে দেখতে পেলাম আমি ক্বাবা (ঘর) তওয়াফ করছি। তখন বাদামী বর্ণের একজন পুরুষ(কে দেখলাম) -সোজা লম্বা চুল- দুজনের মাঝে (দাঁড়ানো) – তাঁর মাথা থেকে পানি টপকে পড়ছে, অথবা (বলেছেন) তাঁর মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তারা বললেন: ইনি হলেন (ঈসা) ইবনে মারইয়াম। এরপর আমি এদিক ওদিক ঘুরছিলাম, তখন স্থুলদেহী লালচে বর্ণের এক পুরুষ ব্যাক্তি(কে দেখলাম) – মাথার চুল কোঁকড়ানো, (এক) চোখ অন্ধ – (আর) তার (সেই) চোখটা ছিল (কোটড় থেকে কিছুটা) বেড়িয়ে আসা আঙ্গুর (-এর মতো)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই ব্যাক্তি কে? তারা বললেন: ‘দাজ্জাল’। (আমার দেখা) মানুষের মধ্যে ইবনু ক্বাতানের সাথে তার (চেহারার) অধিক সাদৃশ্যতা রয়েছে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৪৪১; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৭১]
ফায়দা: এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বপ্নে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. কে দেখেছিলেন, যিনি একজন ব্যাক্তি/মানুষ এবং নবী, যিনি হলেন ‘প্রকৃত মাসিহ’। ওই একই স্বপ্নে ‘ভন্ড মাসিহ’ হিসেবে ‘দাজ্জাল’কে দেখেছিলেন। আর হাদিসটিতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, ‘দাজ্জাল’ একজন رَجُل (পুরুষ লোক)। সে স্থুলদেহী, লালচে বর্ণের, কোঁকড়ানো চুলওয়ালা, এক চোখ অন্ধ একজন ব্যাক্তি। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এও ইংগীত দিয়েছেন যে, তাঁর সময়কার ইবনু ক্বাতান নামক এক ব্যাক্তির চেহারার সাথে দাজ্জালের চেহারার সাদৃশ্যতা রয়েছে। দাজ্জালের এসকল বৈশিষ্টকে কোনো যুক্তিতেই রূপকার্থে নিয়ে একথা বলার সুযোগ নেই যে, ‘দাজ্জাল মানুষ নয়, বরং পথভ্রষ্ট পশ্চীমা সভ্যতার রূপক নাম’। একই ভাবে নিচের হাদিসগুলো লক্ষ্য করুন। الله اعلم بالصواب
# নওয়াস বিন সামআন রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলে- রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إنَّه شَابٌّ قَطَطٌ، عَيْنُهُ طَافِئَةٌ، كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بعَبْدِ العُزَّى بنِ قَطَنٍ . أخرجه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٩٣٧ ; و الترمذي في سننه , كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ , باب ما جاء في فتنة الدجال : رقم ٢٢٤٠ دون السؤال ، و أحمد في مسنده : رقم ١٧٦٢٩ – “(ভাল করে দাজ্জালের বৈশিষ্ট জেনে রাখো)। নিশ্চই সে একজন অধিকমাত্রার চুল ওয়ালা যুবক, তার (এক দিকের) চোখটি (কোটরের ভিতরে) নির্জীব/অসতেজ (থাকবে)। আমি -তার সাদৃশ্যতা (কার সাথে মিলে, সেই উদাহরণ) দিলে (বলবো, সে অনেকটা) আব্দুল উযযা বিন ক্বাতানের মতো (দেখতে)”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৭; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৭৬২৯; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬৬১ হাদিস ৮৫৭৩; আল-ইমান, ইমাম ইবনু মানদাহ- ২/৯৩৩ হাদিস ১০২৭]
# উবাদাহ বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنِّي قَدْ حَدَّثْتُكُمْ عَنْ الدَّجَّالِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ لا تَعْقِلُوا ، إِنَّ مَسِيحَ الدَّجَّالِ رَجُلٌ قَصِيرٌ أَفْحَجُ جَعْدٌ أَعْوَرُ مَطْمُوسُ الْعَيْنِ لَيْسَ بِنَاتِئَةٍ وَلا حَجْرَاءَ فَإِنْ أُلْبِسَ عَلَيْكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ . رواه أبو داود برقم٣٧٦٣ ، والحديث صحيح كما في صحيح الجامع الصغير: حديث رقم ٢٤٥٥ – ‘বস্তুতঃ আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের (অনেক) বর্ণনা দিয়েছি। (কিন্তু) অবশেষে আমার আশংকা হচ্ছে যে, (বোধ হয়) তোমরা (দাজ্জালকে তখন) চিনতে পারবে না। (শোন) নিশ্চই মাসিহ দাজ্জাল (হবে) একটা খাঁটো পুরুষ লোক, (দুই) পা (হবে হাটু থেকে বাহিরের দিকে কিছুটা) বাঁকানো, (মাথার চুলগুলো হবে) কোঁকড়ানো, (বাম চোখটি হবে) অন্ধ (এবং) চোখটি (যেন কোটর থেকে তুলে ফেলে দেয়া হয়েছে -এরকম) সমান (দেখতে) -স্ফীতও নয়, আবার (কোটরের ভিতরে) ঢুকে যাওয়াও নয়। এতেও যদি তোমরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকো, তাহলে (অন্ততঃ এতটুকু) জেনে রাখো যে, তোমাদের রব (আল্লাহ) অন্ধ নন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬৩]
# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- خَرَجْتُ إِلَيْكُمْ وَقَدْ بُيِّنَتْ لِي لَيْلَةُ الْقَدْرِ ومَسِيحُ الضَّلَالَةِ فَكَانَ تَلَاحٍ بَيْنَ رَجُلَيْنِ بِسُدَّةِ الْمَسْجِدِ فَأَتَيْتُهُمَا لِأَحْجِزَ بَيْنَهُمَا فَأُنْسِيتُهُمَا وَسَأَشْدُو لَكُمْ مِنْهُمَا شَدْوًا أَمَّا لَيْلَةُ الْقَدْرِ فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ وِتْرًا وَأَمَّا مَسِيحُ الضَّلَالَةِ فَإِنَّهُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ أَجْلَى الْجَبْهَةِ عَرِيضُ النَّحْرِ فِيهِ دَفَأٌ كَأَنَّهُ قَطَنُ بْنُ عَبْدِ الْعُزَّى قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَضُرُّنِي شَبَهُهُ قَالَ لَا أَنْتَ امْرُؤٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ امْرُؤٌ كَافِرٌ . أخرجه أحمد في مسنده : ٢/٢٩١ ، وَ قَالَ أحمد شاكر في شرحه : ٨/٢١ رقم ٧٨٩٢ : إسناده صحيح – “(আল্লাহ তাআলা’র পক্ষ থেকে) লাইলাতু ক্বদর এবং পথভ্রষ্ঠ মাসিহ (দাজ্জাল) সম্পর্কে (কিছু তথ্য) আমার কাছে পরিষ্কার প্রতিভাত হয়েছিল, (আর) আমি (সে খবরটাই দেয়ার জন্য) তোমাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে এসেছিলাম। পরে (দেখলাম) মসজিদের দরজায় দুই ব্যাক্তির মাঝে বাকযুদ্ধ চলছে। ফলে আমি তাদের দুজনের কাছে এলাম, যাতে তাদের উভয়ের মাঝে (ঘটিত বিষয়টির) রফা করা যায়। (তাদের দুজনকে সামাল দিতে গিয়ে) পরে আমি (ওই) দুইটি (তথ্যের কিছু অংশ) ভুলে যাই। তবে আমি তোমাদেরকে এখনই (সেই প্রতিভাত হওয়া বিষয়) দুটি থেকে কিছু জানাবো। লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে কথা হল, তোমরা তা (রমযান মাসের) শেষ দশদিনের বেজোরে তালাশ করো। আর পথভ্রষ্ঠ মাসিহ (দাজ্জাল) সম্পর্কে কথা হল, নিশ্চই সে হচ্ছে (এক) চোখ অন্ধ, প্রশস্ত ললাট (এবং) চওড়া গন্ডদেশ/কাঁধ (বিশিষ্ট এক ব্যাক্তি)। তার (দেহের গঠনের) মধ্যে (একটু) বাঁকা (ভাব) রয়েছে। সে (অনেকটা আরবের) কাতান বিন আব্দে উযযা’র মতো (দেখতে)”। [মুসনাদে আহমদ- ২/২৯১]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الدَّجَّالُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى جُفَالُ الشَّعَرِ مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ . رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة » باب ذكر الدجال وصفته وما معه: ٨/١٩٥ ; و احمد في المسنده: ٥/٣٨٣; و نعيم بن حماد في الفتن: ١٥٣٢ – ‘দাজ্জাল হল বাম চোখ অন্ধ (ও) মাথাভর্তি চুল ওয়ালা (এক ব্যাক্তি)। তার সাথে (থাকবে) জান্নাত ও দোযখ। বস্তুতঃ তার দোযখটি হল জান্নাত (এর পথ) এবং তার জান্নাতটি হল দোযখ (এর পথ)’। [সহিহ মুসলীম- ৮/১৯৫; মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৩; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১৫৩২]
# হিশাম বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ رَأْسَ الدَّجَّالِ مِنْ وَرَائِهِ حُبُكٌ حُبُكٌ . رواه عبد الرزاق في مصنفه, كتاب الجامع, باب الدجال: رقم ٢٠٨٢٨; و أحمد: ١٥٨٢٦ ; و الحاكم في المستدرك على الصحيحين: ٤/٥٠٨ ; و صححه الألباني في الصحيحة: ٢٨٠٨ – ‘নিশ্চই দাজ্জালের মাথার পিছনের (চুলগুলো পাকানো পাকানো এবং) খুব বেশি হেলেদুলে ওঠে’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৯৫ হাদিস ২০৮২৮; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫৮২৬; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৫০৮]
# আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي مُوسَى رَجُلاً آدَمَ طُوَالاً جَعْدًا ، كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ ، وَرَأَيْتُ عِيسَى رَجُلاً مَرْبُوعًا ، مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ ، سَبِطَ الرَّأْسِ ، وَرَأَيْتُ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ ، وَالدَّجَّالَ . رواه البخاري, كتاب بدء الخلق, باب إذا قال أحدكم: آمين والملائكة في السماء، آمين فوافقت إحداهما الأخرى، غفر له ما تقدم من ذنبه : ٣٢٣٩ ، ومسلم في الإيمان: ١٦٥ ، وأحمد: ٣١٦٩ – ‘আমি ইসরা (মেরাজে)র রাতে (নবী) মুসা’কে দেখেছি, তিনি বাদামী বর্ণের কোকড়ানো চুলওয়ালা একজন লম্বা ব্যাক্তি, তাকে (দেখতে) যেন (অনেকটা) শানওয়াআহ’র লোকদের একজন (বলে মনে হয়)। আমি (সেখানে নবী) ঈসাকে দেখেছি; (তিনি একজন) মধ্য গড়নের (মানুষ, যার গায়ের রং ’টা) লাল ও উজ্জল সাদা মিশ্রিত; মাথার চুলগুলো (খানিকটা লম্বা ও সোজা কাঁধের দিকে) ছেড়ে দেয়া। আমি (সেই রাতে) দোযখের ব্যবস্থাপক মালেক (ফিরেশতা) এবং (মাসিহ) দাজ্জালকে দেখেছি’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩২৩৯; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৬৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৩১৬৯]
ফায়দা: এই হাদিসটিতে মুসা আ. এবং ঈসা আ. দুজনই হলেন মানুষ ও নবী, আর দোযখের ব্যবস্থাপক মালেক হলেন ফেরেশতা। এই তিনজনই পৃথক পৃথক ব্যাক্তি। সুতরাং, কেবলমাত্র ‘দাজ্জাল’-কে ব্যাক্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে একথা বলা যে, “দাজ্জাল কোনো ব্যাক্তি নয় বরং ‘আধুনিক পথভ্রষ্ঠ প্রতারক সভ্যতা’র নাম” -এর কোনোই যৌক্তিকতা নেই। الله اعلم بالصواب
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- أَنَّ عُمَرَ انْطَلَقَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ، حَتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ، وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادٍ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ لاِبْنِ صَيَّادٍ ” تَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ”. فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ. فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ وَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرُسُلِهِ. فَقَالَ لَهُ ” مَاذَا تَرَى ”. قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ ” ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئًا ”. فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُّ. فَقَالَ ” اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ ”. فَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلاَ خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ ”. وَقَالَ سَالِمٌ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ، يَعْنِي فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْزَةٌ أَوْ زَمْرَةٌ، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لاِبْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ ـ وَهْوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ ـ هَذَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم. فَثَارَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ . رواه البخاري في الصحيح, كتاب الجنائز: رقم ١٣٥٥ – ‘(একবার অামার পিতা) ওমর রা কিছু লোক সহ রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর সাথে ইবনে সাইয়্যাদের (বাড়ির) দিকে গেলেন। অবশেষে তাকে বানু-মাগালাহ দূর্গের পাশে ছেলেপুলেদের সাথে খেলারত অবস্থায় পেলেন। তখন সে বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী (বয়সে উপনীত) ছিল। সে বুঝে ওঠার আগেই রাসুলুল্লাহ ﷺ তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর ইবনে সাইয়্যাদকে বললেন: ‘তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহ’র রাসুল’? তখন ইবনে সাইয়্যাদ তাঁর দিকে তাকিয়ে বললো: ‘আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি (আরব) উম্মীদের (কাছে প্রেরিত) রাসুল; (আমাদের ইহূদীদের নয়)’। তখন ইবনে সাইয়্যাদ নবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলো: ‘আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহ’র রাসুল? এতে তিনি তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘আমি আমি ইমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং তার (প্রেরিত) রাসুলগণের উপর’। তারপর তাকে বললেন: ‘তুমি কী দেখতে পাও’? ইবনে সাইয়্যাদ বললো: ‘আমার কাছে সত্যবাদী এবং মিথ্যাবাদী আগমন করে’। তখন নবী ﷺ বললেন: ‘বিষয়টিকে তোমার উপর খলৎমলৎ /বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে’। এরপর নবী ﷺ তাকে বললেন: ‘আমি (আমার মনের মধ্যে) তোমার জন্য একটি গোনীয় বিষয় লুকিয়ে রাখলাম। (বলো-তো দেখি কী লুকিয়ে রেখেছি)? তখন ইবনে সাইয়্যাদ বললো: ‘ওটা হল الدُّخُّ (আদ-দুখ্খু’। তখন তিনি বললেন: ‘লাঞ্চিত হও! তুমি কখনোই তোমার সীমা অতিক্রম করতে পারবে না’। তখন ওমর রা. বললেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দেন, ওর গর্দানটা উড়িয়ে দেই’। তখন নবী ﷺ বললেন: যদি সে-ই (আসল দাজ্জাল) হয়, তাহলে তুমি তার উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না। আর সে যদি (দাজ্জাল না) হয়, তাহলে তাকে কতল করার মধ্যে তোমার কোনো কল্যান নেই’। (হাদিসটির রাবী সালেম রহ.) বলেন, আমি ইবনে ওমর রা.কে (এও) বলতে শুনেছি: এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ ও উবাই বিন কা’ব রা. ওই খেজুর বাগানের দিকে গেলেন যেখানে ইবনে সাইয়্যাদ ছিল। তিনি (সেখানে) লুকিয়ে পড়লেন, যাতে -ইবনে সাইয়্যাদ তাঁকে দেখে ফেলার আগেই- তার (মুখ) থেকে কিছু (কথা) শুনতে পান। তখন নবী ﷺ দেখলেন যে, সে চাদর মুড়ি দিয়ে খাটে শুয়ে আছে, যার ভিতর থেকে তার বিড়বিড় আওয়াজ (বেড়) হচ্ছে। এমন সময় ইবনে সাইয়্যাদের মা -রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে খেজুর বাগানের ঝোপে লুকিয়ে থাকতে দেখে ফেললো। তখন সে ইবনে সাইয়্যাদ’কে বললো: ‘হে সাফ -এটা ছিল ইবনে সাইয়্যাদের নাম- এই যে মুহাম্মাদ (খেজুর বাগানের ফাঁকে লুকিয়ে আছে’। এতে ইবনে সাইয়্যাদ চটকে উঠলো। তখন নবী ﷺ বললেন: সে (অর্থাৎ তার মা) যদি তাকে (সে যা করছিল সেই অবস্থায়ই) তাকে ছেড়ে যেতো, (তাহলে আজ তার মাসিহ দাজ্জাল হওয়া না-হওয়ার বিষয়টি) পরিষ্কার হয়ে যেতো’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ১৩৫৫]
ফায়দা: ইবনে সাইয়্যাদ জন্মগ্রহন করেছিল আরবের একটি ইহূদী পরিবারে খোদ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জামানায়েই এবং সে ইহূদী হিসেবেই বেড়ে উঠেছিল। আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে তখনো পর্যন্ত দাজ্জাল সম্পর্কে যেসকল তথ্য ও ইশারা ইংগীত ওহীসূত্রে জানিয়েছিলেন বা দেখিয়েছিলেন, তাতে করে রাসুলুল্লাহ ﷺ পুরোপুরি পরিষ্কার হতে পারছিলেন না যে, ইবনে সাইয়্যাদ’ই পরবর্তীতে শেষ জামানায় ‘মাসিহ দাজ্জাল’ হিসেবে আবির্ভূত হবে কিনা, নাকি অন্য কেউ। তবে ইবনে সাইয়্যাদের আচরন সম্পর্কিত সার্বিক সম্ভাব্য তথ্যের ভিত্তিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মন সায় দিচ্ছিল যে, ইবনে সাইয়্যাদ মাসিহ দাজ্জাল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা নিশ্চিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বেশ কয়েকবার ইবনে সাইয়্যাদের কথাবার্তা ও আচরন পরীক্ষা করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তবে ইবনে সাইয়্যাদ’ই শেষ জামানার ‘মাসিহ দাজ্জাল’ -এ মর্মে রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর সুস্পষ্ট কোনো উক্তি হাদিসের ভান্ডারে মুহাদ্দেসগণ পাননি। মনে হয়, বিশেষ কোনো হিকমতের কারণে বিষয়টিকে মূল সময়ের আগে প্রকাশ হওয়া থেকে গোপন করে রাখা হয়েছে।
তবে সাহাবীগণের অনেকেই মনে করতেন যে, ইবনে সাইয়্যাদ’ই শেষ জামানার ‘মাসিহ দাজ্জাল’। যেমন: মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ: أَنَّ ابْنَ الصَّائِدِ الدَّجَّالُ، قُلْتُ: تَحْلِفُ بِاللَّهِ؟ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يُنْكِرْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رواه البخاري, كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة, باب من رأى ترك النكير من النبي صلى الله عليه وسلم حجة، لا من غير الرسول: رقم ٧٣٥٥ – ‘অামি যাবির বিন আব্দুল্লাহ রা.-কে আল্লাহ’র কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চই ইবনুস সাইয়্যাদ’ই হল দাজ্জাল। তখন আমি (তাঁকে) বললাম: ‘আল্লাহ’র কসম খেলেন’! (যদি আপনার ধারনা ভুল হয়, তখন)! তিনি বললেন: আমি নিজে ওমর রা.-কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে ওর ব্যাপারে (তথা ইবনুস সাইয়্যাদের দাজ্জাল হওয়ার ব্যাপারে) কসম খেতে শুনেছি। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তার কথাকে রদ/অস্বীকার করেন নি’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭৩৫৫]
নাফে রহ. থেকে আরেক রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- لَقِيَ ابْنُ عُمَرَ ابْنَ صَائِدٍ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ قَوْلا أَغْضَبَهُ فَانْتَفَخَ حَتَّى مَلأَ السِّكَّةَ فَدَخَلَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى حَفْصَةَ وَقَدْ بَلَغَهَا فَقَالَتْ لَهُ رَحِمَكَ اللَّهُ مَا أَرَدْتَ مِنْ ابْنِ صَائِدٍ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غَضْبَةٍ يَغْضَبُهَا . رواه مسلم في الصحيح, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب ذكر ابن صياد : رقم ٢٩٣٢ – ‘(একবার আব্দুল্লাহ) ইবনে ওমর রা. মদিনার রাস্তা সমূহের কোনো একটিতে ইবনুস সাইয়্যাদের সাক্ষাত পেলেন। তিনি তখন তাকে এমন কিছু বললেন, যা তাকে (এতটা) রাগিয়ে দিলো (যে), এতে সে (রাগে ক্ষোভে অস্বাভাবিক ভাবে দৃশ্যতঃ) স্ফীতকায় হতে লাগলো, এমনকি (স্ফীত হতে হতে অবশেষে তার দেহটি প্রস্থে পুরো) রাস্তা/গলি’কে পূরণ করে ফেললো। তখন ইবনে ওমর রা. (সেখান থেকে চলে গেলেন এবং তাঁর বোন উম্মুল মুমিনিন) হাফসাহ রা.-এর কাছে গিয়ে (ঘটনাটি) জানালেন। তখন হাফসাহ রা. তাঁকে বললেন: (ভাই!) আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি ইবনুস সাইয়্যাদ থেকে (এর বেশি) কী কামনা করেন! (তার এরকম অদ্ভুত আচরণ-তো তার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক)। (আর) আপনিও তো জানেন যে, সে রাগাহ্নিত অবস্থায় রাগ প্রকাশ করতে করতে বেড় হবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩২]
এ থেকে কি প্রমাণিত হয় না যে, ‘মাসিহ দাজ্জাল’ বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ একজন আদম সন্তানকে বুঝিয়েছেন! পশ্চিমা সভত্যাই যদি মাসিহ দাজ্জাল হত, তাহলে ইবনে সাইয়্যাদই শেষ জামানার মাসিহ দাজ্জাল কিনা -তা জানার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ কি ওর পিছু নিতেন ?!। সুতরাং মাসিহ দাজ্জাল বলতে রূপকার্থে ‘আজকের ধোকাবাজ প্রতারক পশ্চিমা সভ্যতা’কে অর্থ করার কোনোই সুযোগ নেই। الله اعلم بالصواب
# ফাতেমা বিনতে কায়েস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سَمِعْتُ نِدَاءَ الْمُنَادِي مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَادِي الصَّلاَةَ جَامِعَةً . فَخَرَجْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ فِي صَفِّ النِّسَاءِ الَّتِي تَلِي ظُهُورَ الْقَوْمِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ ” لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاَّهُ ” . ثُمَّ قَالَ ” أَتَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ ” . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ ” إِنِّي وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلاَ لِرَهْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ لأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ مَسِيحِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامَ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ ثُمَّ أَرْفَئُوا إِلَى جَزِيرَةٍ فِي الْبَحْرِ حَتَّى مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرُبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يَدْرُونَ مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ . قَالُوا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتْ أَيُّهَا الْقَوْمُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ . قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلاً فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً – قَالَ – فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَطُّ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وِثَاقًا مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ مَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى كَعْبَيْهِ بِالْحَدِيدِ قُلْنَا وَيْلَكَ مَا أَنْتَ قَالَ قَدْ قَدَرْتُمْ عَلَى خَبَرِي فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ قَالُوا نَحْنُ أُنَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ رَكِبْنَا فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ فَصَادَفْنَا الْبَحْرَ حِينَ اغْتَلَمَ فَلَعِبَ بِنَا الْمَوْجُ شَهْرًا ثُمَّ أَرْفَأْنَا إِلَى جَزِيرَتِكَ هَذِهِ فَجَلَسْنَا فِي أَقْرُبِهَا فَدَخَلْنَا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْنَا دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يُدْرَى مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقُلْنَا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ . قُلْنَا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتِ اعْمِدُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ فَأَقْبَلْنَا إِلَيْكَ سِرَاعًا وَفَزِعْنَا مِنْهَا وَلَمْ نَأْمَنْ أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ أَسْأَلُكُمْ عَنْ نَخْلِهَا هَلْ يُثْمِرُ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ لاَ تُثْمِرَ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ . قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِيهَا مَاءٌ قَالُوا هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ . قَالَ أَمَا إِنَّ مَاءَهَا يُوشِكُ أَنْ يَذْهَبَ . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ . قَالُوا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِي الْعَيْنِ مَاءٌ وَهَلْ يَزْرَعُ أَهْلُهَا بِمَاءِ الْعَيْنِ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ وَأَهْلُهَا يَزْرَعُونَ مِنْ مَائِهَا . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَبِيِّ الأُمِّيِّينَ مَا فَعَلَ قَالُوا قَدْ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَنَزَلَ يَثْرِبَ . قَالَ أَقَاتَلَهُ الْعَرَبُ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ كَيْفَ صَنَعَ بِهِمْ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عَلَى مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْعَرَبِ وَأَطَاعُوهُ قَالَ لَهُمْ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ وَإِنِّي مُخْبِرُكُمْ عَنِّي إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنِّي أُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ فَأَخْرُجَ فَأَسِيرَ فِي الأَرْضِ فَلاَ أَدَعَ قَرْيَةً إِلاَّ هَبَطْتُهَا فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً غَيْرَ مَكَّةَ وَطَيْبَةَ فَهُمَا مُحَرَّمَتَانِ عَلَىَّ كِلْتَاهُمَا كُلَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ وَاحِدَةً أَوْ وَاحِدًا مِنْهُمَا اسْتَقْبَلَنِي مَلَكٌ بِيَدِهِ السَّيْفُ صَلْتًا يَصُدُّنِي عَنْهَا وَإِنَّ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلاَئِكَةً يَحْرُسُونَهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَعَنَ بِمِخْصَرَتِهِ فِي الْمِنْبَرِ ” هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ ” . يَعْنِي الْمَدِينَةَ ” أَلاَ هَلْ كُنْتُ حَدَّثْتُكُمْ ذَلِكَ ” . فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ ” فَإِنَّهُ أَعْجَبَنِي حَدِيثُ تَمِيمٍ أَنَّهُ وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْهُ وَعَنِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ أَلاَ إِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ ما هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ ” . وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْمَشْرِقِ . قَالَتْ فَحَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . رواه مسلم في صحيحه, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب قصة الجساسة: رقم ٢٩٤٢ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আহবানকারীকে আহবান করতে শুনলাম। আহবানকারী আহবান করলেন: ‘নামাযের জন্য একত্রিত হও’। তখন আমি মসজিদের উদ্দেশ্যে বেড় হলাম এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে নামায আদায় করলাম। লোকজনের পিছনে নারীদের যে কাতার ছিল আমি ছিলাম সেখানে। রাসুলুল্লাহ ﷺ নামায শেষ করে হাস্যজ্বল অবস্থায় মিম্বরের উপরে বসলেন। তারপর বললেন: সকলে (তার নিজ নিজ) মুসল্লায় বসে থাকো। অতঃপর বললেন: তোমরা কি জানো, আমি তোমাদেরকে কি জন্য একত্রিত করেছি? তারা বললেন: আল্লাহ জানেন ও তাঁর রাসুল জানেন। তিনি বললেন: ‘আল্লাহ’র কসম, আমি তোমাদেরকে কোনো আশা-কামনার জন্যও একত্রিত করিনি, ভয়-ভীতির জন্য (একত্রিত) করিনি। আমি একত্রিত করেছি এজন্য যে, তামীম দ্বারী ছিল একজন খৃষ্টান ব্যাক্তি। সে (আমার কাছে) এসে (আমার হাতে) বায়াত হয়েছে ও ইসলাম কবুল করেছে। সে আমাকে এমন ঘটনা শুনিয়েছে, যা -আমি তোমাদেরকে মাসিহ দাজ্জাল সম্পর্কে যা বলেছিলাম -তার সত্তায়ন করে। সে আমার কাছে বর্ণনা করেছে যে, সে লাখ্ম ও জুযান (গোত্রের) ত্রিশ’জন লোকের সাথে সামুদ্রিক জাহাজে আরোহন করে(যাত্রা করে)ছিল। পরে (উথাল পাতাল) ঢেউ তাদেরকে নিয়ে সমুদ্রের মধ্যে মাস খানেক খেলা করতে থাকে। এরপর তারা সমূদ্রের একটি দ্বীপ/উপত্যকার দিকে ভিড়তে ভিরতে সূর্যাস্ত হয়ে যায়। তখন তারা জাহাজের (সাথে বাঁধা) পার্শ্বনৌকায় করে উপত্যকাটিতে প্রবেশ করে। এরপর একটি জন্তু তাদের সাথে সাক্ষাত করে; সে ছিল লোমে একদম ভরপুর। প্রচুর লোমের কারণে তারা বুঝতেই পারছিল না -কোনটি তার সামন, কোনটি পিছন। তারা তখন জিজ্ঞেস করলো: ‘হতভাগা, তুই কে’? সে বললো: আমি ‘জাস্সাসাহ’। তারা জিজ্ঞেস করলো: ‘জাস্সাসাহ কি’? সে (উত্তর না দিয়ে) বললো: ‘হে লোকসকল! তোমরা (সবাই) আশ্রমে অবস্থিত এই ব্যাক্তির দিকে অগ্রসর হও। সে তোমাদের তথ্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে’। সে (তামীম) বলেছে: আমাদেরকে যখনই বলা হল ‘ব্যাক্তি’, তখনই আমরা -সে শয়তান হতে পারে- মনে করে ভয় পেয়ে গেলাম। সে বলেছে: আমরা (তখন) তড়িঘড়ি করে অগ্রসর হয়ে একেবারে তার আশ্রমে প্রবেশ করতেই তাতে দেখতে পেলাম -একজন বিরাটাকারের মানুষকে; এরকম মাখলূক আগে কখনো দেখিনি। সে ছিল লোহার শিকলে (এমন ভাবে) শক্ত করে বাঁধা (যে,) তার হাত দুটি ছিল তার গর্দানের দিকে, যেটা (আবার) ছিল তার দুই হাটুর মাঝখানে -পায়ের পাতা মুখী হওয়া অবস্থায়। আমরা বললাম: হতভাগা ! তুই কে? সে বললো: তোমরা আমার তথ্য পাবে। (আগে) বলো, কে তোমরা? তারা বললো: আমরা আরবের লোক; (মাস খানেক আগে) সমূদ্র জাহাজে আরোহন করি, (পরে এক সময় এমন এক) সমূদ্রের মুখামুখী হই, যা আমাদেরকে ধাক্কা (-র পর ধাক্কা) দিতে থাকে, এভাবে ঢেউ আমাদেরকে নিয়ে মাস খানেক খেলতে থাকে, অতঃপর (আজ সন্ধায়) আমাদেরকে তোমার এই উপত্যাকায় এনে ফেলে দিয়েছে। পরে আমরা (জাহাজের সাথে বাঁধা) পার্শ্বনৌকায় করে (তোমার এই) উপত্যকায় প্রবেশ করেছি। তার পর (এমন এক) জন্তু আমাদের সাথে সাক্ষাত করে, যে ছিল লোমে ভরপুর, বোঝাই যাচ্ছিল না -কোনটা তার সামন কোনটা পিছন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: হতভাগা, কে তুই? সে বললো: আমি ‘জাস্সাসাহ’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘জাস্সাসাহ কি’? সে (উত্তর না দিয়ে) বললো: ‘হে লোকসকল! তোমরা (সবাই) আশ্রমে অবস্থিত এই ব্যাক্তির দিকে অগ্রসর হও। সে তোমাদের তথ্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে’। তখন আমরা তার কথায় ভয় পেয়ে এবং তুই শয়তান হতে পারিস আশংকা করে তোর কাছে তড়িঘড়ি করে এলাম। তখন সে বললো: আমাকে বাইসান/বিসান (এলাকার) খেজুর গাছের ব্যাপারে অবগত করো (তা এখন কি অবস্থায় রয়েছে)’। আমরা বললাম: ‘তুই ওর কোন অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাস’? সে বললো: ‘আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি ওর খেজুর গাছ সম্পর্কে যে তা ফল দেয় কিনা’? আমরা বললাম: হ্যাঁ (ফল দেয়)। সে বললো: ‘নিশ্চই অচিরেই তা আর ফল দিবে না’। সে বললো: ‘আমাকে ত্বাবারী হ্রদের ব্যাপারে খবর দাও’। আমরা বললাম: ‘ওর কোন অবস্থা সম্পর্কে তুই জানতে চাস’? সে বললো: তার মধ্যে কি (এখনও) পানি আছে? তারা বললো: সেখানে প্রচুর পানি আছে’। সে বললো: ‘নিশ্চই অচিরেই তার পানি চলে যাবে’। সে বললো: ‘আমাকে জুগারের ঝরনা’র ব্যাপারে খবর দাও’। আমরা বললাম: ‘ওর কোন অবস্থা সম্পর্কে তুই জানতে চাস’? সে বললো: ‘ঝরনাটিতে কি পানি আছে এবং এর (আশেপাশের) বাসিন্দারা কি ঝরনাটির পানি দিয়ে চাষবাস করে?’ আমরা তাকে বললাম: হ্যাঁ, তাতে অনেক পানি আছে এবং তার (আশেপাশের) বাসিন্দারা তার পানি দিয়ে চাষবাস করে’। সে বললো: ‘আমাকে উম্মী নবীর ব্যাপারে তথ্য দাও, তিনি কী করেছেন’। তারা বললো: ‘তিনি মক্কা থেকে বেড়িয়ে ইয়াছরিবে (মদিনায়) ঠাঁই নিয়েছে’। সে বললো: ‘আরবরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছে’? আমরা বললাম: ‘হ্যাঁ’। সে বললো: ‘তিনি তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন’? তখন আমরা তাকে জানালাম যে, আরবের যারা তার প্রতিবেশি ছিল তিনি তাদের উপর বিজয় লাভ করেছেন এবং তারা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছে। সে বললো: ‘তাদের সে অবস্থা হয়েছে’! আমরা বললাম: ‘হ্যাঁ’। সে বললো: ‘যদি তেমনটাই হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর অনুগত্য করাই তাদের জন্য কল্যানকর হবে। আর আমি তোমাদেরকে আমার তথ্য দিচ্ছি। আমিই হলাম মাসিহ (দাজ্জাল)। আর অচিরেই আমাকে বেড় হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। আমি তখন বেড় হয়ে পৃথিবী ভ্রমন করবো। তখন চল্লিশ রাতের মধ্যে (পৃথিবীর) এমন কোনো পল্লী-এলাকাও (বাদ) থাকবে না, যেখানে আমাকে অবতরন করতে দেয়া না হবে -শুধু মক্কা ও ত্বইয়্যেবাহ ছাড়া; এই দুটোর দুটোই (আমার জন্য প্রবেশাধিকার) নিষিদ্ধ (থাকবে)। যখনই আমি ওই দু’স্থানের কোনো একটিতে একবার প্রবেশ করতে চাবো, তখনই একজন ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারী হাতে আমার মোকাবেলায় চলে আসবে ও আমাকে তাতে বাঁধা দিবে। বস্তুতঃ (এ দু’ স্থানের) প্রতিটি অলি-গলির সামনে ফেরেশতারা পাহারা দিতে থাকবে। ফাতেমা বিনতে কায়েস রা. বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর (হাতের) লাঠি/ছড়ি দিয়ে মিম্বরে মেড়ে বললেন: এটাই ত্বইয়্যেবাহ! এটাই ত্বইয়্যেবাহ! এটাই ত্বইয়্যেবাহ! অর্থাৎ মদিনা। ওহে! আমি কি তোমাদেরকে এসব আগে বলিনি? তখন লোকজন বললো: জি (বলেছেন)। (রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন): ‘তামীমের কথা আমাকে অবাক করে দিয়েছে। আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা বলেছি, (তামীম) তা সত্ত্বায়ন করে দিয়েছে। শুনে রাখো, সে (দাজ্জাল) শামের সমূদ্রে বা ইয়ামেনের সমূদ্রে রয়েছে। না, বরং পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে)। সে রয়েছে পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে), সে রয়েছে পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে)’। আর (একথা বলার সময়) তিনি তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করছিলেন’। ফাতেমা বিনতে কায়েস রা. বলেন: ‘এসব কথা আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে মুখস্ত করে রেখেছি’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৪২; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী-১/১১৪৮ হাদিস ৬২৬; সুনানে তিনমিযী, হাদিস ২২৫৩; আল-মু’জামুল কাবীর, তাবরাণী- ২৪/৩৮৬-৪০৫ হাদিস ৯৫৭-৯৮৩]
ফায়দা: এই হাদিসটিতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, মাসিহ দাজ্জাল একজন إِنْسَانٍ (মানুষ), যাকে পূর্ব দিকস্থ কোনো এক দ্বীপে/উপত্যকায় লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে, এক সময় সে ছাড়া পাবে। এখানে রূপক অর্থ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। الله اعلم بالصواب
# ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ فتنة أَكْبَرُ مِنْ الدَّجَّالِ، قد أكل الطعام و مشى في الأسواق . رواه الداني في السنن الواردة في الفتن : ١/١٨٤ رقم ٢٥ ، قال شيخ عبد القادر بن عبد الكريم في حاشية المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية : ١٨/٤٥١ رقم ٤٥٢٤ : قلت هذا الإسناد صحيح رواته ثقات و عليه فان الحديث من رواية عمران بن حصين صحيح بهذا الإسناد – ‘(আদি পিতা নবী) আদমের সৃষ্টি থেকে নিয়ে কেয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত (সময়ের) মাঝে দাজ্জালের চাইতে বড় (ও ভয়ানক) ফিতনা (আর) নেই। বস্তুত: সে (ইতিমধ্যে) বাজারগুলিতে খাবার খেয়েছে এবং ঘোরাফেরা করেছে’। [সুনানুল ওয়ারিাহ, ইমাম দানী- ১/১৮৪ হাদিস ২৫]
ফায়দা: অন্য সূত্রেও ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لقد أكل الطعام ومشى في الأسواق . يعني الدجال . رواه حميدي في مسنده : ٢/٣٦٨ رقم ٨٣٢، و أحمد في مسنده: ٤/٤٤٤، و الطبراني في الكبير: ١٨/١٥٥ رقم ٣٣٩، و غيرهم ، قال الهيثمي في مجمع الزاوئد : ٨/٧ : و في إسناد أحمد علي بن زيد وحديثه حسن ، وبقية رجاله رجال الصحيح . وفي إسناد الطبراني محمد بن منصور النحوي الأهوازي ، ولم أعرفه ، وبقية رجاله رجال الصحيح – “বস্তুত: সে -অর্থাৎ দাজ্জাল- (ইতিমধ্যে) বাজারগুলিতে খাবার খেয়েছে এবং ঘোরাফেরা করেছে”। [মুসনাদে আহমদ- ৪/৪৪৪; মুসনাদে হুমাইদী- ২/৩৬৮ হাদিস ৮৩২; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১৮/১৫৫ হাদিস ৩৩৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৮] বাজারে খাওয়া-দাওয়া ও ঘোরাফেরা কে করে?
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ . فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ لاَ وَاللَّهِ لاَ نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا . فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لاَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لاَ يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قُسْطُنْطِينِيَّةَ فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ . فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ – কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যাবৎ রোম’রা আ’মাক অথবা দাবিক-এ অবতরণ না করে। সেসময় পৃথিবীবাসীর মধ্য থেকে (মুমিনদের) সর্বোত্তম একটি সৈন্যদল মদিনা হতে (বের হয়ে) তাদের দিকে ধাবিত হবে। তারা পরষ্পরে যখন সারিবদ্ধ হয়ে (মালহামাতুল কুবরা তথা মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন) রোম’রা বলবে: আমাদের এবং যারা আমাদের লোকদেরকে আটকিয়ে রেখেছে তাদের মাঝ থেকে তোমরা সরে যাও, আমরা ওদের সাথে যুদ্ধ করবো। তখন মুসলমানরা বলবে: (এটা কখনই হতে পারে) না, আল্লাহ’র শপথ, আমারা তোমাদের এবং আমাদের (মুসলমান) ভাইদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াবো না। এরপর তাঁরা তাদের (তথা রোম বাহিনীর) সাথে যুদ্ধ করবে। তখন (যদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মুসলমানদের মধ্যে) তিন ভাগের এক ভাগ (ভয়ে) পালিয়ে যাবে, আল্লাহ তাদের তওবা আর কখনই কবুল করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ শহীদ হয়ে যাবে; তাঁরা হবে আল্লাহ’র কাছে (সেই জিহাদের) সর্বোত্তম শহীদ। আর (অবশিষ্ট) এক তৃতীয়াংশ (যাঁরা বেঁচে যাবে তাঁরা ওই জিহাদে রোমদের উপর) বিজয় লাভ করবে; (পরে) তাঁরা আর কখনই ফিতনায় পতিত হবে না। এরপর তাঁরা (সামনে অগ্রসর হয়ে) কুস্তুনতুনিয়া (কন্সট্যান্টিনোপোল/ ইস্তাম্বুল, তুরষ্ক) জয় করবে। তারা যখন তাদের তরবারী জয়তুন গাছে ঝুলিয়ে গণীমতের মাল বন্টন করতে থাকবে, এমন সময় শয়তান তাদের মাঝে চিৎকার দিয়ে বলবে: নিশ্চই মাসিহ (দাজ্জাল) তোমাদের পরিবারের পিছনে লেগেছে। তখন তাঁরা (অবস্থার সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য) বেরিয়ে পড়বে, কিন্তু (বাস্তবে) খবরটি ছিল মিথ্যা। তাঁরা যখন শাম-এ গিয়ে পৌছবে, (তখন) দাজ্জাল বের হবে। তাঁরা জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধ হতে হতেই (আযান ও) নামাযের আকামত দেয়া হবে। তখন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.) নাজিল হবেন। এরপর (নামায আদায় করা হবে ইমাম মাহদীর ইমামতীতে এবং নামাযের পর দাজ্জালের মুকাবেলায় মুসলীম উম্মাহ’র) তিনি নেতৃত্ব দিবেন। আল্লাহ’র দুশমন (দাজ্জাল) যখন তাঁকে দেখবে, তখন সে এমনভাবে গলে যাবে যেভাবে লবন পানিতে গলে যায়। তিনি যদি তাকে (ওভাবেই) ছেড়ে দিতেন, তাহলে (সে গলতে গলতে) একসময় (পুরাপুরি) ধ্বংস হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ ঈসা আ.-এর হাত দ্বারা তাকে হত্যা করবেন। তাই (শেষ পর্যন্ত ) ঈসা আ.-এর বর্শার মধ্যে তার রক্ত তারা দেখতে পাবে। [সহিহ মুসলীম ২৮৯৭]
ফায়দা: এই হাদিসে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, মাসিহ দাজ্জাল যখন ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে দেখবে, তখন পানিতে লবন গলার মতো গলতে আরম্ভ করবে। আরো বলা হয়েছে যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. যদি দাজ্জালকে নিজ হাতে না মেড়ে ওভাবেই গলন রতঃ অবস্থায় ছেড়ে দিতেন, তাহলে সে (গলতে গলতে একসময় নিজেই) ধ্বংস হয়ে যেতো। এথেকেও প্রমাণিত হয়, যে দাজ্জালের জীবন আছে েএবং সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে। কোনো কোনো হাদিস থেকে বোঝা যায় (যা আমরা সামনের পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছি), ঈসা আ. তাকে (ফিলিস্তিনের) বাবে-লুদ -এ কতল করবেন।
দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –(২)
# হযরত মুয়ায বিন যাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عمران بيت المقدس خراب يثرب، وخراب يثرب خروج الملحمة، وخروج الملحمة فتح القسطنطينية، وفتح القسطنطينية خروج الدجال. أخرجه أبو داود في “السنن: ٤٢٩٤ و حسّنه الألباني في صحيح أبي داود: رقم ٤٢٩٤ ; وأحمد في “مسنده: ٥/٢٤٥ رقم ٢٢١٢١; الطحاوي في “شرح مشكل الآثار: ٥١٩, ; ابن أبي شيبة في “المصنف:١٥/١٣٥ رقم ٣٨٤٧٣ ;;الطبراني في “المعجم الكبير: ٢٠/١٠٨;الحاكم في “المستدرك:٨٢٩٧ ; الديلمي في “الفردوس: ٤١٢٧; قال الحافظ ابن كثير في النهاية:١/٥٩ : وهذا إسناد جيد وحديث حسن، وعليه نور الصدق وجلالة النبوة – ‘বায়তুল-মাকদিস’-এর গড়ন (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হবে)। ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) মালহামাহ’র সূত্রপাত (হবে)। মালহামাহ’র সূত্রপাত (হলে এর ক্রমধারায় মুসলমানদের হাতে) কুসতুনতুনিয়া (তথা কনসটেন্টিনোপল, তুরষ্ক)’র বিজয় (সংঘটিত হবে), আর কুসতুনতুনিয়া’র বিজয় (সংঘটিত হলে তার কিছু কাল পর) দাজ্জালের আবির্ভাব (হবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৪; মুসনাদে আহমদ-৫/২৪৫, হাদিস ২২১২১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫১৯; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৩৫, হাদিস ৩৮৪৭৩; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/১০৮; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮২৯৭; মুসনাদে ফিদোউস, দাইলামী, হাদিস ৪১২৭]
ফায়দা: আরব’রা তৎকালীন তুর্কি/তুরষ্কের রোমান বাইজেন্টাইন স্রাম্রাজ্যের রাজধানী কনসটেন্টিনোপল’কে বলতো কুসতুনতুনিয়া, যেটা আজ ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত। আমি যখন এটি লিখছি, তখন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ড আছেন মুসলীম শাসক রিসেপ তায়েপ এরদোগান। খুব সম্ভব মালহামাহ (মহাযুদ্ধ)-র শুরুর দিকে গোটা তুরষ্ক কিংবা তুরষ্কের ইস্তাম্বুল কাফেরদের দখলে চলে যাবে এবং (নিম্নের আব্দুল্লাহ বিন বুসর ও মুয়ায বিন যাবাল রা. বর্ণিত হাদিস থেকে বোঝা যায়) মালহামার (মহাযুদ্ধ) একটানা ছয় বছর চলার পর মুসলমানরা তা পূণরায় কাফেরদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিবে। অন্য হাদিস থেকে বোঝা যায়, তখন ইমাম মাহদী রা. নেতৃত্বে এই জিহাদটি পরিচালিত হবে। কুসতুনতুনিয়া জয়ের পর দাজ্জাল বেড় হবে, যার বর্ণনা ঠিক নিম্নের হাদিস দুটিতে রয়েছে। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ . فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ لاَ وَاللَّهِ لاَ نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا . فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لاَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لاَ يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قُسْطُنْطِينِيَّةَ فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ . فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ – ‘কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যাবৎ রোম’রা আ’মাক অথবা দাবিক-এ অবতরণ না করে। সেসময় পৃথিবীবাসীর মধ্য থেকে (মুমিনদের) সর্বোত্তম একটি সৈন্যদল মদিনা হতে (বের হয়ে) তাদের দিকে ধাবিত হবে। তারা পরষ্পরে যখন সারিবদ্ধ হয়ে (মালহামাতুল কুবরা তথা মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন) রোম’রা বলবে: আমাদের এবং যারা আমাদের লোকদেরকে আটকিয়ে রেখেছে তাদের মাঝ থেকে তোমরা সরে যাও, আমরা ওদের সাথে যুদ্ধ করবো। তখন মুসলমানরা বলবে: (এটা কখনই হতে পারে) না, আল্লাহ’র শপথ, আমারা তোমাদের এবং আমাদের (মুসলমান) ভাইদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াবো না। এরপর তাঁরা তাদের (তথা রোম বাহিনীর) সাথে যুদ্ধ করবে। তখন (যদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মুসলমানদের মধ্যে) তিন ভাগের এক ভাগ (ভয়ে) পালিয়ে যাবে, আল্লাহ তাদের তওবা আর কখনই কবুল করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ শহীদ হয়ে যাবে; তাঁরা হবে আল্লাহ’র কাছে (সেই জিহাদের) সর্বোত্তম শহীদ। আর (অবশিষ্ট) এক তৃতীয়াংশ (যাঁরা বেঁচে যাবে তাঁরা ওই জিহাদে রোমদের উপর) বিজয় লাভ করবে; (পরে) তাঁরা আর কখনই ফিতনায় পতিত হবে না। এরপর তাঁরা (সামনে অগ্রসর হয়ে) কুস্তুনতুনিয়া (কন্সট্যান্টিনোপোল/ ইস্তাম্বুল, তুরষ্ক) জয় করবে। তারা যখন তাদের তরবারী জয়তুন গাছে ঝুলিয়ে গণীমতের মাল বন্টন করতে থাকবে, এমন সময় শয়তান তাদের মাঝে চিৎকার দিয়ে বলবে: নিশ্চই মাসিহ (দাজ্জাল) তোমাদের পরিবারের পিছনে লেগেছে। তখন তাঁরা (অবস্থার সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য) বেরিয়ে পড়বে, কিন্তু (বাস্তবে) খবরটি ছিল মিথ্যা। তাঁরা যখন শাম-এ গিয়ে পৌছবে, (তখন) দাজ্জাল বের হবে। তাঁরা জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধ হতে হতেই (আযান ও) নামাযের আকামত দেয়া হবে। তখন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.) নাজিল হবেন। এরপর (নামায আদায় করা হবে ইমাম মাহদীর ইমামতীতে এবং নামাযের পর দাজ্জালের মুকাবেলায় মুসলীম উম্মাহ’র) তিনি নেতৃত্ব দিবেন। আল্লাহ’র দুশমন (দাজ্জাল) যখন তাঁকে দেখবে, তখন সে এমনভাবে গলে যাবে যেভাবে লবন পানিতে গলে যায়। তিনি যদি তাকে (ওভাবেই) ছেড়ে দিতেন, তাহলে (সে গলতে গলতে) একসময় (পুরাপুরি) ধ্বংস হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ ঈসা আ.-এর হাত দ্বারা তাকে হত্যা করবেন। তাই (শেষ পর্যন্ত ) ঈসা আ.-এর বর্শার মধ্যে তার রক্ত তারা দেখতে পাবে। [সহিহ মুসলীম ২৮৯৭]
#হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَرِّ وَجَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ ” . قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ ” لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوَهَا سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ بَنِي إِسْحَاقَ فَإِذَا جَاءُوهَا نَزَلُوا فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسِلاَحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهْمٍ قَالُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيَسْقُطُ أَحَدُ جَانِبَيْهَا ” . قَالَ ثَوْرٌ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ ” الَّذِي فِي الْبَحْرِ ثُمَّ يَقُولُوا الثَّانِيَةَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الآخَرُ ثُمَّ يَقُولُوا الثَّالِثَةَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيُفَرَّجُ لَهُمْ فَيَدْخُلُوهَا فَيَغْنَمُوا فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْمَغَانِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيخُ فَقَالَ إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ . فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَىْءٍ وَيَرْجِعُونَ – ‘তোমরা (হয়তো) এমন শহরের কথা শুনেছো, যার একটি দিক স্থলে অবস্থিত এবং আরেকটি দিক সমূদ্রে অবস্থিত? লোকেরা বললো: হ্যা, ইয়া রাসুলাল্লাহ, (শুনেছি)। রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করলেন- কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যাবৎ বনু-ইসহাক-এর সত্তর হাজার লোক তা আক্রমন না করে। তাঁরা সেখানে এসে অবতরন করার পর না কোনো অস্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধ করবে, আর না কোনো তীর নিক্ষেপ করবে। তাঁরা বলবে: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ’ , এতেই তার একটা দিক ধ্বসে পড়বে। ছাওর বলেন: আমি শুধু এতটুকু জানি যে, তিনি বলেছেন- الَّذِي فِي الْبَحْرِ (যে দিকটি সমূদ্রে অবস্থিত)। এরপর তাঁরা দ্বিতীয়বার বলবে: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ’, তাতে অপর দিকটি ধ্বসে পড়বে। এরপর তাঁরা তৃতীয়বার বলবে: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ’, এতে তাদের জন্য (গেট) খুলে যাবে এবং তারা সেখানে প্রবেশ করে গণীমত লাভ করবে। তারা যখন নিজেদের মধ্যে গণীমত বন্টন করতে থাকবে এমন সময় একটি বিকট আওয়াজ আসবে; বলবে-إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ (নিশ্চই দাজ্জাল বের হয়ে গেছে)। তখন তাঁরা (গণীমতের) সবকিছু রেখে দিয়ে (ঘটনা নিরিক্ষনের উদ্দেশ্যে) পুণরায় বেরিয়ে পড়বে। [সহীহ মুসলীম ২৯২০]
ফায়দা: এই হাদিসে মালহামাহ (মহাযদ্ধ)’র শেষের দিকে ইমাম মাহদী রা. ও মুসলমানদের দ্বারা তুরষ্কের ইস্তাম্বুল / কুসতুনতুনিয়া বিজয়ের বিষয়টিকেই আরো কিছু বর্ণনা সহকারে পেশ করা হয়েছে, যার এর উপরের হাদিসের সাথে সম্পর্ক যুক্ত।
‘বনু ইসহাক’ বলতে নবী ইব্রাহিম আ.-এর পুত্র নবী ইসহাক আ.-এর বংশধর উদ্দেশ্য। নবী ইসহাক আ.-এর পুত্র ছিলেন নবী ইয়াকুব আ., যাঁকে বাইবেলে বিশেস ভাবে ‘ইসরাঈল’ নামেও ডাকা হয়েছে, আর ‘বনী ইসরাঈল’ বলতে তাঁর ১২ সন্তান (মানে নবী ইউসূফ আ. ও তাঁর ১১ ভাই) এবং তাদের বংশধর’কে ধরা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা গেল, হাদিসে বর্ণিত বনু-ইসহাকের সত্তর হাজার মুসলীম মুজাহিদগণ যারা তুরষ্কের ইস্তাম্বুল আক্রমন করবেন, তারা হবেন বনী-ইসরাঈলের মুসলীম বংশধর।
আর আরবী ভাষায় তৎকালে ৭০, ৪০ ইত্যাদি শব্দ’গুলি ‘বহু, অসংখ্য, অগণিত’ ইত্যাদি অর্থ বোঝাতেও ব্যবহৃত হত, ঠিক যেমনটা আমাদের বাংলা ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে ‘বহু’ বোঝাতে ‘একশ’ কথাটি উল্লেখ করা হয়ে থাকে, যেমন বলা হয়: ‘আমি তোমাকে একশ’বার নিষেধ করলাম, তাও আমার কথা শুনলে না’। এর উদ্দেশ্য, বহুবার করে বলার পরেও শুনলে না। সুতরাং, হাদিসে বনু-ইসহাকের সত্তর হাজার মুজাহিদ বলতে প্রায় সত্তর হাজারও হতে পারে, বা তার থেকেও অনেক বেশি বা অগণিতও উদ্দেশ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب
# হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুসর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَيْنَ الْمَلْحَمَةِ وَفَتْحِ الْمَدِينَةِ سِتُّ سِنِينَ، وَيَخْرُجُ الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ فِي السَّابِعَةِ. رواه أبو داود فى سننه, كتاب الملاحم , باب في تواتر الملاحم : رقم ٥٤٩٦ و قَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى; قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري: (٦/٣٢١) وإسناده أصح من إسناد حديث معاذ; سنن ابن ماجه: ٤٠٩٣; مسند أحمد: ١٧٢٣٨; البحر الزخار بمسند البزار: ٣٥٠٥; السنن الواردة في الفتن للداني:٤٨٩ و٦١٤ و٦٥٩; الفتن لنعيم بن حماد: ١٤٥٤ و ١٤٦٩ – ‘মালহামাহ (-ই-কুবরা তথা মহাযুদ্ধ শুরু হওয়া) এবং (কুস্তুনতুনিয়া) শহরটির বিজয় (হতে সময় লাগবে) ছয় বছর এবং মাসিহ-দাজ্জাল বেড় হবে সপ্তম বছরে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫৪৯৬; মুসনাদে আহমদ- ১৭২৩৮; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৩৫০৫; আস-সুন্নাহ, দানী- ৪৮৯, ৬১৪, ৬৫৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১৪৫৪, ১৪৬৯]
ফায়দা: হযরত মুয়ায বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الْمَلْحَمَةُ الْكُبْرَى ، وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ ، وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ . رواه أحمد: ٣٦/٣٧١، وأبوداود: ٤٢٩٥، والترمذي: ٢٢٣٨، وابن ماجه: ٤٠٩٢; وضعفه الألباني في ” ضعيف الترمذي ‘মালহামায়ে-কুবরা (মহাযুদ্ধ), কুস্তুনতুনিয়া বিজয় এবং দাজ্জালের বেড় হওয়া -সাত মাসের মধ্যে ঘটবে’। [জামে তিরমিযী, হাদিস ২২৩৮; মুসনাদে আহমদ- ৩৬/৩৭১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৯২]
এই হাদিসটি উপরের হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এখানে মূলতঃ মালহামায়ে-কুবরা (মহাযুদ্ধ)-এর প্রথম ৫টি বছরের কথা বলা হচ্ছে না, বরং তার ৬ষ্ঠ বছরের শেষ দিককার কিছু সময়, তারপর কুস্তুনতুনিয়া বিজয়, তারপর সপ্তম বছরের শুরু বা মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে দাজ্জালের আবির্ভাব -এসব মোট সাত মাসের মধ্যে ঘটবে বলে ইংগীত করা হয়েছে। الله اعلم بالصواب
দাজ্জাল বের হওয়ার আগের বৈশ্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট ?
# হযরত আওফ বিন মালেক আশযায়ী রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ أَمَامَ الدَّجَّالِ سِنِينَ خَوَادِعَ يَكْثُرُ فِيهَا الْمَطَرُ ، وَيَقِلُّ فِيهَا النَّبْتُ ، وَيُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الأَمِينُ ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ ” , قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ ” . وَبِهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، مِثْلَهُ , غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ : ” قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ ؟ قَالَ : الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ . أخرجه الطحاوى في “مشكل الآثار : ١/٤٠٥, والبزار ٢٧٤٠ , و الطبراني في “معجمه الكبير”١٢٥/٦٨/١٨ , وفي مسند الشاميين ٤٨ , و الروياني ٥٨٨ -‘নিশ্চই দাজ্জালে (আগমনের) আগে কিছু প্রতারনাপূর্ণ বছর এমন হবে, যখন তাতে অনেক বৃষ্টিপাত হবে, কিন্তু তাতে শস্য-ফলন হবে কম। তখনকার মিথ্যুককে সত্যবাদি বলে গণ্য করা হবে এবং সত্যবাদিকে গণ্য করা হবে মিথ্যুক রূপে। এমনিভাবে তখনকার খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গণ্য করা হবে, আর আমানতদারকে গণ্য করা হবে খেয়ানতকারী রূপে। সেসময় রুওয়াইবাজাহ’কে কথা বলতে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন- مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ -‘‘এমন ব্যাক্তি যার (বাস্তবে আল্লাহ’র দৃষ্টিতে) মূল্য নেই, (যে তার উপযুক্তই নয়)’। আর হযরত আনাস রা.-এর বর্ণনায় আছে: জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ – ফাসেক (পাপাবিষ্ঠ ও মনুষ্যত্বে পচনধরা সব) ব্যাক্তিরা, যারা সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে কথা বলবে। [শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী-১/৪০৫; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৭৪০; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-১৮/৬৮/১২৫; মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরানী ৪৮; মুসনাদে রুইয়ানী, হাদিস ৫৮৮; মুসনাদে আবু ইয়া’লা ৩৮১৫]
ফায়দা: এই হাদিসে দাজ্জালের আগমনের পূর্বের কিছু ধোকা ও প্রতারনাপূর্ণ বছরগুলোতে আবির্ভূত ‘রুওয়াইবাজাহ’ কারা -সে ব্যাপারে আমরা ‘শেষ জামানার বুদ্ধিজীবী, মিথ্যুক মিডিয়া ও পলিটিশিয়ান সম্পর্কে মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যত বাণী’ -তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনাটি পড়ার জন্য আন্ডারলাইন কৃত কথাগুলোর উপরে ক্লিক করুন। الله اعلم بالصواب
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ الأَعْوَرَ الدَّجَّالَ مَسِيحَ الضَّلاَلَةِ يَخْرُجُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فِي زَمَانِ اخْتِلاَفٍ مِنَ النَّاسِ وَفُرْقَةٍ ، فَيَبْلُغُ مَا شَاءَ اللَّهُ مِنَ الأَرْضِ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، اللَّهُ أَعْلَمُ مَا مِقْدَارُهَا ، اللَّهُ أَعْلَمُ مَا مِقْدَارُهَا – مَرَّتَيْنِ . رواه ابن حبان في صحيحه:١٥/٢٢٣ رقم ٦٨١٢ و قال شعيب الأرنؤوط : اسناده قوي رجاله ثقات رجال الصحيح غير كليب بن شهاب, والد عاصم, فقد روي له اصحاب السنن و البخاري في رفع يدين, وهو صدوق; و رواه البزار في كشف الأستار, كِتَابُ الْفِتَنِ, بَابُ مَا جَاءَ فِي الدَّجَّالِ: ٥/٢٢١ و قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري: أخرجه البزار بسند جيد … انتهى, قال الهيثمي :٧/٣٤٩ رجاله رجال الصحيح غير علي بن المنذر وهو ثقة; و صححه الألباني في ” صحيح الموارد: رقم ١٥٩٨ – ‘নিশ্চই পথভ্রষ্ঠ কানা মাসিহ দাজ্জাল পূর্বদিক থেকে বের হবে এমন এক জামানায় যখন মানুষজনের মাঝে বিরোধ-দ্বন্দ্ব ও দলাদলি (প্রকট মাত্রায়) থাকবে। এরপর -আল্লাহ যেমনটা চান- সে পৃথিবীতে থাকবে চল্লিশ দিন। ‘(আর) আল্লাহ’ই ভাল জানেন যে, তার (চল্লিশ দিনের) পরিমানটা কত! আল্লাহ’ই ভাল জানেন যে, তার (চল্লিশ দিনের) পরিমানটা কত! (একথা দুবার বললেন)’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/২২৩ হাদিস ৬৮১২; মুসনাদে বাযযার– ৫/২২১; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]
# হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুসর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا يَخْرُجُ الدَّجَّالُ حَتَّى يَذْهَلَ النَّاسُ عَنْ ذِكْرِهِ ، وَحَتَّى تَتْرُكَ الأَئِمَّةُ ذِكْرَهُ عَلَى الْمَنَابِرِ . رواه أحمد: ١٦٢٣١ ، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني: ٨٣٠ ، والطبراني في مسند الشاميين: ٩٦٧ ، و ابن قانع في معجم الصحابة: ٦٨٦ ، وقال في معجم الزوائد: ٣/٣٤٥ : رواه عبد الله بن أحمد من رواية بقية عن صفوان ابن عمرو وهي صحيحة كما قال ابن معين، وبقية رجاله ثقات، وقال الزين في المسند: ١٣/١١٢ : إسناده صحيح وهو من زوائد عبدالله . – ‘দাজ্জাল বেড় হবে না, যাবৎ না (অধিকাংশ) মানুষজন তার কথা উল্লেখ করা থেকে অন্যমনষ্ক হয়ে যায় এবং যাবৎ না ইমামগণ মিম্বরগুলোতে তার কথা উল্লেখ করা ছেড়ে দেয়’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৬২৩১; মুসনাদে শামেইন, ত্বাবরাণী- ৯৬৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৩/৩৪৫]
# যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- َ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي خَفْقَةٍ مِنَ الدِّينِ ، وَإِدْبَارٍ مِنَ الْعِلْمِ ، . رواه احمد في المسند : ٣/٣٦٧ , و قال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح – “দাজ্জাল বেড় হবে দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায় এবং (কুরআন সুন্নাহ’র) ইলম থেকে (উম্মাহ’র পাইকারী হারে লেজগুটিয়ে) পিছুটান কালে”। [মুসনাদে আহমদ- ৩/৩৬৭; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫৬৯৪; আত-তাউহীদ, ইবনে খুযাইমাহ- ১/১০২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৩০]
ফায়দা: আরবী শব্দ خَفْقَة -এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, যেমন: হৃৎপিন্ড অধিক পরিমানে ধক ধক আওয়াজ সহ স্পন্দন করা বা নড়াচড়া করা, গোজামিল বা খলৎমলৎ হওয়া, বেশি আন্দোলীত হওয়া, বেশির ভাগ অংশ পিছু-পা হওয়া ইত্যাদি। এই হাদিসে يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي خَفْقَةٍ مِنَ الدِّينِ – ‘দাজ্জাল বেড় হবে দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায়’ -বলতে বোঝানো হয়েছে, দাজ্জাল যে জামানায় বের হবে, সেই জামানার মানুষজনের ইমান আমল ও স্বভাব চরিত্র ব্যাপক হারে খলৎমলত ও গোজামিলযুক্ত হয়ে যাবে, তারাদের হাতে দ্বীন ইসলাম ও শরীয়ত মুমূর্ষ অবস্থায় পরিনত হবে, যার ওই দূর্দশাকে সারিয়ে তোলার মতো দ্বীনের আহাল (প্রকৃত ধারক বাহক ওলামায়ে কেরাম)-এর সংখ্যা হবে এত অল্প যে, তাদের তা করার শক্তি সামর্থ কিছুই থাকবে না। এদিকে ইংগীত করে ইবনুল আসীর রহ. এই অংশের ব্যাখ্যায় কথাটি এভাবে বলেছেন- خَفْقَة مِنَ الدِّينِ اى في حال ضعيف من الدين و قلة اهله – “দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায়, অর্থ দ্বীনের দূর্বলতা এবং দ্বীনের আহালের পরিমান খুবই অল্প থাকাবস্থায়”। [আন-নিহায়াহ- ২/৫৫]
# আবু তুফায়েল রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেন- إِنَّ الدَّجَّالَ لَوْ خَرَجَ فِي زَمَانِكُمْ لَرَمَتْهُ الصِّبْيَانُ بِالْخَذْفِ، وَلَكِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ فِي بُغْضٍ مِنَ النَّاسِ، وَخِفَّةٍ مِنَ الدِّينِ، وَسُوءِ ذَاتِ بَيْنٍ . أحرجه الحاكم في المستدرك : ٤/٥٢٩ رقم ٨٦١٢ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه و قال الذهبي في التلخيصه : علي شرط البخاري و المسلم ، و عبد الرزاق في مصنفه : ١١/٣٩٤ رقم ٢٠٨٢٧، وصححه الألباني في كتاب قصة المسيح الدجال ص ١٠٦ – “যদি দাজ্জাল তোমাদের (এই) জামানায় বের হত, তাহলে নির্ঘাৎ কিশোররাই ওকে ঢেলা দিয়ে ঢিল মাড়তো’। অবশ্য দাজ্জাল বের হবে (এমন এক পঁচনধরা জামানায়) যখন মানুষজনের মাঝে (ব্যাপক মাত্রায় পারষ্পরিক) বুগ্জ (ঘৃনাভরা-ক্রধ) থাকবে, (মানুষজনের দ্বারা) দ্বীনের মধ্যে খলৎমলৎ হয়ে যাবে, (উম্মতের) নিজেদের মাঝে সম্পর্ক থাকবে মন্দ”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫২৯ হাদিস ৮৬১২]
# হুযাইফা রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেন- يَخْرُجُ فِي قِلَّةٍ مِنَ النَّاسِ وَ نَقْصٍ مِنَ الطَّعَامِ ، وَ سُوءِ ذَاتِ بَيْنٍ، وَ خَفْقَة مِنَ الدِّينِ . رواه عبد الرزاق في مصنفه : ١١/٣٩٤ رقم ٢٠٨٢٧ – “সে(ই খবীস দাজ্জাল) বের হবে –(পৃথিবীতে) মানুষের স্বল্পতা, খ্যাদের সংকট, (উম্মতের) নিজেদের মাঝে মন্দ সম্পর্ক এবং দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায়”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৯৪ হাদিস ২০৮৬৭]
# আনাস বিন মালেক রা. -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- الدجال مكتوب بين عينيه ك ف ر . قال : وذكر قتادة : أنه يقرؤه كل مؤمن أمي وكاتب ، يخرج في قلة من الناس ونقص من الطعام ، يدخل أمصار العرب كلها غير طيبة ، وهي المدينة . قال قائل : يا نبي الله ، أما يريد المدينة ؟ قال : بلى ، ولكن الملائكة صافون بنقابها وأبوابها يحرسونها . رواه الإمام أبو يعلى في مسنده : ٥/٣٦٨ رقم ٣٠١٦، و صححه الأستاذ حسين سليم أسد في مسند الإمام أبي يعلى – “দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে (কপালের কাছে) লিখা থাকবে- ك ف ر (কাফ-ফা-রা তথা কাফের)’। রাবী বলেন: ‘ক্বাতাদাহ (তাঁর বর্ণিত হাদিসে আরো) উল্লেখ করেছেন: ‘সে(ই লেখা)টাকে প্রত্যেক নিরক্ষর ও শিক্ষিত মুমিন (উভয়ই) পড়তে পারবে। (পৃথিবীতে) মানুষের স্বল্পতা এবং খ্যাদের সংকটের সময়ে সে বের হবে। সে আরবের ‘তৈয়্যেবাহ’ ব্যতীত সকল শহরে প্রবেশ করবে -আর সে(ই তৈয়্যেবাহ)টা হল ‘মদিনা’। (তখন) কেউ জিজ্ঞেস করলো: ‘হে আল্লাহ’র-নবী! ‘আল-মদিনা’(র লোকদেরকে ফিতনাগ্রস্থ করাও) তার উদ্দেশ্য হবে’? তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ। তবে ফেরেশতাগণ তার অলিগলি ও প্রবেশপথে (তরবারী হাতে) সারিবদ্ধ হয়ে পাহারায় থাকবে”। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা– ৫/৩৬৮ হাদিস ৩০১৬]
ফায়দা: ইমাম মাহদী, মালহামাহ ও দাজ্জাল বিষয়ক হাদিসগুলো পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, ইমাম মাহদী রা.-এর খিলাফতের অধীনে তাঁর সাহায্যকারী মুমিনগণের সাথে দফায় দফায় কাফেরদের সাথে প্রায় ৬/৭ বছর ধরে যুদ্ধ চলবে, যার শেষ অংশে হবে ‘মালহামাতুল কুবরা’ (অন্য কথায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ), যে যুদ্ধে কাফেরদের ৮০টি পতাকার প্রতিটির তলে থাকা প্রায় ১২ হাজার করে (প্রায় ৯ লক্ষ্য ৬০ হাজার) সৈন্যের সাথে মুসলমানদের মোকাবেলা হবে। শেষে মুসলমানদেরই বিজয় হবে। তবে ৬/৭ বছর ধরে চলা এসব যুদ্ধের কারণে গোটা পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা অভাবনীয় ভাবে কমে যাবে এবং সবখানে খাদ্য-পানীয়ের সংকট/দূর্ভিক্ষ লেগে যাবে। একটি যুদ্ধপরবর্তী পৃথিবীর চোখ যখন খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য হাহাকার করতে থাকবে, তখন এক সময় দাজ্জাল বের হবে তার খাদ্যের পাহাড় ও পানীর নহর সহকারে। কাফের, মুনাফেক ও দূর্বল ইমানেরে নারী পুরুষরা তাদের দ্বীন ও ইমান ছেড়ে দিয়ে দাজ্জালের প্রলোভনী ফিতনায় জড়িয়ে পড়বে। الله اعلم بالصواب
দাজ্জাল বের হওয়ার বিভিন্ন স্থানসমূহ ?
মুহাক্কেক আলেমগণের মতে, নিম্নোক্ত হাদিস ও আছার সমূহে ‘দাজ্জাল অমুক স্থানে আছে এবং অমুক অমুক স্তান থেকে বের হবে’ মর্মে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা দ্বারা তার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বের হওয়া উদ্দেশ্য।
# ফাতেমা বিনতে কায়েস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- أَلاَ إِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ ما هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ . وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْمَشْرِقِ . رواه مسلم في صحيحه, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب قصة الجساسة: رقم ٢٩٤٢ – “শুনে রাখো, সে(ই মিথ্যক খবীস দাজ্জাল) শামের সমূদ্রে বা ইয়ামেনের সমূদ্রে রয়েছে। না, বরং পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে)। সে রয়েছে পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে), সে রয়েছে পূর্ব দিকস্থ (সমূদ্রে)’। আর (একথা বলার সময়) তিনি তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করছিলেন”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৪২; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী-১/১১৪৮ হাদিস ৬২৬; সুনানে তিনমিযী, হাদিস ২২৫৩; আল-মু’জামুল কাবীর, তাবরাণী- ২৪/৩৮৬-৪০৫ হাদিস ৯৫৭-৯৮৩]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ الأَعْوَرَ الدَّجَّالَ مَسِيحَ الضَّلاَلَةِ يَخْرُجُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فِي زَمَانِ اخْتِلاَفٍ مِنَ النَّاسِ وَفُرْقَةٍ ، فَيَبْلُغُ مَا شَاءَ اللَّهُ مِنَ الأَرْضِ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، اللَّهُ أَعْلَمُ مَا مِقْدَارُهَا ، اللَّهُ أَعْلَمُ مَا مِقْدَارُهَا – مَرَّتَيْنِ . رواه ابن حبان في صحيحه:١٥/٢٢٣ رقم ٦٨١٢ و قال شعيب الأرنؤوط : اسناده قوي رجاله ثقات رجال الصحيح غير كليب بن شهاب, والد عاصم, فقد روي له اصحاب السنن و البخاري في رفع يدين, وهو صدوق; و رواه البزار في كشف الأستار, كِتَابُ الْفِتَنِ, بَابُ مَا جَاءَ فِي الدَّجَّالِ: ٥/٢٢١ و قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري: أخرجه البزار بسند جيد … انتهى, قال الهيثمي :٧/٣٤٩ رجاله رجال الصحيح غير علي بن المنذر وهو ثقة; و صححه الألباني في ” صحيح الموارد: رقم ١٥٩٨ – ‘নিশ্চই পথভ্রষ্ঠ কানা মাসিহ দাজ্জাল পূর্বদিক থেকে বের হবে এমন এক জামানায় যখন মানুষজনের মাঝে বিরোধ-দ্বন্দ্ব ও দলাদলি (প্রকট মাত্রায়) থাকবে। এরপর -আল্লাহ যেমনটা চান- সে পৃথিবীতে থাকবে চল্লিশ দিন। ‘(আর) আল্লাহ’ই ভাল জানেন যে, তার (চল্লিশ দিনের) পরিমানটা কত! আল্লাহ’ই ভাল জানেন যে, তার (চল্লিশ দিনের) পরিমানটা কত! (একথা দুবার বললেন)’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/২২৩ হাদিস ৬৮১২; মুসনাদে বাযযার– ৫/২২১; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]
ফায়দা: সহিহ ইবনে হিব্বানের আরেক হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- خرج الدجال من هاهنا. و أشار نحو المشرق . رواه ابن حبان في صحيحه: ١٥/٢٠٢ رقم ٦٧٩٢, تحقيق : شعيب الأرنؤوط – ‘দাজ্জাল বের হবে ওখান থেকে এবং (একথা বলার সময়) তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/২০২ হাদিস ৬৭৯২]
# নওয়াস বিন সামআন রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলে- রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إنَّه خَارِجٌ خَلَّةً بيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ، فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا، يا عِبَادَ اللهِ فَاثْبُتُوا، قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، وَما لَبْثُهُ في الأرْضِ؟ قالَ: أَرْبَعُونَ يَوْمًا، يَوْمٌ كَسَنَةٍ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ . أخرجه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٩٣٧ ; و الترمذي في سننه , كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ , باب ما جاء في فتنة الدجال : رقم ٢٢٤٠ دون السؤال ، و أحمد في مسنده : رقم ١٧٦٢٩ – “সে(ই খবীস মিথ্যুক দাজ্জাল) বের হবে ইরাক এবং শামের মাঝামাঝি (একটি) সংযোগস্থল (এলাকা) থেকে। পরে সে ফ্যাসাদ/দূর্যোগ সৃষ্টি করবে ডানে ও বামে। ওহে আল্লাহ’র বান্দাগণ, তোমরা (তার ফিতনার সময়ও দ্বীনের উপরে) দৃঢ়পদে থেকো, (কোনো মতেই ইমান ছাড়বে না)’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার স্থায়ীত্ব কত (দিন) হবে’ ? তিনি বললেন: ‘চল্লিশ দিন (থাকবে, যার) একটি দিন হবে এক বছরের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক মাসের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক সপ্তাহের মতো (দীর্ঘ) এবং তার বাদবাকি দিনগুলো হবে তোমাদের (স্বাভাবিক) দিনগুলোর মতো”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৭; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৭৬২৯; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬৬১ হাদিস ৮৫৭৩; আল-ইমান, ইমাম ইবনু মানদাহ- ২/৯৩৩ হাদিস ১০২৭]
# আবু বকর সিদ্দিক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ ، يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمْ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ . رواه الترمذي, أبواب الفتن, باب ما جاء من أين يخرج الدجال: حديث رقم ٢٢٣٧, و أحمد: ١/٤ رقم ١٢; و ابن ماجه: ٤٠٧٢, و الحاكم: ٤/٥٧٣ و قال : صحيح الإسناد و وافقه الذهبي . حسنه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة: رقم ١٥٩١ و في صحيح الجامع الصغير: حديث رقم ٣٣٩٨ – ‘দাজ্জাল পূর্বদিকে (অবস্থিত) খুরাসান নামক (একটি) অঞ্চল থেকে বেড় হবে। (তখন এমন) গোষ্ঠিসমূহ অনুসরণ করবে, যাদের মুখগুলো হবে হাতুরী পিটানো ঢালের মতো (দেখতে)’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৬৩; মুসনাদে আহমদ- ১/৪ হাদিস ১২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৭২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫৭৩]
# আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ يَهُودِ أَصْبَهَانَ، سَبْعُونَ أَلْفًا عَلَيْهِمُ الطَّيَالِسَةُ . روى الإمام مسلم في صحيحه, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب في بقية من أحاديث الدجال: حديث رقم ٢٩٤٤ – ‘দাজ্জালকে ‘আসবাহান (ইসফাহান)’-এর সত্তর হাজার ইহূদী অনুসরণ করবে, তাদের (মাথা/গায়ের) উপরে থাকবে তায়ালিসাহ (নামক এক ধরনের পোষাক)’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৪৪]
# আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَخْرُجُ الدَّجَّالُ مِنْ يَهُودِيَّةِ أَصْبَهَانَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ الْيَهُودِ عَلَيْهِمْ التِّيجَانُ . رواه أحمد برقم ١٢٨٦٥ – ‘দাজ্জাল ইহূদীদের-আবাস ‘আসবাহান (ইসফাহান)’ থেকে বের হবে। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী, তাদের (মাথা/গায়ের) উপরে থাকবে তায়যান’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১২৮৬৫]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لَيَنْزِلَنَّ الدَّجَّالُ خُوزَ وَكَرْمَانَ فِي سَبْعِينَ أَلْفًا ، وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطْرَقَةِ . رواه الإمام أحمد: ٢/٣٣٧، و إسناده حسن كما جاء في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ٢/٤٠٦ – ‘দাজ্জাল অবতরণ করবে ‘খুজ’ এবং ‘কিরমান’ (এলাকা)-এর সত্তর হাজার লোকের মাঝে, যাদের মুখগুলো হবে হাতুরী পিটানো ঢালের মতো (দেখতে)’। [মুসনাদে আহমদ- ২/৩৩৭]
# সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- قَالَ أَبُو بَكْرٍ : هَلْ بِالْعِرَاقِ أَرْضٌ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ ، قَالُوا : نَعَمْ ، قَالَ : فَإِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ مِنْهَا . رواه ابن أبي شيبة في المصنف, كتاب الفتن, ما ذكر في فتنة الدجال: ١٤/١٣٤ رقم ٣٩٤٨٥ تحقيق: محمد بن ابراهيم ; و ذكر المتقي الهندي في كنز العمال: ١٤/٦٨٥ رقم ٣٩٦٨٣ – ‘আবু বকর (সিদ্দিক) রা. জিজ্ঞেস করলেন: ইরাকে কি খুরাসান নামে কোনো এলাকা আছে? লোকেরা বললো: ‘জি (আছে)’। তিনি বললেন: ‘তাহলে দাজ্জাল সেখান থেকেই বের হবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ– ১৪/১৩৪ আছার ৩৯৪৮৫; কাঞ্জুল উম্মাল- ১৪/৬৮৫ আছার ৩৯৬৮৩]
# ইবনুল হাইছাম রহ. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- ثم قال لي: ممن أنت؟ قال: قلت: من أهل العراق أو قال: من أهل الكوفة . قال: تعرف كوثا؟ قال: قلت: نعم. قال: منها يخرج الدجال . رواه عبد الرزاق في مصنفه: ١١/٣٩٥ رقم ٢٠٨٢٩ تحقيق: حبيب الرحمان ألأعظمي, رجاله كلهم ثقات كما جاء في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ٢/٤٠٩ – ‘…অতঃপর (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি কোথাকার লোক’? তিনি বলেন: ‘আমি বললাম: আমি ইরাকের লোক’, (রাবী বলেন:) অথবা বলেছেন: ‘আমি (ইরাকের) কুফা’র লোক’। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি কি কুছ (নামক স্থানটি) চেনো’? তিনি বলেন: ‘আমি বললাম: জি (চিনি)’। তিনি বললেন: ‘ওখান থেকে দাজ্জাল বের হবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক– ১১/৩৯০ আছার ২০৮২৯]
ফায়দা: মুহাক্কিকগণের অনেকের মতে, উপরোক্ত বিভিন্ন রেওয়ায়েতে যে বলা হয়েছে যে, ‘দাজ্জাল’ অমুক অমুক এলাকা/অঞ্চল থেকে বের হবে, মুহাক্কিক আলেমগণের মতে, ওগুলোর দ্বারা দাজ্জাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বের হওয়ার দিকে ইশারা করা হয়েছে, অথবা তার সফরের মধ্যে কোনো একই এলাকাকে ইংগীত করতে ওই এলাকাটি যে দেশ বা শহর কিংবা গ্রামের সাথে সম্পর্কযুক্ত তার দিকে ইশারা করে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যখন সে আত্বপ্রকাশ করবে, তখন এক এলাকায় অবতরন করবে, তারপর সেখানকার কাজ শেষ হলে আবার সেখান থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হবে, আবার সে অঞ্চলের কাজ শেষ হলে সেখান থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হবে। এভাবে সে পৃথিবীর যেখানে যেখানে যাওয়ার যাবে।
উপরোক্ত হাদিস ও আছার গুলোতে বর্ণিত জায়গাগুলো চোদ্দ’শ বছর আগের ভূমি সীমানা হিসেবে যা ইরাকের মধ্যে পড়েছে, ঘটনার ক্রমধারায় সেই যায়গাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর সীমানা বর্তমান যুগের ইরানের ভিতরেও পড়েছে। [আশরাতুস সা’আহ, ড. ইউসুফ ওয়াবিল: ৩১১ পৃ:] ا
দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –(৩)
দাজ্জাল সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিত হাদিস ও আছার
# নওয়াস বিন সামআন রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলে- ذَكَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ، فَخَفَّضَ فيه وَرَفَّعَ، حتَّى ظَنَنَّاهُ في طَائِفَةِ النَّخْلِ، فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذلكَ فِينَا، فَقالَ: ما شَأْنُكُمْ؟ قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً، فَخَفَّضْتَ فيه وَرَفَّعْتَ، حتَّى ظَنَنَّاهُ في طَائِفَةِ النَّخْلِ، فَقالَ: غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي علَيْكُم، إنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ، فأنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ، وإنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ، فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ، وَاللَّهُ خَلِيفَتي علَى كُلِّ مُسْلِمٍ، إنَّه شَابٌّ قَطَطٌ، عَيْنُهُ طَافِئَةٌ، كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بعَبْدِ العُزَّى بنِ قَطَنٍ، فمَن أَدْرَكَهُ مِنكُمْ، فَلْيَقْرَأْ عليه فَوَاتِحَ سُورَةِ الكَهْفِ، إنَّه خَارِجٌ خَلَّةً بيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ، فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا، يا عِبَادَ اللهِ فَاثْبُتُوا، قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، وَما لَبْثُهُ في الأرْضِ؟ قالَ: أَرْبَعُونَ يَوْمًا، يَوْمٌ كَسَنَةٍ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، فَذلكَ اليَوْمُ الذي كَسَنَةٍ، أَتَكْفِينَا فيه صَلَاةُ يَومٍ؟ قالَ: لَا، اقْدُرُوا له قَدْرَهُ، قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، وَما إِسْرَاعُهُ في الأرْضِ؟ قالَ: كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ، فَيَأْتي علَى القَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ، فيُؤْمِنُونَ به وَيَسْتَجِيبُونَ له، فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ، وَالأرْضَ فَتُنْبِتُ، فَتَرُوحُ عليهم سَارِحَتُهُمْ، أَطْوَلَ ما كَانَتْ ذُرًا، وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا، وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ، ثُمَّ يَأْتي القَوْمَ، فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عليه قَوْلَهُ، فَيَنْصَرِفُ عنْهمْ، فيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ ليسَ بأَيْدِيهِمْ شيءٌ مِن أَمْوَالِهِمْ، وَيَمُرُّ بالخَرِبَةِ، فيَقولُ لَهَا: أَخْرِجِي كُنُوزَكِ، فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ، ثُمَّ يَدْعُو رَجُلًا مُمْتَلِئًا شَبَابًا، فَيَضْرِبُهُ بالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الغَرَضِ، ثُمَّ يَدْعُوهُ فيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ، يَضْحَكُ، فَبيْنَما هو كَذلكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ المَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ، فَيَنْزِلُ عِنْدَ المَنَارَةِ البَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ، بيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ، وَاضِعًا كَفَّيْهِ علَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ، إِذَا طَأْطَأَ رَأْسَهُ قَطَرَ، وإذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ منه جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ، فلا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلَّا مَاتَ، وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ، فَيَطْلُبُهُ حتَّى يُدْرِكَهُ ببَابِ لُدٍّ، فَيَقْتُلُهُ، ثُمَّ يَأْتي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ منه، فَيَمْسَحُ عن وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بدَرَجَاتِهِمْ في الجَنَّةِ، فَبيْنَما هو كَذلكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إلى عِيسَى: إنِّي قدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي، لا يَدَانِ لأَحَدٍ بقِتَالِهِمْ، فَحَرِّزْ عِبَادِي إلى الطُّورِ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَهُمْ مِن كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ . أخرجه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٩٣٧ ; و الترمذي في سننه , كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ , باب ما جاء في فتنة الدجال : رقم ٢٢٤٠ دون السؤال ، و أحمد في مسنده : رقم ١٧٦٢٩ – “রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন দাজ্জালের আলোচনা করলেন। তখন তিঁনি (দ্বীনের বিচারে) তার (তথা দাজ্জালের) তুচ্ছতা/হীনতার বর্ণনা দিলেন, আবার তার (ভয়ানক ফিতনার গুরুত্বও) তুলে ধরলেন। (তিনি বিষয়গুলোকে এমন জীবন্তভাবে তুলে ধরছিলেন যে,) আমাদের মনে হচ্ছিল সে খেজুর গাছের ঝোপের মধ্যে (লুকিয়ে) আছে। (এর পরে একসময় আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে চলে যাই)। পরে যখন (সন্ধায়) তাঁর কাছে ফিরে আসি, তখন তিনি আমাদের মধ্যে সেটা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন: ‘কী হয়েছে তোমাদের’? আমরা বললাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন। তখন তার তুচ্ছতা/হীনতার বর্ণনা দিলেন, আবার তার (ভয়ানক ফিতনার গুরুত্বও এমন জীবন্তভাবে) তুলে ধরলেন (যে,) আমাদের মনে হচ্ছিল সে খেজুর গাছের ঝোপের মধ্যে (লুকিয়ে) আছে’। তিনি বললেন: ‘দাজ্জাল নয়; তোমাদের উপরে অন্য কিছু নিয়ে আমার (বেশি) ভয় হয়। আমি তোমাদের মাঝে (জীবিত) থাকতেই যদি সে বের হয়, তাহলে তোমাদের লাগবে না, আমি (নিজেই) তাকে প্রতিহত করবো। আর সে যদি আমি তোমাদের মাঝে (জীবিত) না থাকা অবস্থায় বের হয়, তাহলে প্রতিহতের বিষয়টি (প্রত্যেক মুসলমান) নিজ দায়িত্বে থাকবে এবং (সে ক্ষেত্রে) আমার স্থলে (দয়াময় করুনাময়) আল্লাহ’ই প্রত্যেক (মুমিন) মুসলমানের উপরে তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন। (ভাল করে দাজ্জালের বৈশিষ্ট জেনে রাখো)। নিশ্চই সে একজন অধিকমাত্রার চুল ওয়ালা যুবক, তার (এক দিকের) চোখটি (কোটরের ভিতরে) নির্জীব/অসতেজ (থাকবে)। আমি -তার সাদৃশ্যতা (কার সাথে মিলে, সেই উদাহরণ) দিলে (বলবো, সে অনেকটা) আব্দুল উযযা বিন ক্বাতানের মতো (দেখতে)। তোমাদের (মুসলমানদের) মধ্যে যে তার সাক্ষাত পাবে, সে যেন ওর সামনে সুরা কাহফের প্রথম (১০ টি আয়াত) পড়ে নেয়। সে বের হবে ইরাক এবং শামের মাঝামাঝি (একটি) সংযোগস্থল (এলাকা) থেকে। পরে সে ফ্যাসাদ/দূর্যোগ সৃষ্টি করবে ডানে ও বামে। ওহে আল্লাহ’র বান্দাগণ, তোমরা (তার ফিতনার সময়ও দ্বীনের উপরে) দৃঢ়পদে থেকো, (কোনো মতেই ইমান ছাড়বে না)’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার স্থায়ীত্ব কত (দিন) হবে’ ? তিনি বললেন: ‘চল্লিশ দিন (থাকবে, যার) একটি দিন হবে এক বছরের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক মাসের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক সপ্তাহের মতো (দীর্ঘ) এবং তার বাদবাকি দিনগুলো হবে তোমাদের (স্বাভাবিক) দিনগুলোর মতো’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার যে দিনটি এক বছরের মতো (দীর্ঘ) হবে, তাতে কি আমাদের জন্য এক দিনের নামাযই যথেষ্ট হবে’? তিনি বললেন: ‘না। (বরং) তোমরা তার (তথা নামাযের) ওয়াক্ত (হিসাব করে) নির্ণয় করে নিবে (এবং ওয়াক্ত মতো নামায আদায় করবে)’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার ভ্রমন কী (রকম) হবে’? তিনি বললেন: ‘যেমনি ভাবে বায়ু মেঘকে হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে একটি গোষ্ঠির কাছে এসে তাদেরকে (তার ফিতনাবাদী মত ও পথের দিকে) আহবান করবে, ফলে তারা (ফিতনায় প্ররোচিত হয়ে) তার উপরে ইমান আনবে ও তার ডাকে সাড়া দিবে। তখন সে আকাশকে (তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষানোর) নির্দেশ দিবে, ফলে তা বৃষ্টি বর্ষন করবে এবং সে ভূমিকে (ফলন ফলানোর নির্দেশ দিবে), ফলে তা ফলন দিবে। পরে তাদের গবাদী পশুগুলো (সন্ধায়) তাদের কাছে বাসস্থানে ফিরে আসবে সুউচ্চ কুঁজ, (দুধে ভরা) টইটুম্বুর স্তন ও ভর্তি পেট নিয়ে। এরপর সে (আরেক) গোষ্ঠির কাছে এসে তাদেরকে (তার ফিতনাবাদী মত ও পথের দিকে) আহবান করবে। কিন্তু তারা তার কথাকে প্রত্যাক্ষান করবে। পরে সে তাদের থেকে চলে যাবে। পরে তাদের সকাল হবে দুর্ভিক্ষগ্রস্থ অবস্থায়। তাদের হাতে ধ্বনসম্পদের কিছুই থাকবে না। পরে সে এক পরিত্যাক্ত স্থান দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে (সম্মোধন করে) বলবে: ‘তুমি তোমার গুপ্তধ্বনকে বের করে দাও’। ফলে গুপ্তধ্বন তাকে (তেমনি ভাবে) অনুসরণ করবে, যেভাবে মৌমাছি মৌরাণীকে অনুসরণ করে। এরপর সে পূর্ণযৌবনভরা এক যুবককে আহবান করবে, তারপর তাকে তরবারী দিয়ে আঘাত করবে। ফলে সে একদম মাঝ বরাবর দিখন্ডিত হয়ে যাবে। তারপর তাকে ডাক দিবে। ফলে সে আনন্দময় চেহারায় তার কাছে আসবে (এবং) হেসে দিবে। এ (ঘটনা)টা (যখন) ঘটতে থাকবে তখন আল্লাহ (তাঁর প্রকৃত মাসিহ) ঈসা ইবনে মারইয়ামকে পাঠাবেন। তিনি এক জোড়া উজ্জল জাফরানী কাপড়ে (আবৃতাবস্থায়) দুজন ফেরেশতার ডানার উপরে হাত রেখে দামেশকের পূর্ব সাদা মিনারের কাছে অবতরন করবেন। তিনি যখন তাঁর মাথা ঝুঁকাবেন, তখন (তাঁর মাথার চুল থেকে পানির) ফোটা টপকে টপকে পড়বে। আর তিনি যখন মাথা উঠাবেন, তখন মুক্তার দানার মতো (পানিফোটার) বিন্দুদানা ঝড়ে পড়বে। তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস গিয়ে যে কাফেরকে লাগবে সে না মড়ে রক্ষা পারবে না। তাঁর দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে, তাঁর নি:শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত গিয়ে পৌছবে। তিঁনি তার (তথা দাজ্জালের) সন্ধানে রত থাকবেন যাবত না (ফিলিস্তিনের) বাবে-লূদে (গিয়ে) তার সাক্ষাৎ পান। পরে তিঁনি তাকে (সেখানে) হত্যা করবেন। এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) ওই গোষ্ঠির কাছে আসবেন, যাদেরকে (তাদের ইমানী অবিচলতার কারণে) আল্লাহ ওর (তথা দাজ্জালের ফিতনা) থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। পরে তিঁনি তাদের মুখগুলিতে (বরকতময়) হাত বুলিয়ে দিবেন এবং তাদেরকে জান্নাতে তাদের মর্তবাস্তরের কথা জানাবেন। এসব হতে থাকবে, এমন সময় ঈসা (আ.)-এর কাছে আল্লাহ (এই) ওহী পাঠাবেন (যে), আমি আমার (এমন সব) বান্দাদেরকে (আজ) বের হতে দিয়েছি, যাদের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারোরই নেই। তাই আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তূর (পাহড়)-এ আশ্রয় গ্রহন করো। আল্লাহ (এরপর তাঁর ওয়াদা অনুসারে) ইয়াজুজ মাজুজ’ (গোষ্ঠি)কে প্রেরন করবেন এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেড়িয়ে ধেয়ে আসবে”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৭; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৭৬২৯; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬৬১ হাদিস ৮৫৭৩; আল-ইমান, ইমাম ইবনু মানদাহ- ২/৯৩৩ হাদিস ১০২৭]
# যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- َ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي خَفْقَةٍ مِنَ الدِّينِ ، وَإِدْبَارٍ مِنَ الْعِلْمِ ، فَلَهُ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً يَسِيحُهَا فِي الْأَرْضِ ، الْيَوْمُ مِنْهَا كَالسَّنَةِ ، وَالْيَوْمُ مِنْهَا كَالشَّهْرِ ، وَالْيَوْمُ مِنْهَا كَالْجُمُعَةِ ، ثُمَّ سَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ هَذِهِ ، وَلَهُ حِمَارٌ يَرْكَبُهُ ، عَرْضُ مَا بَيْنَ أُذُنَيْهِ أَرْبَعُونَ ذِرَاعًا . فَيَقُولُ لِلنَّاسِ : أَنَا رَبُّكُمْ . وَهُوَ أَعْوَرُ ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ، مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ك ف ر مُهَجَّاةٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ ، كَاتِبٌ وَغَيْرُ كَاتِبٍ ، يَرِدُ كُلَّ مَاءٍ وَمَنْهَلٍ ، إِلَّا الْمَدِينَةَ وَمَكَّةَ حَرَّمَهُمَا اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَقَامَتْ الْمَلَائِكَةُ بِأَبْوَابِهَا ، وَمَعَهُ جِبَالٌ مِنْ خُبْزٍ ، وَالنَّاسُ فِي جَهْدٍ إِلَّا مَنْ تَبِعَهُ ، وَمَعَهُ نَهْرَانِ أَنَا أَعْلَمُ بِهِمَا مِنْهُ نَهَرٌ يَقُولُ : الْجَنَّةُ ، وَنَهَرٌ يَقُولُ : النَّارُ ، فَمَنْ أُدْخِلَ الَّذِي يُسَمِّيهِ الْجَنَّةَ فَهُوَ النَّارُ ، وَمَنْ أُدْخِلَ الَّذِي يُسَمِّيهِ النَّارَ فَهُوَ الْجَنَّةُ ، قَالَ : وَيَبْعَثُ اللَّهُ مَعَهُ شَيَاطِينَ تُكَلِّمُ النَّاسَ ، وَمَعَهُ فِتْنَةٌ عَظِيمَةٌ ، يَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ فِيمَا يَرَى النَّاسُ ، وَيَقْتُلُ نَفْسًا ثُمَّ يُحْيِيهَا فِيمَا يَرَى النَّاسُ ، لَا يُسَلَّطُ عَلَى غَيْرِهَا مِنَ النَّاسِ ، وَيَقُولُ : أَيُّهَا النَّاسُ ، هَلْ يَفْعَلُ مِثْلَ هَذَا إِلَّا الرَّبُّ ؟ ، قَالَ : فَيَفِرُّ الْمُسْلِمُونَ إِلَى جَبَلِ الدُّخَانِ بِالشَّامِ ، فَيَأْتِيهِمْ فَيُحَاصِرُهُمْ ، فَيَشْتَدُّ حِصَارُهُمْ ، وَيُجْهِدُهُمْ جَهْدًا شَدِيدًا ، ثُمَّ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَيُنَادِي مِنَ السَّحَرِ ، فَيَقُولُ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، مَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تَخْرُجُوا إِلَى الْكَذَّابِ الْخَبِيثِ ؟ ، فَيَقُولُونَ : هَذَا رَجُلٌ جِنِّيٌّ ، فَيَنْطَلِقُونَ ، فَإِذَا هُمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ، فَتُقَامُ الصَّلَاةُ ، فَيُقَالُ لَهُ : تَقَدَّمْ يَا رُوحَ اللَّهِ ، فَيَقُولُ : لِيَتَقَدَّمْ إِمَامُكُمْ فَلْيُصَلِّ بِكُمْ ، فَإِذَا صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ ، خَرَجُوا إِلَيْهِ ، قَالَ : فَحِينَ يَرَى الْكَذَّابُ ، يَنْمَاثُ كَمَا يَنْمَاثُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ ، فَيَمْشِي إِلَيْهِ فَيَقْتُلُهُ ، حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَةَ ، وَالْحَجَرَ يُنَادِي : يَا رُوحَ اللَّهِ ، هَذَا يَهُودِيٌّ ، فَلَا يَتْرُكُ مِمَّنْ كَانَ يَتْبَعُهُ أَحَدًا إِلَّا قَتَلَهُ . رواه احمد في المسند : ٣/٣٦٧ , و قال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح – ‘দাজ্জাল বেড় হবে দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায় এবং (কুরআন সুন্নাহ’র) ইলম থেকে (উম্মাহ’র পাইকারী হারে লেজগুটিয়ে) পিছুটান কালে। (মানুষকে ফিতনায় ফেলার জন্য) তার (হাতে) থাকবে চল্লিশ রাত; (যে সময়টিতে) সে পৃথিবীতে ছুটে বেড়াবে। (ওই চল্লিশ দিনের মধ্যে) একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক বৎসরের মতো, একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক মাসের মতো, একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক সপ্তাহের মতো। অতঃপর তার (বাকি) দিনগুলোর সবটাই হবে তোমাদের এই (দুনিয়ার স্বাভাবিক) দিনগুলোর মতো। তার থাকবে গাধা, যার উপরে সে আরোহন করবে। তার (গাধার) দুই কানের মধ্যবর্তী দূরুত্ব হবে চল্লিশ হাত। সে(ই দাজ্জাল) মানুষকে বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রভু)’। সে হবে (এক-চোখ) অন্ধ (এক ব্যাক্তি), আর নিশ্চই তোমাদের (প্রকৃত) রব (আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন। (সুতরাং, তোমরা ওর ফেতনায় পড়ে ওকে চিনতে ভুল করো না যেন)। ওর দুই চোখের মাঝখানে (কপালের কাছে) লিখা থাকবে কাফের ‘ ك ف ر’ -(এরকম) অক্ষরে, যা সকল মুমিন পড়তে পারবে -(চাই সে) লিখাপড়া জানুক কিংবা নিরক্ষর হোক। সে মদিনা ও মক্কা ছাড়া (পৃথিবীর) সকল পানি ও ঝরনার (স্থানে) যেতে পারবে; (কারণ) ওই দুই(স্থানে প্রবেশ করা)কে আল্লাহ ওর উপরে হারাম করে দিয়েছেন। উহার বিভিন্ন প্রবেশ পথে ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে থাকবে। ওর সাথে থাকবে রুটির পাহাড়। যে ব্যাক্তি তার অনুসরণ করবে সে ছাড়া (বাকি) মানুষ কষ্টেক্লেশে পড়ে যাবে। ওর সাথে থাকবে দুটি নহর (প্রস্রবন/নদী/নালা)। আমি ওই দুটি সম্পর্কে ভাল করে জানি। সে ওর একটি নহরকে বলবে ‘জান্নাত’ এবং একটি নহরকে বলবে ‘দোযখ’। সে সেটিকে ‘জান্নাত’ নাম দিয়ে যাকে তাতে ঢুকাবে সেটা হবে দোযখ এবং সে ‘দোযখ’ নাম দিয়ে যাকে তাতে ঢুকাবে সেটা হবে জান্নাত। আল্লাহ তার সাথে শয়তানদেরকে পাঠাবেন, তারা মানুষের সাথে কথা বলবে। তার সাথে থাকবে বিশাল ফিতনা। সে আকাশকে নির্দেশ দিবে, তখন বৃষ্টি হবে, যা মানুষজন দেখতে পাবে। সে (এক যুবক) ব্যাক্তিকে হত্যা করবে, অতঃপর (আবার) তাকে জীবিত করবে, যা মানুষজন দেখতে পাবে। সে(ই যুবকের পরে সে) ছাড়া আর কোনো (মুমিন) মানুষের উপর তার কর্তৃত্ব চলবে না। সে(ই দাজ্জাল তথাকার লোকজনকে উদ্দেশ্য করে) বলবে: ‘হে লোক সকল! (তোমাদের) রব (প্রভু) ছাড়া আর কেউ কি এমন কাজ করতে পারে’? তখন মুসলমানরা (তার থেকে) পালিয়ে শাম-এর ধুঁয়োর পাহাড়ের দিকে যাবে। তখন সে তাদের কাছে গিয়ে তাদেরকে অবরোধ করে রাখবে। পরে সে তাদের (প্রতি ওই) অবরোধকে সুকঠিন করে তুলবে (যাতে তারা ওর অনুসরন করতে বাধ্য হয়)। এতে তারা চরম কষ্টক্লেশে পড়ে যাবে। এরপর (এক সময় আসমান থেকে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) নাজিল হবেন। তারপর তিনি এক জাদুময়ী ডাক দিবেন। তারপর তিনি বলবেন: ‘হে লোক সকল! (এই) খবিস মিথ্যুকের দিকে (যদ্ধের জন্য) বেরিয়ে পড়তে কী তোমাদেরকে বাঁধা দিয়ে রেখেছে’? তারা বলবে: ‘এই লোকটি জ্বীন্নী (জ্বীন দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত)। (যখন মুসলমানরা বুঝবে যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর মাধ্যমে আল্লাহ’র সাহায্য এসে গেছে) তখন তারা (দাজ্জাল ও তার বাহীনির দিকে যুদ্ধের জন্য) এগুতে থাকবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) তাদের সাথে থাকাবস্থাতেই নামাযের (সময় হয়ে গেলে নামাযের জামাআতের) ইকামত দেয়া হবে। তাঁকে বলা হবে: ‘ইয়া রুহাল্লাহ ! আপনি (নামাযের ইমামতীর জন্য) এগিয়ে যান’। (কিন্তু) তখন তিঁনি তোমাদের (মুসলমানদের আমীর ও) ইমামকেই (নামাযের ইমামতীর জন্য) অগ্রসর হতে বলবেন। তখন (তোমাদের ইমাম, আল-মাহদী) নামায পড়াবেন। যখন ফজরের নামায পড়া হবে, তখন তারা (মোকাবেলার উদ্দেশ্যে সকলে মিলে) ওর দিকে অগ্রসব হবে। মিথ্যুক (খবীস দাজ্জাল) যখন (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে) দেখবে, তখন -লবন যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেও (তেমনি ভাবে) গলে যেতে থাকবে। পরে তিঁনি ওর দিকে ধাওয়া করে ওকে (বাবে-লুদ নামক স্থানে পাকড়াও করে) হত্যা করে ফেলবেন। অবশেষে গাছগাছালী এবং সমুদ্র পর্যন্ত (এই বলে) চিৎকার দিবে: ‘ইয়া রুহাল্লাহ ! এই যে (এখানে) ইহূদী’! পরে (ইহূদীদের মধ্যে) এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, যে তাঁর অনুগত্য ইত্তেবা-অনুসরণ করবে না, আর তিঁনি তাকে হত্যা না করবেন”। [মুসনাদে আহমদ- ৩/৩৬৭; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫৬৯৪; আত-তাউহীদ, ইবনে খুযাইমাহ- ১/১০২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৩০]
# আবু তুফায়েল রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেন- كُنْتُ بِالْكُوفَةِ، فَقِيلَ: خَرَجَ الدَّجَّالُ، قَالَ: فَأَتَيْنَا عَلَى حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ وَهُوَ يُحَدِّثُ، فَقُلْتُ: هَذَا الدَّجَّالُ قَدْ خَرَجَ، فَقَالَ: اجْلِسْ، فَجَلَسْتُ فَأَتَى عَلَيَّ الْعَرِيفُ، فَقَالَ: هَذَا الدَّجَّالُ قَدْ خَرَجَ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ يُطَاعِنُونَهُ، قَالَ: اجْلِسْ، فَجَلَسْتُ فَنُودِيَ إِنَّهَا كَذِبَةٌ صِبَاغٌ، قَالَ: فَقُلْنَا يَا أَبَا سَرِيحَةَ مَا أَجْلَسْتَنَا إِلَّا لِأَمْرٍ فَحَدِّثْنَا، قَالَ: إِنَّ الدَّجَّالَ لَوْ خَرَجَ فِي زَمَانِكُمْ لَرَمَتْهُ الصِّبْيَانُ بِالْخَذْفِ، وَلَكِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ فِي بُغْضٍ مِنَ النَّاسِ، وَخِفَّةٍ مِنَ الدِّينِ، وَسُوءِ ذَاتِ بَيْنٍ، فَيَرِدُ كُلَّ مَنْهَلٍ، فَتُطْوَى لَهُ الْأَرْضُ طَيَّ فَرْوَةِ الْكَبْشِ حَتَّى يَأْتِيَ الْمَدِينَةَ، فَيَغْلِبُ عَلَى خَارِجِهَا وَيَمْنَعُ دَاخَلَهَا، ثُمَّ جَبَلَ إِيلِيَاءَ فَيُحَاصِرُ عِصَابَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَقُولُ لَهُمُ الَّذِينَ عَلَيْهِمْ: مَا تَنْتَظِرُونَ بِهَذَا الطَّاغِيَةِ أَنْ تُقَاتِلُوهُ حَتَّى تَلْحَقُوا بِاللَّهِ أَوْ يَفْتَحَ لَكُمْ، فَيَأْتَمِرُونَ أَنْ يُقَاتِلُوهُ إِذَا أَصْبَحُوا، فَيُصْبِحُونَ وَمَعَهُمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَيَقْتُلُ الدَّجَّالَ وَيَهْزِمُ أَصْحَابَهُ، حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَ وَالْحَجَرَ وَالْمَدَرَ، يَقُولُ: يَا مُؤْمِنُ هَذَا يَهُودِيٌّ عِنْدِي فَاقْتُلْهُ ، قَالَ: وَفِيهِ ثَلَاثُ عَلَامَاتٍ: هُوَ أَعْوَرُ وَرَبُّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ أُمِّيٌّ وَكَاتِبٌ، وَلَا يُسَخَّرُ لَهُ مِنَ الْمَطَايَا إِلَّا الْحِمَارُ، فَهُوَ رِجْسٌ عَلَى رِجْسٍ . أحرجه الحاكم في المستدرك : ٤/٥٢٩ رقم ٨٦١٢ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه و قال الذهبي في التلخيصه : علي شرط البخاري و المسلم ، و عبد الرزاق في مصنفه : ١١/٣٩٤ رقم ٢٠٨٢٧، وصححه الألباني في كتاب قصة المسيح الدجال ص ١٠٦ – “আমি (একবার ইরাকের) কুফায় ছিলাম। তখন বলা হচ্ছিল: ‘দাজ্জাল বের হয়েছে’। ফলে আমরা হুযাইফা ইবনে আসীদ রা.-এর কাছে এলাম; তিনি কথাবার্তা বলছিলেন। আমি বললাম: ‘(শুনছি) দাজ্জাল (নাকি) বের হয়েছে’। তিনি বললেন: ‘বসো’। ফলে আমি বসে পরলাম। পরে (ঘটনার খবর সম্পর্কে) জানাশোনা একজন আমার কাছে এসে বললো: ‘(আপনারা এখানে বসে আছেন, এদিকে) দাজ্জাল(তো) বের হয়েছে, আর কুফাবাসী দাজ্জালের মোকাবেলা করতে যাচ্ছে’! (তার একথা শুনে) তিনি (তাকে) বললেন: ‘বসো’। ফলে সে বসে পড়লো। পরে (আশপাশ থেকে) উচ্চ স্বরে বলা হল: ‘ওটা একটা বানানো মিথ্যা (গুজব ছিল)’। তখন আমরা (হুযাইফা রা.কে) বললাম: ‘হে সারিহ্বাহ (হুযাইফা)! আপনি আমাদেরকে যে জন্য (এখানে) বসিয়েছেন, (সে ব্যাপারে) আমাদেরকে হাদিস শোনান’। তখন তিনি বললেন: ‘যদি দাজ্জাল তোমাদের (এই) জামানায় বের হত, তাহলে নির্ঘাৎ কিশোররাই ওকে ঢেলা দিয়ে ঢিল মাড়তো’। অবশ্য দাজ্জাল বের হবে (এমন এক পঁচনধরা জামানায়) যখন মানুষজনের মাঝে (ব্যাপক মাত্রায় পারষ্পরিক) বুগ্জ (ঘৃনাভরা-ক্রধ) থাকবে, (মানুষজনের দ্বারা) দ্বীনের মধ্যে খলৎমলৎ হয়ে যাবে, (উম্মতের) নিজেদের মাঝে সম্পর্ক থাকবে মন্দ। সে(ই অবস্থায় দাজ্জাল) প্রত্যেক মানহালে (পানি-ধারায়) আসবে। তার (সফরের সহজতার) জন্য পৃথিবী এমন ভাবে গুটিয়ে যাবে, যেভাবে ভেড়ার চামড়া গুটানো হয়। এমনকি সে মদিনার কাছে আসবে (কিন্তু পাহারাদার ফেরেশতাদের কারণে মদিনার ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না)। পরে মদিনার (সীমার) বাহিরে অবস্থানকারীদের উপরে সে চড়াও হবে, কিন্তু তার (সীমার) ভিতরবাসীদের (উপরে সরাসরি চড়াও হতে) সক্ষম হবে না। পরে সে যাবে ইলইয়া’য় (বায়তুল মাকদিসে)। (সেখানে) সে মুসলমানদের একটি জামাআতকে অবরোধ করবে। তখন তারা নিজেদের মাঝে একথা বলবে: ‘এই আল্লাদ্রোহির বিরুদ্ধে জিহাদ করতে তোমরা কিসের অপেক্ষা করছো, অবশেষে-তো তোমরা (হয় শহিদ হয়ে) আল্লাহ’র সাথে গিয়ে মিলিত হবে অথবা তোমাদের বিজয় হবে, (দুটোর একটাতো হবেই)। পরে তারা এই পরিকল্পনা করবে যে, যখন সকাল হবে, তখন তারা (ওর বিরুদ্ধে) জিহাদ করবে। পরে তাদের সকাল হলে (দেখা যাবে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আসমান থেকে নাজিল হয়েছেন এবং তাদের সাথে (জিহাদে শরীক রয়েছেন)। পরে তিঁনি দাজ্জালকে (বাবে-লুদ নামক স্থানে পাকড়াও করে) হত্যা করবেন। ওর সঙ্গিসাথীরা পরাজয় বরন করবে। এমনকি গাছ, পাথর, মাটিদলা পর্যন্ত বলবে: ‘হে মুমিন, এই যে ইহুদী আমার কাছে (লুকিয়ে আছে), ওকে হত্যা করো’। তিনি বললেন: ‘ওর মধ্যে তিনটি আলামত রয়েছে। (১) সে হবে (এক চোখ) অন্ধ (ব্যাক্তি), অথচ তোমাদের রব (প্রভু আল্লাহ) অন্ধ নন। (২) ওর দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে ‘কাফের’, যা প্রত্যেক লেখাপড়া জানা ও নিরক্ষর মুমিন ব্যাক্তি পড়তে পারবে। (৩) আর তার জন্য গাধা ছাড়া সফর করার অন্য কোনো বাহন থাকবে না। বস্তুত: সে হবে (এমন এক ফিতনাবাজ খারাপ লোক, যার সাক্ষাত পেলে মুমিন ব্যাক্তি অনুভব করতে পারবে যে, ওর মনমানুষিকতায় যেন) পঙ্কিলের উপরে পঙ্কিল (জমে আছে)”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫২৯ হাদিস ৮৬১২; আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৯৪ হাদিস ২০৮৬৭]
# যুনাদাহ বিন আবি উমাইয়্যাহ আল-আযদী রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- ذَهَبْتُ أَنَا وَرَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا : حَدِّثْنَا مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُذْكَرُ فِي الدَّجَّالِ ، وَلَا تُحَدِّثْنَا عَنْ غَيْرِهِ وَإِنْ كَانَ مُصَدَّقًا قَالَ : خَطَبَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : أَنْذَرْتُكُمُ الدَّجَّالَ ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا قَدْ أَنْذَرَهُ أُمَّتَهُ ، وَإِنَّهُ فِيكُمْ أَيَّتُهَا الْأُمَّةُ وَإِنَّهُ جَعْدٌ آدَمُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ ، وَمَعَهُ جَبَلٌ مِنْ خُبْزٍ وَنَهْرٌ مِنْ مَاءٍ ، وَإِنَّهُ يُمْطِرُ الْمَطَرَ ، وَلَا يُنْبِتُ الشَّجَرَ ، وَإِنَّهُ يُسَلَّطُ عَلَى نَفْسٍ فَيَقْتُلُهَا ، وَلَا يُسَلَّطُ عَلَى غَيْرِهَا ، وَإِنَّهُ يَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا يَبْلُغُ فِيهَا كُلَّ مَنْهَلٍ ، وَلَا يَقْرَبُ أَرْبَعَةَ مَسَاجِدَ مَسْجِدَ الْحَرَامِ ، وَمَسْجِدَ الْمَدِينَةِ ، وَمَسْجِدَ الطُّورِ ، وَمَسْجِدَ الْأَقْصَى ، وَمَا يُشَبَّهُ عَلَيْكُمْ ، فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ . رواه احمد في المسنده , حديث رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم : ٥/٤٣٥ , و قال الحافظ في فتح الباري : ١٣/١٠٥ : رواه أحمد و رجاله ثقات , و قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٣٤٣ : رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح , و صححه الشيخ شعيب الأرناؤوط في تحقيقه ; و اخرجه ايضا الحارث في المسند : ٧٨٤ ، و الطحاوي في شرح مشكل الآثار : ٤/٣٧٦ مختصراً , و غيرهم – “(একবার) আমি এবং এক আনসারী ব্যাক্তি -রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক সাহাবীর কাছে গেলাম। পরে আমরা তাঁকে বললাম: ‘আপনি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে দাজ্জালের ব্যাপারে কী আলোচনা করতে শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। আপনি তাঁর থেকে ছাড়া অন্য কারো হাদিস আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন না -চাই সে যতই (সত্যবাদী হিসেবে) সত্যায়িত হোক না কেনো’। তিনি বললেন: ‘নবী ﷺ (একদিন) আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: ‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করছি’। (এভাবে তিনি কথাটা) তিনবার (বললেন)। (অত:পর বললেন:) ‘আমার পূর্বে এমন কোনো নবী ছিলেন না, যিনি তাঁর উম্মতকে ওর ব্যাপারে সতর্ক করেন নি। (তবে দাজ্জাল তাঁদের কারোর জামানাতেই আসেনি)। হে (আমার) উম্মত! নিশ্চই সে তোমাদের মধ্যে (আসবে)। নিশ্চই সে কোকড়ানো চুল ওয়ালা বাদামী বর্ণের (ও) বাম চোখ অন্ধ (এক) ব্যাক্তি। তার সাথে (থাকবে) জান্নাত ও দোযখ। বস্তুতঃ তার দোযখটি হল জান্নাত এবং তার জান্নাতটি হল দোযখ। তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় এবং পানির নহর। সে (আকাশকে নির্দেশ দিয়ে) বৃষ্টি বর্ষাবে, আবার (জমিনকে নির্দেশ দিয়ে) তাতে ফলন হতে দিবে না। সে এক (যবক) ব্যাক্তির উপরে কর্তৃত্ব খাটিয়ে তাকে হত্যা করবে, (যার পর) সে ভিন্ন (মুমিনদের) অন্য কারোর উপরে সে কর্তৃত্ব খাটাতে পারবে না। সে পৃথিবীতে চল্লিশ দিন থাকবে এবং তাতে সে প্রতিটি মানহাল (পানি-ধারা)-এর কাছে পৌছবে। তবে সে চারটি মসজিদের কাছে যেতে পারবে না: (মক্কার) মসজিদে হারাম, মসজিদে মদিনা, মসজিদে তূর এবং মসজিদে আক্বসা (বায়তুল মাকদিস)। তোমাদের উপরে (যেন) ওর বিভ্রান্তি চড়াও না হতে পারে। কারণ, তোমাদের (প্রকৃত) রব (প্রভু আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন”। [মুসনাদে আহম ৫/৪৩৫; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৪৭ হাদিস ১৯৩৫২; মুসনাদে হারেছ, হাদিস ৭৮৪; শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম ত্বাহাবী- ৪/৩৭৬; আস-সুন্নাহ, ইমাম ইবনে হাম্বল- ২/৪৫২ হাদিস ১০১৬, ১২৩২; আল-বা’ছ, ইমাম বাইহাকী, হাদিস ১৪৯; আশ-শারইয়্যাহ, ইমাম আযরী- ৩৭৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৩]
# সামুরাহ বিন যুনদুব রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ان الدجال خارج ، وهو اعور العين الشمال عليها ظفرة غليظة ،وانه يبرئ الاكمه والابرص ، ويحى الموتى ، ويقول للناس انا ربكم فمن قال :انت ربى فقد فتن ومن قال : ربى الله حتى يموت فقد عصم من فتنته ولا فتنه بعده عليه ول عذاب فليلبث فى الارض ماشاء الله ، ثم يجئ عيسى ابن مريم من قبل المغرب مصدقا بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملته فيقتل الدجال ، ثم انما هو قيام الساعه . أخرج أحمد في مسنده : ١٥/١٣٧ رقم ٢٠٠٢٧ اسناده صحيح، أخرجه المقدسى ايضا فى أخبار الدجال والقرطبى فى الاستذكار, و إسناده حسن صحيح ، ففيه عبد الوارث بن سفيان وهو صدوق حسن الحديث – “নিশ্চই দাজ্জাল বের হবেই। আর সে ডান চোখ অন্ধ (এক ব্যাক্তি)। ও(র ওই চোখ)টির উপরে রয়েছে বড় মোটা সাদা চামড়াখন্ড। আর নিশ্চই সে (বাহ্যত: অনেকের) চোখের দৃষ্টিহীনতা ও কুষ্ঠ রোগ দূর করে দিবে, মৃতকে জীবিত করবে এবং মানুষজনকে বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রতিপালক প্রভু)’। সুতরাং, যে বলবে: ‘তুমি আমার রব (প্রতিপালক প্রভু), সে (ওর ফিতনায়) ফিতনাগ্রস্ত হবে। আর যে বলবে: ‘আমার রব (প্রতিপালক প্রভু) আল্লাহ, এমনকি (এই ইমানের উপরেই) সে মড়ে যাবে, মূলত: সে-ই ওর ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে। এরপর আর তার উপরে ওর না (কোনো) ফিতনা আর না কোনো আযাব (প্রভাব ফেলতে পারবে)। পরে আল্লাহ (যতদিন) চাইবেন, সে পৃথিবীতে থাকবে। অত:পর ঈসা ইবনে মারইয়াম আসবেন পশ্চিম দিকে থেকে -মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর মিল্লাতের সত্যায়ন সহকারে। তারপর তিঁনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর (এক সময়) কেয়ামত কাফেম হবে”। [মুসনাদে আহমদ– ১৫/১৩৭ হাদিস ২০০২৫; আল-মু’জামুল কাবীর, তাবরাণী- ৭/২৬৭; আত-তামহীদ, ইবনু আব্দিল বার- ৫/৪৩৫, ১৪/১৯৩; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ১/৪১৫]
ফায়দা: এর আগে আমরা বিভিন্ন হাদিসে দেখিয়ে এসেছি যে, দাজ্জালের বাম চোখটি অন্ধ এবং তা যেন দেখতে অনেকটা কোটর থেকে বেরিয়ে আসা আঙ্গুরের মতো। আর এই হাদিস থেকে অনুমিত হয়, দাজ্জালের ডান চোখটিও ত্রুটিযুক্ত। সে নিজের চোখের ত্রটি মেরামত করার ক্ষমতা রাখে না, এদিকে আবার শক্তিশালী জাদুর ভেলকিতে বাহ্যত: অন্যের চোখের দৃষ্টি সারিয়ে নিজকে বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ বলে দাবী করবে!!!
এই হাদিসে বলা হয়েছে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসবেন নবী হিসেবে নন, বরং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর মিল্লাতের সত্যায়ন করে। অর্থাৎ ঈসা আ. দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে এসে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর দ্বীন ও শরীয়তের অনুসারী একজন উম্মত হিসেবে জীবন যাপন করবেন ও তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। আর পশ্চিম দিক থেকে আসবেন বলতে শাম উদ্দেশ্য। কারণ, এর আগে আপনারা হাদিসে দেখেছেন যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. সিরিয়ার দামেশক জামে মসজিদের সাদা মিনারে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার ডানায় ভর করে অবতরন করবেন। তৎকালীন আরবদের ‘পূর্ব দিক’ ও ‘পশ্চিম দিক’ শব্দগুলি হুবহু আমাদের এযুগের কাটাকম্পাস দিয়ে মাপা ‘পূর্ব দিক’ বা ‘পশ্চিম দিক’-এর মতো ছিল না, বরং তারা তাদের আরবীয় প্রচলন অনুসারে তাদের প্রচলীত বিভিন্ন দিকের এলাকা সমূহকে বুঝাতে এসব শব্দ যেভাবে ব্যবহার করতো, এখানেও সেই স্বাভাবিক প্রচলন অনুসারেই বলা হয়েছে ‘পশ্চিম দিক থেকে’। الله اعلم بالصواب

# আবু উমামাহ বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- َخَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَكَانَ أَكْثَرُ خُطْبَتِهِ حَدِيثًا حَدَّثَنَاهُ عَنِ الدَّجَّالِ وَحَذَّرَنَاهُ فَكَانَ مِنْ قَوْلِهِ أَنْ قَالَ ” إِنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ مُنْذُ ذَرَأَ اللَّهُ ذُرِّيَّةَ آدَمَ أَعْظَمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلاَّ حَذَّرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ وَأَنَا آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الأُمَمِ وَهُوَ خَارِجٌ فِيكُمْ لاَ مَحَالَةَ وَإِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ فَأَنَا حَجِيجٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنْ يَخْرُجْ مِنْ بَعْدِي فَكُلُّ امْرِئٍ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَيَعِيثُ يَمِينًا وَيَعِيثُ شِمَالاً . يَا عِبَادَ اللَّهِ أَيُّهَا النَّاسُ فَاثْبُتُوا فَإِنِّي سَأَصِفُهُ لَكُمْ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا إِيَّاهُ نَبِيٌّ قَبْلِي إِنَّهُ يَبْدَأُ فَيَقُولُ أَنَا نَبِيٌّ وَلاَ نَبِيَّ بَعْدِي ثُمَّ يُثَنِّي فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ . وَلاَ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلاَمًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لأَعْرَابِيٍّ أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ . فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولاَنِ يَا بُنَىَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ . وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَقْتُلَهَا وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ حَتَّى يُلْقَى شِقَّتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الآنَ ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي . فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَأَنْتَ عَدُوُّ اللَّهِ أَنْتَ الدَّجَّالُ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةً بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ . قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ” ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ ” . قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلاَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ . قَالَ الْمُحَارِبِيُّ ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ قَالَ ” وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُكَذِّبُونَهُ فَلاَ تَبْقَى لَهُمْ سَائِمَةٌ إِلاَّ هَلَكَتْ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ حَتَّى تَرُوحَ مَوَاشِيهِمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَسْمَنَ مَا كَانَتْ وَأَعْظَمَهُ وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ وَأَدَرَّهُ ضُرُوعًا وَإِنَّهُ لاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِنَ الأَرْضِ إِلاَّ وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلاَّ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لاَ يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلاَّ لَقِيَتْهُ الْمَلاَئِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةً حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ فَلاَ يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلاَ مُنَافِقَةٌ إِلاَّ خَرَجَ إِلَيْهِ فَتَنْفِي الْخَبَثَ مِنْهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَيُدْعَى ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ الْخَلاَصِ ” . فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعُكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ” هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ . فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ افْتَحُوا الْبَابَ . فَيُفْتَحُ وَوَرَاءَهُ الدَّجَّالُ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ يَهُودِيٍّ كُلُّهُمْ ذُو سَيْفٍ مُحَلًّى وَسَاجٍ فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ الدَّجَّالُ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ وَيَنْطَلِقُ هَارِبًا وَيَقُولُ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِنَّ لِي فِيكَ ضَرْبَةً لَنْ تَسْبِقَنِي بِهَا . فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ اللُّدِّ الشَّرْقِيِّ فَيَقْتُلُهُ فَيَهْزِمُ اللَّهُ الْيَهُودَ فَلاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِمَّا خَلَقَ اللَّهُ يَتَوَارَى بِهِ يَهُودِيٌّ إِلاَّ أَنْطَقَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّىْءَ لاَ حَجَرَ وَلاَ شَجَرَ وَلاَ حَائِطَ وَلاَ دَابَّةَ – إِلاَّ الْغَرْقَدَةَ فَإِنَّهَا مِنْ شَجَرِهِمْ لاَ تَنْطِقُ – إِلاَّ قَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ الْمُسْلِمَ هَذَا يَهُودِيٌّ فَتَعَالَ اقْتُلْهُ ” . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ” وَإِنَّ أَيَّامَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً السَّنَةُ كَنِصْفِ السَّنَةِ وَالسَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَآخِرُ أَيَّامِهِ كَالشَّرَرَةِ يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ عَلَى بَابِ الْمَدِينَةِ فَلاَ يَبْلُغُ بَابَهَا الآخَرَ حَتَّى يُمْسِيَ ” . فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي فِي تِلْكَ الأَيَّامِ الْقِصَارِ قَالَ ” تَقْدُرُونَ فِيهَا الصَّلاَةَ كَمَا تَقْدُرُونَهَا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ الطِّوَالِ ثُمَّ صَلُّوا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ” فَيَكُونُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي أُمَّتِي حَكَمًا عَدْلاً وَإِمَامًا مُقْسِطًا يَدُقُّ الصَّلِيبَ وَيَذْبَحُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَتْرُكُ الصَّدَقَةَ فَلاَ يُسْعَى عَلَى شَاةٍ وَلاَ بَعِيرٍ وَتُرْفَعُ الشَّحْنَاءُ وَالتَّبَاغُضُ وَتُنْزَعُ حُمَةُ كُلِّ ذَاتِ حُمَةٍ حَتَّى يُدْخِلَ الْوَلِيدُ يَدَهُ فِي فِي الْحَيَّةِ فَلاَ تَضُرَّهُ وَتُفِرُّ الْوَلِيدَةُ الأَسَدَ فَلاَ يَضُرُّهَا وَيَكُونُ الذِّئْبُ فِي الْغَنَمِ كَأَنَّهُ كَلْبُهَا وَتُمْلأُ الأَرْضُ مِنَ السِّلْمِ كَمَا يُمْلأُ الإِنَاءُ مِنَ الْمَاءِ وَتَكُونُ الْكَلِمَةُ وَاحِدَةً فَلاَ يُعْبَدُ إِلاَّ اللَّهُ وَتَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا وَتُسْلَبُ قُرَيْشٌ مُلْكَهَا وَتَكُونُ الأَرْضُ كَفَاثُورِ الْفِضَّةِ تُنْبِتُ نَبَاتَهَا بِعَهْدِ آدَمَ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الْقِطْفِ مِنَ الْعِنَبِ فَيُشْبِعَهُمْ وَيَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعَهُمْ وَيَكُونَ الثَّوْرُ بِكَذَا وَكَذَا مِنَ الْمَالِ وَتَكُونَ الْفَرَسُ بِالدُّرَيْهِمَاتِ ” . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُرْخِصُ الْفَرَسَ قَالَ ” لاَ تُرْكَبُ لِحَرْبٍ أَبَدًا ” . قِيلَ لَهُ فَمَا يُغْلِي الثَّوْرَ قَالَ ” تُحْرَثُ الأَرْضُ كُلُّهَا وَإِنَّ قَبْلَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ ثَلاَثَ سَنَوَاتٍ شِدَادٍ يُصِيبُ النَّاسَ فِيهَا جُوعٌ شَدِيدٌ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الأُولَى أَنْ تَحْبِسَ ثُلُثَ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فَتَحْبِسُ مَطَرَهَا كُلَّهُ فَلاَ تَقْطُرُ قَطْرَةٌ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ فَلاَ تُنْبِتُ خَضْرَاءَ فَلاَ تَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ إِلاَّ هَلَكَتْ إِلاَّ مَا شَاءَ اللَّهُ ” . قِيلَ فَمَا يُعِيشُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قَالَ ” التَّهْلِيلُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَيُجْرَى ذَلِكَ عَلَيْهِمْ مَجْرَى الطَّعَامِ ” . قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيَّ يَقُولُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَى الْمُؤَدِّبِ حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكُتَّابِ . رواه ابن ماجه, كتاب الفتن, باب فتنة الدجال وخروج عيسى ابن مريم وخروج يأجوج ومأجوج: رقم ٤٠٧٧ – “(একবার) রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন। তখন তিনি তাঁর খুতবায় আমাদেরকে যেসব কথা বলেছিলেন তার বেশির ভাগই ছিল দাজ্জাল’কে নিয়ে। তিনি তার ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক করছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে এও বলেছিলেন যে, আল্লাহ যেদিন থেকে আদমের বংশধর সৃষ্টি করেছেন তার পর থেকে পৃথিবীতে দাজ্জালের ফিতনার চাইতে বড় আর কোনো ফিতনা হবে না। আর আল্লাহ এমন কোনো নবীকে পাঠান নাই, যিঁনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেননি। আর (শুনে রাখো,) আমি (মুহাম্মাদ) হলাম নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ (নবী) এবং তোমরা হলে উম্মতদের মধ্যে সর্বশেষ (উম্মত)। সে(ই দাজ্জাল) তোমাদের (এই উম্মতের) মধ্যে বের হবে। এর অন্যথা হবে না। আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকাবস্থায়েই যদি সে বের হয়, তাহলে প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষ থেকে (ওর) প্রতিহতকারী হবো আমি (নিজেই)। আর সে যদি আমার (ইন্তেকালের) পরে বের হয়, তাহলে প্রত্যেক ব্যাক্তি নিজেই (দাজ্জালের ফিতনাকে) প্রতিহত করবে এবং (সে ক্ষেত্রে) আমার স্থলে (দয়াময় করুনাময়) আল্লাহ’ই প্রত্যেক (মুমিন) মুসলমানের উপরে তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন। (ভাল করে দাজ্জালের বৈশিষ্ট জেনে রাখো)। নিশ্চই সে বের হবে ইরাক এবং শামের মাঝামাঝি (একটি) সংযোগস্থল (এলাকা) থেকে। পরে সে ফ্যাসাদ/দূর্যোগ সৃষ্টি করবে ডানে ও বামে। হে আল্লাহ’র বান্দাগণ! হে লোকসকল ! তোমরা (তার ফিতনার সময়ও আল্লাহ’র দ্বীনের উপরে) দৃঢ়পদে থেকো, (কোনো মতেই ইমান ছেড়ো না)। নিশ্চই (আজ) আমি তোমাদেরকে তার (এমন কিছু) বৈশিষ্টের কথা বলবো, যে (সকল) বৈশিষ্টের কথা আমার আগে কোনো নবী (তাঁদের উম্মতদেরকে) বলে যাননি। (শুনে রাখো,) নিশ্চই সে তার প্রথম দিকে (লোক সম্মুখে) বলবে: ‘আমি নবী’। আর (সত্য এই যে,) আমার পরে (আর কোনো) কোনো নবী নেই। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সে (লোকজনকে) বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রতিপালক প্রভু)’। আর (সত্য হল) তোমরা মাড়া না যাওয়া পর্যন্ত তোমাদের (প্রকৃত) রব (আল্লাহ তাআলাকে) তোমরা দেখতে পাবে না। আর নিশ্চই সে(ই খবীস দাজ্জাল) হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের (প্রকৃত রব/প্রতিপালক প্রভু আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন। ওর দুই চোখের মাঝে (কপালের কাছে) লিখা থাকবে ‘কাফের’, যা প্রত্যেক মুমিন ব্যাক্তি পড়তে পারবে -(চাই) লেখাপড়া জাননেওয়ালা (হোক), আর (চাই) নিরক্ষর (হোক)। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, ওর সাথে (মনোরম কৃত্রিম) জান্নাত ও (কৃত্রিম) দোযখ থাকবে। তবে তার দোযখটিই হচ্ছে জান্নাত এবং জান্নাতটি হচ্ছে দোযখ। যে ব্যাক্তি তার দোযখের (ফিতনার) সম্মুখীন হবে, সে যেন অবশ্যই (আল্লাহ তাআলা’র কাছে) পানাহ কামনা করে এবং অবশ্যই (সূরা) কাহফ-এর প্রথম (১০টি আয়াত) তিলাওয়াত করে। এতে তার উপরে (দাজ্জালের ওই কৃত্রিম দোয়খের শাস্তি) ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়ে যাবে, যেমনি ভাবে ইব্রাহিম (আ.)-এর উপরে আগুনের অবস্থা হয়েছিল। আর নিশ্চই তার ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে এক (গ্রাম্য) বেদুইনকে বলবে: ‘তুমি কি বলো, আমি যদি তোমার বাবা এবং তোমার মা’কে (কবর থেকে জীবিত করে তোমার সামনে) পাঠিয়ে দিই, তাহলে তুমি কি সাক্ষ্য দিবে যে, আমি তোমার রব (প্রতিপালক প্রভু)’? তখন সে বলবে: ‘হ্যাঁ (সাক্ষ্য দিবো)’। তখন দু’টি শয়তান (জ্বীন, যাদের একজন) তার পিতার (রূপে) এবং (অপরজন) তার মাতা’র রূপ ধারন করবে এবং উভয়ে তাকে বলবে: ‘হে আমার পুত্র! তার (তথা দাজ্জালের) অনুগত্য করো, নিশ্চই তিনিই তোমার রব’। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে এক (যুবক) ব্যাক্তি’র উপরে চড়াও হয়ে পরে তাকে হত্যা করবে এবং করাত দিয়ে তাকে কাটবে। এমনকি (তার) দ্বিখন্ডিত (হওয়া শরীরটি দুদিকে আলাদা আলাদা হয়ে) পড়ে যাবে। তারপর সে বলবে: ‘তোমরা আমার এই বান্দার প্রতি দেখো, একে এখনই আমি পূনর্জীবিত করে আনছি। এরপরও কি (তোমরা) দাবী করবে যে, আমি ছাড়াও (তোমাদের) অন্য কোনো রব আছে’? তখন (বাস্তবে) আল্লাহ(ই) তাকে পূনর্জীবিত করে দিবেন। অথচ ওই খবিস (দাজ্জাল) তাকে বলবে: ‘(এখন বলো) কে তোমার রব?’ তখন সে(ই যুবকটি) বলবে: ‘আমার রব হলেন আল্লাহ। আর তুই হলি আল্লাহ’র দুশমন; তুই হচ্ছিস (সেই খবীস) দাজ্জাল (যার ভবিষ্যতবাণী আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ করে গেছেন)। আল্লাহ’র কসম, (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর হুবহু বাস্তবায়ন আমার নিজের চোখের সামনে খোদ্ আমারই সাথে হতে দেখে) তোর (দাজ্জাল হওয়ার) ব্যাপারে (আজ আমার যে ইমানী অন্তর্দৃষ্টি লাভ হল) এত পরিষ্কার অন্তর্দৃষ্টি আজকের পূর্বে আমার (জীবনে আর) কখনো লাভ হয়নি’। আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন: ‘(শেষ জামানায় দাজ্জালের হাতে শহিদ হওয়া) আমার উম্মতের (মুমিনদের) মধ্যে এই ব্যাক্তি জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্তবায় উন্নিত হবে’। (হাদিসের) রাবী বলেন, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন: ‘আল্লাহ’র কসম, ওমর বিন খাত্তাব রা. ছাড়া অন্য আর কেউ এই ব্যাক্তি হতে পারে বলে আমরা মনে করতাম না। (কিন্তু পরে বুঝলাম যে, আমাদের ধারনা ভুল ছিল)। অবশেষে তিঁনি (দুনিয়া ছেড়ে) আল্লাহ’র পথে বিদায় নিলেন’। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষানোর নির্দেশ দিবে, তখন (আকাশ থেকে মুষুলধারে) বৃষ্টি বর্ষিত হবে। আবার সে জমিনকে ফলন দেয়ার নির্দেশ দিবে, তখন (জমিন) ফলন দিবে। আর নিশ্চই তার ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে একটি লোকালয় অতিক্রম করবে (এবং তাদেরকে তার ফিতনার দিকে আহবান করবে। কিন্তু), তখন (সেখানকার) লোকজন তাকে (তাদের রব হিসেবে মানতে) অস্বীকার করবে। ফলে তাদের গবাদী পশুপালের কোনো কিছুই ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পাবে না। নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে একটি লোকালয় অতিক্রম করবে (এবং তাদেরকে তার ফিতনার দিকে আহবান করবে)। এতে (সেখানকার) লোকজন তাকে (তাদের রব হিসেবে) সত্যায়ন করবে। তখন সে (তাদের জন্য) আসমানকে বৃষ্টি বর্ষানোর নির্দেশ দিবে, ফলে (তাদের উপরে) বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং জমিনকে নির্দেশ দিবে ফলন দেয়ার, ফলে (তাদের জমিনে) ফলন হবে। এমনকি সেদিন (বিকেলে/সন্ধায়) তাদের গবাদী পশুগুলো ফিরে আসবে তাদের (অন্যান্য) দিনগুলিরে চাইতে অধিক মোটাতাজা ও অধিক বড়সড় অবস্থায় ও উদরপূর্তী করে এবং দুধে স্তন ফুলিয়ে নিয়ে। নিশ্চই শুধু মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর এমন কোনো কিছু সে বাকি রাখবে না, যেখানে সে পদচারনা না করবে ও তার উপরে প্রবল না হবে। এই দুই (অঞ্চল)-এর এমন কোনো অলিগলি নেই, যেখানে সে আসবে, অথচ ফেরেশতাদেরকে (সেখানে) উন্মুক্ত তরবারী হাতে সাক্ষাত না পাবে। অবশেষে (উপায়ন্ত না দেখে) সে (মদিনার অনতিদূরের একটি) বিচ্ছিন্ন সাবখা’র নিকটে (অবস্থিত একটি) লাল টিলার কাছে (গিয়ে) অবতরণ করবে। তখন মদিনা তার অধিবাসিদেরকে নিয়ে তিনবার (ভীষন জোরে) প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। তখন (মদিনার) মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফিক নারী’র (মধ্যে এমন কেউ) বাকি থাকবে না, যে (মদিনা থেকে) বের হয়ে ওর কাছে না যাবে। বস্তুতঃ (আগুনের) হাঁপড় যেভাবে লোহার (মরিচা ও) নোংরাকে দূরীভূত করে দেয়, তেমনি ভাবে মদিনাও (তার ভিতর থেকে) নোংরা-খবিছ (মানুষ)কে (সময় মতো) দূরীভূত করে দেয়। (এই ঘটনার পর) ওই দিনটিকে ‘ইয়াউমুল খালাস’ (নাজাতের দিন) নামে ডাকা হবে’। এতে উম্মে শারিক বিনতে আবি উকাইর রা. জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেদিন আরবরা কোথায় থাকবে’? তিনি বললেন: ‘সেদিন তারা (সংখ্যায়) হবে অতি অল্প; তাদের অধিকাংশই (সেদিন) বাইতুল মাকদিসে (অবস্থিত) গর্বিত (সন্তানদের মধ্যে শামিল) থাকবে। (সে সময়ে) তাদের ইমাম (আমীর/খলিফা/শাসক) হবে (আমারই মেয়ে ফাতেমার বংশধরের একজন) একজন নেককার পুরুষ (আল-মাহদী)। তাদের ইমাম যখন তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার জন্য অগ্রসর হতে থাকবে, এমন সময় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আসমান থেকে দু’ ফেরেশতার ডানায় ভর দিয়ে) তাদের (জামে’ মসজিদের) উপরে (পূর্ব দিকস্থ উজ্জল সাদা মিনারায়) নাজিল হবেন -ফজরের সময়। তখন (তাদের) সেই ইমাম (তার নামাযের ইমামতীর স্থান থেকে) পিছনে(র কাতারে) সরে আসতে থাকবে, যাতে ঈসা (আ. তাদের সকলের ইমাম হয়ে) লোকজনকে নিয়ে নামায আদায়ের জন্য সামনে অগ্রসর হন। তখন ঈসা (আ.) ওনার (বরকতময়) হাত দ্বারা তার (তথা আল-মাহদীর) দুই কাঁধের মাঝখানে ধরে তাকে বলবেন: ‘আপনি এগিয়ে গিয়ে (আমাদের ইমাম হয়ে) নামায পড়ান, কারণ এই (নামাযের) ইকামত দেয়া হয়েছে আপনার জন্য’। ফলে তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে নামায পড়বে। সে যখন (নামায থেকে) অবসর হবে, তখন ঈসা আ. বলবেন: ‘তোমরা (মসজিদের) দরজা খুলে দাও’। ফলে (দরজা) খুলে দেয়া হবে। (দেখা যাবে দরজা’র) পিছনে দাজ্জাল (অবস্থান নিয়ে আছে)। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী, যাদের সকলেই থাকবে তরবারীতে (যুদ্ধাস্ত্রে) সজ্জিত এবং সবুজ গাত্রাবরনে আচ্ছাদিত। যখন তাঁর দিকে দাজ্জালের দৃষ্টি পড়বে, তখন সে গলে যেতে থাকবে, যেভাবে লবন পানিতে গলে যায়। সে ভেগে পালাতে শুরু করবে। ঈসা আ. বলবেন: ‘নিশ্চই তোর ব্যাপারে আমার একটি আঘাত (অপেক্ষা করছে), যা থেকে তোর বাঁচার কোনো উপায় নেই’। পরে তিঁনি পূর্ব-বাবে-লূদের কাছে তার সাক্ষাত পেয়ে তাকে হত্যা করবেন। পরে আল্লাহ (তাআলা মুসলমানদের হাতে ওই সকল) ইহূদীদেরকে পরাজিত করে দিবেন। তখন না পাথড়, না গাছপালা, না প্রাচীর, আর না (কোনো) প্রাণী -(মানে) আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন -এমন কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, যার আড়ালে ইহূদীরা লুকাবে, অথচ আল্লাহ সেই জিনিসকে বাকশক্তি না দান করবেন এবং সে (একথা) না বলবে যে, ‘হে আল্লাহ’র বান্দা মুসলীম ! এই যে (এখানে) ইহূদী (লুকিয়ে আছে); এদিকে এসে তাকে হত্যা করো’; তবে শুধু গারক্বাদাহ (গাছ) ভিন্ন। কারণ ওটা হল তাদের গাছ, ওটা (এ জাতীয় কোনো) কথা বলবে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘(ফিতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য পৃথিবীতে) তার দিনগুলো(র মোট পরিমাণ) হবে চল্লিশ বছর। একটি বছর হবে যেন অর্ধ বছর, একটি বছর হবে যেন এক মাস, একটি মাস হবে যেন এক সপ্তাহ, আর তার বাদবাকি দিনগুলো হবে যেন (একেকটা আচমকা আগুন থেকে ছিটকে পড়া) অগ্নিস্ফুলিঙ্গ (-এর মতো দ্রুতগামী)। (তখন এমনও হবে যে), তোমাদের (মুসলমানদের) কারোর সকাল হবে মদিনার (এক) দরজায়, (কিন্তু) সে (সেদিন দিনের আলোতে) অপর দরজায় গিয়ে পৌছতেই পারবেনা, এমনকি তার সন্ধা হয়ে যাবে’। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা সেই ছোট্ট দিনগুলোতে কিভাবে নামায পড়বো’? তিনি বললেন: ‘আমরা (আমাদের এই জামানার) এইসব দীর্ঘ দিনগুলোতে যেভাবে নামায (-এর ওয়াক্ত) নির্ধারণ করে থাকি, তোমরা (মুসলমানরাও) তখন (সেভাবেই) নামায (-এর ওয়াক্ত) নির্ধারণ করে নিবে, তারপর নামায পড়বে’। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘পরে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আমার উম্মাতের মধ্যে (একজন) ন্যায়পরায়ন হাকাম (বিচারক) ও ইনসাফগার ইমাম (শাসক) হবেন। তিনি (আল্লাহ তাআলার নির্দেশে খুষ্টানদের) ক্রশকে ভেঙ্গে ফেলবেন, শুয়োর হত্যা করবেন, জিজিয়া তুলে দিবেন এবং সাদাকাহ (যাকাত) পরিত্যাগ করবেন। না ভেড়ার উপরে (যাকাত) ধার্য হবে, আর না উটের উপরে। (তাঁর জামানায় মানুষে মানুষে) দুশমনী ও পাষ্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ উঠে যাবে। প্রত্যেক বিষধর প্রাণির বিষ নি:শ্বেস হয়ে যাবে। এমনকি শিশুছেলে তার হাতকে সাপের মুখে ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু সেটি তার কোন ক্ষতি করবে না। শিশুকন্যা সিংহকে তাড়া করবে, কিন্তু সে তার কোনো ক্ষতি করবে না। নেকড়ে ভেড়ার সাথে এমন ভাবে থাকবে যেন সে তার (পাহারাদার) কুকুর। পৃথিবীটা শান্তিতে ভরে যাবে যেমনি ভাবে পানপাত্র পানি দ্বারা ভরে যায়। (তখন সকল মানুষের) কালেমাহ হবে একটা। সুতরাং, (তখন) আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-সরঞ্জামাদি নি:শ্বেস হয়ে যাবে। কুরায়েশদের রাজত্বের অবসান হবে। পৃথিবীটা হয়ে যাবে রূপার (তৈরী মূল্যবান) হাতধৌতকরণ পাত্রের মতো। (পৃথিবীতে তখন তোমাদের আদী পিতা নবী) আদমের জামানার ন্যায় (উর্বরা) ফলন হবে। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আঙ্গুরের থোকার ধারে একত্রিত হবে (এবং তা খেয়েই) তারা পরিতৃপ্ত হবে। আবার কয়েকজন লোক একটি ডালিমের ধারে একত্রিত হবে (এবং তা খেয়েই) তারা পরিতৃপ্ত হবে। আর (মানুষজনের) ধ্বনসম্পদের মধ্যে ষাঢ়/বলদ হবে এমন এমন (উচ্চ মূল্যের), আর ঘোড়া হবে অতীব অল্প মূল্যের। লোকেরা জিজ্ঞেস বরলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঘোড়ার মূল্য এত সস্তা হবে কেনো’? তিনি বললেন: ‘(কারণ) আর কখনো যুদ্ধের জন্য (ঘোড়ার পিঠে) আরোহন করা(র প্রয়োজন) হবে না’। জিজ্ঞেস করা হল: ‘ষাঢ়/বলদ এত বেশি (মূল্যের হবে) কেনো’? তিনি বললেন: ‘গোটা পৃথিবীতে (ব্যাপক হারে) চাষাবাদ হবে। আর দাজ্জাল বের হওয়ার আগে তিনটি বছর হবে চরম কষ্টের। মানুষ সে সময় ভীষন দুর্ভিক্ষে পড়ে যাবে। আল্লাহ (ওই তিনটি বৎসরের) প্রথম বছরে আসমানকে নির্দেশ দিবেন, সে যেন তার বৃষ্টির এক তৃতীয়াংশ (বর্ষানো) বন্ধ করে রাখে এবং জমিনকে নির্দেশ দিবেন, সে যেন তার ফলনের এক তৃতীয়াংশ (ফলানো) বন্ধ করে রাখে। এরপর আল্লাহ দ্বিতীয় বছরে আসমানকে (দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার বৃষ্টির দুই তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে এবং জমিনকে (দুই তৃতীয়াংশ ফলন আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার ফলনের দুই তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে। এরপর আল্লাহ তৃতীয় বছরে আসমানকে (তিন ভাগের তিন ভাগ বৃষ্টিই আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার বৃষ্টির পুরোটাই আটকে রাখবে। ফলে এক ফোটা বৃষ্টিও হবে না। আর জমিনকে (তিন ভাগের তিন ভাগ ফলনই আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার ফলনের পুরোটাই আটকে রাখবে। ফলে (জমিনে) কোনো সবুজ ঘাস/শাকসবজী (পর্যন্ত) জন্মাবে না। ফলে কোনো খুরদার প্রাণী অবশিষ্ট থাকবে না, তবে ব্যতীক্রম (ঘটবে শুধু তার ক্ষেত্রে) যা(র ব্যাপারে আল্লাহ (ব্যতীক্রম কিছু করতে) চাইবেন’। জিজ্ঞেস করা হল: ‘সে জামানায় লোকেরা কী করে জীবন ধারন করবে’? তিনি বললেন: ‘(তারা) তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলতে থাকবে এবং ওগুলোই তাদের খাদ্যনালীতে প্রবাহিত হবে”। [সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩৫৯ হাদিস ৪০৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩২২]
ফায়দা: ‘মদিনা তৈয়্যেবা’র ‘হারাম সীমার’ বাইরে অবস্থিত ‘লাল টিলা’ এবং ‘সাবখাতুল যুরফ’ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পেতে এখানে ক্লিক করুন: [ ১, ২]
দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী – (৪)
দাজ্জাল সম্পর্কে আরো বেশ কিছু হাদিস ও আছার
# আনাস বিন মালেক রা. -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ ، إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ ، وَلَيْسَ نَقْبٌ مِنْ أَنْقَابِهَا إِلَّا عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ صَافِّينَ تَحْرُسُهَا ، فَيَأْتِي سِبْخَةَ الْجُرُفِ ، فَيَضْرِبُ رِوَاقَهُ ، فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ ، يَخْرُجُ إِلَيْهِ مِنْهَا كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ . أخرجه مسلم في صحيحه : رقم ٢٩٤٣ – “এমন কোনো শহর নেই যেখানে সে(ই খবিস দাজ্জাল) অচিরেই (দাপটের সাথে) পা মাড়িয়ে না বেড়াবে -কেবল মক্কা ও মদিনা ছাড়া। আর (মদিনার) এমন কোনো অলিগলি নেই, যার কাছে ফিরেশতাগণের সারি (অস্ত্র হাতে) পাহারারত: অবস্থায় না থাকবে। ফলে সে (মদিনা’র অনতিদূরে) সাবখাতুল-যুরফ (এলাকা)-এ এসে ওটার কিনারায় আঘাত/প্রহার করবে। এতে মদিনা তিন বার কম্পনে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। তখন সকল কাফের ও মুনাফেক (মদিনা থেকে) বের হয়ে তার কাছে যাবে”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৪৩]
ফায়দা: অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- يَجِيءُ الدَّجَّالُ فَيَطَأُ الْأَرْضَ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ فَيَأْتِي الْمَدِينَةَ فَيَجِدُ بِكُلِّ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهَا صُفُوفًا مِنْ الْمَلَائِكَةِ فَيَأْتِي سَبْخَةَ الْجَرْفِ فَيَضْرِبُ رِوَاقَهُ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ مُنَافِقٍ وَمُنَافِقَةٍ . رواه أحمد في مسنده : ٣/١٩١ ، وهو حديث صحيح على شرط مسلم : – “দাজ্জালে এসে পৃথিবীতে (দাপটের সাথে) পা মাড়িয়ে চলবে -কেবল মক্কা ও মদিনা ছাড়া। পরে সে মদিনায় (ঢোকার উদ্দেশ্যে) আসবে। তখন সে সেখানকার অলিগলির প্রতিটিতে ফিরেশতাদেরকে সারিবদ্ধভাবে (অস্ত্র হাতে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে) পাবে। ফলে সে (মদিনা’র অনতিদূরে) সাবখাতুল-যুরফ (এলাকা)-এ এসে ওটার কিনারায় আঘাত/প্রহার করবে। এতে মদিনা তিন বার কম্পনে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। তখন সকল মুনাফেক-পুরুষ ও মুনাফেক-নারী (মদিনা থেকে বের হয়ে) তার কাছে যাবে”। [মুসনাদে আহমদ– ৩/১৯১; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১২/১৮১]
এই হাদিসে যে বলা হয়েছে যে, দাজ্জাল মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না, এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে মুহাক্কেক আলেমগণ বলেছেন যে, দাজ্জাল ‘মক্কার হারাম সীমা’ এবং ‘মদিনার হারাম সীমা’র ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। এটাই সর্বগ্রহনীয় ব্যাখ্যা এবং এই ব্যাখ্যার দ্বারা দাজ্জাল বিষয়ক আরো বহু জটিল প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায়, যার কিছু নমুনা নিম্নেও দেখতে পাবেন। الله اعلم بالصواب
# মিহযান বিন আদরা’ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس فقال : يَوْمُ الْخَلاصِ وَمَا يَوْمُ الْخَلاصِ ، يَوْمُ الْخَلاَصِ وَمَا يَوْمُ الْخَلاَصِ ، يَوْمُ الْخَلاَصِ وَمَا يَوْمُ الْخَلاَصِ ، ثَلاثًا ، فَقِيلَ لَهُ : وَمَا يَوْمُ الْخَلاَصِ ؟ قَالَ : يَجِيءُ الدَّجَّالُ فَيَصْعَدُ أُحُدًا فَيَنْظُرُ الْمَدِينَةَ فَيَقُولُ لأَصْحَابِهِ : أَتَرَوْنَ هَذَا الْقَصْرَ الأَبْيَضَ ؟ هَذَا مَسْجِدُ أَحْمَدَ ، ثُمَّ يَأْتِي الْمَدِينَةَ فَيَجِدُ بِكُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلَكًا مُصْلِتًا ، فَيَأْتِي سَبْخَةَ الْحَرْفِ فَيَضْرِبُ رُوَاقَهُ ، ثُمَّ تَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلاثَ رَجَفَاتٍ ، فَلا يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلا مُنَافِقَةٌ ، وَلا فَاسِقٌ وَلا فَاسِقَةٌ إِلا خَرَجَ إِلَيْهِ ، فَذَلِكَ يَوْمُ الْخَلاصِ . رواه أحمد في مسنده : ٤/٣٣٨ ، و قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٣/٣١١ : و رجاله رجال الصحيح ، و قال شعيب الأرنؤوط في تحقيقه : ٤/٣٣٨ رقم ١٨٩٩٦ : إسناده ضعيف لانقطاعه عبد الله بن شقيق لم يسمع محجن بن الأدرع ، رواه الحاكم ايضا في المستدرك : ٤/٥٤٣ و قال : هذا حديث صحيح على شرط مسلم و لم يخرجاه , و وافقه الذهبي، و قال الألباني في رسالته : قصة المسيح الدجال: ص ٨٩ : وهو كما قالا إن سلم من الانقطاع بين عبد الله بن شقيق ومحجن فقد أدخل بينهما رجاء بن أبي رجاء الباهلي في رواية لأحمد ابن حنبل : ١/٤٦ : وإسنادها أصح من إسناده الرواية الأولى لكنها على كل حال لا بأس بها في الشواهد ، و رواه ايضا الطبرانى في الأوسط : ٣٥١٥، و حنبل بن إسحاق في الفتن : رقم ٣٦ – “(একবার) রাসুলুল্লাহ ﷺ লোকজনের সামনে কথা রাখছিলেন। তখন (এক পর্যায়ে) বললেন: ‘ইয়ামুল খালাস (বহিষ্কারের দিন)! (তোমরা জানো কি) ইয়ামুল খালাস কী? ইয়ামুল খালাস (বহিষ্কারের দিন)! (তোমরা জানো কি) ইয়ামুল খালাস কী? ইয়ামুল খালাস (বহিষ্কারের দিন)! (তোমরা জানো কি) ইয়ামুল খালাস কী’? (এভাবে কথাটি তিনি) তিনবার বললেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল: ‘(ইয়া রাসুলাল্লাহ!) ‘ইয়ামুল খালাস (বহিষ্কারের দিন) কী’? তিনি বললেন: ‘দাজ্জাল (মদিনার কাছে) আসবে। পরে সে উহূদ (পাহাড়)-এ আরোহন করবে। তারপরে সে (ওখান থেকে) মদিনার (মসজিদের) দিকে তাকিয়ে তার সঙ্গিসাথীদেরকে বলবে: ‘তোমরা কি এই সাদা বিল্ডিংটিকে দেখতে পাচ্ছো? এটা হল আহমাদ -এর মসজিদ’। এরপর সে (ওখান থেকে নেমে) মদিনায় (ঢোকার উদ্দেশ্যে) আসবে। (এসে) দেখতে পাবে যে, সেখানকার প্রতিটি গলিতে ফিরেশতা অস্ত্রহাতে রয়েছে। তখন সে (মদিনা’র অনতিদূরে) সাবখাতুল-যুরফ (এলাকা)-এ এসে সেটার কিনারায় আঘাত/প্রহার করবে। এরপর মদিনা তিন বার কম্পনে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। তখন এমন কোনো মুনাফেক পুরুষ, মুনাফেক নারী, ফাসেক পুরুষ ও ফাসেক নারী বাকি থাকবে না, যে (মদিনা থেকে) বের হয়ে তার কাছে না যাবে। এটাই হল ‘ইয়ামুল খালাস (বহিষ্কারের দিন)’। [মুসনাদে আহমদ– ৪/৩৩৮, ৫/৩১ ; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫৪৩; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী, হাদিস ৩৫১৫; মু’জামুস সাহাবাহ, ইবনু কানে- ১৮১৪; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৩/৩১১]
ফায়দা: এই হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে যাওয়ার আগে প্রথমে উহূদ পাহাড়ে অবতরন করবে। এরপর সেখান থেকে ‘মসজিদে নববী’র দিকে তাকিয়ে বলবে- أَتَرَوْنَ هَذَا الْقَصْرَ الأَبْيَضَ ؟ هَذَا مَسْجِدُ أَحْمَدَ – “তোমরা কি এই সাদা বিল্ডিংটিকে দেখতে পাচ্ছো? এটা হল আহমাদ -এর মসজিদ”। সহিহ মুসলীমের রেওয়ায়েতে আছে- حَتَّى يَنْزِلَ دُبُرَ أُحُدٍ – ‘এমনকি সে উহূদ (পাহাড়)-এর পাদদেশে অবতরণ করবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৩৮০] এর অর্থ হল, উহূদ পাহাড়েরর যে অংশটি ‘মদিনার হারাম সীমা’র বাহিরে অবস্থিত তার পাদদেশে কোথাও সে অবতরন করবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ যে সময় এই ভবিষ্যতবাণীটি ব্যাক্ত করেছিলেন, তখন তাঁর মদিনা সমজিদটি ছিল খেজুর গাছের স্তম্ভ, ডালপালা, পাতার ছাউনি ইত্যাদি দিয়ে বানানো একটি মসজিদ। ১৯৪৭ ইংস সালের দিকে আরবে তেল আবিষ্কৃত হওয়ার আগে কেউ কি ভেবেছিল মদিনার ‘মসজিদে নববী’ এতটা উন্নত প্রযুক্তির শানদার একটি মসজিদ তৈরী হবে !? এখানে ‘সাদা’ বলতে একেবারে ধবধবে সাদা উদ্দেশ্য নয়। কোনো কিছুকে মোটের উপরে বোঝানোর জন্যও এধরনের কথা বলা হয়ে থাকে। আরবে সেকালে ‘সাদা চামড়ার খৃষ্টানদেরকে’ বলা হত ‘বনু আসফার’। অথচ ‘আসফার’ হল হলদে রং। এজন্য মসজীদে নববীকে ‘সাদা বিল্ডিং’ বলাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কারণ এটিকে মোটের উপরে ‘সাদা বিল্ডিং’ বলা হয়েছে। আর তাছাড়া বৈদ্যুতিক পাওয়ারী লাইটে ঘেরা মসজিদে নববীকে রাতের বেলা গোটা মসজিদটিকে একটি জ্যোতির্ময় সাদা উজ্জল সমজিদই দেখায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী মোবারকটি আজ প্রায় চেদ্দি’শ বছর পরে এসে ‘মু’জেজা’ আকারে প্রকাশ পেয়েছে। তার মানে আমরা দাজ্জালের খুব কাছে চলে এসেছি।
এরপরে দাজ্জাল উহূদের পাদদেশ থেকে নেমে মদিনায় ঢোকার জন্য অগ্রসর হবে এবং মদিনার প্রতিটি দ্বারপথে ফিরেশতাগণকে তরবারী নিয়ে প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পাবে। ফলে সে উপায়ন্ত না দেখে সেখান থেকে ফিরে গিয়ে ‘সাবখাতুল-যুরফ’ এলাকায় আসবে। ইবনে মাজাহ-তে দূর্বল সনদে এভাবে এসেছে- حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ – “অবশেষে (উপায়ন্ত না দেখে) সে (মদিনার অনতিদূরের একটি) বিচ্ছিন্ন সাবখা’র নিকটে (অবস্থিত একটি) লাল টিলার কাছে (গিয়ে) অবতরণ করবে। তখন মদিনা তার অধিবাসিদেরকে নিয়ে তিনবার (ভীষন জোরে) প্রকম্পিত হয়ে উঠবে”। [সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩৫৯ হাদিস ৪০৭৭]
‘মদিনা তৈয়্যেবা’র ‘হারাম সীমার’ বাইরে অবস্থিত ‘লাল টিলা’ এবং ‘সাবখাতুল যুরফ’ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পেতে এখানে ক্লিক করুন: [ ১, ২] الله اعلم بالصواب
# আবু সাঈদ খুদরী রা. -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا حَدِيثًا طَوِيلًا عَنْ الدَّجَّالِ ، فَكَانَ فِيمَا يُحَدِّثُنَا بِهِ أَنَّهُ قَالَ: يَأْتِي الدَّجَّالُ ، وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ المَدِينَةِ ، فَيَنْزِلُ بَعْضَ السِّبَاخِ الَّتِي تَلِي المَدِينَةَ ، فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ ، وَهُوَ خَيْرُ النَّاسِ – أَوْ مِنْ خِيَارِ النَّاسِ – فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَهُ ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ، ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ ، هَلْ تَشُكُّونَ فِي الأَمْرِ؟ فَيَقُولُونَ: لاَ ، فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ ، فَيَقُولُ: وَاللَّهِ مَا كُنْتُ فِيكَ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي اليَوْمَ ، فَيُرِيدُ الدَّجَّالُ أَنْ يَقْتُلَهُ فَلاَ يُسَلَّطُ عَلَيْهِ . أخرجه البخاري في صحيحه , كتاب الفتن , باب لا يدخل الدجال المدينة : ٧١٣٢ ، ومسلم في صحيحه : ٢٩٣٨ – “একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাছে দাজ্জালের ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা রাখলেন। (সেদিন) ওর ব্যাপারে তিনি আমাদেরকে যা কিছু বলেছিলেন, তার মধ্যে এও বলেছিলেন যে: ‘দাজ্জাল আসবে। তবে তার জন্য মদিনার (সকল) অলিগলিতে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ থাকবে। তখন সে এক সাবখ (এলাকা)-এ অবতরন করবে যা মদিনার (অনতিদূর) পাশেই (অবস্থিত) হবে। সেই (দাজ্জালের) সময় (একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই ঘটবে যে) এক (যবক) ব্যাক্তি -আর সে হবে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি অথবা (বলেছেন) মানুষের মধ্যে নির্বাচিত ব্যাক্তি- সে বের হয়ে (দাজ্জালের সামনে গিয়ে) বলবে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই হচ্ছিস দাজ্জাল যার কথা রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে বলে গেছেন’। তখন দাজ্জাল (অন্যদেরকে উদ্দেশ্য করে) বলবে: ‘আমি যদি একে হত্যা করে পরে ওকে পুনর্জীবিত করি তাহলে তোমারা কী বলবে? (আমি যে তোমাদের রব/প্রভু -সে) ব্যাপারে কি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকবে’? এতে তারা বলবে: ‘না’। তখন সে তাকে হত্যা করে আবার জীবিত করবে। এতে সে(ই যুবকটি) বলবে: ‘আল্লাহ’র কসম! (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর হুবহু বাস্তবায়ন আমার নিজের চোখের সামনে খোদ্ আমারই সাথে হতে দেখে) তোর (দাজ্জাল হওয়ার) ব্যাপারে (আজ আমার যে ইমানী অন্তর্দৃষ্টি লাভ হল) এত পরিষ্কার অন্তর্দৃষ্টি আজকের পূর্বে আমার (জীবনে আর) কখনো লাভ হয়নি’। তখন দাজ্জাল তাকে (আবারো) হত্যা করতে চাইবে, কিন্তু তার উপরে চড়াও পাবে না”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭১৩২; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৮]
# আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَأْتِي الْمَسِيحُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ هِمَّتُهُ الْمَدِينَةُ ، حَتَّى يَنْزِلَ دُبُرَ أُحُدٍ ، ثُمَّ تَصْرِفُ الْمَلائِكَةُ وَجْهَهُ قِبَلَ الشَّامِ وَهُنَالِكَ يَهْلِكُ . رواه مسلم في الحج باب صيانة المدينة : ١٣٨٠ ، وأحمد: ٢٧٥٠٨ ، والترمذي في الفتن :٢١٦٩ – ‘মাসিহ (দাজ্জাল) আসবে পূর্বদিক থেকে; তার লক্ষ্য হবে মদিনা। এমনকি সে উহূদ (পাহাড়)-এর পাদদেশে অবতরণ করবে। এরপর ফেরেশতাগণ তার মাথাকে শাম-এর দিকে ঘুরিয়ে দিবেন। (ফলে সে শামে চলে যাবে ও ঘটনার এক পর্যায়ে ঈসা আ.-এর হাতে) সেখানে নিহত হবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৩৮০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৭৫০৮; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৬৯]
ফায়দা: ইতিপূর্বে উল্লেখীত হাদিস সমূহ ও তার ব্যাখ্যা গুলো পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, দাজ্জাল বের হলে ইরানের সত্তর হাজার ইহূদী তার বশ্যতা মেনে নিবে ও তার অনুসরণ করবে। সম্ভবত: তারপর সে মদিনার কাছে এসে প্রথমে উহূদ পাহাড়ের পাদদেশে অবতরন করবে। এরপর ‘সাবখাতুল-যুরফ’ এলাকায় তার গমন, তারপর মদিনা তিনবার কেঁপে ওঠা এবংএর ফলে সকল কাফের ও মুনাফেক নারী-পুরুষ মদিনা থেকে বের হয়ে তার কাছে যাওয়া ইত্যাদি শেষে ফেরেশতাগণ তার মাথাকে শামের দিকে ঘুড়িয়ে দিবে, ফলে সে মদিনা ছেড়ে শামে চলে যাবে লোকজনকে ফিতনায় ফেলানোর জন্য। الله اعلم بالصواب
# নাফে বিন উৎবাহ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেন – كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ – قَالَ – فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَوْمٌ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ عَلَيْهِمْ ثِيَابُ الصُّوفِ فَوَافَقُوهُ عِنْدَ أَكَمَةٍ فَإِنَّهُمْ لَقِيَامٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ – قَالَ – فَقَالَتْ لِي نَفْسِي ائْتِهِمْ فَقُمْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ لاَ يَغْتَالُونَهُ – قَالَ – ثُمَّ قُلْتُ لَعَلَّهُ نَجِيٌّ مَعَهُمْ . فَأَتَيْتُهُمْ فَقُمْتُ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ – قَالَ – فَحَفِظْتُ مِنْهُ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ أَعُدُّهُنَّ فِي يَدِي قَالَ : تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللَّهُ . قَالَ فَقَالَ نَافِعٌ يَا جَابِرُ لاَ نَرَى الدَّجَّالَ يَخْرُجُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّومُ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : ٤/٢٢٢٥ رقم ٢٩٠٠، و أحمد في المسند : ٤/٣٣٨، و ابن ماجه في سننه : ٢/١٣٧٠ رقم ٤٠٩١ – “আমরা এক গাজওয়া’য় (জিহাদে) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ছিলাম’। নাফে রা. বলেন: ‘তখন পশ্চিম দিক থেকে একটি কওম নবী ﷺ-এর কাছে এল। তাদের গায়ে ছিল পশমের পোশাক। তারা একটি টিলার নিকটে তাঁর সাথে পরিচয় বিনিময় করলো। তখন তারা দাঁড়িয়ে ছিল এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন বসে’। নাফে রা. বলেন: ‘আমি নিজ মনে একথা বললাম যে, আমি তাদের কাছে গিয়ে তাদের ও তাঁর মাঝে দাঁড়াই, যাতে তারা (সুযোগ বুঝে আবার) হত্যা করে না ফেলে। পরে বললাম, তিঁনি হয়তো তাদের সাথে (এমন কোনো) গোপনীয় আলাপ বলছেন (যার মধ্যে আমার শরীক থাকা উচিৎ হবে না)। (কিন্তু যাই হোক) পরে আমি তাদের কাছে এসে তাদের ও তাঁর মাঝে দাঁড়ালাম’। নাফে রা. বলেন: ‘তখন আমি তাঁর থেকে চারটি কথা মুখস্ত করে নিলাম, (এবং) সেগুলোকে আমি আমার হাতেই গুণে রাখলাম’। তিঁনি বললেন: ‘তোমরা জাজিরাতুল আরবের (কাফেরদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, পরে আল্লাহ তাতে (তোমাদের মুসলমানদেরকে) বিজয় দান করবেন। এরপর (তোমরা) ফারেসের (কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে), পরে আল্লাহ তাতে বিজয় দান করবেন। এরপর তোমরা রোমের (কাফেরদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, পরে আল্লাহ তাতে বিজয় দান করবেন। এরপর তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, পরে আল্লাহ তাতে (তোমাদেরকে) বিজয় দান করবেন”। [সহিহ মুসলীম– ৪/২২২৫ হাদিস ২৯০০; মুসনাদে আহমদ– ৪/৩৩৮; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩৭০ হাদিস ৪০৯১; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম- ৮/২৮১]
ফায়দা: জারিজারুত আরবে মুশরেক কাফেরদের সাথে, তারপর ফারেসের কাফেরদের সাথে, তারপর বোমদের কাফেরদের সাথে সাহাবীগণ জিহাদ করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে বিজয় দান করেছেন। আমাদের এই আখেরী জামানায় ইমাম মাহদী রা.-এর নেতৃত্বে মুসলমানগণ দাজ্জালের সাথে জিহাদ করবেন এবং দাজ্জাল তার বাহীনি সহ পরাজিত হবে। الله اعلم بالصواب
# ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ عَلَى مَنْ نَاوَأَهُمْ، حَتَّى يُقَاتِلَ آخِرُهُمُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ . رواه أبو داود في سننه, كتاب الجهاد, باب في دوام الجهاد: حديث رقم ٢٤٨٤ , و صححه الالبانى في سلسلة الأحاديث الصحيحة: ٤/٦٠١ رقم ١٩٠٩ ; و أحمد: حديث رقم ١٩٨٩٥ و قال شعيب الارنؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين ; و الحاكم في المستدرك: ٣/٤٥٠ و قال: صحيح على شرط مسلم و وافقه الذهبي – ‘আমার উম্মতের মধ্যে একটি গোষ্ঠি (জামাআত/দল) সর্বদা হক্বের উপর (প্রতিষ্ঠিত) থেকে (ইসলাম বিরোধীদের সাথে) ক্বিতাল (সমর জিহাদ) করবে। তারা (সর্বদা অদমনীয় থাকবে এবং) যারা তাঁদের বিরুদ্ধে নামবে, তাঁরা তাদের উপরে প্রবল থাকবে। এমনকি তাঁদের শেষভাগ (-এর মুমিন মুজাহিদগণ) মাসিহ্ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৪৮৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৯৮৯৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৪৫০]
ফায়দা: নাহিক বিন সুরাইম আস-সাকুনী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لتقاتلن المشركين حتى تقاتل بقيتكم الدجال ، على نهر بالأردن ، أنتم شرقيه ، و هم غربيه ، و ما أدري أين الأردن يؤمئذ من الأرض . اخرجه البزار في كشف الأستار: ٤/١٣٨ رقم ٣٣٨٧ ; و و الطبراني في مسند الشاميين: رقم . قال الهيثمي في في ” مجمع الزوائد : ٧/٣٤٩ : رواه الطبراني والبزار ورجال البزار ثقات ; و اخرجه ايضا ابن سعد في الطبقات: ٧/٤٢٢ ; والديلمي في مسند الفردوس: ٤/١٨٦ ; وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني برقم ٧٧٣ ; و قال الألباني في ” السلسلة الضعيفة و الموضوعة: ٣/٤٦٠ رقم ١٢٩٧ – ‘অবশ্যই মুশরেকদের সাথে তোমাদের যুদ্ধ হবে। এমনকি তোমাদের (মুসলমানদের) বাকি অংশ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে -উরদুনে অবস্থিত (একটি) নহরের ধারে, যার পূর্ব পার্শ্বে থাকবে তোমরা, আর তার পশ্চিম পার্শ্বে থাকবে ওরা। (রাবী বলেন:) আমি জানি না, সেদিন উরদুন (অঞ্চলটি) পৃথিবীর কোথায় হবে’। [মুসনাদে বাযযার -৪/১৩৭ হাদিস ৩৩৮৭; মুসনাদে শামেঈন, ত্বাবরাণী ; আল-আহাদ ওয়াল মাছানী, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৭৭৩; আত-ত্ববাকাত, ইবনে সা’দ- ৭/৪২২; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৪/১৮৬; তারিখে দামেশক, ইবনু আসাকীর -৬২/৩২৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]
এই হাদিসে ‘উরদুন’ বলতে বর্তমান সময়কার জর্দান দেশ উদ্দেশ্য। জর্দান ও ইসরাইলের মাঝখানে যে নহর/নদীটি উভয় দেশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, হাদিসের উরদুনে অবস্থিত নহর/নদী বলতে সেই নহরটিই উদ্দেশ্য। ২৫১ কিমি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জর্দান নদীটি এশিয়া মহাদেশ এর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দীর্ঘতম নদী, যা শেষ হয়েছে মৃত সাগর বা Dead sea তে।
এখানে মুজাহিদগণের একটি জামাআতের সাথে দাজ্জাল ও তার অনুসারী ইহুদীদের যুদ্ধ হবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে সিরিয়ার দামেশকের জামে’ মসজিদের মিনারে অবতরণ করবেন এবং ফিলিস্তিনের লুদ নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। খুব সম্ভবতঃ দাজ্জালের মৃত্যুর পর তার অনুসারী ইহূদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে থাকবে, তখন মুসলমানরা তাদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করবে। যেমন, আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেছেন- لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي ، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ ، إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ . رواه مسلم , كتاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ, بَاب لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مَكَانَ الْمَيِّتِ مِنْ الْبَلَاءِ: رقم ٢٩٢٢ ; و الدانى في السنن الواردة في الفتن, بَابُ مَا جَاءَ فِي قِتَالِ هَذِهِ الأُمَّةِ أَهْلَ: ٤٥١; و أحمد في المسنده: رقم ٢٧٥٠٢ ; و الخطيب البغدادي في تاريخ: ٨/١١٤ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না, যাবৎ না মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে ক্বিতাল (স্বসস্ত্র জিহাদ) করে। পরে মুসলমানরা তাদেরকে কতল করবে। এমনকি (মুসলমানদের ধাওয়া খেয়ে) ইহূদীরা পাথর ও গাছের পিছনে লুকিয়ে পড়বে। তখন পাথর বা গাছ বলবে: ‘হে মুসলীম! ওহে আল্লাহ’র বান্দা ! এই যে আমার পিছনে ইহূদী (লুকিয়ে আছে)’। তখন সে এসে তাকে কতল করবে। শুধু বাবলা গাছ স্বতন্ত্র (সে একথা বলবে না), কারণ সে ইহূদীদের গাছ’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯২২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৭৫০২; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৪৪৯; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/১১৪]
হাদিসটিতে মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ বলতে আমার মতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ উদ্দেশ্য। যেমন, সওবান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام. روى النسائي فى سننه: ٣١٧٥ ، و أحمد فى المسند:١٨/٣٧ رقم ٢٢٣٩٦, وهو حديث صحيح، صححه الإمام السيوطي في الجامع الصغير، والألباني في صحيح الجامع: ٤٠١٢ والصحيحة: ١٩٣٤ – ‘আমার উম্মতের মধ্যে দুটি দল রয়েছে, আল্লাহ তাদের উভয়কে দোযখ থেকে মুক্তি দিবেন। (১) হিন্দ (ভারত)-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করনেওয়ালা দল এবং (২) ঈসা ইবনে মানইয়াম আ.-এর সঙ্গী দল।’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৯৬]
আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلْ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ. روى النسائي ٣١٧٣ ، وأحمد ٢/٢٢٩, والحديث ضعفه الألباني في ضعيف سنن النسائي ٢٠٢ ، ٢٠٣ . وكذلك الشيخ شعيب الأرنؤوط في تخريجه لمسند أحمد ١٢/٢٩ , البداية والنهاية لابْنُ كَثِيرٍ: ١٩/١٠ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে গাজওয়ায়ে-হিন্দ -এর ওয়াদা করেছেন। সুতরাং আমি যদি তা পেয়ে যাই, তাহলে আমি আমার জান ও মাল (আল্লাহ’র রাস্তায়) দিয়ে দিবো। আর যদি আমাকে (ওই যুদ্ধে) কতল করে ফেলা হয়, তাহলে আমি হবো সর্বোত্তম শহিদগণের মধ্যে একজন। আর আমি যদি (ওই জিহাদে বেঁচে) ফিরে আসি, তাহলে আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের শাস্তি থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৩; মুসনাদে আহমদ- ২/২২৯; আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ইবনে কাসির- ১০/১৯]
মুজাহিদগণ ভারতের মুশরেকদের উপরে জয় লাভ করার পর তাদের লিডারদেরকে বেঁধে নিয়ে যখন শাম-এ যাবেন তখন সেখানে গিয়ে তাঁরা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে দেখে ধন্য হবেন। ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- عن صفوان بن عمرو ، عن بعض المشيخة ، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – وذكر الهند – فقال : ليغزون الهند لكم جيش يفتح الله عليهم ، حتى يأتوا بملوكهم مغللين بالسلاسل ، يغفر الله ذنوبهم ، فينصرفون حين ينصرفون فيجدون ابن مريم بالشام . قال أبو هريرة : إن أنا أدركت تلك الغزوة بعت كل طارف لي وتالد وغزوتها ، فإذا فتح الله علينا وانصرفنا فأنا أبو هريرة المحرر ، يقدم الشام فيجد فيها عيسى بن مريم ، فلأحرصن أن أدنوا منه فأخبره أني قد صحبتك يا رسول الله . قال : فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك ثم قال : هيهات ، هيهات . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” : ص/٤٠٩, وفي سنده إبهام الراوي عن أبي هريرة ، كما أن في سنده بقية بن الوليد مدلس وقد عنعن – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার) হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে (এবং) আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা ওদের রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন, অতঃপর বললেন: এমনটা হবার নয় ! এমনটা হবার নয়’! [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১২৩৬] ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত সাফওয়ান রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” يَغْزُو قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي الْهِنْدَ ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مَغْلُولِينَ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ ، فَيَنْصَرِفُونَ إِلَى الشَّامِ ، فَيَجِدُونَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلامُ بِالشَّامِ ” . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/٣٩٩) قال : حدثنا الوليد ، عن صفوان بن عمرو ، عمن حدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا إسناد ظاهر الضعف بسبب عنعنة الوليد بن مسلم ، وظاهره ـ أيضا ـ الإرسال ، لأنه ليس فيه أن من حدث صفوان بن عمرو سمع النبي صلى الله عليه وسلم ، ولا أنه كان صحابيا – ‘অবশ্যই আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি হিন্দ-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে।আল্লাহ (তাআলা ওই মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমনকি তারা হিন্দে’র রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা শাম-এর দিকে ড়ওনা হবে। তারা শামে (গিয়ে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৩৯৯ পৃ:] الله اعلم بالصواب
# হিশাম বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ رَأْسَ الدَّجَّالِ مِنْ وَرَائِهِ حُبُكٌ حُبُكٌ ، وَإِنَّهُ سَيَقُولُ : أَنَا رَبُّكُمْ ، فَمَنْ قَالَ : أَنْتَ رَبِّي افْتُتِنَ ، وَمَنْ قَالَ : كَذَبْتَ ، رَبِّيَ اللَّهُ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ، فَلَا يَضُرُّهُ ، أَوْ قَالَ : فَلَا فِتْنَةَ عَلَيْهِ . رواه عبد الرزاق في مصنفه, كتاب الجامع, باب الدجال: رقم ٢٠٨٢٨; و أحمد: ١٥٨٢٦ ; و الحاكم في المستدرك على الصحيحين: ٤/٥٠٨ ; و صححه الألباني في الصحيحة: ٢٨٠٨ – ‘নিশ্চই দাজ্জালের মাথার পিছনের (চুলগুলো পাকানো পাকানো এবং) খুব বেশি হেলেদুলে ওঠে। (সে যখন নিজকে রব/প্রভু দাবী করবে, তখন) যে (তাকে) বলবে: ‘তুমি আমার রব (প্রভু)’, সে (তার) ফিতনায় পড়বে’। আর যে বলবে: ‘তুই (একটা ফিতনাবাজ ভন্ড/প্রতারক/মিথ্যুক! তুই) মিথ্যা বলেছিস, رَبِّيَ اللَّهُ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ – ‘আমার রব হলেন আল্লাহ, আমি তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করি এবং তাঁরই দিকে আমি ফিরে যাবো’, তখন আর সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, অথবা বলেছেন: তার উপরে (দাজ্জালের) কোনো ফিতনা (কার্যকর) হবে না’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৯৫ হাদিস ২০৮২৮; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫৮২৬; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৫০৮]
ফায়দা: আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ مِنْ بعْدِكُمْ الْكَذَّاب الْمُضِلَّ ، وَإِنَّ رَأْسَهُ مِنْ بعْدِهِ حُبكٌ حُبكٌ حُبكٌ ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، وَإِنَّهُ سَيَقُولُ : أَنَا رَبكُمْ ، فَمَنْ قَالَ : لَسْتَ رَبنَا ، لَكِنَّ رَبنَا اللَّهُ ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْهِ أَنَبنَا ، نَعُوذُ باللَّهِ مِنْ شَرِّكَ ، لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهِ سُلْطَانٌ . رواه احمد في المسنده: ١٦/٥٤٠ رقم ٢٣٠٥٢, و صححه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٢٨٠٨ – ‘নিশ্চই তোমাদের পরে একটি পথভ্রষ্ঠ মিথ্যুক (আবির্ভূত) হবে। আর তার মাথার পিছনের (চুলগুলো পাকানো পাকানো এবং) খুব বেশি হেলেদুলে ওঠে। একথা তিনবার বললেন। আর নিশ্চই অতি শিঘ্রই সে বলবে: ‘আমি তোমাদের (মানবকুলের) রব/প্রভু’। তখন যে (তাকে) বলবে: ‘তুমি আমাদের রব (প্রভু) নও, ‘তুমি (একটা ফিতনাবাজ ভন্ড/প্রতারক/মিথ্যুক!)’, বরং ‘আমাদের রব হলেন আল্লাহ, আমরা তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করি এবং তাঁরই কাছে আমরা ফিরে যাবো, আমরা আল্লাহ কাছে তোমার থেকে পানাহ চাই’, তখন আর সে তার উপরে কোনো (ফিতনার) প্রভাব খাটাতে পারবে না’। [মুসনাদে আহমদ– ১৬/৫৪ হাদিস ২৩০৫২]
# যাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত,তিনি এরশাদ করেন- أَخْبَرَتْنِي أُمُّ شَرِيكٍ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَفِرَّنَّ النَّاسُ مِنْ الدَّجَّالِ فِي الْجِبَالِ قَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ هُمْ قَلِيلٌ . رواه مسلم في ال صحيح, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٤٥; و الترمذي: رقم ٣٩٣٠; و احمد: ٦/٤٦٢ – ‘আমাকে উম্মে শারিক রা. বলেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছেন: ‘লোকজন অবশ্যই দাজ্জাল থেকে পালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিবে’। উম্মে শারিক জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেদিন আরব’রা কোথায় থাকবে’? তিনি বললেন: তারা (সেদিন) সংখ্যায় কম হবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৪৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ৩৯৩০; মুসনাদে আহমদ- ৬/৪৬২]
ফায়দা: ইবনে মাজাহ-তে আবু উমামাহ বাহেলী রা. থেকে দূর্বল সনদে বর্ণিত রেওয়ায়েতে এসেছে- َ فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعُكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ : هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ – “এতে উম্মে শারিক বিনতে আবি উকাইর রা. জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেদিন আরবরা কোথায় থাকবে’? তিনি বললেন: ‘সেদিন তারা (সংখ্যায়) হবে অতি অল্প; তাদের অধিকাংশই (সেদিন) বাইতুল মাকদিসে (অবস্থিত) গর্বিত (সন্তানদের মধ্যে শামিল) থাকবে। (সে সময়ে) তাদের ইমাম (আমীর/খলিফা/শাসক) হবে (আমারই মেয়ে ফাতেমার বংশধরের একজন) একজন নেককার পুরুষ (আল-মাহদী)”। [সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩৫৯ হাদিস ৪০৭৭] এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয় যে, আরবের ওই সকল মর্দে মমিন মুজাহিদগণ সে সময়ে ইমাম মাহদীর সাথে বাইতুল মাকদিসে থাকবে (যা বর্তমানে ইসরাঈলের দখলে রয়েছে), আর এদিকে দাজ্জাল মক্কা মদিনার আশেপাশে তার যাকিছু ফিতনার ভেলকী দেখানোর তা প্রদর্শন করতে থাকবে আরবকে ফিতনায় ফেলার জন্য। মক্কা ও মদিনার স্ব-স্ব হারাম সীমানার ভিতরে অবস্থানকারী মুমিনরা তো দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু যারা তখন হারাম সীমানার বাহিরে থাকবে, তারেই হয়তো দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিবে। আর আরবের কাফের ও মুনাফেক নারী-পুরুষ’রা তো দাজ্জালের দলে গিয়ে যুক্ত হবে। الله اعلم بالصواب
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- مَا زِلْتُ أُحِبُّ بَنِي تَمِيمٍ مُنْذُ ثَلاثٍ سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِيهِمْ : هُمْ أَشَدُّ أُمَّتِي عَلَى الدَّجَّالِ ، وَجَاءَتْ صَدَقَاتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ صَدَقَاتُ قَوْمِنَا ، وَكَانَتْ سَبِيَّةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَ أَعْتِقِيهَا فَإِنَّهَا مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ . رواه البخاري في العتق باب من ملك من العرب رقيقًا: رقم ٢٥٤٣ ، ومسلم في فضائل الصحابة: ٢٥٢٥، وأحمد: ٨٨٢٥ – ‘(আরবের) বনী তামিম (গোত্রকে) আমি ভালবেসেছি তাদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে তিনটি কথা শুনে: (১) আমার উম্মতের মধ্যে তারা দাজ্জালের উপর বেশি কঠিন (বোধ) হবে। (২) তাদের সাদাকাহ’র মাল এলে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন: এটা হল আমাদের কওমের সাদাকাহ (যাকাত)। (৩) আয়েশা রা.-এর কাছে তাদের (গোত্রের) একটি দাসী ছিল, রাসুলুল্লাহ ﷺ (আয়েশা’কে) বলেছিলেন: তাকে মুক্ত করে দাও। নিশ্চই সে (আমার পূর্বপুরুষ) ইসমাঈল (আ.)-এর (বংশের) সন্তান’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ২৫৪৩; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৫২৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৮২৫]
# ওমর বিন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- أَلا وَإِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ بَعْدِكُمْ قَوْمٌ يُكَذِّبُونَ بِالرَّجْمِ وَبِالدَّجَّالِ وَبِالشَّفَاعَةِ وَبِعَذَابِ الْقَبْرِ وَبِقَوْمٍ يُخْرَجُونَ مِنْ النَّارِ بَعْدَ مَا امْتَحَشُوا . رواه أحمد: رقم ١٥٧ و قال أحمد شاكر : إسناده صحيح – ‘শুনে রাখো, নিশ্চই তোমাদের পর এমন গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে (বিবাহিত জেনাকার নর-নারী শাস্তি) ‘রজম’কে, দাজ্জালকে, ‘শাফাআত’কে, ‘কবরের আযাব’কে এবং কঠিন আযাব ভোগের পর একটি গোষ্ঠির দোযখ থেকে বেড় হওয়াকে’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫৭]
# আবু দারদাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْف عُصِمَ مِنْ الدَّجَّالِ . رواه مسلم في صلاة المسافرين باب فضل سورة الكهف : ٨٠٩ ، وأبو داود في الملاحم ٣٧٦٥ ، وأحمد ٢١٢٠٥ – ‘যে ব্যাক্তি সূরা কাহফ-এর প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্ত করে নিবে, সে দাজ্জাল (-এর ফিতনা) থেকে নাজাত পাবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ৮০৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৭৬৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২১২০৫]
ফায়দা: কোনো কোনো রেওয়ায়েতে শেষ দশ আয়াতের কথাও আছে। এজন্য উত্তম হল, সূরা কাহফ-এর প্রথম ১০ আয়াত এবং শেষের ১০ আয়াত মুখস্ত করে নেয়া।
আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلاَمًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ . رواه ابن ماجه, كتاب الفتن, باب فتنة الدجال وخروج عيسى ابن مريم وخروج يأجوج ومأجوج: رقم ٤٠٧٧ , اسناده ضعيف – ‘আর নিশ্চই তার ফিতনার মধ্যে এও হবে যে, তার সাথে (মনোরম কৃত্রিম) জান্নাত ও (কৃত্রিম) দোযখ থাকবে। তবে তার দোযখটিই হচ্ছে জান্নাত এবং জান্নাতটি হচ্ছে দোযখ। যে ব্যাক্তি তার দোযখ দ্বারা বিপদগ্রস্থ হবে, সে যেন অবশ্যই আল্লাহ’র পানাহ কামনা করে এবং অবশ্যই (সূরা) কাহফ-এর প্রথম (১০টি আয়াত) তিলাওয়াত করে। এতে তার উপরে (দাজ্জালের কৃত্রিম দোয়খের শাস্তি) ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়ে যাবে, যেমনটা ইব্রাহিম (আ.)-এর উপরে আগুনের অবস্থা হয়েছিল’। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৭৭]
কোন মন্তব্য নেই