শেষ জামানায় ফিতনা ফ্যাসাদ মালাহিম – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎ বাণী ১ بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى [ উল্ল...
শেষ জামানায় ফিতনা ফ্যাসাদ মালাহিম – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎ বাণী ১
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى
[উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ السَّاعَةِ وَمَا بِي إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَرَّ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يُحَدِّثْهُ غَيْرِي وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ يُحَدِّثُ مَجْلِسًا أَنَا فِيهِ عَنْ الْفِتَنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَعُدُّ الْفِتَنَ مِنْهُنَّ ثَلَاثٌ لَا يَكَدْنَ يَذَرْنَ شَيْئًا وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ مِنْهَا صِغَارٌ وَمِنْهَا كِبَارٌ قَالَ حُذَيْفَةُ فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطُ كُلُّهُمْ غَيْرِي . رواه مسلم , كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب إخبار النبي صلى الله عليه وسلم فيما يكون إلى قيام الساعة: رقم ٢٨٩١ ; و ابن حبان في صحيحه: ١٥/٦ رقم ٦٦٣٧ و اسناده جيد; و احمد: ١٦/٦٣٣ رقم ٢٣٣٥٢ و اسناده صحيح; الداني في السنن الواردة: ٣١; ابن منده في الإيمان: ٢/٩١٢ رقم ٩٩٧ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমার এবং কেয়ামতের মাঝে ঘটিত প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে লোকজনের মধ্যে আমারই অধিক জানাশোনা আছে। তা এজন্য নয় যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে গোপনে এব্যাপারে এমন কিছু বলে গেছেন যা আর কারো কাছে বলেননি। বরং (তা এই জন্য যে), রাসুলুল্লাহ ﷺ মজলিসে বসে ফিতনা সমূহের কথা বলেছেন আর (তখন সৌভাগ্যক্রমে) আমি সেখানে (উপস্থিত) ছিলাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ অনেক ফিতনা’র কথা বলেছেন। ওগুলোর মধ্যে তিনটি ফিতনা (এখনো) প্রকাশ হয়নি বললেই চলে, (বরং পরে ভাল মতো প্রকাশ পাবে)। (আলোচিত) ফিতনাগুলোর মধ্যে শুষ্ক বাতাস, ছোট ফিতনা ও বড় ফিতনা’র মতো কথাও ছিল। হুযাইফা রা. বলেন: (আমার) সেই সাথিদের মধ্যে আমি ছাড়া সকলে (দুনিয়া ছেড়ে) বিদায় নিয়ে গেছেন’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৯১; সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৬ হাদিস ৬৬৩৭; মুসনাদে আহমদ- ১৬/৬৩৩ হাদিস ২৩৩৫২; আল-ইমান, ইবনে মানদাহ-২/৯১২ হাদিস ৯৯৭; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৩১]

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَيْرِ ، وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ ، فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ ، فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، فَقُلْتُ : هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، وَفِيهِ دَخَنٌ ، قُلْتُ : وَمَا دَخَنُهُ ؟ قَالَ : قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي ، وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي ، تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ ، فَقُلْتُ : هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، صِفْهُمْ لَنَا ، قَالَ : نَعَمْ ، قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا ، وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا تَرَى إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ ؟ قَالَ : تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَ إِمَامَهُمْ ، فَقُلْتُ : فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ ؟ قَالَ : فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا ، وَ لَوْ أَنْ تَعَضَّ عَلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَ أَنْتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الإمارة , بَابُ الْأَمْرِ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ عِنْدَ ظُهُورِ الْفِتَنِ وتحذير الدعاة إلى الكفر : ٣/١٤٧٤ رقم ١٨٤٧، و البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب كيف الأمر إذا لم تكن جماعة : رقم ٣٦٠٦ ، وأبو عوانة في مسنده : ٤/٤١ رقم ٥٧٥٧ و ٥٦٥٨، و غيرهم – ‘লোকেরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে -এই ভয়ে ভীত হয়ে যে পাছে তা আমাকে পেয়ে বসে কিনা। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা জাহেলিয়াত ও মন্দের ভিতরে ছিলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে (আপনার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের মতো) এই কল্যান এনে দিলেন। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই মন্দের পর কি কোনো কল্যানের কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তাতে থাকবে দাখান (ধোঁয়া)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই দাখান কি? তিনি বললেন: (সে জামানায়) এমন গোষ্ঠি (-র আবির্ভাব হবে) যারা (মানব সমাজে আমার আনীত) আদর্শ বহির্ভূত আদর্শ জারি করবে এবং (আমার দেখানো) পথনির্দেশিকা বহির্ভূত (পথের দিকে মানুষজনকে) পথ দেখাবে (তাদেরকে পরিচালিত করবে)। তাদের মধ্যে মা’রুফ বিষয়ও (দেখতে) পাবে এবং মুনকার বিষয়ও পাবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: (এদের পর এমন গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে যারা মানব জাতিকে এমন মত ও পথের দিকে ডাক দিবে, যা হবে মূলতঃ) জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা থেকে (দেয়া) ডাক। যে ব্যাক্তি তাদের ডাকে সেদিকে সারা দিবে, তারা তাকে ওর মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের বৈশিষ্ট (কী হবে -তা) বলে দিন। তিনি বললেন: (এই জাহান্নামী পথভ্রষ্ঠ) গোষ্ঠিটির চামড়া আমাদের মতোই হবে, তারা কথাও বলবে আমাদের (মুসলমানদের) ভাষা (ভঙ্গি)তে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমি যদি তাদেরকে পাই, তাহলে আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বললেন: মুসলমানদের জামাআত’ ও তাদের ইমামকে আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি (তখন) কোনো জামাআতও না থাকে, কোনো ইমামও না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে ওই প্রতিটি ফেরকা থেকে নিজকে বিছিন্ন করে রাখবে- যদিও-বা তোমাকে গাছের শিকড় খেয়ে থাকতে হয় এমনকি এ অবস্থার উপরই তোমার মৃত্য চলে আসে। [সহিহ মুসলীম – ৩/১৪৭৪ হাদিস ১৮৪৭; সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০৬; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ– ৪/৪১ হাদিস ৫৭৫৭, ৫৭৫৮]
# হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ –‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (নেতা/গুরু) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تقوم الساعة حتى تظهر الفتن، ويكثر الكذب، وتتقارب الأسواق، ويتقارب الزمان، ويكثر الهرج قيل: وما الهرج؟ قال: القتل – رواه الإمام أحمد في المسند ١٠٣٤٦ ، وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة ٢٧٧٢ – ‘কেয়ামতের সংঘটিত হবে না, যাবৎ না ফিতনাহসমূহ প্রকাশ পায়, মিথ্যা ব্যাপক হয়ে যায়, বাজার/মার্কেটসমূহ পরষ্পরে কাছাকাছি এসে যায় এবং ‘হারাজ’ ব্যাপকভাবে ঘটে। জিজ্ঞেস করা হল: ‘হারাজ’ কি? তিনি বললেন: কতল (খুন-খারাবি)’। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১০৩৪২]
# হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর থেকে বণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- إن أهل الكتابين افترقوا في دينهم على ثنتين وسبعين ملة وإن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين ملة يعني الأهواء كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة وأنه سيخرج من أمتي أقوام تجاري بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه لا يبقى منه عرق ولا مفصل إلا دخله والله يا معشر العرب لئن لم تقوموا بما جاء به نبيكم صلى الله عليه وسلم لغيركم من الناس أحرى أن لا يقوم به – أخرجه أحمد في المسند: ١٣/٢٠٥ قم ١٦٨٧٦, اسناده حسن ، و رواه أبو داود: ٤٥٩٧ والدارمي ٢٥٦٠, والحاكم في “مستدركه ١/١٢٨, ابن أبي عاصم في “السنة: رقم ١٥; المعجم الكبير للطبراني:١٩/٣٧٧ رقم ٨٨٥ – ‘নিশ্চই আহলে কিতাবদ্বয় (ইহূদী ও খৃষ্টানরা) তাদের দ্বীনের মধ্যে (মনচাহি মতাদর্শ ও মতবাদ যুক্ত করে) বাহাত্তরটি পৃথক পৃথক মিল্লাত (sects) বানিয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর অবশ্যই (আমার) এই উম্মত শিঘ্রই তিহাত্তর মিল্লাতে বিভক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ (তারা সবাই হবে) প্রবৃত্তির দাস (এবং) তাদের সবাই দোযখে যাবে শুধুমাত্র একটি (মিল্লাত) ছাড়া, আর সেটা হল আল-জামাআত (তারা হবে জান্নাতী)। আর নিশ্চই আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এমন এমন জাতি/গোষ্ঠিসমূহের আবির্ভাব হবে, যারাদেরকে কুপ্রবৃত্তি এমনভাবে প্রভাবিত/আচ্ছন্ন করে ফেলবে যেভাবে কুকুর (তার কামড়ের দ্বারা) কাউকে (জলাতঙ্ক রোগে) আক্রান্ত করে ফেলে, (যে রোগ ওই আক্রান্ত ব্যাক্তির) রগ-রেশা ও (হাড়ের) জোরা -কোনো কিছুকেই আক্রান্ত না করে ছাড়ে না। [মুসনাদে আহমাদ– ১৩/২০৫, হাদিস ১৬৮৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৫৯৭; সুনানে দারেমী, হাদিস ২৫৬০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১২৮, হাদিস ৪০৬; আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসেম, হাদিস ১৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরানী- ১৯/৩৭৭, হাদিস ৮৮৪]
ফায়দা: এই জাহান্নামী ৭২ ফিরকাহ মূলত: জামানার বিভিন্ন পথভ্রষ্ট আক্বীদা-বিশ্বাস ও মত-পথের উপরে স্থাপিত ফিতনা’র ফসল, যে ফিরকাহ গুলোর রং পাকবে শেষ জামানায় ইমাম মাহদী রা. আগমনের আগে আগে পচন ধরা যুগে, যে যুগের কথা নিচের হাদিসে রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে বহু স্থানে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা বহু আগেই শেষ জামানার ভিতরে প্রবেশ করেছি। الله اعلم بالصواب
# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ أَوْ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ زَمَانٌ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً ، تَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ ، وَأَمَانَاتُهُمْ ، وَاخْتَلَفُوا ، فَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ، فَقَالُوا : وَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : تَأْخُذُونَ مَا تَعْرِفُونَ ، وَتَذَرُونَ مَا تُنْكِرُونَ ، وَتُقْبِلُونَ عَلَى أَمْرِ خَاصَّتِكُمْ ، وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَامَّتِكُمْ . رواه أبو داود في سننه , كتاب الملاحم : ٢/٤٣٧ رقم ٤٣٤٢ ، و ابن ماجه في سننه : ٣٩٥٧ ، و أحمد في المسند : ٢/٢٢١ ، و الحاكم في المستدرك على الصحيحين : ٤/٤٣٥، صححه الألباني في صحيح سنن أبي داود – ‘ তখন তোমাদের বা (বলেছেন তোমাদের) জামানার কি অবস্থা হবে অথবা (বলেছেন) অতি শিঘ্রই এমন জামানা আসছে, যখন মানুষজনকে (আটার ময়লা পরিষ্কারের) চালুনির চালানি দেয়া হবে। (ভাল মানুষগুলো একে একে দুনিয়া থেকে ঝরে যাবে। আর) অবশিষ্ট থেকে যাবে (আবর্জনায়) পরিত্যাক্ত (এমন সব পঁচন ধরা বিকৃত ও নিকৃষ্ট বদ স্বভাবের) মানুষজন, যাদের প্রতিশ্রুতি ও আমানতগুলো খলৎমলৎ হয়ে যাবে এবং তারা দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বাঁধাবে। তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুলগুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। তখন লোকেজন জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, তখন আমরা (মুসলমানরা) কি করবো? তিনি বললেন: (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তোমরা (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করবে এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করবে, আর (সংশোধনের আশা আছে- এরকম) তোমাদের বিশেষ লোকজনের ব্যাপারগুলো গ্রহন করবে (ও সে ব্যাপারে শরীয়তের হক্ব আদায় করবে) এবং তোমাদের আম-জনতার বিষয়গুলোকে ছেড়ে দিবে, (কারণ তাদের ফিতনার সাগরে গেলে তোমাদের ইমান-আমলও তাদের ঢেউ-এর তোড় তোমাদেরকে তাদের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৫৭; মুসনাদে আহমাদ- ২/২২১; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৩৫]
# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ ” إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا ” . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ ” الْزَمْ بَيْتَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ – رواه أبو داود ٤٣٤٣ – ‘আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে গোল হয়ে বসা ছিলাম, তখন তিনি ফিতনা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা যখন মানুষজনকে দেখবে যে, তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো খলৎমলৎ হয়ে হয়ে গেছে এবং তাদের আমানতদারী নিভুপ্রায় হয়ে গেছে, তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুল গুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা বলেন: তখন আমি উঠে তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহ আমাকে আপনার তরে জীবন উৎসর্গ করুন। ওই অবস্থার সম্মুখীন হলে আমি কি করবো? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (লোকজনের সংশোধনের চিন্তা পরিত্যাগ করে সময় অতিবাহিত করার জন্য) তোমার ঘরকে অপরিহার্য করে নাও, (ফিতনা’য় অংশ নিও না, বরং) তোমার জিহবাকে (যথাসাধ্য) সংযত করে রাখো (কারণ তুমি জানো না, তোমার কোন কথা ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দিবে আর তুমি সেই পাপের অংশীদার হয়ে বসবে), এবং (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তুমি (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করো এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করো। আর তুমি শুধু তোমার নিজের বিশেষ ব্যাপার (কে নিয়ে চিন্তিত থাককাকে) অপরিহার্য করে নাও, আর সর্বসাধারণের ব্যাপারাদি থেকে নিজকে বিরত রাখো। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩৪৩]
# আবু যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَا أَبَا ذَرٍّ ، كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي حُثَالَةٍ ؟ ، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا تَأْمُرُنِي ؟ قَالَ : اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، خَالِقُوا النَّاسَ بِأَخْلَاقِهِمْ ، وَخَالِفُوهُمْ فِي أَعْمَالِهِمْ . اخرجه حاكم في المستدرك على الصحيحين : ٣/٣٨٦ و قال هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ . و البيهقي في الزهد الكبير: رقم ٢٠٣ ; و الطبراني في المعجم الأوسط , بَابُ الْأَلِفِ , مَنِ اسْمُهُ أَحْمَدُ : ٤٧٠ – ‘হে আবু যার! তখন তোমার কেমন অবস্থা হবে যখন তুমি (আবর্জনায় ফেলে রাখা) পরিত্যাক্ত (জিনিসের মতো নিকৃষ্ট স্বভাবের মানুষজন)-এর মধ্যে থাকবে ! আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে ক্ষেত্রে আপনি আমাকে কি (করার) নির্দেশ দেন’? তিনি বললেন: (তুমি তখন তোমার সাধ্য মতো আল্লাহ দ্বীনের উপরে কায়েম থাকার চেষ্টা করে যাবে এবং তা করতে গিয়ে তোমার উপরে যে মুসিবত আসবে তার উপরে তুমি আল্লাহ’র ওয়াস্তে) ‘সবর করবে! সবর করবে! সবর করবে’! তুমি (তখনকার) মানুষজনের (মন্দ) স্বভাবগুলির (বিপরীতে তাদের) সাথে (আমার প্রদর্শিত ভাল আখলাক ও) স্বভাব প্রদর্শন করে যাবে, (কোনো অবস্থায়ই সীমা লঙ্ঘন করবে না)। তবে তুমি (তোমার অন্তর, মুখ ও শক্তি দিয়ে শরয়ী তরিকায় সাধ্য মতো) তাদের (মন্দ) কাজ-কারবারের বিরুদ্ধে থাকবে, (অন্যথায় তুমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে গণ্য হবে)’। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৮৬; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৪৭০; আয-যুহদ আল-কাবীর, বাইহাকী-২০৩]
# হযরত অাবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا طَغَى نِسَاؤُكُمْ ، وَفَسَقَ شَبَابُكُمْ ، وَتَرَكْتُمْ جِهَادَكُمْ ؟ قَالُوا : وَإِنَّ ذَلِكَ لَكَائِنٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَمْ تَأْمُرُوا بِالْمَعْرُوفِ ، وَلَمْ تَنْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ” ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَعْرُوفَ مُنْكَرًا ، وَرَأَيْتُمُ الْمُنْكَرَ مَعْرُوفًا ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : بِي حَلَفْت ، لأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً , يَصِيرُ الْحَلِيمُ فِيهِمْ حَيْرَانًا . أخرجه ابن أبي الدنيا في موسوعة رسائل: ٥/٥٨٨ رقم ٨٥ و في الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر , رقم الحديث : ٣٢ . الحافظ العراقي قال عنه إنه ضعيف الإسناد كما جاء في تخريجه لأحاديث الإحياء برقم ٢/٣٨٠ ; و اخرجه ايضا أبو يعلى مختصرا في مسنده: ١١/٣٠٤ رقم ٦٤٢٠ ; و الطبراني في المعجم الأوسط : ٩/١٢٩ رقم ٩٣٢٥ ; و ابن أبي حاتم في العلل : ٢/٤١٧ ; و أورده الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٢٨٠ ; و الالباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة : ١١/٣٤٣ – ‘তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন নারীরা ত্বাগুতীপনা (আল্লাদ্রোহিতা) করবে এবং কিশর’রা ফাসেকী (পাপ ও অপরাধমূলক) কাজ করবে, আর তোমরা তোমাদের জিহাদকে পরিত্যাগ করে বসবে! (উপস্থিত) সাহাবাগণ বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিক অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন তোমরা আমর বিল মা’রুফ (নেকির কাজের নির্দেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (বদ কাজের নিষেধ করার দায়িত্ব) পালন করবে না ! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে, যখন তোমরা সৎকাজকেই অসৎকাজর দৃষ্টিতে দেখবে এবং অসৎকাজকে সৎকাজের দৃষ্টিতে দেখবে! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতি শিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আমি শপথ করে বলছি, তাদেরকে এমন পরীক্ষায় ফেলে দিবো যে, সেসময়কার ধৈর্যশীল মানুষও দিশেহারা হয়ে যাবে। [মাউসুআত, ইবনে আবিদ্দুনিয়া- ৫/৫৮৮ হাদিস ৮৫; আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার, ইবনে আবিদ্দুনিয়া, হাদিস ৩৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/৩০৪ হাদিস ৬৪২০; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৯/১২৯ হাদিস ৯৩২৫; আল-ইলাল, ইবনু আবি হাতিম- ২/৩১৭; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৩/২৯৫ হাদিস ৪৮৮৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৮০]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ . أخرجه مسلم في المقدمة: ٧; مسند أبي يعلى الموصلي: ١١/٢٧٠٠ رقم ٦٣٨٤ إسناده صحيح ; صحيح ابن حبان: ١٥/١٦٩ رقم ٦٧٦٦ صححه شعيب; مسند أحمد: ١٤/١٩ و ١٤/٢٥٢ رقم ٨٢٦٧ و ٨٥٩٦ حسنه شعيب; مسند إسحاق بن راهويه: ١/٣٤٠ رقم ٣٣٢; المستدرك على الصحيحين للحاكم: ١/١٧٣ رقم ٣٥١; شرح السنة للبغوي: ١/٢٢٣ – ‘আখেরী জামানায় চরম-ধোকাবাজ ও চরম-মিথ্যুাবাদী’দের আবির্ভাব হবে। তারা তোমাদের (মুসলমানদের) সামনে এমনসব কথা/বিষয় নিয়ে আসবে -যা না তোমরা কখনো শুনেছো, না তোমাদের বাপ-দাদা-পূর্বপুরুষরা। (ওদের উপস্থাপিত কথা বা বিষয়গুলো হবে একেকটা পথভ্রষ্ঠতা ও ফিতনা’র আখড়া)। সুতরাং তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ঠও করতে না পারে, ফিতনা’য়ও য়েলতে না পারে। [সহিহ মুসলীম, মুকাদ্দমাহ – ৭; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/২৭০ হাদিস ৬২৮৪; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/১৬৯ হাদিস ৬৭৬৬; মুসনাদে আহমদ- ১৪/১৯, ১৪/২৫২ হাদিস ৮২৬৭, ৮৫৯৬; মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুওয়াই- ১/৩৪০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১৭৩ হাদিস ৩৫১; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ১/১২৩]
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ ، ثُمَّ تَكُونُ الْخَامِسَةُ ، دَهْمَاءُ مُجَلَّلَةٌ ، تَنْشِّقُ فِي الْأَرْضِ كَمَا يَنْشَّقُ الْمَاءُ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف: ١٤/٥٠ رقم ٣٨٢٤٤ , اسناده حسن كما جاء في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لغالب بن محمد مهدلي : ص ٣٠٣ رقم ١٨٦ – ‘(প্রথমে একটি) ফিতনা হবে। তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (দ্বিতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (তৃতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। [এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (চতুর্থ ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়।-অনুবাদক] এরপর পঞ্চম (আরেকটি ফিতনা) দেখা দিবে, (ফিতনাটি হবে) দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার); এই (ফিতনাটি) এমনভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, যেমনিভাবে পানি (উপর থেকে নিচের দিকে যেদিকে পথ পায় তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে) ছড়িয়ে পড়ে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ১৪/৫০, হাদিস ৩৮২৪৪]
ফায়দা: উপরের হাদিসে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ বলতে যে ফিতনা বোঝানো হয়েছে, তার চাইতে গাঢ় ও ঘন অন্ধকারময় ফিতনা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার)। [মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী– ৪/৩৩৭; আন-নিহায়া, ইবনুল আছির- ২/১৪৬; মিরক্বাতুল মাফাতিহ, আলী ক্বারী– ১০/৩৫, কিতাবুল ফিতান] আখেরী জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, এই ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -এর শেষ পর্যায়ে ইমাম মাহদী রা.আবির্ভূত হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। এরপর সবচেয়ে ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টি করতে আসবে তারপর দাজ্জাল। الله اعلم بالصواب
#হযরত উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ؟ قَالَ: ” هِيَ هَرَبٌ وَحَرْبٌ، ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ، دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي، وَلَيْسَ مِنِّي، وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ، ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ، ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ، لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطَمَتْهُ لَطْمَةً، فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ، تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ، فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ، وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ، فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ، مِنْ يَوْمِهِ، أَوْ مِنْ غَدِهِ “. سنن أبي داود – الفتن والملاحم: ٤٢٤٢; و الحاكم: ٤/٤٦٧ و قال: صحيح الإسناد”.ووافقه الذهبي; وأحمد: ٢/١٣٣; قال الألباني في “السلسلة الصحيحة: ٢/٧٠٢ – إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات رجال البخاري غير العلاء بن عتبة و هو صدوق –‘আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-কে বলতে শুনেছি: আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি ‘ফিতনা সমূহের কথা আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার বেশির ভাগই ছিল ফিতনা নিয়ে। একসময় তিনি ‘ফিতনায়ে আহলাস’ -এর কথা বললেন। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ‘ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি বললেন: ওটা হল পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা)। এরপর হবে ‘ফিতনায়ে সাররা’ যার ধোঁয়া আমার আহলে-বায়েতের এক ব্যাক্তির পায়ের নিচ থেকে বেড় হবে। সে দাবী করবে যে, সে আমার (আহলে-বায়েতের) একজন। কিন্তু সে আমার কেউ নয়। আমার বন্ধু হল শুধুমাত্র মুত্তাকিগণ। এরপর লোকজন (এমন) এক ব্যাক্তির উপর সংঘবদ্ধ হবে, যেন পাঁজর (rib)-এর উপর নিতম্ব-হাড় (hip-bone)। এরপর হবে ‘ফিতায়ে-দুহাইমা’ (ঘন কালো অন্ধকারময় ফিতনা) যার চপেটাঘাতের পর চপেটাঘাত থেকে এই উম্মতের কেউ মুক্ত থাকবে না। যখন বলা হবে: (ওমুক ফিতনা) শেষ হয়ে গেছে, (তখন দেখা যাবে যে, তা আরো) বেড়ে গেছে। সেসময় (অবস্থা এমন হবে যে,) কোনো লোক সকালে মুমিন থাকবে, আবার (কোনো ফিতনায় ইমান নষ্ট করে) সন্ধায় হবে কাফের। (এভাবে) একসময় তারা দুটি তাবুতে বিভক্ত হয়ে যাবে। (একটি হচ্ছে) ইমানী-তাবু যার মধ্যে কোনো মুনাফেকী থাকবে না এবং (আরেকটি হল) মুনাফেকী-তাবু যার মধ্যে কোনো ইমান থাকবে না। যখন এমনটা হবে, তখন তোমরা দাজ্জালের অপেক্ষায় থেকো -সেই দিন (থেকেই) বা তার পরের দিন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪২; মুসতাদরাকে হাকিম-৪/৪৬৭; মুসনাদে আহমদ-২/১৩৩; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৯২]
ফায়দা: ফিতনায়ে সাররা’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটা হল মুসলমানদের মাঝে স্বচ্ছলতা, অপ্রতুল ধ্বনসম্পদ ও পার্থিব আরাম-আয়েশী জীবন লাভ করার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তনের ফিতনা। অনেকের মতে, মূল্যবান সব খনিজ পদার্থ (যেমন: তেল, কয়লা, স্বর্ণ ইত্যাদি)র কল্যানে আরব জাহানে যখন চড়ম স্বচ্ছলতার মৌসুমের সূচনা হয়, সেটাই ছিল ‘ফিতনায়ে সাররা‘র গিজা/উপাদান, যার পরিণতিতে আজ আরব জাহান হয়ে গেছে -নারী, মদ ও মাদক, অশ্লীলতার মোহড়া, জেনা-ব্যাভিচার, ধোকা প্রতারনা বাটপারী, সূদ, জুয়া এবং ইরাক ও সিরিয়া সহ পৃথিবীতে মুসলমানের রক্ত নিয়ে ধুমিয়ে ব্যবসা করার কেন্দ্র।
হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে যে, এই ‘ফিতনায়ে সাররা’র ধোঁয়া বেড় হবে এক আহলে-বাইত (ফাতেমা রা.-এর বংশধর সাইয়্যেদ) -এর দাবীদারের পায়ের নিচ থেকে। বলা বাহুল্য, একটা আখেরী জামানার ছোট বা মাঝারী আলামত বলে কথা। সুতরাং, এই ব্যাক্তি নিছক সাধারণ কোনো মানুষ কেউ নয়, বরং অবশ্যই বেশ পরিচিত Figure হবে। এই শেষ জামানার সেরকম কোনো সাইয়্যেদ’ হওয়ার দাবীদারকে এই হাদিসের সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য থেকে হওয়ার দাবীদা কেউ কেউ মনে করেন: (১) শরীফ হোসাইন, যিনি একজন সাইয়্যেদ এবং ব্রিটিশদের সাহায্য নিয়েছিলেন তৎকালীন আরবের হিযাযে ‘ওসমানী খিলাফত’ বিলুপ্ত করার জন্য। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের খাসলত অনুযায়ী ‘ওসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের পর তাদের সাথে প্রতারণা করে, (২) আব্দুল্লাহ (সাবেক বাদশাহ, জর্ডান; শরীফ হোসাইন-এর পুত্র), যে একজন সাইয়্যেদ এবং দূর্ভাগ্যবসত: সে তুরষ্কের ওসমানী খিলাফত ধ্বংসের জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল এই আশ্বাসের বদৌলতে যে তাকে আরব, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদির প্রধান বানানো হবে। কিন্তু এক প্যালেস্টানী তাকে খোদ বায়তুল মাকদিসের ভিতরে খুন করে। (৩) হোসেইন (সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ’র পূত্র, জর্ডান), যে জায়োনিষ্ট ইসরাঈলদের সাথে হাত মেলায় এবং ৪০টিরও বেশি গোপন বৈঠকের কথা আল-জাজিরা’র ডকুমেন্টারীতে রয়েছে। (৪) সাদ্দাম হোসেন (সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইরাক), যে নিজকে সাইয়্যেদ বলে দাবী করতো। অবশ্য তার এই দাবী খোদ একটি ইরাকী সাইয়্যেদ প্রতিষ্ঠান দাপ্তরীকভাবে নাকোচ করে দেয়। এদের মধ্যে কোনো একজনের দিকে হাদিসে ইশারা করা হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আল্লাহ’ই ভাল জানেন।
আমার মতে, আমরা এখন ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র সময় অতিক্রম করছি। ইরাকের পর সিরিয়া’য় সাধারণ মুসলমানদের সাথে যা হচ্ছে তা এদিকেই ইঙ্গীত করে। সেখানে পুরুষ, নারী, শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, বোমা মেড়ে বাড়ি-ঘর তছনছ করে দেয়া হয়েছে, খাবার আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাচ্চাদের অনেকে ঘাস-পাতা চিবিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। আর আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশু, কিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে। (আল্লাহ রক্ষা করুন)
আমার ধারনা, ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র রেশ সামনে আগমনকারী গিয়ে ফিতনায়ে-দাহমা’ (যার আলোচনা নিচের হাদিসটিতে রয়েছে) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে। যেমন: ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ستكون بعدي فتن منها فتنة الأحلاس يكون فيها حرب وهرب ثم بعدها فتن أشد منها ثم تكون فتنة كلما قيل انقطعت تمادت حتى لا يبقى بيت إلا دخلته ولا مسلم إلا صكته حتى يخرج رجل من عترتي . رواه نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٥, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص٣٣ رقم ٩٣: اسناده ضعيف – ‘অচিরেই আমার পর ফিতনা সমূহ হবে। ওগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিতনায়ে-আহলাস। ওর মধ্যে পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা হবে)। এর পরে (যে) ফিতনা সমূহ হবে, (সেটা হবে) তার চেয়েও কঠিন (এক ফিতনা)। এরপর একটি ফিতনা হবে, যখন বলা হবে- ‘(যাক, ফিতনাটি) কেটে গেল, তখন সেটা আরো বেড়ে যাবে। এমনকি (এর ক্রমধারায় অবস্থা এমন হবে যে,) এমন কোনো ঘর থাকবে না যার ভিতরে তা প্রবেশ করবে না এবং এমন কোনো মুসলমান হবে না যাকে সে চপেটাঘাত করবে না। এমনকি (শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা খতম করার জন্য) আমার বংশধরের মধ্য থেকে একজন বেড় হবেন, (যিনি হলেন আল-মাহদী)’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৯৫]
বিভিন্ন হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পর ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) হবে এবং তাঁর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। সে সময় মুমিনগণের তাবুতে অবস্থানকারী মুসলমানদের আমীর/দলপ্রধান থাকবেন ইমাম মাহদী। আর বে-ইমানদের তাবুতে থাকা জনমানুষ হবে মূলতঃ ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া কাফের, মুশরেক ও খাঁটি মুনাফেকরা। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুমিনগণ তুরষ্কের ইস্তাম্বুলকে তৎকালীন কাফেরদের হাত থেকে মুক্ত করার পর দাজ্জাল বেড় হবে, যেমনটা উপরের হাদিসে ইংগীত রয়েছে । الله اعلم بالصواب
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ ثَلَاثُ فِتَنٍ , الرَّابِعَةُ تَسُوقُهُمْ إِلَى الدَّجَّالِ , الَّتِي تَرْمِي بِالنَّشْفِ ، وَالَّتِي تَرْمِي بِالرَّضْفِ , وَالْمُظْلِمَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف, كِتَابُ الْفِتَنِ: ١٤/١٦ رقم ٣٨١٢٨, و اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٥١ رقم ١٤١; و نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٢; أبو نعيم في حلية الأولياء: ٢/٢٧٣ – ‘তিনটি ফিতনা হবে। (তারপর) চতুর্থ (ফিতনা)টি (লোক জনকে) দাজ্জালের (ফিতনার) দিকে পৌছিয়ে দিবে। (প্রথম ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। (দ্বিতীয় ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা। (তৃতীয় ফিতনাটি হবে এমন ঘন কালো) অন্ধকারময় (এক ফিতনা), যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা– ১৪/১৬, হাদিস ৩৮১৬৮; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ৯২ ; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম– ২/২৭৩]
ফায়দা: এই রেওয়ায়েতের একটি ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুসলীম উম্মাহ’র উপর এই উল্লেখযোগ্য চারটি ফিতনা ঘটবে, যার প্রথম পর্যায়ে নাশফ্-এর ফিতনা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো কঠিন রাযফ্-এর ফিতনা, তারপর তৃতীয় পর্যায়ে আরো কঠিনতর অন্ধকারময় ফিতনা (যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে) এবং সর্বশেষে চতুর্থ পর্যায়ে দাজ্জাল-এর ফিতনা হবে।
তবে আরো কিছু রেওয়াতের দিকে তাকালে অনুমিত হয় যে, এই হাদিসে চারটি ফিতনা বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেকার ফিতনা উদ্দেশ্য নয়, বরং শেষ জামানায় ঘটা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে নিয়ে ‘দাজ্জাল’ পর্যন্ত সময়কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, একেকটি ভাগকে একেকটি ফিতনা বলা হয়েছে, যার শেষ ভাগে দাজ্জাল বেড় হবে। যেমন ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসেম রহ. (মৃ: ২২৪ হি:) নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন- أتتكم الدهيماء ترمي بالنشف ثم التي تليها ترمي بالرضف . رواه أبو عبيد القاسم بن سلام الهروي في غريب الحديث: ٢/٢٣٢ – তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। এর পরে আসবে রাযফ্ (অগ্নী শীলা)-এর নিক্ষেপন’। [গারিবুল হাদিস, ইমাম আবু উবায়েদ- ২/২৩২] এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয় যে, প্রথম পর্যায়ে ফিতনায়ে দুহাইমা হবে, তারপর নাশাফ (কালো পাথর) দিয়ে নিক্ষেপ, তারপর রাযাফ (অগ্নী শীলা) দিয়ে দিয়ে নিক্ষেপ করার মতো ফিতনা হবে।
এই মতের সমর্থন আসকারী রহ. (মৃ: ৩৮২ হি:)-এর আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়েত দ্বারা হয়, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বলা হয়েছে যে- اتَتْكُمُ الدُّهَيْمَاءُ ، قَالَهَا ثَلاثًا ، تَرْمِي بِالنَّشَفِ ، وَالثَّانِيَةُ : تَرْمِي بِالرَّضْفِ ، وَالثَّالِثَةُ : سَوْدَاءُ مُظْلِمَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، قَتْلاها قَتْلَى جَاهِلِيَّةٍ . خرجه العسكري في تصحيفات المحدثين: ص ٣٢٧ تحقيق: محمود أحمد ميرة ; و الدوري في ’تاريخ ابن معين، عن عمر بن راشد عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه: ١/٣٣٥ رقم ٢١٢٦, تحقيق: د. أحمد محمد نور سيف . – ‘তিনি ﷺ তিনবার বললেন: তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় বারে রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। তৃতীয়ত পর্যায়ে ঘন কালো অন্ধকার (রূপে এক ফিতনা আগমন করবে যা) কেয়ামত পর্যন্ত (সময়ের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান থাকবে। সে সময়) জাহেলিয়াতের হত্যার ন্যায় হত্যা (সংঘটিত) হবে’। [তাসহিকাতুল মুহাদ্দিসীন, আসকারী- ১/৩২৭; তারিখে ইবনে মুয়াইয়েন– ১/৩২৭] আমার কাছে এই শেষোক্ত ব্যাখ্যাটিই মনে ধরে এবং আমি মনে করি, এই চারটি ফিতনার শুরু হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে এবং এর রেশ ফিতনায়ে দাজ্জাল পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে।
রেওয়ায়েত গুলিতে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে تَرْمِي بِالنَّشَفِ – নাশফ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। النَّشْفُ (নাশফ্)-এর এক অর্থ কালো পাথড় যা দিয়ে হাম্মামে গা পরিষ্কার করা হয়। [তাজুল আরুস– ২৪/৪০৬, আল-ফায়েক- ১/৪২২] আমি অর্থ করেছি ‘কালো পাথড়’। আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে النَّشْفُ (নাশফ্ /কালো পাথড়) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো যুদ্ধাস্ত্রের বুলেট বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে যত্রতত্র বুলেটের গুলিতে মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশু রক্ত ঝড়ানোর মতো তুলনামূল ছোট ফিতনা শুরু হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ترمي بالرضف – রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। الرَّضْفُ (রাযফ্)-এর এক অর্থ আগুনে গরম/দগ্ধ হওয়া পাথর/শীল। আমি অর্থ করেছি অগ্নী শীলা। [আল-ফায়েক- ১/৪২২, ৪৮০] আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে الرَّضْفُ (রাযফ্/অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো মিসাইল জাতীয় অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে বুলেটের রেশ মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আরো কঠিন ফিতনার দিকে ঠেলে দিবে, যেখানে শুধু বুলেট নয়, সাথে আকাশ থেকে ড্রন ফাইটার প্লেন দিয়ে এবং পাতাল থেকে ট্যাঙ্ক ও কামান দিয়ে বোম-শেল, মিসাইল ইত্যাদি দিয়ে মুসলমানদের বাড়িঘর, কলকারখানা, হাসপাতাল সব ধ্বংস করে দেয়া হবে, লাশের পর লাশ পড়ে থাকবে ইত্যাদি।
বর্তমানকার ইরাক ও সিরিয়ায় যা হচ্ছে, তার শুরু কিভাবে হয়েছে এবং এখন কোন পর্যায় অতিক্রম করছে -তার ডকুমেন্টারীগুলোর সাথে শেষ জামানার বিভিন্ন হাদিসগুলোকে মিলিয়ে চিন্তা করে দেখুন, দেখবেন হাদিসগুলোর ইঙ্গিত এদিকেই করা হয়েছে বলে অনুমিত হয়। এটা শুধু আমার মত নয়, বিশ্বের বহু সচেতন আলেমে দ্বীন তা-ই মনে করেন। الله اعلم بالصواب
# অালী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- جُعِلَتْ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَمْسُ فِتَنٍ : فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ تَأْتِي الْفِتْنَةُ الْعَمْيَاءُ الصَّمَّاءُ الْمُطْبِقَةُ الَّتِي تَصِيرُ النَّاسُ فِيهَا كَالْأَنْعَامِ . رواه والحاكم في المستدرك على الصحيحين ,كتاب الفتن والملاحم: ٤/٦٠٢ رقم ٨٤١٧ و قال:هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ ، و وافقه الذهبي في “تلخيصه ; و عبد الرزاق في “مصنفه: ١١/٣٥٦ رقم ٢٠٧٣٣; – ‘এই উম্মতের মধ্যে পাঁচটি (উল্লেখযোগ্য) ফিতনা হবে: (১) আম/ব্যাপক ফিতনা, (২) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা, (৩) তারপর আম/ব্যাপক ফিতনা, (৪) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা। এরপর (পঞ্চম পর্যায়ে) আসবে বধিরতাপূর্ণ অন্ধকারময় আচ্ছন্নকারী (একটি) ফিতনা, যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন (গৃহপালিত) চতুষ্পদ প্রাণির মতো (অসহায় ও নির্বাক) হয়ে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬০২ হাদিস ৮৪১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৫২ হাদিস ২০৭৩৩]
ফায়দা: ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বা রহ. নিজ সনদে এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে চতুর্থ ফিতনা’র পর রয়েছে: ، ثُمَّ فِتْنَةً تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ ، يُصْبِحُ النَّاسُ فِيهَا كَالْبَهَائِمِ .رواه ابن أبي شيبة في “مصنفه: ١٥/٢٤ رقم ١٩٠٠٤, اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٦٩ رقم ١٥٥; و الحاكم: ٤/٤٣٧ – এরপর (পঞ্চম একটি) ফিতনা হবে, (যা) সাগরের (উত্তাল) ঢেউয়ে (অন্ধ ও বধিরের মতো কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া (র মতো এক আচ্ছন্নকারী ফিতনা), যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন গৃহপালিত জানোয়ারের মতো ভেসে বেড়াবে’ । [মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/২৪ হাদিস ১৯০০৪; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৩৪৭]
এখানে পঞ্চম ফিতনা বলতে সম্ভবতঃ ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -উভয় ফিতনাকে এক সাথে একই ফিতনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পঞ্চম ফিতনা’র প্রথম দিকটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং শেষ দিকটা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’, যা অধিকতর কঠিন হবে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب
# আবু হুরায়রাহ রা. রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ . رواه في سننه, كتاب الفتن والملاحم, باب ذكر الفتن ودلائلها: رقم ٤٢٤٩, اسناده صحيح كما في المرقاة : ١٠/٣٦ رقم ٥٤٠٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। যে ব্যক্তি (ওই ফিতনা থেকে) তার হাত’কে সরিয়ে রাখবে, সে সফলকাম হবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৩৪৪]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ يَنْقُصُ الْعِلْمُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ الْقَتْلُ . أخرجه أحمد في المسنده, باقي مسند المكثرين , مسند أبي هريرة رضي الله عنه : ٢/٥٣٦ ; قال حمزه احمد الزين : ٩/٦٠٦ رقم ١٠٨٦٨: اسناده صحيح ; و ابو يعلي في المسنده: ٥/٥٠٩ رقم ٦٦١٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। ইলমকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ব্যাপক ভাবে হারাজ হবে’। বলা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ! হারাজ কি’? বললেন: ‘কতল’। [মুসনাদে আহমদ- ২/৫৩৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা– ৫/৫০৯ হাদিস ৬৬১৪]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]
# আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . احمد في مسنده : ٢/٢١٢ , قال أحمد شاكر في تحقيقه : ٦/٣٢٩ رقم ٦٩٨٠ : إسناده صحيح ; رواه أبو داود ايضا في سننه , كتاب الفتن والملاحم , باب في كف اللسان : ٤/٤٦٠ رقم ٤٢٦٥ و قال رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ الأَعْجَمِ ، و الترمذي في سننه : ٢١٧٨ و ابن ماجه في سننه : ٣٩٦٧ – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো) নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]
ফায়দা: শেষ জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, আখেরী জামানায় আরবদের উপরে যে ফিতনা’টি আপতিত হওয়ার ইশারা রয়েছে, সেটাই হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’, যার মধ্যে ‘হারাজ’ (তথা মুসলীম উম্মাহ’র একে অপরের মধ্যে হত্যা) সংঘটিত হবে। এই শেষ জামানায় এসে গোটা পৃথিবী -বিশেষ করে ‘আরব জাহান’ তথা ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইয়ামেন, কাতার, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কুয়েত, মিশর, জরদান, লেবানন ও হাবশাভুক্ত আরব দেশগুলো এজাতীয় খুনাখুনির যে বিষবাষ্প বৃষ্টি করেছে, বহু বিজ্ঞ সচেতন আলেমের মতে এটা ফিতনায়ে দুহাইমা’র একটি উল্লেকযোগ্য অংশ। আমি এব্যাপারে সহমত পোষন করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এটাই সেই ফিথনা এবং এই ফিতনাটি’র রেশ সামনে আগমনকারী ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে, হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]
ফায়দা: আমার মতে, এই ‘হারাজ’ হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে ঘটে যাওয়া আরব জাহানে মুসলীম উম্মাহ’র পরষ্পরের মাঝে ব্যাপক হারে ঘটে যাওয়া সব খুনখারাবি গুলো। তবে অন্যান্য আরব-অনারব দেশগুলোতে যেসব দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও হাদিসে বর্ণিত হারজ-এর মধ্যে গণ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال علمها عند ربي لا يجليها لوقتها الا هو ولكن أخبركم بمشاريطها وما يكون بين يديها فتنة وهرجا قالوا يا رسول الله الفتنة قد عرفناها فالهرج ما هو قال بلسان الحبشة القتل ويلقى بين الناس التناكر فلا يكاد أحد أن يعرف أحدا .اخرجه الإمام أحمد: ٥/٣٨٩ ; قال الهيثمي في “مجمع الزوائد”: ٧/٣٠٩ – ورجاله رجال الصحيح – ‘(একবার) রাসুলুল্লাহ ﷺকে কেয়ামত সম্পর্ক জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন: এর জ্ঞান (শুধুমাত্র) আমার রবের কাছে আছে; তিনি ছাড়া এর সময়-ক্ষন প্রকাশ করে দেয়ার (দ্বিতীয়) কেউ নেই। তবে আমি তোমাদেরকে এর কিছু আলামত ও লক্ষনের খবর দিচ্ছি। এর আগে আগে (প্রকট অন্ধকারময়) ফিতনা এবং হারজ হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফিতনা (কী -তা)তো অামরা চিনে নিয়েছি, তবে এই ‘হারজ’টা কি? তিনি বললেন: হাবশী ভাষায় কতল (খুনাখুনি’কে বলা হয় হারজ), যা একে-অপরকে ঘৃনাকারী জনমানুষের মাঝে নিক্ষেপীত হবে। তখন (এমন হবে যে, তাদের) একজন আরেকজনের একেবারে কাছে গিয়েও তাকে চিনতে পারবে না (যে, সে তার মুসলীম ভাই বা বোন, যাদেরকে হত্যা করা হারাম। সে শুধু এতটুকু উপলব্ধি করবে যে, অমুক তার বিপক্ষবাদী, তাই তাকে হত্যা করতে হবে মনে করে হত্য করে ফেলবে)। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৯]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتَنٌ ، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ ، وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنْ السَّاعِي ، وَمَنْ يُشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ ، وَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب المناقب , بَابُ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ فِي الإِسْلَامِ : رقم ٣٦٠١ ، و مسلم في الصحيح : رقم ٢٨٨٦ – “শঘ্রিই (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা সমূহ হবে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। যে ব্যাক্তি (এর ভয়াবহতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে) ওর দিকে চোখ তুলে তাকাবে, সেটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। (সে জামানায়) যে ব্যাক্তি (কোনো) ঠিকানা (Refuge) কিংবা নিরাপদালয় পেয়ে যায়, সে যেন তাতে আশ্রয় নেয়”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০১; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৮৬]
# আবু বকরাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ : أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا . أَلَا ، فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ ، فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ ؟ قَالَ : يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ، ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ قَالَ : فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى يُنْطَلَقَ بِي إِلَى أَحَدِ الصَّفَّيْنِ ، أَوْ إِحْدَى الْفِئَتَيْنِ ، فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ ، أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي ؟ قَالَ : يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ ، وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٨٨٧ , وأبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم : رقم ٤٢٥٦ , و أحمد في مسنده : ٥/٤٨ , و رجالهما رجال الصحيح – “নিশ্চই অচিরেই (বেশ) কিছু ফিতনা হবে। শুনে রাখো, অত:পর (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা হবে। তাতে বসে থাকা ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং হেটে চলা ব্যাক্তি তার দিকে দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে’। সাবধান! যখন তা নাজিল হবে বা (বাস্তবে) ঘটবে, তখন যার (নিজের) উট থাকবে, সে যেন তার উটকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার ভেড়া থাকবে, সে যেন তার ভেড়াকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার জমি থাকবে, সে যেন তার জমিকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সে জামানায়) যার উট, ভেড়া, জমি (কিছুই) থাকবে না, তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন’? তিনি বললেন: ‘সে তার তরবারী (অস্ত্র)’র কাছে যাবে, তারপর সে সেটার ধারাল অংশকে পাথড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলবে। অত:পর সে যথাসম্ভব কোনো নিরপদস্থলে আশ্রয় নিবে। হে আল্লাহ, আমি কি (তোমার বার্তা আমার উম্মতের কাছে) পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছ ‘? তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি (ফিতনায় লিপ্ত দলগুলোকে) ঘৃনা করি, (কিন্তু) শেষ পর্যন্ত দু’ সারির কোনো এক সারিতে কিংবা দু’দলের কোনো একদলের দিকে আমাকে (জোর করে) টেনে নিয়ে যায়, তারপর আমাকে (তাদের) এক ব্যাক্তি তার তরবারী দিয়ে আঘাত করে কিংবা (কারোর নিক্ষেপিত) তীর (আমার দিকে ধেয়ে) আসে, ফলে সে আমাকে হত্যা করে ফেলে’? তিনি বললেন: ‘(এমতাবস্থায় যে তোমাকে হত্যা করবে), সে তার (নিজের) গোনাহ এবং তোমার (জীবনের কৃত) গোনাহ (উভয়টাই) বহন করবে এবং সে হবে দোযখের অধিবাসী”। [সহিহ মুসলীম– ৪/২২১২ হাদিস ২৮৮৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৬; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪৮; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩০৮ হাদিস ৩৯৫৮]
# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ، النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمُضْطَجِعِ، وَالْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَاعِدِ، وَالْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنِ الْقَائِمِ، وَالْقَائِمُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي، وَالْمَاشِي خَيْرٌ مِنَ الرَّاكِبُ، وَالرَّاكِبُ خَيْرٌ مِنَ الْمُجْرِي، قَتْلاهَا كُلُّهَا فِي النَّارِ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: ” ذَلِكَ أَيَّامَ الْهَرْجِ “، قُلْتُ: وَمَتَى أَيَّامُ الْهَرْجِ؟ قَالَ: ” حِينَ لا يَأْمَنُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ ” قَالَ: فَبِمَ تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ الزَّمَانَ؟ قَالَ: ” اكْفُفْ نَفْسَكَ وَيَدَكَ وَادْخُلْ دَارَكَ ” قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَيَّ دَارِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ بَيْتَكَ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَيَّ بَيْتِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ مَسْجِدَكَ، وَاصْنَعْ هَكَذَا ” فَأَتَى بِيَمِينِهِ عَلَى الْكُوعِ، وَقُلْ: ” رَبِّيَ اللَّهُ، حَتَّى تَمُوتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه عبد الرزاق في مصنفه:١١/٣٥٠ رقم ٢٠٧٢٧, و الحاكم فى المستدرك:٣/٣٩٣ رقم ٥٤٦٥ و وقال: “صحيح الإسناد ولم يخرجاه “، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة:١/٣٤ ; و أحمد في مسنده:١/٤٤٨ رقم٤٢٨٦, والطبراني فى المعجم الكبير:١٠/٩; الخطابي في العزلة: ١/١٨ رقم ١١ و قال العراقى: إسناده عند الخطابي انقطاع; و نعيم بن حماد فى الفتن: ص ٧٨; و ابن عساكر في تاريخ مدينة دمشق:٦٢/٣٣٦ رقم ١٢٨٥٥; صححه الألباني فى السلسلة الصحيحة: رقم ٣٢٥٤– ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, (সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এমন) ফিতনা হবে যে, (তাতে) ঘুমন্ত ব্যাক্তি (বিছানায় জেগে জেগে) শুয়ে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, শুয়ে থাকা ব্যাক্তি বসে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি আরোহীত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, আরোহী ব্যাক্তি (বাহনকে নিয়ে) চালিত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। (সেই ফিতনা’য়) কতল হওয়া প্রত্যেকেই দোযখে যাবে। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন: সেটা হবে হারজ-এর দিনগুলোতে। আমি জেজ্ঞেস করলাম: হারজ-এর দিনগুলো কখন হবে? তিনি বললেন: যখন একজন ব্যাক্তি তার পাশে বসা ব্যাক্তি থেকেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম: আমি যদি সেই জামানা পাই তাহলে আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি (যথাসম্ভব তোমার) নিজকে ও তোমার হাতকে (মানুষজনের বিষয়াবলি থেকে) বাঁচিয়ে রাখবে এবং তোমার বাড়িতে ঢুকে পড়বে (জরুরত ছাড়া বাড়ির সীমানার বাইরে বেড়ুবে না)। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! যদি কোনো ব্যাক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে তুমি তোমার ঘরে ঢুকে পড়বে। তিনি বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সে যদি আমার ঘরে ঢুকে পড়ে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে (তোমার ঘরের) নামাযের স্থানে ঢুকে পড়বে এবং এরকম করবে (-একথা বলে) তিনি তাঁর ডান হাতকে কব্জির উপর রাখলেন। আর বলবে: আল্লাহ আমার রব। (এটা করবে,) যাবত না এর উপরই তোমার মৃত্যু হয়। (তবুও প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে যাবে না)’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৫০ হাদিস ২০৭২৭; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৯২ হাদিস ৫৪৬৫; আল-উযলাহ, খাত্তাবী- ১/১৮ হাদিস ১১; মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১০/৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৭৮ পৃ:; তারিখে দামেশক, ইবনে আসাকীর- ৬২/৩৩৬ ক্র:নং ১২৮৫৫]
# খালেদ বিন উরফুতাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন– يَا خَالِدُ إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي أَحْدَاثٌ وَفِتَنٌ وَاخْتِلَافٌ فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ عَبْدَ اللَّهِ الْمَقْتُولَ لَا الْقَاتِلَ فَافْعَلْ . أخرجه أحمد في مسنده :٥/٢٩٢ ; و الحاكم في مستدركه : ٣/٢٨١ , ٤/٥١٧ وقال الألباني في إرواء الغليل ٨/١٠٤: سكت عنه الحاكم والذهبي، وعلي بن زيد هو ابن جدعان، سئ الحفظ لكن الأحاديث التي قبله تشهد له; و أخرجه ايضا الطبراني في المعجم الكبير: رقم ٤٠٩٩ ; قال الهيثمي: ٧/٣٠٢ : رواه احمد و البزار والطبراني و فيه علي بن زيد، وفيه ضعف، وهو حسن الحديث، وبقية رجاله ثقات – “হে খালেদ! নিশ্চই আমার পর অচিরেই নতুন নতুন বিষয়, ফিতনা সমূহ ও বিরোধ হবে। তখন যদি খুনী না হয়ে আল্লাহ’র এক মৃত বান্দা হওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই হয়ো, (তবুও মুসলমানের রক্তে নিজ হাতকে রঞ্জিত করো না)’। [মুসনাদে আহমদ- ৫/২৯২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/২৮১, ৪/৫১৭; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী ৪০৯৯; আল-আহাদ ওয়াল মাছনা, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৬৪৬; মা’রিফাতুস সাহাবাহ, আবু নুআইম, হাদিস ২৪৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০২; আদ-দুররুল মানসুর, সুয়ূতী- ২/৪৮৭]
# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ . أخرجه البخاري في الأدب المفرد : رقم ١١٨ ; و ذكره الديلمي في مسند الفردوس : ٣/١٦٨ ; إسناده جيد كما في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣١٨٥ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না -যাবৎ না কোনো ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে, তার ভাইকে এবং তার পিতাকে হত্যা করে ফেলে’। [আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী, হাদিস ১১৮; মুসনাদে ফিরদাউস, ইমাম দাইলামী- ৩/১৬৮]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَيِّ شَيْءٍ قَتَلَ، وَلَا يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ قُتِلَ . رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨; و الدانى فى السنن الواردة في الفتن وغوائلها والساعة وأشراطها: ٢٢٠ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, মানুষের উপর অবশ্যই এমন এক জামানা আসবে, যখন (এমনও হবে যে,) একজন খুনি জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ২২০]
ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই খুন বলতে ‘হারজ’ উদ্দেশ্য। অবশ্য পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও এই হাদিসের উদ্দেশ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا، حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ، وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: الْهَرْجُ، الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ. رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যাবৎ না মানুষের উপর এমন দিন আসে যে, একজন হত্যাকারী জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। তখন বলা হল: সেটা কিভাবে হবে? তিনি বললেন: হারজ (হবে। আর তাদের মধ্যে) হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮]
ফায়দা: ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন- بيَّنَ هذا الحديث أن القتال إذا كان على جهل من طلب دنيا ، أو اتباع هوى ، فهو الذي أريد بقوله : القاتل والمقتول في النار -এই হাদিসটি বলছে যে, যখন (কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক বিবেকপ্রসূত) মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিতিতে (কোনো) পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়, তখন সেটা (হয়ে দাঁড়ায় মানুষ হত্যাকান্ডের পাপ), যার দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ – ‘হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১৩/৩৪] যেমন: আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَكِلَاهُمَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِيلَ فَهَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب إذا التقى المسلمان بسيفيهما: ٤/٣١٧ رقم ٧٠٨٣ — ‘যখন (হত্যা করার উদ্দেশ্যে) দুজন মুসলমান তাদের তরবারী নিয়ে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়, তখন তাদের দুজনই দোযখের অধিবাসীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল: এটা-তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নিহত ব্যাক্তির উপর কেনো আরোপিত হল? তিনি বললেন: (কারণ) সেও ওই ব্যাক্তিকে হত্যা করার ইচ্ছায় ছিল’। [সহিহ বুখারী- ৪/৩১৭ হাদিস ৭০৮৩]
ইমাম নববী রহ. বলে- وأما كون القاتل والمقتول من أهل النار فمحمول على من لا تأويل له ، ويكون قتالهما عصبية ونحوها – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখবাসী হবে -এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের (হত্যাকান্ডটির স্বপক্ষে শরয়ীসম্মত কোনো) ব্যাখ্যা নেই, (বরং তারা কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক তাদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তেতি কোনো পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ডে জড়িত হয়)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের লড়াই বা হত্যাকান্ডটি হবে আসাবিয়াত (এলাকাপ্রীতি, জাতিপ্রীতি, গোত্রপ্রীতি) জাতীয় (পাপ)। [শারহু মুসলীম, নববী- ১৮/১৫]
এক কথায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল ﷺ-এর মাধ্যমে যে অবস্থায় যার সাথে যে শর্ত সাপেক্ষে জিহাদ/কিতাল করার কিংবা কাউকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা বাদে সকল প্রকার যুদ্ধ, দাঙ্গা, হত্যাকান্ডের প্রতিটি একেকটা ‘ফিতনা’ কিংবা ফ্যাসাদের অংশ বৈ নয়।
মুসলমানরা পরষ্পরে এরকম ফিতনা-ফ্যাদসাদে আজ জর্জরিত, আরব-অনারব কেউ বাকি নেই। কেউ হত্যাযজ্ঞে জড়িত হচ্ছে মানুষের রক্তের উপর বিজনেস করার জন্য, কেউ দেশ বা জাতিপ্রীতির জন্য, কেউ ইসলাম- বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য, আর কেউ-বা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরপরাধ মানুষের গলা কেটে মুজাহিদ সাজার জন্য, আর বুক ফুলিয়ে তাতে মাড়া যাওয়া লোকদেরকে বলছে ‘শহিদ’ !!!!
‘বুক ফুলিয়ে’ কথাটি এজন্য বললাম যে, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানের উপর সন্তুষ্ট এবং গৌরবাহ্নিত বোধ করে থাকে যে, তারা খুব ভাল কাজ করছে। কিন্তু আসলে শরীয়তের সহিহ ইলম না থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা যে অবস্থায় যার সাথে যেভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা খুন-খারাবি’তে লিপ্ত হওয়াকে বৈধ মনে করে বসে আছে, সে অবস্থায় ওসব কাজ আল্লাহ’র দৃষ্টিতে বৈধ নয়। উপরের হাদিসে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে- حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ – এমন কি (তখন) তোমাদের কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ. يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيْهَا مُؤْمِناً وَيُمْسِي كَافِراً. أَوْ يُمْسِي مُؤْمِناً وَيُصْبِحُ كَافِراً. يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا – ‘তোমরা আমলের ব্যাপারে যত্নবান হও। (কারণ তোমাদের সামনে) ফিতনা সমূহ হবে; (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। অথবা সন্ধা হবে মুমিন অবস্থায় এবং সকাল হবে কাফের অবস্থায়। সে দুনিয়ার (সামান্য) কোনো গরজে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১১৮; জামে’ তিরমিযী, হাদিস ২১৯৫; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/৯৬ হাদিস ৬৭০৪]
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ . رواه الترمذي, أبواب الفتن: حديث رقم ٢٢٦٠ , اسناده ضعيف و لكن هذا حديث صحيح لشواهده كما صححه الألباني في السلسلة الصحيحة: ٢/٦٨٢ رقم ٩٥٧; قال الحافظ : وقال الترمذي قاله البخاري مقارب الحديث كذا في تحفة الأحوذي – ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন একজন ধৈর্যশীল ব্যাক্তির পক্ষে তার দ্বীনের উপর (কায়েম হয়ে) থাকাটা জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখনেওয়ার মতো (মনে) হবে’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৬০]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; (এমন ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা সমূহ ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস– ৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]
ফায়দা: উপরে উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের হাদিসটি ইংগীত করে যে, এই অবস্থা হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে থাকা মুসলমানদের মধ্যে। সম্ভবতঃ কাফের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে তাদের উপর জেঁকে বসা অসহনীয় জুলুম-অত্যাচারের কারণে তারা কখনো মুমিন থাকবে আবার কখনো কাফের হয়ে যাবে। অাবার ইমান বিরোধী আক্বীদা গ্রহন করা কিংবা জাহালাত ও বিবেকশুন্য উগ্রতার জোসে আল্লাহ’র হারামকৃত মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও আব্রু’কে হালাল মনে করার কারণেও কাফের হয়ে যেতে পারে (যেমনটা ইমাম হাসান বসরী রহ. বলেছেন)।
আমার মতে, এই ফিতনাটি এখন বিশেষ করে সিরিয়ায় শুরু হয়ে গেছে। উপরে বলে এসেছি যে, সেখানে আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশু, কিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এত অত্যাচারের মাঝে ইমান কি করে তারা রক্ষা করবে? এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে, যেটাকে হাদিসে ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ বলা হয়েছে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب
# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ، وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ، وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ، فَإِنْ دُخِلَ – يَعْنِي – عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ، فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ . رواه أبو داود, كتاب الفتن والملاحم , باب في النهي عن السعي في الفتنة: رقم ٤٢٥٩ و صححه الألباني في “صحيح أبي داود: ٣/١١ ; و الترمذي: ٢٢٠٤ ; وابن ماجة: ٣٩٦١ صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة: رقم ٣٩٦١ – ‘নিশ্চই কেয়ামতের আগে আগে (এমন) ফিতনা সমূহ হবে, যেন রাতের (ঘনকালো) অন্ধকারের টুকড়া। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। আবার সন্ধায় মু’মিন থাকলে সকালে হয়ে যাবে কাফের। (তখন) বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙ্গে ফেলো, ধনুকের তারটিকে কেটে দিও এবং তোমাদের তরবারীকে পাথড় দিয়ে নষ্ট করে ফেলো। তখন কেউ যদি প্রবেশ করে -অর্থাৎ তোমাদের কারো কাছে আসে- তাহলে অবশ্যই আদমের দুই পুত্রের মধ্যে সর্বোত্তম জনের মতো হয়ে যেও’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৯; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬১]
# সা’দ বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ . رواه البخاري في صحيحه, كتاب الفتن. باب التعرب في الفتنة. رقم ٧٠٨٨; و النسائي: ٥٠٣٦; و ابن ماجة: ٣٩٨٠; و مالك في موطأ: ١٨١١; أحمد: ١٠٨٦١ – ‘অচিরেই (এমন জামানা আসবে) যে, (তখন দ্বীন নিয়ে মানব সমাজে বসবাস করা অনেক দ্বীনদার মুসলমানরে জন্য আগুনের কয়লা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখার মতো সুকঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তখন) মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ হবে (তার) বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের উঁচু স্থানে চলে যাবে এবং (বেঁচে থাকার মতো দানা) পানির ব্যবস্থা থাকা। সে (ধেয়ে আসা ঘন কালো অন্ধকারময়) ফিতনা সমূহ থেকে (বাঁচার জন্য) তার দ্বীনকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০৮৮; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫০৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৮০; মুআত্তা, ইমাম মালেক, হাদিস ১৮১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১০৮৬১]
ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র তাহক্বিক/গবেষনা মতে, বিংশ শতকে বসে আমরা ইরাক ও সিরিয়ায় সর্বজন ঘৃনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস/দায়েশদ’দের দ্বারা যে ‘হারাজ’ ও ফিতনা হতে দেখছি, সেটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র প্রথম বা মাঝামাঝি পর্যায়। ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র শেষ ভাগের শুরুতে যখন মুসলমান নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে পাইকারী হারে কতল করা শুরু হবে, সম্ভবতঃ তখন মুমিন মুসলমানদের মধ্যে যারা দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে পাহাড়ের পাড়ে বা গুহায় কিংবা গুপ্ত কোনো আশ্রয়ে যেতে সমর্থ হবে, তাদের কথা বলা হচ্ছে।
ইমাম আবু সুলইমান খাত্তাবী রহ. (মৃ: ২৮৮ হি:) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجُشَمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ , قَالَ : حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لا يَسْلَمُ لِذِي دِينٍ دِينُهُ إِلا مَنْ فَرَّ بِدِينِهِ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَى قَرْيَةٍ , وَمِنْ شَاهِقٍ إِلَى شَاهِقٍ , وَمِنْ جُحْرٍ إِلَى جُحْرٍ كَالثَّعْلَبِ الَّذِي يَرُوغُ ” , قَالُوا : وَمَتَى ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : إِذَا لَمْ تُنَلِ الْمَعِيشَةُ إِلا بِمَعَاصِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ , فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ حَلَّتِ الْعُزُوبَةُ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَقَدْ أَمَرْتَنَا بِالتَّزَوُّجِ ؟ قَالَ : ” لأَنَّهُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ كَانَ هَلاكُ الرَّجُلِ عَلَى يَدَيْ أَبَوَيْهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَبَوَانِ فَعَلَى يَدَيْ زَوْجَتِهِ وَوَلَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ زَوْجَةٌ وَلا وَلَدٌ فَعَلَى يَدَيْ قَرَابَتِهِ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” يُعَيِّرُونَهُ بِضِيقِ الْمَعِيشَةِ فَيَتَكَلَّفُ مَا لا يُطِيقُ حَتَّى يُورِدَهُ مَوَارِدَ الْهَلَكَةِ . رواه أبو سليمان الخطابي فى العزلة, بَابُ : مَا جَاءَ فِي الْعُزْلَةِ:١/١٠ رقم ٩; قال الحافظ العراقي في “تخريج أحاديث الإحياء: ١/٣٧١ : ذكره الخطابي في “العزلة” من حديث ابن مسعود، والبيهقي في “الزهد” نحو من حديث أبي هريرة وكلاهما ضعيف – ‘অবশ্যই মানুষের উপর (এমন একটি) জামানা আসবে, (যখন বদদ্বীনীর কারণে দ্বীন মতো চলা এত কঠিন হয়ে যাবে যে), দ্বীনদার ব্যাক্তির জন্য তার দ্বীনকে নিয়ে শিয়ালের কৌশলে পালানোর ন্যায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক চুড়া থেকে অন্য চুড়া’য় এবং এক পাহাড়ী-গুহা থেকে অন্য পাহাড়ী-গুহা’য় পালিয়ে ফেরা ছাড়া (কেউ তার দ্বীনকে) নিরাপদে রাখতে পারবে না। জিজ্ঞেস করা হল: সেটা কখন হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: যখন (উপার্জনের উপায়-উপকরণের মধ্যে নাজায়েয বিষয় এত ব্যপকভাবে জড়িত থাকবে যে, তখন) আল্লাহ তাআলা’র (অসন্তুষ্টি ও) ক্রধ ব্যতীত আয়-রোজগার করা যাবে না। যখন এরকম জামানা হবে, তখন অবিবাহীত থাকাকে হালাল করে নিবে। বলা হল: সেটা কেমন করে হতে পারে -ইয়া রাসুলাল্লাহ, অথচ আপনি আমাদেরকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন!? তিনি বললেন: কারণ, যখন সেই জামানাটি আসবে, তখন পুরুষ তার পিতা-মাতার হাতে বরবাদ হয়ে যাবে। যদি সে তার পিতা-মাতার হাতে (বরবাদ) না হয়, তাহলে সে তার স্ত্রী ও সন্তানের হাতে (বরবাদ হবে)। যদি তার স্ত্রীর হাতেও না হয়, সন্তানের হাতে না হয়, তাহলে সে তার আত্বীয়-স্বজনের হাতে (বরবাদ হবে)। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (সেটা) কেমন করে হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ বললেন: তারা তাকে (সামাজিকতার খাতিরে ভাল মানের) আয়-রোজগার করার জন্য কঠর পরিশ্রম করতে জোড়াজুড়ি করতে থাকবে, পরে তারা তার উপর (এমন মানুষিক ও সামাজিক) বোঝা চাপিয়ে দিবে, যা সে ধারন করতে পারবে না। অবশেষে সে (অর্থকড়ি উপার্জনের জন্য নাজায়েয ও) বরবাদীর উপকরনাদির দিকে ধাবিত হবে’। [আল-উযলাহ, ইমাম খাত্তাবী– ১/১০ হাদিস ৯; আল-যুহদুল কাবীর, বাইহাকী, হাদিস ৪৪৫] الله اعلم بالصواب
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَ مِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ . رواه أبو داود في سننه, كتاب الفتن والملاحم: رقم ٤٢٤٣, اسناده ضعيف كما في المشكاة لالالبانى: رقم ٥٣٩٣ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমি জানি না আমার সাথিগণ ভুলে গেছেন নাকি (জামানার নাজুকতার কারণে) ভুলে যাওয়ার ভান করে আছেন। আল্লাহ’র কসম, রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমাদেরকে) একজন ফিতনা-প্রতিষ্ঠাতা -যার সাথে থাকবে তিন’শ জনের কিছু বেশি লোক – (তার কথা থেকে নিয়ে) কেয়ামত ধ্বংস হয়ে যাওয়া পর্যন্ত (উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু বলা) বাদ রাখেন নি। শুধু তাই নয়, তিনি আমাদের কাছে তার নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নামও বলে গেছেন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৩]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: حدثنا عبد الخالق بن يزيد الدمشقي عن أبيه عن مكحول عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال: ما من صاحب فتنة يبلغون ثلثمائة إنسان إلا ولو شئت أن أسميه باسمه واسم أبيه ومسكنه إلى يوم القيامة كل ذلك مما علمنيه رسول الله صلى الله عليه و سلم .قالوا بأعيانها قال أو أشباهها يعرفها الفقهاء أو قال العلماء إنكم كنتم تسألون رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الخير وأسأله عن الشر وتسألونه عما كان وأسأله عما يكون . اخرجه نعيم بن حماد المروزي فى الفتن: رقم ١٨, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٦: و عبد الخالق بن زيد الدمشقى: لين الحديث. قال البخارى: منكر الحديث. و قال النسائى: ليس بثقة – ‘সাহেবুল-ফিতান (ফিতনার ধারক-বাহক) -কেয়ামত পর্যন্ত যাদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন’শ জনে -তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, আমি চাইলে যাদের প্রত্যেকের নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নাম বলে দিতে না পারি’। এর সবই রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে জানিয়েছেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (তাদের পরিচয়গুলি কি) একদম স্পষ্ট (যে, যে কেউ তাদেরকে চিনে নিতে পারবে)? তিনি বললেন: (না,) বরং (তাদের পরিচয়গুলো এমন ভাবে জানানো হয়েছে, যা) সাদৃশ্যপূর্ণ; ফকিহগণ (তথা দ্বীনের গভীর জ্ঞানীগণ) অথবা বলেছেন, আলেমগণ তাদেরকে চিনে নিতে পারবেন। তোমরা এমন ছিলে যে, তোমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেতে কল্যান সম্পর্কে, আর অামি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেতে বর্তমান সম্পর্কে, আর অামি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম -সামনে কি হবে -সে সম্পর্কে। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১৮]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করতে শুনেছি- حدثنا عبد القدوس عن عفير بن معدان قال : حدثنا قتادة قال: قال حذيفة: سمعت رسول اللّه صلّى اللّه عليه و سلّم يقول: ليخرجن من أمتى ثلاث مائة رجل معهم ثلاث مائة راية يعرفون و تعرف قبائلهم يبتغون وجه اللّه يقتلون على الضلالة . رواه نعيم بن حماد في الفتن: رقم ٢٠ , قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٧: إسناده منقطع أورده الهندى فى الكنز٣١١٥٤ و نسبه لنعيم فى الفتن. فيه: قتادة لم يسمع من حذيفة رضى اللّه عنه ; و اورده المتقي في كنز العمال”:١١/٢٧٥ رقم ٣١١٥٤ و قال وفيه عبد القدوس متروك – ‘ অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন তিন’শ জন ব্যাক্তির আবির্ভাব হবে, যাদের (সবার) সাথে (একটি করে মোট) তিন’শটি পতাকা থাকবে। তারা হবে (সমাজে) পরিচিতমুখ। তাদের এলাকাগুলো চেনাজানা হবে। তারা (তাদের কাজ দিয়ে) আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অন্বেসন করবে, (কিন্তু বাস্তবে) তারা পথভ্রষ্ঠতার উপর নিহত হবে।’। [অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ২০; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৭৫ হাদিস ৩১১৫৪]
ফায়দা: এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয়, এরা মুসলীম উম্মাহ’র মধ্যে তিন’শ জন ব্যাক্তি, যারা তাদের নিজ নিজ জামানায় গোটা উম্মাহকে নিয়ে এক পতাকার নিচে না থেকে উম্মাহকে ভিন্ন ভিন্ন পতাকা তলে বিভক্ত করে নিবে। এদের এসব কাজের পিছনে নিয়ত থাকবে আবার আল্লাহকে খুশি করা! কিন্তু তারা সবাই কারো না কারো হাতে নিহত হবে এবং তাদের মৃত্যু হবে পথভ্রষ্ঠতার উপর। الله اعلم بالصواب
# হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ ، يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ . رواه مسلم, كِتَاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ , بَاب فِي الْفِتْنَةِ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ: ٨/١٧٣ – ‘মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হবে তার পরিবারের ব্যাপারে, তার ধ্বসম্পদের ব্যাপারে, তার নিজের ব্যাপারে, তার সন্তানের ব্যাপারে এবং তার প্রতিবেশির ব্যাপারে। তার রোযা, নামায, যাকাত/সাদাকাহ এবং আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার এসবের কাফফারা হয়ে যাবে’। [সহিহ মুসলীম– ৮/১৭৩]
# আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- : إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى خَيْرِ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ ، وَيُنْذِرَهُمْ شَرَّ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ ، وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا ، وَسَيُصِيبُ آخِرَهَا بَلَاءٌ ، وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا ، وَتَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا ، وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ : هَذِهِ مُهْلِكَتِي ، ثُمَّ تَنْكَشِفُ وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ ، فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ : هَذِهِ هَذِهِ ، فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ ، وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ ، فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ ، وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ ، وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ ، فَلْيُطِعْهُ إِنِ اسْتَطَاعَ ، فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الإمارة , بَابُ بَابُ الْأَمْرِ بالْوَفَاءِ بِبَيْعَةِ الْخُلَفَاءِ ، الْأَوَّلِ فَالْأَوَّلِ : ٣/١٤٧٢ رقم ١٨٤٤، و النسائى في سننه : ٧/١٥٣ رقم ٤١٩١ ، و ابن ماجه في سننه : ٢/١٣٠٦ رقم ٣٩٥٦ ، و أحمد في مسنده : ٢/١٩١ رقم ٦٧٩٣ – “আমার পূর্বে এমন কোনো নবী ছিলেন না, যাঁর উপরে এই হক্ব (দায়দায়িত্ব) না ছিল যে, তিনি (ওহী সূত্রে) যা কিছু তাঁর উম্মতের জন্য কল্যানকর বলে জানতে পারবেন, তা তাদের কাছে উপস্থাপন করবেন এবং যা কিছু তাদের জন্য অকল্যানকর বলে জানতে পারবেন, তিনি (সে ব্যাপারে) তাদেরকে সতর্ক করবেন। আর তোমাদের এই উম্মত(-ই মুহাম্মাদী)কে আফিয়াতের (দ্বীনী নিরাপত্তার) সাথে রাখা রয়েছে এর শুরুর অংশে। আর অচিরেই এর শেষের অংশটি (বিভিন্ন প্রকারের ফিতনা ও) বালা-মুসিবত এবং এমনসব বিষয়াদির সম্মুখীন হবে, যা তোমরা অপছন্দ করবে। (পথভ্রষ্ঠকারী বিভিন্ন) ফিতনা আসবে, যার একটার কাছে অপরটিকে লঘুতর (মনে) হবে। (একটা) ফিতনা আসবে, তখন মুমিন বলবে: ‘এ(ফিতনা)টি আমাকে বরবাদ করে ফেলছে’। পরে সেটা দূর হয়ে যাবে। (তারপর আবার নতুন আরো ভয়াবহ একটা) ফিতনা আসবে, তখন মুমিন বলবে: ‘এটাই! এটাই! (আমাকে বরবাদ করে ফেলছে)’। সুতরাং, যে ব্যাক্তি দোযখ থেকে দূরে থাকতে এবং বেহেশতে প্রবেশ করাকে মহব্বত করে, সে যেন অবশ্যই আল্লাহ’তে ও আখেরাতে ইমান নিয়ে মৃত্যু বরন করে, সে যেন অবশ্যই মানুষের কাছে এমন ভাবে পেশ হয়, যেভাবে তার নিজের কাছে কারোর পেশ হওয়াকে সে ভালবাসে”। [সহিহ মুসলীম- ৩/১৪৭২ হাদিস ১৮৪৪; সুনানে নাসায়ী- ৭/১৫৩ হাদিস ৪১৯১; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩০৬ হাদিস ৩৯৫৬; মুসনাদে আহমদ- ২/১৯১ হাদিস ৬৭৯৩]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ السَّاعَةِ وَمَا بِي إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَرَّ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يُحَدِّثْهُ غَيْرِي وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ يُحَدِّثُ مَجْلِسًا أَنَا فِيهِ عَنْ الْفِتَنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَعُدُّ الْفِتَنَ مِنْهُنَّ ثَلَاثٌ لَا يَكَدْنَ يَذَرْنَ شَيْئًا وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ مِنْهَا صِغَارٌ وَمِنْهَا كِبَارٌ قَالَ حُذَيْفَةُ فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطُ كُلُّهُمْ غَيْرِي . رواه مسلم , كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب إخبار النبي صلى الله عليه وسلم فيما يكون إلى قيام الساعة: رقم ٢٨٩١ ; و ابن حبان في صحيحه: ١٥/٦ رقم ٦٦٣٧ و اسناده جيد; و احمد: ١٦/٦٣٣ رقم ٢٣٣٥٢ و اسناده صحيح; الداني في السنن الواردة: ٣١; ابن منده في الإيمان: ٢/٩١٢ رقم ٩٩٧ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমার এবং কেয়ামতের মাঝে ঘটবে -এমন প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে লোকজনের মধ্যে আমারই অধিক জানাশোনা আছে। তা এজন্য নয় যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে গোপনে এব্যাপারে এমন কিছু বলে গেছেন যা আর কারো কাছে বলেননি। বরং (তা এই জন্য যে), রাসুলুল্লাহ ﷺ মজলিসে বসে ফিতনা সমূহের কথা বলেছেন আর (তখন সৌভাগ্যক্রমে) আমি সেখানে (উপস্থিত) ছিলাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ অনেক ফিতনা’র কথা বলেছেন। ওগুলোর মধ্যে তিনটি ফিতনা (এখনো) প্রকাশ হয়নি বললেই চলে, (বরং পরে ভাল মতো প্রকাশ পাবে)। (আলোচিত) ফিতনাগুলোর মধ্যে শুষ্ক বাতাস, ছোট ফিতনা ও বড় ফিতনা’র মতো কথাও ছিল। হুযাইফা রা. বলেন: (আমার) সেই সাথিদের মধ্যে আমি ছাড়া সকলে (দুনিয়া ছেড়ে) বিদায় নিয়ে গেছেন’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৯১; সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৬ হাদিস ৬৬৩৭; মুসনাদে আহমদ- ১৬/৬৩৩ হাদিস ২৩৩৫২; আল-ইমান, ইবনে মানদাহ-২/৯১২ হাদিস ৯৯৭; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৩১]
# উম্মে সালমাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَزِعًا ، يَقُولُ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، مَاذَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الخَزَائِنِ ، وَمَاذَا أُنْزِلَ مِنَ الفِتَنِ ، مَنْ يُوقِظُ صَوَاحِبَ الحُجُرَاتِ ، يُرِيدُ أَزْوَاجَهُ لِكَيْ يُصَلِّينَ ، رُبَّ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِي الآخِرَةِ . رواه البخاري في صحيحه , كتاب الفتن, باب لا يأتي زمان إلا الذي بعده شر منه : رقم ٧٠٦٩ و ١١٥، و والبغوي في شرح السنة : ٩٢١ – “(একবার এক) রাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ ভীতসন্ত্রস্ত হেয় (ঘুম থেকে জেগে) উঠলেন। তিনি বললেন: ‘সুবহানাল্লহ! (আমি আজ স্বপ্নে আমার উম্মতের উপরে ভবিষ্যতে আগত কত ভয়ঙ্কর সব বিষয় দেখলাম)! আল্লাহ (এই পৃথিবীতে) কত খাজানাই না নাজিল করলেন এবং কত ফিতনাই না নাজিল হল। কে (আছে, যে আমার) হুজরাবাসীদেরকে জাগাবে, যাতে তারা (উঠে তাহাজ্জদের) নামায আদায় করে (এবং আল্লাহ’র কাছে ফিতনা ও দোযখ থেকে মুক্তি কামনা করতে পারে)’? (একথার দ্বারা) তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর স্ত্রীগণ। (তিঁনি আরো বললেন:) ‘দুনিয়ায় (বহু) পোশাক পরিহিত (নারী পুরুষ) আখেরাতে উলঙ্গ থাকবে”। [সহিহ বুখারী– ৪/৩১৫ হাদিস ৭০৬৯; সুনানে তিরমিযী- ৪/৪২২ হাদিস ২১৯৬; মুআত্তা ইমাম মালেক- ২/৯১৩ হাদিস ৮; শারহুস সুন্নাহ, ইমাম বগভী, হাদিস ৯২১]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَعْلَمَ أَصَابَتْهُ الْفِتْنَةُ أَمْ لَا، فَلْيَنْظُرْ فَإِنْ كَانَ رَأَى حَلَالًا كَانَ يَرَاهُ حَرَامًا فَقَدْ أَصَابَتْهُ الْفِتْنَةُ، وَإِنْ كَانَ يَرَى حَرَامًا كَانَ يَرَاهُ حَلَالًا فَقَدْ أَصَابَتْهُ . رواه الحاكم في المستدرك : ٤/٥١٤ رقم ٨٤٤٣ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد على شرط الشيخين، ولم يخرجاه ، و وافقه الذهبي في تلخيصه , كذا في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ١/٢٤ – “যখন তোমাদের কেউ (এই) কামনা করে যে, সে ফিতনায় লিপ্ত আছে কী নেই -তা জানবে, তখন তার অবশ্যই (একটি বিষয় খেয়াল করে) দেখতে হবে। যদি (ইসলামী শরীয়তে সুস্পষ্ট ভাবে) কোনো কিছু হালাল হয়ে থাকে, অথচ সে সেটাকে হারাম বলে মনে করে, তাহলে (বুঝে নিতে হবে) সে ফিতনায় লিপ্ত হয়ে গেছে। আর যদি (শরীয়তে সুস্পষ্ট ভাবে) কোনো কিছু হারাম হয়ে থাকে, অথচ সে সেটাকে হালাল বলে মনে করে, তাহলে(ও বুঝে নিতে হবে) সে (ফিতনায়) লিপ্ত হয়ে গেছে”। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৫১৪ হাদিস ৮৪৪৩; জামেউল জাওয়ামি, ইমাম সুয়ূতী- ১৪/৩০৩ হাদিস ১০৭১৫]
# হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ ، يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ . رواه مسلم, كِتَاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ , بَاب فِي الْفِتْنَةِ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ: ٨/١٧٣ – ‘মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হবে তার পরিবারের ব্যাপারে, তার ধ্বসম্পদের ব্যাপারে, তার নিজের ব্যাপারে, তার সন্তানের ব্যাপারে এবং তার প্রতিবেশির ব্যাপারে। তার রোযা, নামায, যাকাত/সাদাকাহ এবং আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার এসবের কাফফারা হয়ে যাবে’। [সহিহ মুসলীম– ৮/১৭৩]
ফায়দা: এখানে ইমানদার মুসলমানদের কথা বলা হয়েছে, যারা ফিতনার মধ্যেও ইমান হারা হবে না, তবে বিভিন্ন সময়ে ফিতনার ভিতরে থাকার কারণে যে সকল সগীরাহ গোনাহ হয়ে যাবে, তা উপরের আমলগুলির দ্বারা কাফফারা হয়ে যাবে। তবে কবীরাহ গোনাহ, দেনা-ঋণ, হক্কুল ইবাদ (বান্দার হক্ব) ইত্যাদির বোঝা থেকে মুক্তি পেতে শরয়ী নিয়ম মতো তওবা শর্ত। الله اعلم بالصواب
# উবাদাহ বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إنها ستكون فتن لا يستطيع المؤمن أن يغير فيها بيد و لا بلسان . فقال علي بن أبي طالب : يا رسول الله ، هل ينقص ذلك من إيمانهم ؟ قال : لا ، إلا كما ينقص القطر من السقاء . قال : و لم ذلك ؟ قال : يكرهونه بقلوبهم . رواه الطبراني في المعجم الأوسط : ٦/١٨٩ رقم ٦١٥٣ ، و قال الهيثمي : ٧/٢٧٥ : رواه الطبراني في الكبير والأوسط ، وفيه طلحة بن زيد القرشي وهو ضعيف جدا ; اخرجه الداني في السنن الواردة في الفتن من طريق اخر عن الأوزاعي عن عمير بن هانىء مرفوعا مرسلا – “অচিরেই (আমার উম্মতের উপরে বিভিন্ন) ফিতনা সমূহ হবে। সে সময় (কোনো) মুমিন (সমাজে শরীয়ত বিরোধী কোনো কিছুকে দেখেও) তা না তার হাত দ্বারা পরিবর্তন করার সামর্থ রাখবে, আর না জবান দ্বারা’। আলী বিন আবি ত্বালেব রা. জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! ও(ই ফিতনা)টা কি তাদের ইমানের কিছু ঘাটতি আনবে’? তিনি বললেন: ‘না। (তেমনটা ঘাটতি নয়। জামানার তোড়ের মুখে) শুধু (এতটুকু ঘাটতি হবে) যেমনটা পানপাত্রে পানির একটা ফোটা কমে যায়। আলী রা. বললেন: ‘(ইয়া রাসুলাল্লাহ!) তা কেনো হবে?’। তিনি বললেন: ‘তারা (তাদের হাত ও জবান দ্বারা সেসব ফিতনা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখবে না বটে, তবে) তাদের অন্তর দিয়ে (হলেও ওসব শরীয়ত বিরোধী বিষয় গুলিকে) ঘৃনা করবে”। [আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৬/১৮৯ হাদিস ৬১৫৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৭৫; কানজুল উম্মাল– ৬/১২৫]
ফায়দা: বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিস থেকে বোঝা যায়, শরীয়ত যে যে ক্ষেত্রে মুসলমানদের কাছ থেকে তাদের হাত, জবান এবং অন্তর -এই তিনটির সব কটিকেই ব্যবহার করে কোনো মুনকার (তথা শরীয়ত বিরোধী কোনো কিছু)কে পরিবর্তন করার দাবী জানায়, সেই সেই ক্ষেত্রে যে ক্ষমতাবান সামর্থবান মুসলমান তার হাত/ক্ষমতা দ্বারা তা পরিবর্তনের যথাসম্ভব চেষ্টা করে, সে ১ম শ্রেনির মুমিন। আর যে মুসলমান তার হাত/ক্ষমতা দ্বারা তা পরিবর্তন করার শরয়ী সামর্থ থাকা সত্ত্বেও সেই হক্ব আদায় না করে শুধু তার জবান দ্বারা তা পরিবর্তনের যথাসম্ভব চেষ্টা করে সে ২য় শ্রেণির মুমিন। আর যে মুসলমান তার হাত/ক্ষমতা এবং জবান দ্বারা তা পরিবর্তন করার শরয়ী সামর্থ থাকা সত্ত্বেও সেই হক্ব আদায় না করে শুধু তার অন্তর দ্বারা তা ঘৃনা করে, সে ৩য় শ্রেণির মুমিন। উপরের এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয়, এখানে উল্লেখিত ফিতনার জামানায় বিদ্যমান ১ম শ্রেণির মুমিনের কথাই বলা হচ্ছে, যে মুমিনরা সেই জামানায় বাস্তবে তাদের হাত, জবান এবং অন্তর -এই তিনটির সব কটিকেই ব্যবহার করার শরয়ী সামর্থ থাকলে তারা তার হক্ব আদায়ের যথাসম্ভব চেষ্টা করতো। কিন্তু বাস্তবে তখন তাদের হাত/ক্ষমতা ও জবান চালানোর শরয়ী সামর্থই থাকবে না, শুধু থাকবে অন্তর দিয়ে ঘৃনা করার ক্ষমতা এবং তারা সমাজের মুনকার’গুলোকে অন্তত: অন্তর দ্বারা ঘৃনা করতে থাকবে। এজন্য তারা ১ম শ্রেণির মুমিন হিসেবেই গণ্য হবে -ইনশাআল্লাহ, কারণ তাদের যতটুকু শরয়ী সামর্থ ছিল তারা ততটুকু আদায় করছে। যদি সেই জামানায় তাদের হাত ও জবান দ্বারা উক্ত মুনকার’গুলিকে পরিবর্তন করার শরয়ী সামর্থ থাকতো, এবং তা সত্ত্বেও তারা সেই হক্ব আদায় না করে শুধু অন্তর দ্বারা ঘৃনা করার হক্ব আদায় করতো, তাহলে তারা ৩য় শ্রেণির মুমিন হিসেবে গণ্য হত। সম্ভবত: এজন্যই এই হাদিসে ইংগীত রয়েছে যে, তাদের ইমানের ঘাটতি হবে না, তবে এতটুকু ঘাটতি হবে যেমনটা পানপাত্রের পানির এক ফোটা কমলে সামান্য কিছুটা ঘাটতি হয়ে থাকে। আমার ধারনা, এমন জামানা হল সেই জামানা, যে জামানায় মানুষজনের কাছে মূল ইসলামটা গরীব (দুষ্প্রাপ্য) হয়ে যাবে এবং কাফের ও মুনাফেকে ভরা পৃথিবীতে মুমিনরা তাদের ইমানী-পরিচয় যথাসাধ্য গোপন করে চলাটাকে নিরাপদ মনে করবে। কারণ, সেই জামানায় যে মুমিনই সমাজের কোনো মুনকারকে পরিবর্তন করতে এগিয়ে যাবে, সে-ই তখনকার শাসক ও মুনাফেক জনগণের দ্বারা হুমকীর সম্মুখীন হবে। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تقوم الساعة حتى تظهر الفتن، ويكثر الكذب، وتتقارب الأسواق، ويتقارب الزمان، ويكثر الهرج قيل: وما الهرج؟ قال: القتل – رواه الإمام أحمد في المسند ١٠٣٤٦ ، وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة ٢٧٧٢ – ‘কেয়ামতের সংঘটিত হবে না, যাবৎ না ফিতনাহসমূহ প্রকাশ পায়, মিথ্যা ব্যাপক হয়ে যায়, বাজার/মার্কেটসমূহ পরষ্পরে কাছাকাছি এসে যায় এবং ‘হারাজ’ ব্যাপকভাবে ঘটে। জিজ্ঞেস করা হল: ‘হারাজ’ কি? তিনি বললেন: কতল (খুন-খারাবি)’। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১০৩৪২]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَيْرِ ، وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ ، فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ ، فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، فَقُلْتُ : هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، وَفِيهِ دَخَنٌ ، قُلْتُ : وَمَا دَخَنُهُ ؟ قَالَ : قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي ، وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي ، تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ ، فَقُلْتُ : هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، صِفْهُمْ لَنَا ، قَالَ : نَعَمْ ، قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا ، وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا تَرَى إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ ؟ قَالَ : تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَ إِمَامَهُمْ ، فَقُلْتُ : فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ ؟ قَالَ : فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا ، وَ لَوْ أَنْ تَعَضَّ عَلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَ أَنْتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الإمارة , بَابُ الْأَمْرِ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ عِنْدَ ظُهُورِ الْفِتَنِ وتحذير الدعاة إلى الكفر : ٣/١٤٧٤ رقم ١٨٤٧، و البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب كيف الأمر إذا لم تكن جماعة : رقم ٣٦٠٦ ، وأبو عوانة في مسنده : ٤/٤١ رقم ٥٧٥٧ و ٥٦٥٨، و غيرهم – ‘লোকেরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে -এই ভয়ে ভীত হয়ে যে পাছে তা আমাকে পেয়ে বসে কিনা। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা জাহেলিয়াত ও মন্দের ভিতরে ছিলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে (আপনার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের মতো) এই কল্যান এনে দিলেন। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই মন্দের পর কি কোনো কল্যানের কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তাতে থাকবে দাখান (ধোঁয়া)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই দাখান কি? তিনি বললেন: (সে জামানায়) এমন গোষ্ঠি (-র আবির্ভাব হবে) যারা (মানব সমাজে আমার আনীত) আদর্শ বহির্ভূত আদর্শ জারি করবে এবং (আমার দেখানো) পথনির্দেশিকা বহির্ভূত (পথের দিকে মানুষজনকে) পথ দেখাবে (তাদেরকে পরিচালিত করবে)। তাদের মধ্যে মা’রুফ বিষয়ও (দেখতে) পাবে এবং মুনকার বিষয়ও পাবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: (এদের পর এমন গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে যারা মানব জাতিকে এমন মত ও পথের দিকে ডাক দিবে, যা হবে মূলতঃ) জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা থেকে (দেয়া) ডাক। যে ব্যাক্তি তাদের ডাকে সেদিকে সারা দিবে, তারা তাকে ওর মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের বৈশিষ্ট (কী হবে -তা) বলে দিন। তিনি বললেন: (এই জাহান্নামী পথভ্রষ্ঠ) গোষ্ঠিটির চামড়া আমাদের মতোই হবে, তারা কথাও বলবে আমাদের (মুসলমানদের) ভাষা (ভঙ্গি)তে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমি যদি তাদেরকে পাই, তাহলে আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বললেন: মুসলমানদের জামাআত’ ও তাদের ইমামকে (আমীর/খলিফাকে) আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি (তখন) কোনো জামাআতও না থাকে, কোনো ইমামও না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে ওই প্রতিটি ফেরকা থেকে নিজকে বিছিন্ন করে রাখবে- যদিও-বা তোমাকে গাছের শিকড় খেয়ে থাকতে হয় এমনকি এ অবস্থার উপরই তোমার মৃত্য চলে আসে। [সহিহ মুসলীম – ৩/১৪৭৪ হাদিস ১৮৪৭; সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০৬; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ– ৪/৪১ হাদিস ৫৭৫৭, ৫৭৫৮]
ফায়দা: এই হাদিসে যে বলা হয়েছে যে, কোনো কোনো গোষ্ঠি জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা থেকে ডাকা ডাকি করবে, সেটা হবে মূলত: ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র সময়। এর প্রমাণ হল নসর বিন আসেম আল-লাইস রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি, যার মধ্যে আছে যে, হুযাইফা রা. বলেন- قلت يا رسول الله أبعد هذا الخير شر قال فتنة عمياء صماء عليها دعاة على أبواب النار وأنت أن تموت يا حذيفة وأنت عاض على جذل خير لك من أن تتبع أحدا منهم. مسند الإمام أحمد: ٥/٣٨٦ رقم ٢٣٣٣٠ , تعليق شعيب الأرنؤوط : حديث حسن – “আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ আছে? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, আছে। আর সেটা হল এমন এক) ফিতনা যা (আকিদা ও বিশ্বাসগত) অন্ধত্ব ও বধিরতা (-র অন্ধকার নিয়ে আবির্ভূত হবে), যার উপর ভিত্তি করে দোযখের বিভিন্ন দরজায় দাঁড়িয়ে (পথভ্রষ্ঠতার ধারক-বাহক নেতা ও লিডার’দের পক্ষ থেকে তোমাদের মুসলমানদেরকে তাদের আদর্শ গ্রহনের দিকে) ডাক দেয়া হবে। হে হুযাইফা, তুমি যদি (তখন আল্লাহ’র রাস্তায় মড়ে যেতে পরো, তো) মড়ে যেও (তবুও কোনো অবস্থাতেই ওদের অনুসরণ করতে যেও না)। ওদের (মতো পথভ্রষ্ঠ লিডারদের) কোনো একজনের অনুগত্য-অনুসরণ করার থেকে তুমি আনন্দ-উল্লাসে (তোমার ধ্বনসম্পদ) উড়িয়ে দিবে সেটাও তোমার জন্য অধিক কল্যানকর হবে”। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৬, হাদিস ২৩৩৩০; সুনানুল কুবরা, নাসায়ী- ৫/১৮ হাদিস ৮০৩২, ৮০৩৩; আত-তবাকাত, ইবনে সা’দ- ৪/২৫২] আর এই অন্ধত্ব ও বধিরতাপূর্ণ ঘন অন্ধকারময় ফিতনাটি হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’, যে ফিতনার ব্যাপারে আমরা এখানে (ক্লিক করুন: আখেরী জামানা’র ফিতনা ফ্যাসাদ – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ২) বহু রেওয়ায়েত পেশ করেছি।
আমার মতে, আমরা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে ঢুকে গেছি। তবে জানি না যে, আমরা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র প্রথম অংশে আছি, নাকি মাঝামাঝি অংশে, নাকি শেষ অংশে। ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র পরের ঠিক সংলঘ্ন ফিতনাটি হল ‘দাজ্জালের ফিতনা’। যেমন, সাবি’ বিন খালিদ রহ. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হযরত হুযাইফা রা. বলেন- إن الناس كانوا يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر قال قلت يا رسول الله أرأيت هذا الخير الذي أعطانا الله يكون بعده شر كما كان قبله قال نعم قلت يا رسول الله فما العصمة من ذلك قال السيف قلت وهل للسيف من بقية قال نعم قال قلت ثم ماذا قال ثم هدنة على دخن قال جماعة على فرقة فإن كان لله عز وجل يومئذ خليفة ضرب ظهرك وأخذ مالك فاسمع واطع وإلا فمت عاضا بجذل شجرة. قال قلت ثم ماذا قال يخرج الدجال …. رواه الحاكم فى المستدرك: ٤/٤٧٩ رقم ٨٣٣٢ و قال هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه, و وافقه الذهبي في التلخيص; أبو داود الطيالسي فى المسنده: ١/٥٩ رقم ٤٤٢ و ٤٤٣ هذا حديث صحيح، رواته كلهم ثقات كما قال حمود بن عبد الله التويجري فى إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٧٤; أبو داود فى سننه: ٤/٩٥ رقم ٤٢٤٤ و حسنه الالبانى; ابن أبي شيبة فى المصنف: ٧/٤٤٧ رقم ٣٧١١٣ ; عبد الرزاق فى المصنف: ١١/٣٤١ رقم ٢٠٧١١ ; أحمد فى ال مسند: رقم ٢٢٣٣٣ و ٢٣٤٧٦; معمر بن راشد فى الجامع: ١١/٣٤١; أبو عوانة فى المسند: ٤/٤٢٠ رقم ٧١٦٨; البزار فى المسند: ٧/٣٦١ رقم ٢٩٦٠–‘লোকজন রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আল্লাহ (আপনার বরকতে) আমাদেরকে এই-যে কল্যান দিয়েছেন, এরপর কি কোনো মন্দ রয়েছে -যেমনটা এর আগে (জাহেলী জামানায়) ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা থেকে মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেন: তরবারী। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তরবারীর কারণে কি কিছু অবশিষ্ট থাকবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, (থাকবে)। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কি হবে? তিনি বললেন: এরপর (মুসলমানরা এমন হবে, যেন পাপ মিশ্রিত) ধোয়ার উপর (ইমান ও আমলের অপূর্ণ) স্থিরতা, তিনি বললেন: (তখন থাকবে বিভিন্ন) ফেরকার (নিজ নিজ বিশ্বোস ও চেতনার) উপর (গঠিত সব) জামাআত। সেদিন যদি আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা (জমিনের বুকে কোনো) খলিফা (সুলতান/ইমাম-কে জীবিত) রাখেন, (যে) তোমার পিঠে (অন্যায় ভাবে) আঘাত করে, তোমার ধ্বনসম্পদ (অন্যায় ভাবে) ছিনিয়ে নেয়, তবুও (সেই খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে না, বরং তার আদেশ-নির্দেশ) শুনবে এবং (ওর মধ্যে জায়েয বিষয়গুলোর) অনুগত্য করবে -(এর জন্য) যদিও তোমাকে গাছ’কে কামড় দিয়ে মৃত্যুকে বরন করতে হয়। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কি হবে? তিনি বললেন: এরপর দাজ্জাল বেড় হবে।… [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৭৯, হাদিস ৮৩৩; আল-মুসনাদ, আবু দাউদ তায়ালিসী- ১/৫৯ হাদিস ৪৪২, ৪৪৩; সুনানে আবু দাউদ- ৪/৯৫ হাদিস ৪২৪৪; মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ৭/৪৪৭ হাদিস ৩৭১১৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৪১ হাদিস ২০৭১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৩৩, ২৩৪৭৬; আল-জামে’, ইমাম মুআম্মার বিন রাশেদ- ১১/৩৪১; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ- ৪/৪২ হাদিস ৭১৬৮; মুসনাদে বাযযার- ৭/৩৬১ হাদিস ২৯৬০] الله اعلم بالصواب
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ –‘আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (লিডার/গুরু) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]
# হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي يُحَدِّثُونَكُمْ مَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ . رواه ابن حبان في صحيحه: ١٥/١٦٩ رقم ٦٧٦٦, قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح ; و أحمد في مسنده: ١٤/٢٥٢ رقم ٨٥٩٦ و حسنه شعيب; و إسحاق بن راهويه في مسنده : ١/٣٤٠ رقم ٣٣٢; و ابو يعلى الموصلي في في مسنده: ١١/٢٧٠ رقم ٦٣٨٤ قال حسين سليم أسد: إسناده صحيح ; و الحاكم في المستدرك: ١/١٧٣ – ‘অচিরেই শেষ জামানায় আমার উম্মতের মেধ্য (এমন সব) লোকজন (আবির্ভূত) হবে, যারা তোমাদের কাছে এমনসব কথা বলবে, যা না তোমরা (মুসলমানরা ইতিপূর্বে কখনো) শুনে থাকবে, আর না তোমাদের পূর্বপুরুষরা (কখনো শুনে থাকবে)। তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। (তারা যেন তোমাদেরকে তাদের ফিতনায় ফেলে পথভ্রষ্ঠ করে দিয়ে না বসে)’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১০/১৬৮, হাদিস ৬৭৬৬; সহিহ মুসলীম- ১/১২; মুসনাদে আহমদ- ১৪/২৫২ হাদিস ৮৫৯৬; মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুওয়াই- ১/৩৪০ হাদিস ৩৩২; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/২৭০ হাদিস ৬৩৮৪; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১৭৩; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ১/২২৩]
# হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ . صحيح مسلم: ١/١٢ رقم ٧; صحيح ابن حبان:١٥/١٦٨ رقم ٦٧٦٦ ,قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح ; مسند أحمد: ١٤/٢٥٢ رقم ٨٥٩٦ حسنه شعيب; مسند إسحاق بن راهويه: ١/٣٤٠ رقم ٣٣٢; مسند أبي يعلى الموصلي: ١١/٢٧٠ رقم ٦٣٨٤ قال حسين سليم أسد: إسناده صحيح – ‘শেষ জামানায় (আমার উম্মতের মাঝে এমন সব) দাজ্জালদের ও কাজ্জাবদের (আবির্ভাব) হবে, যারা তোমাদের কাছে এমনসব (নতুন নতুন) কথা নিয়ে আসবে, যা না তোমরা (মুসলমানরা ইতিপূর্বে কখনো) শুনে থাকবে, আর না তোমাদের বাপ-দাদা পূর্বপুরুষরা (কখনো শুনে থাকবে। তোমরা তাদের ওসব ব্যাপারে সতর্ক হয়ে থেকো) তারা (যেন) তোমাদেরকে পথভ্রষ্ঠ করতে না পারে এবং তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলতে না পারে’। [সহিহ মুসলীম- ১/১২ হাদিস ৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, ১০/১৬৮, হাদিস ৬৭৬৬; মুসনাদে আহমদ- ১৪/২৫২ হাদিস ৮৫৯৬; মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুওয়াই- ১/৩৪০ হাদিস ৩৩২; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/২৭০ হাদিস ৬৩৮৪]
ফায়দা: ‘দাজ্জাল’ বলা হয় মূলতঃ এমন চরম ধোকাবাজ বা প্রকারক’কে, যে তার কথা বা কাজের ভেলকিতে একজন মানুষের সামনে সত্য ও মিথ্যাকে এতটা ঘোলাটে করে দেয় যে, তার জন্য মিথ্যা থেকে সত্যকে আলাদা করাই দায় হয়ে দাঁড়ায়। আর কাজ্জাব বলা হয় মূলতঃ অতি মাত্রার মিথ্যাককে। এরা আসবে এই উম্মতের শেষ জামানায়। আর আমরা ইতিপূর্বে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা শেষ জামানা অতিক্রম করছি।
হাদিসটিতে বলা হয়েছে- يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ– ‘তারা তোমাদের কাছে এমনসব (নতুন নতুন) কথা নিয়ে আসবে, যা না তোমরা (মুসলমানরা ইতিপূর্বে কখনো) শুনে থাকবে, আর না তোমাদের বাপ-দাদা পূর্বপুরুষরা (কখনো শুনে থাকবে’। এখানে মূল শব্দটি হল حديث (হাদিস), যার অর্থ কথা, বাণী, নতুন বিষয় ইত্যাদি। আমি এর অর্থ করেছি ‘(নতুন নতুন) কথা’। এখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পুরো বাক্যটির অনেক অর্থ ও উদ্দেশ্য হতে পারে। যেমন:-
(ক) এখানে حديث (হাদিস) বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মুখ নিঃসৃত হাদিস (বাণী/কথা)ও উদ্দেশ্য হতে পারে। তখন এর অর্থ হবে, শেষ জামানার ওই দাজ্জাল ও কাজ্জাব লোকগুলি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নামে এমনসব জাল/বানোয়াট হাদিস বর্ণনা/পেশ করবে, যা আমাদের সম্মানীত মুহাদ্দেসগণ থেকে নির্ভরযোগ্য/মকবুল সূত্রে বর্ণিত হয়নি বা তাঁরা কিতাবে লিখে যাননি।
(খ) এখানে حديث (হাদিস) বলতে এমন পথভ্রষ্ঠ ও বাতিল আক্বীদা বিশিষ্ট বাণী/কথাও উদ্দেশ্য হতে পারে, যা শেষ জামানার উম্মাহকে পথভ্রষ্ঠ করার উদ্দেশ্যে ওই দাজ্জাল ও কাজ্জাব লোকগুলি বিভিন্ন কায়দায় পেশ করবে। যেমন: বাংলাদেশের দেওয়ানবাগী নামক শয়তানটি যেসকল মিথ্যা ও বাতিল আক্বীদাগুলো পেশ করে থাকে। কিংবা যেমন ভারতের গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজকে কখনো ‘নবী’, কখনো ‘মাহদী’, আবার কখনো ‘ঈসা মাসিহ’ ইত্যাদি দাবী করার জন্য তার কিতাবাদিতে বিভিন্ন ধোকা, প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয়ে কুরআন-সুন্নাহ’র অপব্যাখ্যা করেছে। সে কুরআন-সুন্নাহ’র এমন সব অপ-তথ্য ও অপ-ব্যাখ্যা দিয়েছে, যার নজির গোটা ১৪৫০ বছরের ইসলামী ইতিহাসে নেই। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لا تقوم الساعة حتى يبعث دجالون كذابون قريبا من ثلاثين كلهم يزعم أنه رسول الله – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না যাবৎ না প্রায় ত্রিশ জনের মতো দাজ্জাল কাজ্জাব আবির্ভূত হয়। তাদের প্রত্যেকেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহ’র রাসুল’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০৯]
(গ) এখানে حديث (হাদিস) বলতে এমন পথভ্রষ্ঠ কথা/মতবাদও উদ্দেশ্য হতে পারে, যা শেষ জামানার কিছু পথভ্রষ্ঠ লোক/লিডার উম্মাহ’র সামনে পেশ করবে, যেসব কথা/মতবাদ শেষ জামানার মুসলমানদের কাছেই প্রথম পেশ করা হয়েছে। যেমন: সেকুলারিজস (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ), ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র), সোসালিজম (সমাজতন্ত্র), কমিউনিজম, ফেমিনিজম (নারীত্ববাদ), ফ্রিডম অব স্পিস (বাক স্বাধিনতা) ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগ থেকে নিয়ে গত ১৯২০ সালে ‘উসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বিগত ১৪৫০ বেছরের ইসলামী ইতিহাসে মুসলমানগণ কখনো এসব পথভ্রষ্ঠ মতবাদ-মতাদর্শ গুলোকে গ্রহন করার কথা শোনেনি। ১৯২০ সালে ‘উসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের পর মুসলীম নামধারী কিছু পথভ্রষ্ঠ লিডার শ্রেণির লোক ইহূদী-খৃষ্টানদের থেকে আমদানীকৃত এসব মতবাদকে উম্মাহ’র মাঝে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেয়। এসব পথভ্রষ্ঠ লিডার শ্রেণির লোকদের মধ্যে যাদের নাম না নিলেই না, তারা হল: তরষ্কের মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক, মিশরের আনোয়ার সাদাত, জামাল আব্দেল নাসের, হোসনি মুবারক, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার মুআম্মার গাদ্দাফী, পাক-ভারত উপ-মহাদেরশের এ.কে ফজলুল হক্ব, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি, জুলফিকার আলী ভুট্টো, শেখ মুজিবুর রহমান, ইরানের শাহ মুহাম্মাদ রেজা পাহলভি প্রমুখ। হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ -‘আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে একথা বলতে শুনেছি যে: আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (লিডার/কর্ণধার) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ – ‘(তোমরা তাদের ওসব ব্যাপারে সতর্ক হয়ে থেকো) তারা (যেন) তোমাদেরকে পথভ্রষ্ঠ করতে না পারে এবং তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলতে না পারে’। এ থেকে বোঝা যায়, শেষ জামানার ওই লোকগুলির পথভ্রষ্ঠতার ফিতনা গুলো হবে মারাত্মক, যা থেকে সতর্ক না থাকলে উম্মাহ’র পথভ্রষ্ঠ হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর ‘ফিতনা’ মূলতঃ এমন আক্বীদাহ-বিশ্বাস বা চিন্তা-চেতনার নাম, যা মানুষকে বিবেক- বুদ্ধি জনিত ধোকার এমন ধুম্রজালে ফেলে দেয় যে, সে হক্ব ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়ে হিমশিম খেয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং একসময় তার দ্বীন ও ইমানই ছিন্তাই হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
এরকম ফিতনা ছড়ানোর বিভিন্ন যোগ্যতাগুণধারী ব্যাক্তিকেও দাজ্জাল (চরম প্রতারক)ও বলা হয়ে থাকে। আর এই দাজ্জালরা যেহেতু প্ররচনা ও প্রতারনার মাধ্যমে দ্বীনে-হক্ব (সত্য দ্বীন) থেকে মিথ্যার দিকে আহবান করে, তাই তাদেরকে কাজ্জাব (চরম মিথ্যুক)ও বলা হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফিতনাবাজ হবে ‘কানা-দাজ্জাল’ যে শেষ জামানায় বেড় হবে, এরপর নিজকে নবী ও রব (প্রতিপালক) দাবী করে বহু মানুষের ইমান নষ্ট করে দিবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন-بين يدي الساعة الدجال، وبين يدي الدجال كذابون ثلاثون أو أكثر . قلنا: ما آيتهم؟ قال: أن يأتوكم بسنة لم تكونوا عليها يغيرون بها سنتكم ودينكم، فإذا رأيتموهم؛ فاجتنبوهم وعادوهم . رواه الطبراني كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ٣/٣٢ ; و اخرجه احمد ايضا في المسند مختصرا باسند حسن : ٥/١٨٧ رقم ٥٦٩٤ ; و اورده ابن كثير في البداية والنهاية : ١٩/١١٧ تحقيق: دكتور عبد الله التركي , و السيوطي في جامع الأحاديث : ٣/٨٨ رقم ٧٤٥٨ – ‘কেয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল (আবির্ভূত) হবে, আর দাজ্জালের পূর্বে ত্রিশজন বা তারও বেশি মিথ্যুক হবে’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘তাদের চিহ্ন কি হবে’? তিনি বললেন: ‘তারা এমন সুন্নাহ (আদর্শ ও নীতি) নিয়ে তোমাদের কাছে আসবে, যার উপরে তোমরা (মুসলমানরা তার আগে খায়রুল কুরুনের কোনো জামানাতেও তা দ্বীন-ইসলামের অংশ ছিল মর্মে পরিচিত) থাকবে না এবং তারা (তাদের) ওসব সুন্নাহ (আদর্শ ও নীতি) দিয়ে তোমাদের (মুসলমানদের) সুন্নাহ (ও আদর্শ)কে এবং তোমাদের দ্বীন (ইসলামকে) পরিবর্তন করে ফেলবে। সুতরাং, তোমরা যদি তাদেরকে দেখতে পাও, তাহলে তাদের থেকে তোমরা বেঁচে থাকবে এবং (যথাসাধ্য শরীয়তের সীমা রক্ষা করে) তাদের বিরোধীতা করবে’। [ত্বাবরাণী: ইতহাফুল জামাআহ – ৩/৩২; মুসনাদে আহমদ- ৫/১৮৭ হাদিস ৫৬৯৪; আল-বিদায়াহ, ইবনে কাসির- ১৯/১১৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ- ৭/৩৩৩; জামেউল আহাদিস, ইমাম সুয়ূতী- ৩/৮৮ হাদিস ৭৪৫৮] الله اعلم بالصواب
# হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর থেকে বণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- إن أهل الكتابين افترقوا في دينهم على ثنتين وسبعين ملة وإن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين ملة يعني الأهواء كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة وأنه سيخرج من أمتي أقوام تجاري بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه لا يبقى منه عرق ولا مفصل إلا دخله والله يا معشر العرب لئن لم تقوموا بما جاء به نبيكم صلى الله عليه وسلم لغيركم من الناس أحرى أن لا يقوم به – أخرجه أحمد في المسند: ١٣/٢٠٥ قم ١٦٨٧٦, اسناده حسن ، و رواه أبو داود: ٤٥٩٧ والدارمي ٢٥٦٠, والحاكم في “مستدركه ١/١٢٨, ابن أبي عاصم في “السنة: رقم ١٥; المعجم الكبير للطبراني:١٩/٣٧٧ رقم ٨٨٥ – ‘নিশ্চই আহলে কিতাবদ্বয় (ইহূদী ও খৃষ্টানরা) তাদের দ্বীনের মধ্যে (মনচাহি মতাদর্শ ও মতবাদ যুক্ত করে) বাহাত্তরটি পৃথক পৃথক মিল্লাত (sects) বানিয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর অবশ্যই (আমার) এই উম্মত শিঘ্রই তিহাত্তর মিল্লাতে বিভক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ (তারা সবাই হবে) প্রবৃত্তির দাস (এবং) তাদের সবাই দোযখে যাবে শুধুমাত্র একটি (মিল্লাত) ছাড়া, আর সেটা হল আল-জামাআত (তারা হবে জান্নাতী)। আর নিশ্চই আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এমন এমন জাতি/গোষ্ঠিসমূহের আবির্ভাব হবে, যারাদেরকে কুপ্রবৃত্তি এমনভাবে প্রভাবিত/আচ্ছন্ন করে ফেলবে যেভাবে কুকুর (তার কামড়ের দ্বারা) কাউকে (জলাতঙ্ক রোগে) আক্রান্ত করে ফেলে, (যে রোগ ওই আক্রান্ত ব্যাক্তির) রগ-রেশা ও (হাড়ের) জোরা -কোনো কিছুকেই আক্রান্ত না করে ছাড়ে না। [মুসনাদে আহমাদ– ১৩/২০৫, হাদিস ১৬৮৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৫৯৭; সুনানে দারেমী, হাদিস ২৫৬০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১২৮, হাদিস ৪০৬; আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসেম, হাদিস ১৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরানী- ১৯/৩৭৭, হাদিস ৮৮৪]
ফায়দা: এই জাহান্নামী ৭২ ফিরকাহ মূলত: জামানার বিভিন্ন পথভ্রষ্ট আক্বীদা-বিশ্বাস ও মত-পথের উপরে স্থাপিত ফিতনা’র ফসল, যে ফিরকাহ গুলোর রং পাকবে শেষ জামানায় ইমাম মাহদী রা. আগমনের আগে আগে পচন ধরা যুগে, যে যুগের কথা নিচের হাদিসে রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে বহু স্থানে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা বহু আগেই শেষ জামানার ভিতরে প্রবেশ করেছি। الله اعلم بالصواب
# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ أَوْ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ زَمَانٌ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً ، تَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ ، وَأَمَانَاتُهُمْ ، وَاخْتَلَفُوا ، فَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ، فَقَالُوا : وَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : تَأْخُذُونَ مَا تَعْرِفُونَ ، وَتَذَرُونَ مَا تُنْكِرُونَ ، وَتُقْبِلُونَ عَلَى أَمْرِ خَاصَّتِكُمْ ، وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَامَّتِكُمْ . رواه أبو داود في سننه , كتاب الملاحم : ٢/٤٣٧ رقم ٤٣٤٢ ، و ابن ماجه في سننه : ٣٩٥٧ ، و أحمد في المسند : ٢/٢٢١ ، و الحاكم في المستدرك على الصحيحين : ٤/٤٣٥، صححه الألباني في صحيح سنن أبي داود – ‘ তখন তোমাদের বা (বলেছেন তোমাদের) জামানার কি অবস্থা হবে অথবা (বলেছেন) অতি শিঘ্রই এমন জামানা আসছে, যখন মানুষজনকে (আটার ময়লা পরিষ্কারের) চালুনির চালানি দেয়া হবে। (ভাল মানুষগুলো একে একে দুনিয়া থেকে ঝরে যাবে। আর) অবশিষ্ট থেকে যাবে (আবর্জনায়) পরিত্যাক্ত (এমন সব পঁচন ধরা বিকৃত ও নিকৃষ্ট বদ স্বভাবের) মানুষজন, যাদের প্রতিশ্রুতি ও আমানতগুলো খলৎমলৎ হয়ে যাবে এবং তারা দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বাঁধাবে। তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুলগুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। তখন লোকেজন জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, তখন আমরা (মুসলমানরা) কি করবো? তিনি বললেন: (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তোমরা (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করবে এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করবে, আর (সংশোধনের আশা আছে- এরকম) তোমাদের বিশেষ লোকজনের ব্যাপারগুলো গ্রহন করবে (ও সে ব্যাপারে শরীয়তের হক্ব আদায় করবে) এবং তোমাদের আম-জনতার বিষয়গুলোকে ছেড়ে দিবে, (কারণ তাদের ফিতনার সাগরে গেলে তোমাদের ইমান-আমলও তাদের ঢেউ-এর তোড় তোমাদেরকে তাদের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৫৭; মুসনাদে আহমাদ- ২/২২১; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৩৫]
# আবু যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَا أَبَا ذَرٍّ ، كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي حُثَالَةٍ ؟ ، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا تَأْمُرُنِي ؟ قَالَ : اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، خَالِقُوا النَّاسَ بِأَخْلَاقِهِمْ ، وَخَالِفُوهُمْ فِي أَعْمَالِهِمْ . اخرجه حاكم في المستدرك على الصحيحين : ٣/٣٨٦ و قال هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ . و البيهقي في الزهد الكبير: رقم ٢٠٣ ; و الطبراني في المعجم الأوسط , بَابُ الْأَلِفِ , مَنِ اسْمُهُ أَحْمَدُ : ٤٧٠ – ‘হে আবু যার! তখন তোমার কেমন অবস্থা হবে যখন তুমি (আবর্জনায় ফেলে রাখা) পরিত্যাক্ত (জিনিসের মতো নিকৃষ্ট স্বভাবের মানুষজন)-এর মধ্যে থাকবে ! আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে ক্ষেত্রে আপনি আমাকে কি (করার) নির্দেশ দেন’? তিনি বললেন: (তুমি তখন তোমার সাধ্য মতো আল্লাহ দ্বীনের উপরে কায়েম থাকার চেষ্টা করে যাবে এবং তা করতে গিয়ে তোমার উপরে যে মুসিবত আসবে তার উপরে তুমি আল্লাহ’র ওয়াস্তে) ‘সবর করবে! সবর করবে! সবর করবে’! তুমি (তখনকার) মানুষজনের (মন্দ) স্বভাবগুলির (বিপরীতে তাদের) সাথে (আমার প্রদর্শিত ভাল আখলাক ও) স্বভাব প্রদর্শন করে যাবে, (কোনো অবস্থায়ই সীমা লঙ্ঘন করবে না)। তবে তুমি (তোমার অন্তর, মুখ ও শক্তি দিয়ে শরয়ী তরিকায় সাধ্য মতো) তাদের (মন্দ) কাজ-কারবারের বিরুদ্ধে থাকবে, (অন্যথায় তুমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে গণ্য হবে)’। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৮৬; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৪৭০; আয-যুহদ আল-কাবীর, বাইহাকী-২০৩]
# সাহল বিন সা’দ -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- اللَّهُمَّ لَا يُدْرِكْنِي زَمَانٌ ، أَوْ لَا تُدْرِكُوا زَمَانًا لَا يُتْبَعُ فِيهِ الْعَلِيمُ ، وَلَا يُسْتَحَى فِيهِ مِنَ الْحَلِيمِ ، قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الْأَعَاجِمِ ، وَأَلْسِنَتُهُمْ أَلْسِنَةُ الْعَرَبِ . رواه أحمد في مسنده : ٥/٣٤١ اسناده منقطع ، قال المنذري في الترغيب والترهيب: ١/٦٥ رقم ١٧٣ رواه أحمد و في إسناده ابن لهيعة وهو ضعيف – “হে আল্লাহ! ওই জামানার সাক্ষাত যেন আমি না পাই, অথবা (বলেছেন) তোমরা যেন ওই জামানার সাক্ষাত না পাও, যে জামানায় (কোনো কোনো গোষ্ঠি এত স্বেচ্ছাচারী হয়ে যাবে যে,) আলেম-এর অনুসরন করা হবে না, যে সময়ে হালিম (ধৈর্যশীল ব্যাক্তি) থেকে লজ্জা করা হবে না। তাদের অন্তরগুলো হবে আ’জামদের (অনারবদের) অন্তর (যেমন হয়), আর তাদের ভাষাগুলো হবে আরবের ভাষা (যেমন হয়)”। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৪১; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমা দানী- ১/৫২৭ হাদিস ২২১; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫১০ আবু হুরায়রাহ’র সূত্রে; তারগীব ওয়াত তারহীব, মুনযিরী- ১/৬৫; ফাইজুল কাদির, মুনাভী- ২/১৮৫ হাদিস ১৫৪৩]
# হযরত অাবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا طَغَى نِسَاؤُكُمْ ، وَفَسَقَ شَبَابُكُمْ ، وَتَرَكْتُمْ جِهَادَكُمْ ؟ قَالُوا : وَإِنَّ ذَلِكَ لَكَائِنٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَمْ تَأْمُرُوا بِالْمَعْرُوفِ ، وَلَمْ تَنْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ” ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَعْرُوفَ مُنْكَرًا ، وَرَأَيْتُمُ الْمُنْكَرَ مَعْرُوفًا ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : بِي حَلَفْت ، لأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً , يَصِيرُ الْحَلِيمُ فِيهِمْ حَيْرَانًا . أخرجه ابن أبي الدنيا في موسوعة رسائل: ٥/٥٨٨ رقم ٨٥ و في الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر , رقم الحديث : ٣٢ . الحافظ العراقي قال عنه إنه ضعيف الإسناد كما جاء في تخريجه لأحاديث الإحياء برقم ٢/٣٨٠ ; و اخرجه ايضا أبو يعلى مختصرا في مسنده: ١١/٣٠٤ رقم ٦٤٢٠ ; و الطبراني في المعجم الأوسط : ٩/١٢٩ رقم ٩٣٢٥ ; و ابن أبي حاتم في العلل : ٢/٤١٧ ; و أورده الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٢٨٠ ; و الالباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة : ١١/٣٤٣ – ‘তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন নারীরা ত্বাগুতীপনা (আল্লাদ্রোহিতা) করবে এবং কিশর’রা ফাসেকী (পাপ ও অপরাধমূলক) কাজ করবে, আর তোমরা তোমাদের জিহাদকে পরিত্যাগ করে বসবে! (উপস্থিত) সাহাবাগণ বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিক অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন তোমরা আমর বিল মা’রুফ (নেকির কাজের নির্দেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (বদ কাজের নিষেধ করার দায়িত্ব) পালন করবে না ! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে, যখন তোমরা সৎকাজকেই অসৎকাজর দৃষ্টিতে দেখবে এবং অসৎকাজকে সৎকাজের দৃষ্টিতে দেখবে! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতি শিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আমি শপথ করে বলছি, তাদেরকে এমন পরীক্ষায় ফেলে দিবো যে, সেসময়কার ধৈর্যশীল মানুষও দিশেহারা হয়ে যাবে। [মাউসুআত, ইবনে আবিদ্দুনিয়া- ৫/৫৮৮ হাদিস ৮৫; আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার, ইবনে আবিদ্দুনিয়া, হাদিস ৩৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/৩০৪ হাদিস ৬৪২০; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৯/১২৯ হাদিস ৯৩২৫; আল-ইলাল, ইবনু আবি হাতিম- ২/৩১৭; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৩/২৯৫ হাদিস ৪৮৮৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৮০]
# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَ مِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ . رواه أبو داود في سننه, كتاب الفتن والملاحم: رقم ٤٢٤٣, اسناده ضعيف كما في المشكاة لالالبانى: رقم ٥٣٩٣ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমি জানি না আমার সাথিগণ ভুলে গেছেন নাকি (জামানার নাজুকতার কারণে) ভুলে যাওয়ার ভান করে আছেন। আল্লাহ’র কসম, রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমাদেরকে) একজন ফিতনা-প্রতিষ্ঠাতা -যার সাথে থাকবে তিন’শ জনের কিছু বেশি লোক – (তার কথা থেকে নিয়ে) কেয়ামত ধ্বংস হয়ে যাওয়া পর্যন্ত (উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু বলা) বাদ রাখেন নি। শুধু তাই নয়, তিনি আমাদের কাছে তার নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নামও বলে গেছেন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৩]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: حدثنا عبد الخالق بن يزيد الدمشقي عن أبيه عن مكحول عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال: ما من صاحب فتنة يبلغون ثلثمائة إنسان إلا ولو شئت أن أسميه باسمه واسم أبيه ومسكنه إلى يوم القيامة كل ذلك مما علمنيه رسول الله صلى الله عليه و سلم .قالوا بأعيانها قال أو أشباهها يعرفها الفقهاء أو قال العلماء إنكم كنتم تسألون رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الخير وأسأله عن الشر وتسألونه عما كان وأسأله عما يكون . اخرجه نعيم بن حماد المروزي فى الفتن: رقم ١٨, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٦: و عبد الخالق بن زيد الدمشقى: لين الحديث. قال البخارى: منكر الحديث. و قال النسائى: ليس بثقة – ‘সাহেবুল-ফিতান (ফিতনার ধারক-বাহক) -কেয়ামত পর্যন্ত যাদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন’শ জনে -তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, আমি চাইলে যাদের প্রত্যেকের নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নাম বলে দিতে না পারি’। এর সবই রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে জানিয়েছেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (তাদের পরিচয়গুলি কি) একদম স্পষ্ট (যে, যে কেউ তাদেরকে চিনে নিতে পারবে)? তিনি বললেন: (না,) বরং (তাদের পরিচয়গুলো এমন ভাবে জানানো হয়েছে, যা) সাদৃশ্যপূর্ণ; ফকিহগণ (তথা দ্বীনের গভীর জ্ঞানীগণ) অথবা বলেছেন, আলেমগণ তাদেরকে চিনে নিতে পারবেন। তোমরা এমন ছিলে যে, তোমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেতে কল্যান সম্পর্কে, আর অামি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেতে বর্তমান সম্পর্কে, আর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম -সামনে কি হবে -সে সম্পর্কে। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১৮; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী- ১১/২১৮ হাদিস ৩১২৯৩]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করতে শুনেছি- حدثنا عبد القدوس عن عفير بن معدان قال : حدثنا قتادة قال: قال حذيفة: سمعت رسول اللّه صلّى اللّه عليه و سلّم يقول: ليخرجن من أمتى ثلاث مائة رجل معهم ثلاث مائة راية يعرفون و تعرف قبائلهم يبتغون وجه اللّه يقتلون على الضلالة . رواه نعيم بن حماد في الفتن: رقم ٢٠ , قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٧: إسناده منقطع أورده الهندى فى الكنز٣١١٥٤ و نسبه لنعيم فى الفتن. فيه: قتادة لم يسمع من حذيفة رضى اللّه عنه ; و اورده المتقي في كنز العمال”:١١/٢٧٥ رقم ٣١١٥٤ و قال وفيه عبد القدوس متروك – ‘ অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন তিন’শ জন ব্যাক্তির আবির্ভাব হবে, যাদের (সবার) সাথে (একটি করে মোট) তিন’শটি পতাকা থাকবে। তারা হবে (সমাজে) পরিচিতমুখ। তাদের এলাকাগুলো চেনাজানা হবে। তারা (তাদের কাজ দিয়ে) আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অন্বেসন করবে, (কিন্তু বাস্তবে) তারা পথভ্রষ্ঠতার উপর নিহত হবে।’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ২০; কানজুল উম্মাল- ১১/২৭৫ হাদিস ৩১১৫৪]
ফায়দা: এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয়, এরা মুসলীম উম্মাহ’র মধ্যে তিন’শ জন ব্যাক্তি, যারা তাদের নিজ নিজ জামানায় গোটা উম্মাহকে নিয়ে এক পতাকার নিচে না থেকে উম্মাহকে ভিন্ন ভিন্ন পতাকা তলে বিভক্ত করে নিবে। এদের এসব কাজের পিছনে নিয়ত থাকবে আবার আল্লাহকে খুশি করা! কিন্তু তারা সবাই কারো না কারো হাতে নিহত হবে এবং তাদের মৃত্যু হবে পথভ্রষ্ঠতার উপর। الله اعلم بالصواب
# হারেছ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- مَرَرْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ فِي الأَحَادِيثِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَلاَ تَرَى أَنَّ النَّاسَ قَدْ خَاضُوا فِي الأَحَادِيثِ . قَالَ وَقَدْ فَعَلُوهَا قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنِّي قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَلاَ إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ . فَقُلْتُ مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ نَبَأُ مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِي لاَ تَزِيغُ بِهِ الأَهْوَاءُ وَلاَ تَلْتَبِسُ بِهِ الأَلْسِنَةُ وَلاَ يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلاَ يَخْلَقُ عَلَى كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلاَ تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ هُوَ الَّذِي لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ حَتَّى قَالُوا (إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ ) مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ” . خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ . رواه الترمذي في سننه , كتاب فضائل القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم , بَابُ مَا جَاءَ فِي فَضْلِ القُرْآنِ : رقم ٢٩٠٦، والدارمي في سننه : ٢/٤٣٥، و البغوي في شرح السنة : ٣/٤٣٧ رقم ١١٨١; ضعفه الألباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة : ١٣/٨٨٣ رقم ٦٣٩٣ ، و أخرجه من طريق أخرى الطبراني في الكبير و في مسند الشاميين برقم ٢٢٠٦ و أبو نعيم في الحلية : ٥/٢٥٣ من طريق أبي إدريس الخولاني عن معاذ بن جبل، وفيه عمرو بن واقد وهو متروك – “আমি (একবার) মসজিদে (এমন সময়) গেলাম, যখন (দেখি) লোকজন কথাবার্তায় লিপ্ত আছে। ফলে আমি (খলিফা) আলী’র কাছে গেলাম। তারপর বললাম: ‘হে আমিরুল মু’মিনীন! আমি কি দেখছেন না যে, লোকজন (মসজিদে বসে) কথাবার্তায় লিপ্ত’! তিনি বললেন: ‘তারা (মসজিদে বসে) অমন কাজ করছে’! আমি বললাম: ‘জি’। তিনি বললেন: ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে একথা বলতে শুনেছি: ‘শুনে রাখো। নিশ্চই অচিরেই ফিতনাহ হবে’। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা থেকে বেরোনোর পথ কী’? তিনি বললেন: ‘আল্লাহ’র কিতাব। তাতে আছে তোমাদের পূর্বে যা ঘটেছিল তার (বহু) ঘটনা, তোমাদের পরে যা ঘটবে তার (বহু) সংবাদ এবং তোমাদের মাঝে (সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যাবলির) বিধান। এটি (হক্ব ও বাতীলের মাঝে) পার্থক্য (সৃষ্টিকারী একটি কিতাব) -(এটি কোনো) খেলা-খেলা’র (বিষয় নয় মোটেও)। যে ব্যাক্তি অহংকার/উদ্ধত্য বশে একে পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে ভেঙ্গে ফেলবেন। যে ব্যাক্তি একে বাদ দিয়ে অন্য কিছুতে হেদায়েত (সঠিক পথ) খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ঠ করে দিবেন। এটি হল আল্লাহ’র সুদৃঢ় রজ্জু। এটি হল মহা-প্রাজ্ঞচিত উপদেশবাণী/স্বারকবাণী। এটি হল সিরাতে মুসতাকীম (সরল সঠিক পথ)। এটি (হল এমন কিতাব) যার (অনুসরণ) দ্বারা প্রবৃত্তি বাঁকা/বিপথগামী হয় না। এর দ্বারা জবান সমূহ আড়ষ্ট হয় না। আলেমগণ এর থেকে (কখনই) পরিতৃপ্ত হয় না, (কারণ তাঁরা একে নিয়ে যতই গবেষনা করতে থাকে, ততই ইলমের মহা রত্নের অতল গভীরে প্রবেশ করতে থাকে)। বারংবার অত্যধিক পঠনে এটি পুরানো হয় না। এর বিষ্ময়কারিত্ব ক্ষয় হয় না। এটা (এমন এক বিষ্ময়কর গ্রন্থ) যা -যখন জ্বীনরা তা শুনেছিল, তখন অবলিলায় তারা বলে ফেলেছিল إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ – ‘নিশ্চই আমরা এক বিষ্ময়কর কুরআন শুনলাম, (যা) সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেয়’। যে ব্যাক্তি এ(ই কিতাব) অনুযায়ী কথা বলে, সে সত্য বলে। যে এর উপরে আমল করে, সে পুরষ্কার পায়। যে এর দ্বারা বিচার-ফয়সালা করে, সে ইনসাফ করে। আর যে ব্যাক্তি এর দিকে ডাকে, সে সিরাতে মুসতাক্বিমের দিকে পথনির্দেশ করে। হে আওয়ার, তুমি একে নিজের দিকে আঁকড়ে ধরো”। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২৯০৬; সুনানে দারেমী- ২/৪৩৫; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ৩/৪৩৭ হাদিস ১১৮১; মুসনাদে শামেয়ীন, তাবরাণী, হাদিস ২২০৬; হিলইয়া, আবু নুআইম- ৫/২৫৩]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ يَقْتَتِلُونَ عَلَيْهَا عَلَى دَعْوَى جَاهِلِيَّةٍ ، قَتْلَاهَا فِي النَّارِ . رواه الحاكم في المستدرك على الصحيحين , كِتَابُ الْفِتَنِ وَالْمَلَاحِمِ : ٤/٤٦٥ و قال: هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه و وافقه الذهبي في تلخيصه، اورده المتقي في كنز العمال : ١١/١٧٩ رقم ٣١١٢٤ – “(ওই দিন বেশি দূরে নয়, যখন মানুষের উপরে এমন অন্ধকারময় এক) ফিতনা (আবির্ভূত) হবে যে, উক্ত ফিতনায় জাহেলিয়্যাতের (মুর্খতার) আহবানের উপরে (ভিত্তি করে আমার উম্মাতের এক গোষ্ঠি আরেক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করবে। ওই (যুদ্ধের) উভয় (পার্শ্বের) খুনীই দোযখে যাবে”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৬৫; কানজুল উম্মাল- ১১/১৭৯ হাদিস ৩১১২৪]
# আম্মার বিন ইয়াছির রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يَقْتَتِلُونَ عَلَى الْمُلْكِ يَقْتُلُ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ بَعْضًا . رواه ابن أبي شيبة في مسنده : ١/٢٩١ رقم ٤٣٨ اسناده حسن و في المسنف : ١٥/٤٥ ، و أبو يعلى في مسنده : ٣/٢١٢ رقم ١٦٥٠، و أحمد في مسنده : ٤/٢٦٣ ، قال الهيثمي : ٧/٣٩٢ : رواه أحمد والطبراني وأبو يعلى ، ورجاله رجال الصحيح غير ثروان و هو ثقة – “আমার পর অতি শিঘ্রই এমনসব শাসকদের (আভির্ভাব) হবে, যারা (দ্বীন ইসলামের মাথা উঁচু করার জন্য নয়, বরং নিছক) দেশের জন্য যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধাবে; এর জন্যই তারা একে অপরকে হত্যা করবে”। [আল-মুসনাদ, ইবনু আবি শাইবা- ১/২৯১ হাদিস ৪৩৮; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শাইবা- ১৫/৪৫; মুসনাদে আহমাদ- ৪/২৬৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ৩/২১২ হাদিস ১৬৫০; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৯৩]
# আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ستكون فتن يصبح الرجل فيها مؤمنًا ويمسي كافرًا إلا من أحياه الله بالعلم . رواه: ابن ماجه : ٢/١٣٠٥ رقم ٣٩٥٤ ، و الطبراني : ٨/٢٧٨، و الآجري في كتاب الشريعة : ١/١٦٨ رقم ٨٥ بسند ضعيف – “অচিরেই (ঘন অন্ধকারময়) ফিতনা সমূহ হবে, (যার একেকটা যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড)। সে সময় লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। শুধু (সেই বাঁচতে পারবে) যাকে আল্লাহ ইলমের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখবেন”। [সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩০৫ হাদিস ৩৯৫৪; ত্বাবরাণী- ৮/২৭৮; সুনানে দারেমী, হাদিস ৩৪৪; আশ-শারইয়াহ, আল-আযরী- ১/১৬৮ হাদিস ৮৫; আল-ইবানাহ, ইবনুল বাত্তাহ- ১/৩৬৬ হাদিস ২৬২, ৭৪৮; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ৮/২৭৮; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৬/৩৮৫; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৬৩/১৩৬; ফাইজুল কাদির, মুনাভী- ৪/১০১ হাদিস ৪৬৭৭]
# মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إذا رأَيْتَ الناسَ يَقْتَتِلُونَ عَلَى الدُّنْيَا فَاعمَدْ بسيفِكَ علَى أعظمِ صخرةٍ في الحرَّةِ فاضرِبْهُ بها حتى ينكَسِرَ ثم اجْلِسْ في بيتِكَ حتى تَأْتِيَكَ يَدٌ خاطِئَة ٌأو مَنِيَّةٌ قاضيَةٌ . أخرجه الطبرانى في المعجم الأوسط : ١/٣٥٤ رقم ١٢٨٩ اسناده صحيح ، قال الهيثمى فى مجمع الزوائد : ٧/٣٠٣ : رواه الطبراني في الأوسط و رجاله ثقات– “যখন তুমি মানুষজনকে দেখবে তারা (ইসলামী শরীয়তের দাবীর প্রেক্ষিতে নয়, বরং নিছক) পার্থিব কারণে লড়াই করছে, তখন তুমি তোমার তরবারী (যুদ্ধাস্ত্র)টিকে কোনো পাথুরে এলাকায় নিয়ে গিয়ে (কোনো) প্রকান্ড পাথরের উপরে রাখো, তারপর তা দিয়ে সেটাকে পিটাতে থাকো যাবত না (সেটা) ভেঙ্গে (অকেজো হয়ে) যায়। তারপর তোমার ঘরের ভিতরে বসে যাও -যাবৎ না (তোমাকে হত্যা উদ্দেশ্যে) কোনো পাপী হাত কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যু তোমার কাছে এসে যায়”। [আল-মু’জামুল আ্উসাত, ত্বাবরাণী- ১/৩৫৪ হাদিস ১২৮৯; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১৯/২৩০, ২৩৩; আল-মু’জামুস সাগীর, ত্বাবরাণী- ১/১৪৪; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৩]
# আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْطَى مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ سَيْفًا فَقَالَ: قَاتَلِ الْمُشْرِكِينَ مَا قُوتِلُوا، فَإِذَا رَأَيْتَ سَيْفَيْنِ اخْتَلَفَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَاضْرِبْ حَتَّى يَنْثَلِمَ وَاقْعُدْ فِي بَيْتِكِ حَتَّى تَأْتِيَكَ مَنِيَّةٌ قَاضِيَةٌ أَوْ يَدٌ خَاطِئَةٌ . أخرجه الطبرانى في المعجم الكبير : ١٢/٢٣٠ رقم ١٢٩٦٨ اسناده صحيح ، قال الهيثمى فى مجمع الزوائد : ٧/٣٠١ : رواه الطبراني ، و رجاله ثقات – “নবী ﷺ (একবার) মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহকে একটি তরবারী দিয়ে বললেন: ‘মুশরেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো, যাবৎ তারা (তোমাদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করে। যখন তুমি মুসলমানদের দু’ পক্ষের মাঝে মতবিরোধ দেখবে, তখন (এই তরবারীটিকে) পিটাতে থাকো যাবৎ না তা অকেজো হয়ে যায় এবং তোমার ঘরের ভিতরে বসে পরো -যাবৎ না (তোমার) স্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা (তোমাকে হত্যা উদ্দেশ্যে) কোনো পাপী হাত তোমার কাছে এসে যায়”। [আল-মু’জামুল কাবীর -১২/২৩০ ত্বাবরাণী, হাদিস ১২৯৬৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০১]
# আবু সালামাহ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত, আবু হুরায়রাহ রা. এরশাদ করেন- إِنِّي لَأَعْلَمُ فِتْنَةً يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ الَّتي مَعَهَا قَبْلَهَا كَنَفْجةِ أَرْنَبٍ، وَإِنِّي لَأَعْلَمُ الْمَخْرَجَ مِنْهَا، قُلْنَا: وَمَا الْمَخْرَاجُ مِنْهَا؟ قَالَ: أُمْسِكُ يَدِي حَتَّى يَجِيءَ مَنْ يَقْتُلُنِي . رواه عبد الرزاق في مصنفه , كتاب الجامع , باب سنن من كان قبلكم : ١١/٣٧٠ رقم ٢٠٧٦٧، و نعيم بن حماد في الفتن : ١/١٤٠ رقم ٣٤٥، و الحاكم في المستدرك : ٤/٤٧٢ و قال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، و وافقه الذهبي في تلخيصه – “নিশ্চই আমি ওই ফিতনার কথা ভাল করেই জানি, যা অচিরেই (তোমাদের মুসলমানদের উপরে আবির্ভূত) হবে, যার সাথে ওর প্রথম দিকে থাকবে খরগোশের লম্ফঝম্পের মতো (অবস্থা)। আর নিশ্চই আমি সে(ই ফিতনা)টি থেকে বেরোনোর পথও ভালো করে জানি’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘সেটা থেকে বেরোনোর পথটি কী’? তিনি বললেন: ‘আমি আমার হাতকে (ফিতনার দিকে প্রসারিত হওয়া থেকে) ধরে রাখবো, যাবৎ না -যে আমাকে হত্যা করবে সে আমার কাছে এসে যায় (এবং আমাকে হত্যা করে ফেলে)”। [আল-মুসান্নাফ, আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৭০ হাদিস ২০৭৬৭; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৪৭৬; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/১৪০ হাদিস ৩৪৫]
শেষ জামানা ও ফেতনা ফাসাদ – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ২
#হযরত উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ؟ قَالَ: ” هِيَ هَرَبٌ وَحَرْبٌ، ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ، دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي، وَلَيْسَ مِنِّي، وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ، ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ، ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ، لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطَمَتْهُ لَطْمَةً، فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ، تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ، فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ، وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ، فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ، مِنْ يَوْمِهِ، أَوْ مِنْ غَدِهِ “. سنن أبي داود – الفتن والملاحم: ٤٢٤٢; و الحاكم: ٤/٤٦٧ و قال: صحيح الإسناد”.ووافقه الذهبي; وأحمد: ٢/١٣٣; قال الألباني في “السلسلة الصحيحة: ٢/٧٠٢ – إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات رجال البخاري غير العلاء بن عتبة و هو صدوق –‘আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-কে বলতে শুনেছি: আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি ‘ফিতনা সমূহের কথা আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার বেশির ভাগই ছিল ফিতনা নিয়ে। একসময় তিনি ‘ফিতনায়ে আহলাস’ -এর কথা বললেন। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ‘ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি বললেন: ওটা হল পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা)। এরপর হবে ‘ফিতনায়ে সাররা’ যার ধোঁয়া আমার আহলে-বায়েতের এক ব্যাক্তির পায়ের নিচ থেকে বেড় হবে। সে দাবী করবে যে, সে আমার (আহলে-বায়েতের) একজন। কিন্তু সে আমার কেউ নয়। আমার বন্ধু হল শুধুমাত্র মুত্তাকিগণ। এরপর লোকজন (এমন) এক ব্যাক্তির উপর সংঘবদ্ধ হবে, যেন পাঁজর (rib)-এর উপর নিতম্ব-হাড় (hip-bone)। এরপর হবে ‘ফিতায়ে-দুহাইমা’ (ঘন কালো অন্ধকারময় ফিতনা) যার চপেটাঘাতের পর চপেটাঘাত থেকে এই উম্মতের কেউ মুক্ত থাকবে না। যখন বলা হবে: (ওমুক ফিতনা) শেষ হয়ে গেছে, (তখন দেখা যাবে যে, তা আরো) বেড়ে গেছে। সেসময় (অবস্থা এমন হবে যে,) কোনো লোক সকালে মুমিন থাকবে, আবার (কোনো ফিতনায় ইমান নষ্ট করে) সন্ধায় হবে কাফের। (এভাবে) একসময় তারা দুটি তাবুতে বিভক্ত হয়ে যাবে। (একটি হচ্ছে) ইমানী-তাবু যার মধ্যে কোনো মুনাফেকী থাকবে না এবং (আরেকটি হল) মুনাফেকী-তাবু যার মধ্যে কোনো ইমান থাকবে না। যখন এমনটা হবে, তখন তোমরা দাজ্জালের অপেক্ষায় থেকো -সেই দিন (থেকেই) বা তার পরের দিন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪২; মুসতাদরাকে হাকিম-৪/৪৬৭; মুসনাদে আহমদ-২/১৩৩; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৯২]
ফায়দা: ফিতনায়ে সাররা’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটা হল মুসলমানদের মাঝে স্বচ্ছলতা, অপ্রতুল ধ্বনসম্পদ ও পার্থিব আরাম-আয়েশী জীবন লাভ করার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তনের ফিতনা। অনেকের মতে, মূল্যবান সব খনিজ পদার্থ (যেমন: তেল, কয়লা, স্বর্ণ ইত্যাদি)র কল্যানে আরব জাহানে যখন চড়ম স্বচ্ছলতার মৌসুমের সূচনা হয়, সেটাই ছিল ‘ফিতনায়ে সাররা‘র গিজা/উপাদান, যার পরিণতিতে আজ আরব জাহান হয়ে গেছে -নারী, মদ ও মাদক, অশ্লীলতার মোহড়া, জেনা-ব্যাভিচার, ধোকা প্রতারনা বাটপারী, সূদ, জুয়া এবং ইরাক ও সিরিয়া সহ পৃথিবীতে মুসলমানের রক্ত নিয়ে ধুমিয়ে ব্যবসা করার কেন্দ্র।
হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে যে, এই ‘ফিতনায়ে সাররা’র ধোঁয়া বেড় হবে এক আহলে-বাইত (ফাতেমা রা.-এর বংশধর সাইয়্যেদ) -এর দাবীদারের পায়ের নিচ থেকে। বলা বাহুল্য, একটা আখেরী জামানার ছোট বা মাঝারী আলামত বলে কথা। সুতরাং, এই ব্যাক্তি নিছক সাধারণ কোনো মানুষ কেউ নয়, বরং অবশ্যই বেশ পরিচিত Figure হবে। এই শেষ জামানার সেরকম কোনো সাইয়্যেদ’ হওয়ার দাবীদারকে এই হাদিসের সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য থেকে হওয়ার দাবীদা কেউ কেউ মনে করেন: (১) শরিফ হুসাইন বিন আলী, যিনি একজন সাইয়্যেদ এবং ব্রিটিশদের সাহায্য নিয়েছিলেন তৎকালীন আরবের হিযাযে ‘ওসমানী সালতানাত’ বিলুপ্ত করার জন্য। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের খাসলত অনুযায়ী ‘ওসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের পর তাদের সাথে প্রতারণা করে, (২) আব্দুল্লাহ (সাবেক বাদশাহ, জর্ডান; শরিফ হুসাইন বিন আলী’র পুত্র), যে একজন সাইয়্যেদ এবং দূর্ভাগ্যবসত: সে তুরষ্কের ‘ওসমানী সালতানাত’ ধ্বংসের জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল এই আশ্বাসের বদৌলতে যে তাকে আরব, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদির প্রধান বানানো হবে। কিন্তু এক প্যালেস্টানী তাকে খোদ বায়তুল মাকদিসের ভিতরে খুন করে। (৩) হুসাইন বিন তালাল (সাবেক বাদশাহ তালাল বিন আব্দুল্লাহ বিন শরিফ হুসাইনে’র পূত্র, জর্ডান), যে জায়োনিষ্ট ইসরাঈলদের সাথে হাত মেলায় এবং ৪০টিরও বেশি গোপন বৈঠকের কথা আল-জাজিরা’র ডকুমেন্টারীতে রয়েছে। (৪) সাদদাম হুসাইন (সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইরাক), যে নিজকে সাইয়্যেদ বলে দাবী করতো। অবশ্য তার এই দাবী খোদ একটি ইরাকী সাইয়্যেদ প্রতিষ্ঠান দাপ্তরীকভাবে নাকোচ করে দেয় (তবে কেউ কেউ মনে করেন যে, এই নাকোচটা রাজনৈতিক স্বার্থেও হতে পারে)। সাদ্দম কুয়েতে আক্রমন করার পরই আমেরিকা ইরাকে ঢোকার যুৎসই বাহানা পায় এবং এমন যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয় যার রেশ আজ ২০২০ ইং সালে এসেও শেষ হয়নি, বরং তা গোটা আরবকে এই ফিতনায় জড়িয়ে দিয়েছে, সাথে অনারব দেশগুলো এবং ইউরোপেও এর কঠিন প্রভাব পড়েছে। এই চার জনের মধ্যে কোনো একজনের দিকে হাদিসে ইশারা করা হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আল্লাহ’ই ভাল জানেন।
আমার মতে, আমরা এখন ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র সময় অতিক্রম করছি। ইরাকের পর সিরিয়া’য় সাধারণ মুসলমানদের সাথে যা হচ্ছে তা এদিকেই ইঙ্গীত করে। সেখানে পুরুষ, নারী, শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, বোমা মেড়ে বাড়ি-ঘর তছনছ করে দেয়া হয়েছে, খাবার আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাচ্চাদের অনেকে ঘাস-পাতা চিবিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। আর আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশু, কিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে। (আল্লাহ রক্ষা করুন)
আমার ধারনা, ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র রেশ সামনে আগমনকারী গিয়ে ফিতনায়ে-দাহমা’ (যার আলোচনা নিচের হাদিসটিতে রয়েছে) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে। যেমন: ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ستكون بعدي فتن منها فتنة الأحلاس يكون فيها حرب وهرب ثم بعدها فتن أشد منها ثم تكون فتنة كلما قيل انقطعت تمادت حتى لا يبقى بيت إلا دخلته ولا مسلم إلا صكته حتى يخرج رجل من عترتي . رواه نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٥, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص٣٣ رقم ٩٣: اسناده ضعيف – ‘অচিরেই আমার পর ফিতনা সমূহ হবে। ওগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিতনায়ে-আহলাস। ওর মধ্যে পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা হবে)। এর পরে (যে) ফিতনা সমূহ হবে, (সেটা হবে) তার চেয়েও কঠিন (এক ফিতনা)। এরপর একটি ফিতনা হবে, যখন বলা হবে- ‘(যাক, ফিতনাটি) কেটে গেল, তখন সেটা আরো বেড়ে যাবে। এমনকি (এর ক্রমধারায় অবস্থা এমন হবে যে,) এমন কোনো ঘর থাকবে না যার ভিতরে তা প্রবেশ করবে না এবং এমন কোনো মুসলমান হবে না যাকে সে চপেটাঘাত করবে না। এমনকি (শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা খতম করার জন্য) আমার বংশধরের মধ্য থেকে একজন বেড় হবেন, (যিনি হলেন আল-মাহদী)’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৯৫]
বিভিন্ন হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পর ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) হবে এবং তাঁর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। সে সময় মুমিনগণের তাবুতে অবস্থানকারী মুসলমানদের আমীর/দলপ্রধান থাকবেন ইমাম মাহদী। আর বে-ইমানদের তাবুতে থাকা জনমানুষ হবে মূলতঃ ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া কাফের, মুশরেক ও খাঁটি মুনাফেকরা। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুমিনগণ তুরষ্কের ইস্তাম্বুলকে তৎকালীন কাফেরদের হাত থেকে মুক্ত করার পর দাজ্জাল বেড় হবে, যেমনটা উপরের হাদিসে ইংগীত রয়েছে । الله اعلم بالصواب
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ ، ثُمَّ تَكُونُ الْخَامِسَةُ ، دَهْمَاءُ مُجَلَّلَةٌ ، تَنْشِّقُ فِي الْأَرْضِ كَمَا يَنْشَّقُ الْمَاءُ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف: ١٤/٥٠ رقم ٣٨٢٤٤ , اسناده حسن كما جاء في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لغالب بن محمد مهدلي : ص ٣٠٣ رقم ١٨٦ – ‘(প্রথমে একটি) ফিতনা হবে। তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (দ্বিতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (তৃতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। [এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (চতুর্থ ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়।-অনুবাদক] এরপর পঞ্চম (আরেকটি ফিতনা) দেখা দিবে, (ফিতনাটি হবে) দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার); এই (ফিতনাটি) এমনভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, যেমনিভাবে পানি (উপর থেকে নিচের দিকে যেদিকে পথ পায় তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে) ছড়িয়ে পড়ে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ১৪/৫০, হাদিস ৩৮২৪৪]
ফায়দা: উপরের হাদিসে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ বলতে যে ফিতনা বোঝানো হয়েছে, তার চাইতে গাঢ় ও ঘন অন্ধকারময় ফিতনা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার)। [মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী– ৪/৩৩৭; আন-নিহায়া, ইবনুল আছির- ২/১৪৬; মিরক্বাতুল মাফাতিহ, আলী ক্বারী– ১০/৩৫, কিতাবুল ফিতান] আখেরী জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, এই ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -এর শেষ পর্যায়ে ইমাম মাহদী রা.আবির্ভূত হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। এরপর সবচেয়ে ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টি করতে আসবে তারপর দাজ্জাল। الله اعلم بالصواب
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ ثَلَاثُ فِتَنٍ , الرَّابِعَةُ تَسُوقُهُمْ إِلَى الدَّجَّالِ , الَّتِي تَرْمِي بِالنَّشْفِ ، وَالَّتِي تَرْمِي بِالرَّضْفِ , وَالْمُظْلِمَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف, كِتَابُ الْفِتَنِ: ١٤/١٦ رقم ٣٨١٢٨, و اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٥١ رقم ١٤١; و نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٢; أبو نعيم في حلية الأولياء: ٢/٢٧٣ – ‘তিনটি ফিতনা হবে। (তারপর) চতুর্থ (ফিতনা)টি (লোক জনকে) দাজ্জালের (ফিতনার) দিকে পৌছিয়ে দিবে। (প্রথম ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। (দ্বিতীয় ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা। (তৃতীয় ফিতনাটি হবে এমন ঘন কালো) অন্ধকারময় (এক ফিতনা), যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা– ১৪/১৬, হাদিস ৩৮১৬৮; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ৯২ ; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম– ২/২৭৩]
ফায়দা: এই রেওয়ায়েতের একটি ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুসলীম উম্মাহ’র উপর এই উল্লেখযোগ্য চারটি ফিতনা ঘটবে, যার প্রথম পর্যায়ে নাশফ্-এর ফিতনা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো কঠিন রাযফ্-এর ফিতনা, তারপর তৃতীয় পর্যায়ে আরো কঠিনতর অন্ধকারময় ফিতনা (যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে) এবং সর্বশেষে চতুর্থ পর্যায়ে দাজ্জাল-এর ফিতনা হবে।
তবে আরো কিছু রেওয়াতের দিকে তাকালে অনুমিত হয় যে, এই হাদিসে চারটি ফিতনা বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেকার ফিতনা উদ্দেশ্য নয়, বরং শেষ জামানায় ঘটা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে নিয়ে ‘দাজ্জাল’ পর্যন্ত সময়কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, একেকটি ভাগকে একেকটি ফিতনা বলা হয়েছে, যার শেষ ভাগে দাজ্জাল বেড় হবে। যেমন ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসেম রহ. (মৃ: ২২৪ হি:) নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন- أتتكم الدهيماء ترمي بالنشف ثم التي تليها ترمي بالرضف . رواه أبو عبيد القاسم بن سلام الهروي في غريب الحديث: ٢/٢٣٢ – তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। এর পরে আসবে রাযফ্ (অগ্নী শীলা)-এর নিক্ষেপন’। [গারিবুল হাদিস, ইমাম আবু উবায়েদ- ২/২৩২] এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয় যে, প্রথম পর্যায়ে ফিতনায়ে দুহাইমা হবে, তারপর নাশাফ (কালো পাথর) দিয়ে নিক্ষেপ, তারপর রাযাফ (অগ্নী শীলা) দিয়ে দিয়ে নিক্ষেপ করার মতো ফিতনা হবে।
এই মতের সমর্থন আসকারী রহ. (মৃ: ৩৮২ হি:)-এর আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়েত দ্বারা হয়, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বলা হয়েছে যে- اتَتْكُمُ الدُّهَيْمَاءُ ، قَالَهَا ثَلاثًا ، تَرْمِي بِالنَّشَفِ ، وَالثَّانِيَةُ : تَرْمِي بِالرَّضْفِ ، وَالثَّالِثَةُ : سَوْدَاءُ مُظْلِمَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، قَتْلاها قَتْلَى جَاهِلِيَّةٍ . خرجه العسكري في تصحيفات المحدثين: ص ٣٢٧ تحقيق: محمود أحمد ميرة ; و الدوري في ’تاريخ ابن معين، عن عمر بن راشد عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه: ١/٣٣٥ رقم ٢١٢٦, تحقيق: د. أحمد محمد نور سيف . – ‘তিনি ﷺ তিনবার বললেন: তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় বারে রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। তৃতীয়ত পর্যায়ে ঘন কালো অন্ধকার (রূপে এক ফিতনা আগমন করবে যা) কেয়ামত পর্যন্ত (সময়ের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান থাকবে। সে সময়) জাহেলিয়াতের হত্যার ন্যায় হত্যা (সংঘটিত) হবে’। [তাসহিকাতুল মুহাদ্দিসীন, আসকারী- ১/৩২৭; তারিখে ইবনে মুয়াইয়েন– ১/৩২৭] আমার কাছে এই শেষোক্ত ব্যাখ্যাটিই মনে ধরে এবং আমি মনে করি, এই চারটি ফিতনার শুরু হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে এবং এর রেশ ফিতনায়ে দাজ্জাল পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে।
রেওয়ায়েত গুলিতে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে تَرْمِي بِالنَّشَفِ – নাশফ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। النَّشْفُ (নাশফ্)-এর এক অর্থ কালো পাথড় যা দিয়ে হাম্মামে গা পরিষ্কার করা হয়। [তাজুল আরুস– ২৪/৪০৬, আল-ফায়েক- ১/৪২২] আমি অর্থ করেছি ‘কালো পাথড়’। আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে النَّشْفُ (নাশফ্ /কালো পাথড়) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো যুদ্ধাস্ত্রের বুলেট বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে যত্রতত্র বুলেটের গুলিতে মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশু রক্ত ঝড়ানোর মতো তুলনামূল ছোট ফিতনা শুরু হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ترمي بالرضف – রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। الرَّضْفُ (রাযফ্)-এর এক অর্থ আগুনে গরম/দগ্ধ হওয়া পাথর/শীল। আমি অর্থ করেছি অগ্নী শীলা। [আল-ফায়েক- ১/৪২২, ৪৮০] আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে الرَّضْفُ (রাযফ্/অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো মিসাইল জাতীয় অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে বুলেটের রেশ মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আরো কঠিন ফিতনার দিকে ঠেলে দিবে, যেখানে শুধু বুলেট নয়, সাথে আকাশ থেকে ড্রন ফাইটার প্লেন দিয়ে এবং পাতাল থেকে ট্যাঙ্ক ও কামান দিয়ে বোম-শেল, মিসাইল ইত্যাদি দিয়ে মুসলমানদের বাড়িঘর, কলকারখানা, হাসপাতাল সব ধ্বংস করে দেয়া হবে, লাশের পর লাশ পড়ে থাকবে ইত্যাদি।
বর্তমানকার ইরাক ও সিরিয়ায় যা হচ্ছে, তার শুরু কিভাবে হয়েছে এবং এখন কোন পর্যায় অতিক্রম করছে -তার ডকুমেন্টারীগুলোর সাথে শেষ জামানার বিভিন্ন হাদিসগুলোকে মিলিয়ে চিন্তা করে দেখুন, দেখবেন হাদিসগুলোর ইঙ্গিত এদিকেই করা হয়েছে বলে অনুমিত হয়। এটা শুধু আমার মত নয়, বিশ্বের বহু সচেতন আলেমে দ্বীন তা-ই মনে করেন। الله اعلم بالصواب
# অালী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- جُعِلَتْ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَمْسُ فِتَنٍ : فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ تَأْتِي الْفِتْنَةُ الْعَمْيَاءُ الصَّمَّاءُ الْمُطْبِقَةُ الَّتِي تَصِيرُ النَّاسُ فِيهَا كَالْأَنْعَامِ . رواه والحاكم في المستدرك على الصحيحين ,كتاب الفتن والملاحم: ٤/٦٠٢ رقم ٨٤١٧ و قال:هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ ، و وافقه الذهبي في “تلخيصه ; و عبد الرزاق في “مصنفه: ١١/٣٥٦ رقم ٢٠٧٣٣; – ‘এই উম্মতের মধ্যে পাঁচটি (উল্লেখযোগ্য) ফিতনা হবে: (১) আম/ব্যাপক ফিতনা, (২) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা, (৩) তারপর আম/ব্যাপক ফিতনা, (৪) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা। এরপর (পঞ্চম পর্যায়ে) আসবে বধিরতাপূর্ণ অন্ধকারময় আচ্ছন্নকারী (একটি) ফিতনা, যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন (গৃহপালিত) চতুষ্পদ প্রাণির মতো (অসহায় ও নির্বাক) হয়ে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬০২ হাদিস ৮৪১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৫২ হাদিস ২০৭৩৩]
ফায়দা: ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বা রহ. নিজ সনদে এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে চতুর্থ ফিতনা’র পর রয়েছে: ، ثُمَّ فِتْنَةً تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ ، يُصْبِحُ النَّاسُ فِيهَا كَالْبَهَائِمِ .رواه ابن أبي شيبة في “مصنفه: ١٥/٢٤ رقم ١٩٠٠٤, اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٦٩ رقم ١٥٥; و الحاكم: ٤/٤٣٧ – এরপর (পঞ্চম একটি) ফিতনা হবে, (যা) সাগরের (উত্তাল) ঢেউয়ে (অন্ধ ও বধিরের মতো কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া (র মতো এক আচ্ছন্নকারী ফিতনা), যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন গৃহপালিত জানোয়ারের মতো ভেসে বেড়াবে’ । [মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/২৪ হাদিস ১৯০০৪; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৩৪৭]
এখানে পঞ্চম ফিতনা বলতে সম্ভবতঃ ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -উভয় ফিতনাকে এক সাথে একই ফিতনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পঞ্চম ফিতনা’র প্রথম দিকটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং শেষ দিকটা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’, যা অধিকতর কঠিন হবে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب
# আবু হুরায়রাহ রা. রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ . رواه في سننه, كتاب الفتن والملاحم, باب ذكر الفتن ودلائلها: رقم ٤٢٤٩, اسناده صحيح كما في المرقاة : ١٠/٣٦ رقم ٥٤٠٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। যে ব্যক্তি (ওই ফিতনা থেকে) তার হাত’কে সরিয়ে রাখবে, সে সফলকাম হবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৩৪৪]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ يَنْقُصُ الْعِلْمُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ الْقَتْلُ . أخرجه أحمد في المسنده, باقي مسند المكثرين , مسند أبي هريرة رضي الله عنه : ٢/٥٣٦ ; قال حمزه احمد الزين : ٩/٦٠٦ رقم ١٠٨٦٨: اسناده صحيح ; و ابو يعلي في المسنده: ٥/٥٠٩ رقم ٦٦١٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। ইলমকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ব্যাপক ভাবে হারাজ হবে’। বলা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ! হারাজ কি’? বললেন: ‘কতল’। [মুসনাদে আহমদ- ২/৫৩৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা– ৫/৫০৯ হাদিস ৬৬১৪]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]
# আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . احمد في مسنده : ٢/٢١٢ , قال أحمد شاكر في تحقيقه : ٦/٣٢٩ رقم ٦٩٨٠ : إسناده صحيح ; رواه أبو داود ايضا في سننه , كتاب الفتن والملاحم , باب في كف اللسان : ٤/٤٦٠ رقم ٤٢٦٥ و قال رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ الأَعْجَمِ ، و الترمذي في سننه : ٢١٧٨ و ابن ماجه في سننه : ٣٩٦٧ – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো) নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]
ফায়দা: শেষ জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, আখেরী জামানায় আরবদের উপরে যে ফিতনা’টি আপতিত হওয়ার ইশারা রয়েছে, সেটাই হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’, যার মধ্যে ‘হারাজ’ (তথা মুসলীম উম্মাহ’র একে অপরের মধ্যে হত্যা) সংঘটিত হবে। এই শেষ জামানায় এসে গোটা পৃথিবী -বিশেষ করে ‘আরব জাহান’ তথা ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইয়ামেন, কাতার, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কুয়েত, মিশর, জরদান, লেবানন ও হাবশাভুক্ত আরব দেশগুলো এজাতীয় খুনাখুনির যে বিষবাষ্প বৃষ্টি করেছে, বহু বিজ্ঞ সচেতন আলেমের মতে এটা ফিতনায়ে দুহাইমা’র একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আমি এব্যাপারে সহমত পোষন করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এটাই সেই ফিতনা এবং এই ফিতনাটি’র রেশ সামনে আগমনকারী ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে, হাদিসের ইশারা-ইংগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]
ফায়দা: আমার মতে, এই ‘হারাজ’ হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে ঘটে যাওয়া আরব জাহানে মুসলীম উম্মাহ’র পরষ্পরের মাঝে ব্যাপক হারে ঘটে যাওয়া সব খুনখারাবি গুলো। তবে অন্যান্য আরব-অনারব দেশগুলোতে যেসব দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও হাদিসে বর্ণিত হারজ-এর মধ্যে গণ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال علمها عند ربي لا يجليها لوقتها الا هو ولكن أخبركم بمشاريطها وما يكون بين يديها فتنة وهرجا قالوا يا رسول الله الفتنة قد عرفناها فالهرج ما هو قال بلسان الحبشة القتل ويلقى بين الناس التناكر فلا يكاد أحد أن يعرف أحدا .اخرجه الإمام أحمد: ٥/٣٨٩ ; قال الهيثمي في “مجمع الزوائد”: ٧/٣٠٩ – ورجاله رجال الصحيح – ‘(একবার) রাসুলুল্লাহ ﷺকে কেয়ামত সম্পর্ক জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন: এর জ্ঞান (শুধুমাত্র) আমার রবের কাছে আছে; তিনি ছাড়া এর সময়-ক্ষন প্রকাশ করে দেয়ার (দ্বিতীয়) কেউ নেই। তবে আমি তোমাদেরকে এর কিছু আলামত ও লক্ষনের খবর দিচ্ছি। এর আগে আগে (প্রকট অন্ধকারময়) ফিতনা এবং হারজ হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফিতনা (কী -তা)তো অামরা চিনে নিয়েছি, তবে এই ‘হারজ’টা কি? তিনি বললেন: হাবশী ভাষায় কতল (খুনাখুনি’কে বলা হয় হারজ), যা একে-অপরকে ঘৃনাকারী জনমানুষের মাঝে নিক্ষেপীত হবে। তখন (এমন হবে যে, তাদের) একজন আরেকজনের একেবারে কাছে গিয়েও তাকে চিনতে পারবে না (যে, সে তার মুসলীম ভাই বা বোন, যাদেরকে হত্যা করা হারাম। সে শুধু এতটুকু উপলব্ধি করবে যে, অমুক তার বিপক্ষবাদী, তাই তাকে হত্যা করতে হবে মনে করে হত্য করে ফেলবে)। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৯]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتَنٌ ، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ ، وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنْ السَّاعِي ، وَمَنْ يُشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ ، وَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب المناقب , بَابُ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ فِي الإِسْلَامِ : رقم ٣٦٠١ ، و مسلم في الصحيح : رقم ٢٨٨٦ – “শঘ্রিই (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা সমূহ হবে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। যে ব্যাক্তি (এর ভয়াবহতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে) ওর দিকে চোখ তুলে তাকাবে, সেটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। (সে জামানায়) যে ব্যাক্তি (কোনো) ঠিকানা (Refuge) কিংবা নিরাপদালয় পেয়ে যায়, সে যেন তাতে আশ্রয় নেয়”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০১; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৮৬]
# আবু বকরাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ : أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا . أَلَا ، فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ ، فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ ؟ قَالَ : يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ، ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ قَالَ : فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى يُنْطَلَقَ بِي إِلَى أَحَدِ الصَّفَّيْنِ ، أَوْ إِحْدَى الْفِئَتَيْنِ ، فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ ، أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي ؟ قَالَ : يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ ، وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٨٨٧ , وأبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم : رقم ٤٢٥٦ , و أحمد في مسنده : ٥/٤٨ , و رجالهما رجال الصحيح – “নিশ্চই অচিরেই (বেশ) কিছু ফিতনা হবে। শুনে রাখো, অত:পর (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা হবে। তাতে বসে থাকা ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং হেটে চলা ব্যাক্তি তার দিকে দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে’। সাবধান! যখন তা নাজিল হবে বা (বাস্তবে) ঘটবে, তখন যার (নিজের) উট থাকবে, সে যেন তার উটকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার ভেড়া থাকবে, সে যেন তার ভেড়াকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার জমি থাকবে, সে যেন তার জমিকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সে জামানায়) যার উট, ভেড়া, জমি (কিছুই) থাকবে না, তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন’? তিনি বললেন: ‘সে তার তরবারী (অস্ত্র)’র কাছে যাবে, তারপর সে সেটার ধারাল অংশকে পাথড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলবে। অত:পর সে যথাসম্ভব কোনো নিরপদস্থলে আশ্রয় নিবে। হে আল্লাহ, আমি কি (তোমার বার্তা আমার উম্মতের কাছে) পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছ ‘? তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি (ফিতনায় লিপ্ত দলগুলোকে) ঘৃনা করি, (কিন্তু) শেষ পর্যন্ত দু’ সারির কোনো এক সারিতে কিংবা দু’দলের কোনো একদলের দিকে আমাকে (জোর করে) টেনে নিয়ে যায়, তারপর আমাকে (তাদের) এক ব্যাক্তি তার তরবারী দিয়ে আঘাত করে কিংবা (কারোর নিক্ষেপিত) তীর (আমার দিকে ধেয়ে) আসে, ফলে সে আমাকে হত্যা করে ফেলে’? তিনি বললেন: ‘(এমতাবস্থায় যে তোমাকে হত্যা করবে), সে তার (নিজের) গোনাহ এবং তোমার (জীবনের কৃত) গোনাহ (উভয়টাই) বহন করবে এবং সে হবে দোযখের অধিবাসী”। [সহিহ মুসলীম– ৪/২২১২ হাদিস ২৮৮৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৬; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪৮; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩০৮ হাদিস ৩৯৫৮]
# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ، النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمُضْطَجِعِ، وَالْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَاعِدِ، وَالْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنِ الْقَائِمِ، وَالْقَائِمُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي، وَالْمَاشِي خَيْرٌ مِنَ الرَّاكِبُ، وَالرَّاكِبُ خَيْرٌ مِنَ الْمُجْرِي، قَتْلاهَا كُلُّهَا فِي النَّارِ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: ” ذَلِكَ أَيَّامَ الْهَرْجِ “، قُلْتُ: وَمَتَى أَيَّامُ الْهَرْجِ؟ قَالَ: ” حِينَ لا يَأْمَنُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ ” قَالَ: فَبِمَ تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ الزَّمَانَ؟ قَالَ: ” اكْفُفْ نَفْسَكَ وَيَدَكَ وَادْخُلْ دَارَكَ ” قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَيَّ دَارِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ بَيْتَكَ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَيَّ بَيْتِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ مَسْجِدَكَ، وَاصْنَعْ هَكَذَا ” فَأَتَى بِيَمِينِهِ عَلَى الْكُوعِ، وَقُلْ: ” رَبِّيَ اللَّهُ، حَتَّى تَمُوتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه عبد الرزاق في مصنفه:١١/٣٥٠ رقم ٢٠٧٢٧, و الحاكم فى المستدرك:٣/٣٩٣ رقم ٥٤٦٥ و وقال: “صحيح الإسناد ولم يخرجاه “، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة:١/٣٤ ; و أحمد في مسنده:١/٤٤٨ رقم٤٢٨٦, والطبراني فى المعجم الكبير:١٠/٩; الخطابي في العزلة: ١/١٨ رقم ١١ و قال العراقى: إسناده عند الخطابي انقطاع; و نعيم بن حماد فى الفتن: ص ٧٨; و ابن عساكر في تاريخ مدينة دمشق:٦٢/٣٣٦ رقم ١٢٨٥٥; صححه الألباني فى السلسلة الصحيحة: رقم ٣٢٥٤– ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, (সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এমন) ফিতনা হবে যে, (তাতে) ঘুমন্ত ব্যাক্তি (বিছানায় জেগে জেগে) শুয়ে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, শুয়ে থাকা ব্যাক্তি বসে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি আরোহীত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, আরোহী ব্যাক্তি (বাহনকে নিয়ে) চালিত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। (সেই ফিতনা’য়) কতল হওয়া প্রত্যেকেই দোযখে যাবে। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন: সেটা হবে হারজ-এর দিনগুলোতে। আমি জেজ্ঞেস করলাম: হারজ-এর দিনগুলো কখন হবে? তিনি বললেন: যখন একজন ব্যাক্তি তার পাশে বসা ব্যাক্তি থেকেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম: আমি যদি সেই জামানা পাই তাহলে আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি (যথাসম্ভব তোমার) নিজকে ও তোমার হাতকে (মানুষজনের বিষয়াবলি থেকে) বাঁচিয়ে রাখবে এবং তোমার বাড়িতে ঢুকে পড়বে (জরুরত ছাড়া বাড়ির সীমানার বাইরে বেড়ুবে না)। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! যদি কোনো ব্যাক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে তুমি তোমার ঘরে ঢুকে পড়বে। তিনি বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সে যদি আমার ঘরে ঢুকে পড়ে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে (তোমার ঘরের) নামাযের স্থানে ঢুকে পড়বে এবং এরকম করবে (-একথা বলে) তিনি তাঁর ডান হাতকে কব্জির উপর রাখলেন। আর বলবে: আল্লাহ আমার রব। (এটা করবে,) যাবত না এর উপরই তোমার মৃত্যু হয়। (তবুও প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে যাবে না)’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৫০ হাদিস ২০৭২৭; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৯২ হাদিস ৫৪৬৫; আল-উযলাহ, খাত্তাবী- ১/১৮ হাদিস ১১; মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১০/৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৭৮ পৃ:; তারিখে দামেশক, ইবনে আসাকীর- ৬২/৩৩৬ ক্র:নং ১২৮৫৫]
# আবু যর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ وَمَوْتًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى يُقَوَّمَ الْبَيْتُ بِالْوَصِيفِ؟ – يَعْنِي الْقَبْرَ – قُلْتُ: مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ – أَوْ قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ – قَالَ: تَصَبَّرْ، قَالَ: كَيْفَ أَنْتَ، وَجُوعًا يُصِيبُ النَّاسَ، حَتَّى تَأْتِيَ مَسْجِدَكَ فَلَا تَسْتَطِيعَ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى فِرَاشِكَ، وَلَا تَسْتَطِيعَ أَنْ تَقُومَ مِنْ فِرَاشِكَ إِلَى مَسْجِدِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ – أَوْ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ – قَالَ: عَلَيْكَ بِالْعِفَّةِ ثُمَّ قَالَ: كَيْفَ أَنْتَ، وَقَتْلًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى تُغْرَقَ حِجَارَةُ الزَّيْتِ بِالدَّمِ؟ قُلْتُ: مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ، قَالَ: الْحَقْ بِمَنْ أَنْتَ مِنْهُ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا آخُذُ بِسَيْفِي، فَأَضْرِبَ بِهِ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ، قَالَ: شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا، وَلَكِنِ ادْخُلْ بَيْتَكَ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ دُخِلَ بَيْتِي؟ قَالَ: إِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ، فَأَلْقِ طَرَفَ رِدَائِكَ عَلَى وَجْهِكَ، فَيَبُوءَ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ، فَيَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ . اخرجه ابن ماجه في سننه , كتاب الفتن , بَاب التَّثَبُّتِ فِي الْفِتْنَةِ : رقم ٣٩٥٨ و صححه الألباني في صحيح ابن ماجه ، وأحمد في مسنده : ٢١٣٢٥ و صححه محققو المسند على شرط مسلم ، وابن حبان في صحيحه : ٦٦٨٥ ; أبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم : ٤٢٦١، – “হে আবু যর! (তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) লোকজন (ফিতনা ফ্যাসদের মাঝে পাইকারী হারে) মড়তে থাকবে, এমনকি (তখন অবস্থা এমন হবে যে, একটি) ঘর -তথা কবর(-এর সমান জায়গার জন্য তার মূল্য)কে গোলামের (দামের) সাথে সমন্বয় করে নেয়া হবে’! আমি বললাম: ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন), অথবা তিনি বলেছেন: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন’। তিনি বললেন: ‘তুমি সবর করো’। (আবার) বললেন: ‘(তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) মানুষজন (ভীষন) ভোগন্তিতে পড়বে, এমনকি তুমি (নামায ও আল্লাহ’র স্মরণের জন্য জন্য) তোমার মসজিদে আসবে, কিন্তু (সেখান থেকে) তোমার না বিছানায় ফিরে যাওয়ার সামর্থ হবে, আর না তুমি তোমার বিছানা থেকে দাঁড়িয়ে তোমার মসজিদের দিকে যাওয়ার সামর্থ রাখবে। আমি বললাম: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন’ অথবা ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন)’। তিনি বললেন: ‘(তখন) তুমি (শরীয়তের যাবতীয়) নিষিদ্ধ-বিষয় থেকে বিরত থাকাকে নিজের উপরে অপরিহার্য করে নিও’। অত:পর বললেন: ‘(তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) লোকজন (গণ হারে) নিহত হবে, এমনকি (এতে করে) ‘হিজারাতুয-যাইত’ (মানুষের) রক্তে ডুবে যাবে’! আমি বললাম: ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন)’। তিনি বললেন: ‘তুমি (আজ) যাদের, (সে সময়ও) তাদের সাথেই যুক্ত থেকো’। আবু যর রা. বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (ওই অবস্থার মুকাবেলা করার জন্য) আমি কি আমার তরবারী ধারন করবো না? তখন যারা সেটা ঘটাবে, আমি তাদেরকে (আমার তরবারী দিয়ে) আঘাত করবো’! (একথা শুনে) তিনি বললেন: ‘তাহলে তখন তুমিও ওই গোষ্ঠির (পাপের) সাথে শরীক হয়ে যাবে। বরং তুমি (তখন) তোমার ঘরে প্রবেশ করবে’। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন যদি (কেউ আমাকে হত্যার জন্য খোদ) আমার ঘরে প্রবেশ করে’? তিনি বললেন: ‘যদি তোমার এই ভয় হয় যে, (ওই ব্যাক্তির) তরবারীর ঝলকানী তোমার চোখ ধাঁদিয়ে দিবে, তাহলে তুমি তোমার চাদরের কিনারাকে তোমার মুখের উপরে রেখে দিও, (তবুও তাকে হত্যা করার জন্য তোমার তরবারী বের করবে না)। সে (যদি তখন তোমাকে হত্যা করে, তাহলে সে) তার নিজের পাপ এবং তোমার পাপ (দুটোই কেয়ামতের দিন) বহন করবে। পরে সে হবে দোযখের অধিবাসী”। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৫৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২১৩২৫; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৬৮৫]
# খালেদ বিন উরফুতাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন– يَا خَالِدُ إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي أَحْدَاثٌ وَفِتَنٌ وَاخْتِلَافٌ فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ عَبْدَ اللَّهِ الْمَقْتُولَ لَا الْقَاتِلَ فَافْعَلْ . أخرجه أحمد في مسنده :٥/٢٩٢ ; و الحاكم في مستدركه : ٣/٢٨١ , ٤/٥١٧ وقال الألباني في إرواء الغليل ٨/١٠٤: سكت عنه الحاكم والذهبي، وعلي بن زيد هو ابن جدعان، سئ الحفظ لكن الأحاديث التي قبله تشهد له; و أخرجه ايضا الطبراني في المعجم الكبير: رقم ٤٠٩٩ ; قال الهيثمي: ٧/٣٠٢ : رواه احمد و البزار والطبراني و فيه علي بن زيد، وفيه ضعف، وهو حسن الحديث، وبقية رجاله ثقات – “হে খালেদ! নিশ্চই আমার পর অচিরেই নতুন নতুন বিষয়, ফিতনা সমূহ ও বিরোধ হবে। তখন যদি খুনী না হয়ে আল্লাহ’র এক মৃত বান্দা হওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই হয়ো, (তবুও মুসলমানের রক্তে নিজ হাতকে রঞ্জিত করো না)’। [মুসনাদে আহমদ- ৫/২৯২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/২৮১, ৪/৫১৭; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী ৪০৯৯; আল-আহাদ ওয়াল মাছনা, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৬৪৬; মা’রিফাতুস সাহাবাহ, আবু নুআইম, হাদিস ২৪৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০২; আদ-দুররুল মানসুর, সুয়ূতী- ২/৪৮৭]
# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ . أخرجه البخاري في الأدب المفرد : رقم ١١٨ ; و ذكره الديلمي في مسند الفردوس : ٣/١٦٨ ; إسناده جيد كما في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣١٨٥ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না -যাবৎ না কোনো ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে, তার ভাইকে এবং তার পিতাকে হত্যা করে ফেলে’। [আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী, হাদিস ১১৮; মুসনাদে ফিরদাউস, ইমাম দাইলামী- ৩/১৬৮]
ফায়দা: এমন ঘটনা ঘটবে কেয়ামতের আগে অগে; মানে শেষ জামানায়। যেমন, উসায়েদ বিন মুতাশাম্মাস বিন মুআবিয়া-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু মুসা আল-আশআরী রা. বলেছেন- ليكونن من أهل الإسلام بين يدي الساعة الهرج والقتل حتى يقتل الرجل جده وابن عمه وأباه وأخاه . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن : ١/٣٠ رقم ١١ – “নিশ্চই কেয়ামতের আগে আগে মুসলমানদের (মধ্যে) থেকে হারাজ ও ক্বতল সংঘটিত হবে। এমন কি (সে সময় এই ফিতনায় নিমজ্জিত) ব্যাক্তি তার দাদা’কে, তার চাচাতো ভাইকে, তার পিতাকে এবং তার ভাইকে পর্যন্ত হত্যা করে ফেলবে ”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/৩০ হাদিস ১১; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী, হাদিস ৩১৩৭৭]
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَيِّ شَيْءٍ قَتَلَ، وَلَا يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ قُتِلَ . رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨; و الدانى فى السنن الواردة في الفتن وغوائلها والساعة وأشراطها: ٢٢٠ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, মানুষের উপর অবশ্যই এমন এক জামানা আসবে, যখন (এমনও হবে যে,) একজন খুনি জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ২২০]
ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই খুন বলতে ‘হারজ’ উদ্দেশ্য। অবশ্য পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও এই হাদিসের উদ্দেশ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا، حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ، وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: الْهَرْجُ، الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ. رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যাবৎ না মানুষের উপর এমন দিন আসে যে, একজন হত্যাকারী জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। তখন বলা হল: সেটা কিভাবে হবে? তিনি বললেন: হারজ (হবে। আর তাদের মধ্যে) হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮]
ফায়দা: ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন- بيَّنَ هذا الحديث أن القتال إذا كان على جهل من طلب دنيا ، أو اتباع هوى ، فهو الذي أريد بقوله : القاتل والمقتول في النار -এই হাদিসটি বলছে যে, যখন (কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক বিবেকপ্রসূত) মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিতিতে (কোনো) পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়, তখন সেটা (হয়ে দাঁড়ায় মানুষ হত্যাকান্ডের পাপ), যার দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ – ‘হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১৩/৩৪] যেমন: আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَكِلَاهُمَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِيلَ فَهَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب إذا التقى المسلمان بسيفيهما: ٤/٣١٧ رقم ٧٠٨٣ — ‘যখন (হত্যা করার উদ্দেশ্যে) দুজন মুসলমান তাদের তরবারী নিয়ে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়, তখন তাদের দুজনই দোযখের অধিবাসীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল: এটা-তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নিহত ব্যাক্তির উপর কেনো আরোপিত হল? তিনি বললেন: (কারণ) সেও ওই ব্যাক্তিকে হত্যা করার ইচ্ছায় ছিল’। [সহিহ বুখারী- ৪/৩১৭ হাদিস ৭০৮৩]
ইমাম নববী রহ. বলে- وأما كون القاتل والمقتول من أهل النار فمحمول على من لا تأويل له ، ويكون قتالهما عصبية ونحوها – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখবাসী হবে -এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের (হত্যাকান্ডটির স্বপক্ষে শরয়ীসম্মত কোনো) ব্যাখ্যা নেই, (বরং তারা কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক তাদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তেতি কোনো পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ডে জড়িত হয়)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের লড়াই বা হত্যাকান্ডটি হবে আসাবিয়াত (এলাকাপ্রীতি, জাতিপ্রীতি, গোত্রপ্রীতি) জাতীয় (পাপ)। [শারহু মুসলীম, নববী- ১৮/১৫]
এক কথায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল ﷺ-এর মাধ্যমে যে অবস্থায় যার সাথে যে শর্ত সাপেক্ষে জিহাদ/কিতাল করার কিংবা কাউকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা বাদে সকল প্রকার যুদ্ধ, দাঙ্গা, হত্যাকান্ডের প্রতিটি একেকটা ‘ফিতনা’ কিংবা ফ্যাসাদের অংশ বৈ নয়।
মুসলমানরা পরষ্পরে এরকম ফিতনা-ফ্যাদসাদে আজ জর্জরিত, আরব-অনারব কেউ বাকি নেই। কেউ হত্যাযজ্ঞে জড়িত হচ্ছে মানুষের রক্তের উপর বিজনেস করার জন্য, কেউ দেশ বা জাতিপ্রীতির জন্য, কেউ ইসলাম- বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য, আর কেউ-বা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরপরাধ মানুষের গলা কেটে মুজাহিদ সাজার জন্য, আর বুক ফুলিয়ে তাতে মাড়া যাওয়া লোকদেরকে বলছে ‘শহিদ’ !!!!
‘বুক ফুলিয়ে’ কথাটি এজন্য বললাম যে, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানের উপর সন্তুষ্ট এবং গৌরবাহ্নিত বোধ করে থাকে যে, তারা খুব ভাল কাজ করছে। কিন্তু আসলে শরীয়তের সহিহ ইলম না থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা যে অবস্থায় যার সাথে যেভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা খুন-খারাবি’তে লিপ্ত হওয়াকে বৈধ মনে করে বসে আছে, সে অবস্থায় ওসব কাজ আল্লাহ’র দৃষ্টিতে বৈধ নয়। উপরের হাদিসে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে- حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ – এমন কি (তখন) তোমাদের কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। الله اعلم بالصواب
# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ. يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيْهَا مُؤْمِناً وَيُمْسِي كَافِراً. أَوْ يُمْسِي مُؤْمِناً وَيُصْبِحُ كَافِراً. يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا – ‘তোমরা আমলের ব্যাপারে যত্নবান হও। (কারণ তোমাদের সামনে) ফিতনা সমূহ হবে; (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। অথবা সন্ধা হবে মুমিন অবস্থায় এবং সকাল হবে কাফের অবস্থায়। সে দুনিয়ার (সামান্য) কোনো গরজে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১১৮; জামে’ তিরমিযী, হাদিস ২১৯৫; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/৯৬ হাদিস ৬৭০৪]
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ . رواه الترمذي, أبواب الفتن: حديث رقم ٢٢٦٠ , اسناده ضعيف و لكن هذا حديث صحيح لشواهده كما صححه الألباني في السلسلة الصحيحة: ٢/٦٨٢ رقم ٩٥٧; قال الحافظ : وقال الترمذي قاله البخاري مقارب الحديث كذا في تحفة الأحوذي – ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন একজন ধৈর্যশীল ব্যাক্তির পক্ষে তার দ্বীনের উপর (কায়েম হয়ে) থাকাটা জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখনেওয়ার মতো (মনে) হবে’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৬০]
# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; (এমন ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা সমূহ ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস– ৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]
ফায়দা: উপরে উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের হাদিসটি ইংগীত করে যে, এই অবস্থা হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে থাকা মুসলমানদের মধ্যে। সম্ভবতঃ কাফের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে তাদের উপর জেঁকে বসা অসহনীয় জুলুম-অত্যাচারের কারণে তারা কখনো মুমিন থাকবে আবার কখনো কাফের হয়ে যাবে। অাবার ইমান বিরোধী আক্বীদা গ্রহন করা কিংবা জাহালাত ও বিবেকশুন্য উগ্রতার জোসে আল্লাহ’র হারামকৃত মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও আব্রু’কে হালাল মনে করার কারণেও কাফের হয়ে যেতে পারে (যেমনটা ইমাম হাসান বসরী রহ. বলেছেন)।
আমার মতে, এই ফিতনাটি এখন বিশেষ করে সিরিয়ায় শুরু হয়ে গেছে। উপরে বলে এসেছি যে, সেখানে আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশু, কিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এত অত্যাচারের মাঝে ইমান কি করে তারা রক্ষা করবে? এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে, যেটাকে হাদিসে ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ বলা হয়েছে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب
# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ، وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ، وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ، فَإِنْ دُخِلَ – يَعْنِي – عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ، فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ . رواه أبو داود, كتاب الفتن والملاحم , باب في النهي عن السعي في الفتنة: رقم ٤٢٥٩ و صححه الألباني في “صحيح أبي داود: ٣/١١ ; و الترمذي: ٢٢٠٤ ; وابن ماجة: ٣٩٦١ صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة: رقم ٣٩٦١ – ‘নিশ্চই কেয়ামতের আগে আগে (এমন) ফিতনা সমূহ হবে, যেন রাতের (ঘনকালো) অন্ধকারের টুকড়া। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। আবার সন্ধায় মু’মিন থাকলে সকালে হয়ে যাবে কাফের। (তখন) বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙ্গে ফেলো, ধনুকের তারটিকে কেটে দিও এবং তোমাদের তরবারীকে পাথড় দিয়ে নষ্ট করে ফেলো। তখন কেউ যদি প্রবেশ করে -অর্থাৎ তোমাদের কারো কাছে আসে- তাহলে অবশ্যই আদমের দুই পুত্রের মধ্যে সর্বোত্তম জনের মতো হয়ে যেও’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৯; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬১]
# সা’দ বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ . رواه البخاري في صحيحه, كتاب الفتن. باب التعرب في الفتنة. رقم ٧٠٨٨; و النسائي: ٥٠٣٦; و ابن ماجة: ٣٩٨٠; و مالك في موطأ: ١٨١١; أحمد: ١٠٨٦١ – ‘অচিরেই (এমন জামানা আসবে) যে, (তখন দ্বীন নিয়ে মানব সমাজে বসবাস করা অনেক দ্বীনদার মুসলমানরে জন্য আগুনের কয়লা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখার মতো সুকঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তখন) মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ হবে (তার) বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের উঁচু স্থানে চলে যাবে এবং (বেঁচে থাকার মতো দানা) পানির ব্যবস্থা থাকা। সে (ধেয়ে আসা ঘন কালো অন্ধকারময়) ফিতনা সমূহ থেকে (বাঁচার জন্য) তার দ্বীনকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০৮৮; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫০৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৮০; মুআত্তা, ইমাম মালেক, হাদিস ১৮১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১০৮৬১]
ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র তাহক্বিক/গবেষনা মতে, বিংশ শতকে বসে আমরা ইরাক ও সিরিয়ায় সর্বজন ঘৃনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস/দায়েশদ’দের দ্বারা যে ‘হারাজ’ ও ফিতনা হতে দেখছি, সেটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র প্রথম বা মাঝামাঝি পর্যায়। ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র শেষ ভাগের শুরুতে যখন মুসলমান নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে পাইকারী হারে কতল করা শুরু হবে, সম্ভবতঃ তখন মুমিন মুসলমানদের মধ্যে যারা দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে পাহাড়ের পাড়ে বা গুহায় কিংবা গুপ্ত কোনো আশ্রয়ে যেতে সমর্থ হবে, তাদের কথা বলা হচ্ছে।
ইমাম আবু সুলইমান খাত্তাবী রহ. (মৃ: ২৮৮ হি:) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجُشَمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ , قَالَ : حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لا يَسْلَمُ لِذِي دِينٍ دِينُهُ إِلا مَنْ فَرَّ بِدِينِهِ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَى قَرْيَةٍ , وَمِنْ شَاهِقٍ إِلَى شَاهِقٍ , وَمِنْ جُحْرٍ إِلَى جُحْرٍ كَالثَّعْلَبِ الَّذِي يَرُوغُ ” , قَالُوا : وَمَتَى ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : إِذَا لَمْ تُنَلِ الْمَعِيشَةُ إِلا بِمَعَاصِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ , فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ حَلَّتِ الْعُزُوبَةُ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَقَدْ أَمَرْتَنَا بِالتَّزَوُّجِ ؟ قَالَ : ” لأَنَّهُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ كَانَ هَلاكُ الرَّجُلِ عَلَى يَدَيْ أَبَوَيْهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَبَوَانِ فَعَلَى يَدَيْ زَوْجَتِهِ وَوَلَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ زَوْجَةٌ وَلا وَلَدٌ فَعَلَى يَدَيْ قَرَابَتِهِ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” يُعَيِّرُونَهُ بِضِيقِ الْمَعِيشَةِ فَيَتَكَلَّفُ مَا لا يُطِيقُ حَتَّى يُورِدَهُ مَوَارِدَ الْهَلَكَةِ . رواه أبو سليمان الخطابي فى العزلة, بَابُ : مَا جَاءَ فِي الْعُزْلَةِ:١/١٠ رقم ٩; قال الحافظ العراقي في “تخريج أحاديث الإحياء: ١/٣٧١ : ذكره الخطابي في “العزلة” من حديث ابن مسعود، والبيهقي في “الزهد” نحو من حديث أبي هريرة وكلاهما ضعيف – ‘অবশ্যই মানুষের উপর (এমন একটি) জামানা আসবে, (যখন বদদ্বীনীর কারণে দ্বীন মতো চলা এত কঠিন হয়ে যাবে যে), দ্বীনদার ব্যাক্তির জন্য তার দ্বীনকে নিয়ে শিয়ালের কৌশলে পালানোর ন্যায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক চুড়া থেকে অন্য চুড়া’য় এবং এক পাহাড়ী-গুহা থেকে অন্য পাহাড়ী-গুহা’য় পালিয়ে ফেরা ছাড়া (কেউ তার দ্বীনকে) নিরাপদে রাখতে পারবে না। জিজ্ঞেস করা হল: সেটা কখন হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: যখন (উপার্জনের উপায়-উপকরণের মধ্যে নাজায়েয বিষয় এত ব্যপকভাবে জড়িত থাকবে যে, তখন) আল্লাহ তাআলা’র (অসন্তুষ্টি ও) ক্রধ ব্যতীত আয়-রোজগার করা যাবে না। যখন এরকম জামানা হবে, তখন অবিবাহীত থাকাকে হালাল করে নিবে। বলা হল: সেটা কেমন করে হতে পারে -ইয়া রাসুলাল্লাহ, অথচ আপনি আমাদেরকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন!? তিনি বললেন: কারণ, যখন সেই জামানাটি আসবে, তখন পুরুষ তার পিতা-মাতার হাতে বরবাদ হয়ে যাবে। যদি সে তার পিতা-মাতার হাতে (বরবাদ) না হয়, তাহলে সে তার স্ত্রী ও সন্তানের হাতে (বরবাদ হবে)। যদি তার স্ত্রীর হাতেও না হয়, সন্তানের হাতে না হয়, তাহলে সে তার আত্বীয়-স্বজনের হাতে (বরবাদ হবে)। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (সেটা) কেমন করে হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ বললেন: তারা তাকে (সামাজিকতার খাতিরে ভাল মানের) আয়-রোজগার করার জন্য কঠর পরিশ্রম করতে জোড়াজুড়ি করতে থাকবে, পরে তারা তার উপর (এমন মানুষিক ও সামাজিক) বোঝা চাপিয়ে দিবে, যা সে ধারন করতে পারবে না। অবশেষে সে (অর্থকড়ি উপার্জনের জন্য নাজায়েয ও) বরবাদীর উপকরনাদির দিকে ধাবিত হবে’। [আল-উযলাহ, ইমাম খাত্তাবী– ১/১০ হাদিস ৯; আল-যুহদুল কাবীর, বাইহাকী, হাদিস ৪৪৫] الله اعلم بالصواب
# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بَكْمَاءُ عَمْيَاءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كَوُقُوعِ السَّيْفِ . رواه أبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم , باب في كف اللسان : ٤/٤٦٠ رقم ٤٢٦٤ و سكت عنه و قد قال في رسالته لأهل مكة كل ما سكت عنه فهو صالح ، و احمد في مسنده : ٥/٤٠٦، و الطبراني في المعجم الأوسط : رقم ٨٧١٧، ضعفه الألباني في تخريج سنن أبي داود – “শঘ্রিই বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী (ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা হবে। যে ব্যাক্তি (এর ভয়াবহতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে) ওর দিকে চোখ তুলে তাকাবে, সেটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। (সে সময়) এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান চালনা -তরবারীর আঘাতের মতো (শক্তিশালী ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে”। [সুনানে আবু দাউদ– ৪/৪৬০ হাদিস ৪২৬৪; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪০৬]
# সালেম বিন আবিল-যা’দ -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, মুয়ায বিন জাবাল রা. এরশাদ করেন- إذا رأيتم الدم يسفك بغير حقه والمال يعطى على الكذب وظهر الشك و التلاعن وكانت الردة فمن استطاع أن يموت فليمت . رواه نعيم بن حماد المروزي في الفتن: ١/٧٥ رقم ١٥٩ و قال مجدي بن منصوربن سيد الشوري : ص ٤٦ رقم ١٥٧ : اسناده حسن موقوف، و ، اورده المتقي في كنز العمال : ١١/٢٣٦ رقم ٣١٣٦١ – “তোমরা যখন দেখবে, না-হক্ব ভাবে (মানুষের) রক্ত প্রবাহিত করা হচ্ছে, ধ্বানমাল মিথ্যার উপরে প্রদান করা হচ্ছে, (দ্বীন ইসলামের ব্যাপারে মানুষের) সন্দেহ-সংশয়, (একে অন্যকে) অভিশাপ দেয়া এবং (মুসলীম উম্মাহ’র মধ্যে) রিদ্দাহ (তথা দ্বীন ত্যাগ ঢালাও ভাবে) প্রকাশ পেয়ে গেছে, তখন যার জন্যে (আল্লাহ’র রাস্তায় দ্রুত) মড়ে যাওয়া সম্ভব সে যেন মড়ে যায়”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ: ১/৪০; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী– ১১/২৩৬ হাদিস ৩১৩৬১; জামেউল আহাদিস, ইমাম সুয়ূতী- ৩৮/৬০ হাদিস ৪১০৫৭]
# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب، موتوا إن استطعتم . رواه الحاكم في المستدرك : ٤/٤٣٩ و قال: صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه ، و وافقه الذهبي في تلخيصه كذا في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ١/٢٧، و الداني في السنن الواردة في الفتن : ١/٢٦٦ رقم ٥٣ – “আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (ঘন কালো অন্ধকারময়) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। তোমাদের সম্ভব হলে তোমরা (তার আগেই) মড়ে যেও”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৩৯; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী- ১/২৬৬ হাদিস ৫৩]
ফায়দা: এই হাদিসের উদ্দেশ্য কাউকে আত্বহত্যা করার অনুমতি দেয়া নয়, বরং উদ্দেশ্য হল ওই জামানার ফিতনার ভয়াবহতা বর্ণনা করা যে, ইমান টিকিয়ে রাখা এতটাই কঠিন হবে যে, সে সময় বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যুই উত্তম হবে। الله اعلم بالصواب
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لتغشين أمتي بعدي فتن يموت فيها قلب الرجل كما يموت بدنه . رواه نعيم بن حماد في الفتن : رقم ١١٥ ; ضعفه الألباني في ضعيف الجامع : ٤٦٥٧ – “আমার পরে অবশ্যই আমার উম্মত (রাতের ঘন কালো অন্ধকারের মতো ভয়ঙ্কর) ফিতনা সমূহে আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। সে সময় মানুষের অন্তর এমন ভাবে মড়ে যাবে যেভাবে তার শরীর মড়ে (পঁচে নি:শ্বেস হয়ে) যায়”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১১৫; কানজুল উম্মাল- ১১/১৩৪]
ফায়দা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- أخاف عليكم فتنا كأنها الليل؛ يموت فيها قلب الرجل كما يموت بدنه . رواه نعيم بن حماد في الفتن : – “আমি (আখেরী জামানায়) তোমাদের (মুসলমানদের) উপরে (আগত সেই) ফিতনা সমূহকে ভয় করি, যা রাতের (ঘন কালো অন্ধকারের) মতো (আবির্ভূত হবে)। সে সময় মানুষের অন্তর এমন ভাবে মড়ে যাবে যেভাবে তার শরীর মড়ে (পঁচে নি:শ্বেস হয়ে) যায়”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১১৭; জামেউল জাওয়ামি, ইমাম সুয়ূতী- ১৫/২২৬ হাদিস ১৩৪২২; কানজুল উম্মাল– ৬/১১৩ হাদিস ৩১৪২৪]
কেয়ামতের আলামত ও ফেতনা ফাসাদ সম্পর্কে মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ৩
# সামুরাহ বিন যুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يُوشِكُ أَنْ يَمْلَأَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَيْدِيَكُمْ مِنْ الْأَعَاجِمِ ثُمَّ يَجْعَلُهُمْ اللَّهُ أُسْدًا لَا يَفِرُّونَ فَيَقْتُلُونَ مُقَاتِلَتَكُمْ وَيَأْكُلُونَ فَيْئَكُمْ . رواه أحمد في مسنده , أول مسند البصريين , ومن حديث سمرة بن جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم : ٥/٦١، قال احمد شاكر في تحقيقه : ١٥/١٦٠ رقم ٢٠١٢٣ : اسناده صحيح، قال شعيب الأرنؤوط في تحقيقه :رقم ٢٠٢٥٩ : إسناده ضعيف من أجل عنعنة الحسن البصري ; و رواه ايضا الحاكم في المستدرك : ٤/٥٦٤، له شاهد في المعجم الأوسط للطبراني , بَابُ الْمِيمِ مَنِ اسْمُهُ: مُحَمَّدٌ : ٥/٢٤٦ رقم ٥٢١٥ : من طريق عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مرفوعا – “অচিরেই আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলা তোমাদের (মুসলমানদের) হাতকে আ’জামদের/অনারবদের থেকে (প্রাপ্ত ধ্বনসম্পদ দ্বারা) ভরিয়ে দিবেন। অত:পর আল্লাহ ও(ই অনারব)দেরকে পৃথিবীর উপরে কর্তৃত্ব করার জন্য এমন) সিংহ (স্বরূপ) বানিয়ে দিবেন (যে) তারা (যদ্ধের ময়দান থেকে তোমাদের ভয়ে) পালায়ন করবে না। (কারণ, সে জামানায় তোমরা মুসলমানরা সমূদ্রের ঢেউয়ে ভাসমান নেকড়ার মতো হালকা হয়ে যাবে, তোমাদের না থাকবে ইমানী ত্বাকাত, না থাকবে হায়বাত)। ফলে তারা তোমাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করবে, আর তোমাদের ‘ফাই’ খাবে”। [মুসনাদে আহমদ– ৫/৬১; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫৬৪; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৫/২৪৬ হাদিস ৫২১৫]
ফায়দা: আমার মতে, এই হাদিসে- يُوشِكُ أَنْ يَمْلَأَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَيْدِيَكُمْ مِنْ الْأَعَاجِمِ – “অচিরেই আল্লাহ তাবারাক ওয়া তাআলা তোমাদের (মুসলমানদের) হাতকে আ’জামদের/অনারবদের থেকে (প্রাপ্ত ধ্বনসম্পদ দ্বারা) ভরিয়ে দিবেন”-এর মধ্যে الْأَعَاجِمُ – (অনারব’রা) বলতে মূলত: সাহাবায়ে কেরাম রা. কর্তৃক রোম ও পারস্য বিজয় এবং তাদের থেকে প্রাপ্ত ধ্বনসম্পদ মুসলমানদের করতলগত হওয়ার দিকে বিশেষ ভাবে ইংগীত করে। অবশ্য রোম ও পারস্য ছাড়াও গোটা পৃথিবীর যতদূর পর্যন্ত মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার প্রসার ঘটেছিল তার অধিনস্ত সকল অনারব দেশও এই হাদিসের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
আমার মতে, এই হাদিসে- ثُمَّ يَجْعَلُهُمْ اللَّهُ أُسْدًا لَا يَفِرُّونَ فَيَقْتُلُونَ مُقَاتِلَتَكُمْ وَيَأْكُلُونَ فَيْئَكُمْ – “অত:পর আল্লাহ ও(ই অনারব)দেরকে পৃথিবীর উপরে কর্তৃত্ব করার জন্য এমন) সিংহ (স্বরূপ) বানিয়ে দিবেন (যে) তারা (যদ্ধের ময়দান থেকে তোমাদের ভয়ে) পালায়ন করবে না। (কারণ, সে জামানায় তোমরা মুসলমানরা সমূদ্রের ঢেউয়ে ভাসমান নেকড়ার মতো হালকা হয়ে যাবে, তোমাদের না থাকবে ইমানী ত্বাকাত, না থাকবে হায়বাত)। ফলে তারা তোমাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করবে, আর তোমাদের ‘ফাই’ খাবে”-এর যেসকল الْأَعَاجِمُ – (অনারব’দের)কে ‘সিংহ’ বানিয়ে দিবেন বলা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্ভবত: এযুগের পশ্চিমা দেশগুলো, যেমন: আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স সহ বিভিন্ন অনারব দেশগুলো, যারা আজ আরব দেশগুলোর নাকে দড়ি দিয়ে ইচ্ছে মতো চড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, ইরাক সিরিয়া লেবানন ইয়েমেন ফিলিস্তিনের মতো আরব দেশগুলোর মুসলমান যোদ্ধাদেরকে হত্যা করছে এবং আরব দেশগুলোতে বসে তাদেরই ধ্বনসম্পদ খেয়ে চলেছে। হাদিসটিতে বলা হয়েছে- يَأْكُلُونَ فَيْئَكُمْ – “তারা তোমাদের ফাই খাবে”। দুই ধরনের জিনিসকে শরীয়তের পরিভাষায় ‘ফাই’ (الفَيْءُ) বলে অবিহিত করা হয়ে থাকে: (১) স্বশস্ত্র জিহাদের সময় কাফেররা বিনা যুদ্ধে তাদের ধ্বনসম্পদ ফেলে পালিয়ে গলে উক্ত গণীমতকে ‘ফাই’ বলা হয়, (২) ইসলামী রাষ্ট্রের কোথাও এমন ভূ-গর্ভস্ত খনিজ সম্পদকেও ‘ফাই’ বলা হয়, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আমানত স্বরূপ থাকে, যা জনগণের উপরার্থে ব্যবহারযোগ্য। আমার মতে, ‘ফাই’ বলতে এখানে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মুসলমানদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সম্পদও উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার তাদের দেশগুলোতে বিদ্যমান ভূ-গর্ভস্ত খনিজ সম্পদক গুলোও উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন: খনিজ তেল, গ্যাস সোনা, ধাতব পদার্থ ইত্যাদি। আজ পর্যন্ত আমেরিকা তো টিকেই আছে সৌদির তেলের সাথে ডলারের চক্কর চালিয়ে। ওসমানী সালতানাত হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই মুসলমানদের উপরে পশ্চিমারা সিংহ হয়ে উঠেছে।
এখানে এই সিংহ’দের সম্পর্কে যে বলা হয়েছে- لَا يَفِرُّونَ – “তারা (যদ্ধের ময়দান থেকে তোমাদের ভয়ে) পালায়ন করবে না” -তার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই হাদিসে। হযরত সওবান রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- يُوشِكُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ الْأُمَمُ مِنْ كُلِّ أُفُقٍ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ عَلَى قَصْعَتِهَا ” , قَالَ : قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَمِنْ قِلَّةٍ بِنَا يَوْمَئِذٍ ؟ قَالَ : ” أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ ، وَلَكِنْ تَكُونُونَ غُثَاءً كَغُثَاءِ السَّيْلِ يَنْتَزِعُ الْمَهَابَةَ مِنْ قُلُوبِ عَدُوِّكُمْ ، وَيَجْعَلُ فِي قُلُوبِكُمْ الْوَهْنَ ” , قَالَ : قُلْنَا : وَمَا الْوَهْنُ ؟ قَالَ : ” حُبُّ الْحَيَاةِ ، وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ . أخرجه أحمد في مسنده بإسناد جيّد: ٥/٢٧٨, رقم , و أبو داود في سننه رقم ٤٢٩٧ , أبو نعيم في حلية الأولياء ١/١٨٢, البيهقي في دلائل النبوة ٦/٥٣٤, الهيثمي في مجمع الزوائد ٧/٢٨٧ – ‘অচিরেই প্রত্যেক প্রান্তের জাতিসমূহ তোমাদের (মুসলমানদের) বিরুদ্ধে (অবস্থান নেয়ার জন্য) একে অপরকে ডাক দিবে, যেভাবে তোমরা খাওয়ার মাদুরের উপর বিদ্যমান খাবারের দিকে একে অপরকে ডেকে থাকো। হযরত সওবান বলেন: আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেদিন আমরা (মুসলমানরা) কি সংখ্যায় কম হবো? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, তবে তোমরা হবে ভাসমান খড়কুটোর মতো। তোমাদের দুশমনের অন্তর থেকে (তোমাদের প্রতি) গুরুত্ব উঠে যাবে। আর তোমাদের অন্তরগুলোর ভিতরে ওয়াহন জন্মে যাবে। হযরত সওবান বলেন: আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ওয়াহন কি জিনিস’? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘(আখেরাতের বিপরীতে পার্থীব) জীবনকে ভালবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা’। [মুসনাদে আহমাদ- ৫/২৭৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৭; হিলইয়া, আবু নুআইম-১/১৮২; দালায়েলুন নাবুয়াত, বাইহাকী- ৬/৫৩৪; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, হাইছামী- ৭/২৮৭] الله اعلم بالصواب
# ইসমাঈল বিন উবাইদুল্লাহ’র সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুর রহমান বিন গনম আল-আশআরী রহ. বলেন- قَالَ لِي أَبُو الدَّرْدَاءِ: كَيْفَ تَرَى النَّاسَ؟ قُلْتُ: بِخَيْرٍ إِنَّ دَعْوَتَهُمْ وَاحِدَةٌ وَإِمَامَهُمْ وَاحِدٌ، وَعَدُوَّهُمْ مَنْفِيٌّ، وَأُعْطِيَاتِهُمْ وَأَرْزَاقَهُمْ دَارَّةٌ، قَالَ: فَكَيْفَ إِذَا تَبَاغَضَتْ قُلُوبُهُمْ، وَتَلَاعَنَتْ أَلْسِنَتُهُمْ، وَظَهَرَتْ عَدَاوَتُهُمْ، وَفَسَدَتْ ذَاتُ بَيْنِهِمْ، وَضَرَبَ بَعْضُهُمْ رِقَابَ بَعْضٍ . رواه الحاكم في المستدرك على الصحيحين , كتاب الفتن والملاحم : ٤/٥٢٤ ، وقال هذا حديث صحيح الاسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٨٨٧ ، و ايضا الإمام الحافظ أبو الحسن أحمد بن سليمان بن أيوب بن عبد الله بن حذلم في جزء من حديث الأوزاعي: ص ٥ رقم ٨ و صححه المحقق مسعد السعدني أبو عبد الرحمن و شريف بن أبي العلا العدوي – “(একবার সাহাবী) আবু দারদা রা. আমাকে বললেন: ‘আপনি (আমাদের এ জামানায়) মানুষজন’কে (ইমান আমলে) কেমন (অবস্থায়) দেখতে পাচ্ছেন’? আমি বললাম, ‘ভালো অবস্থায়(ই-তো দেখতে পাচ্ছি। কারণ বর্তমানে) তাদের আহবান(-এর মূল ক্ষেত্র) একটাই (আর সেটা হল এক আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের দিকে আহবান, তদুপরি গোটা মুসলীম জাহানে) তাদের ইমাম (খলিফা)ও একজনই (রয়েছেন), তাদের দুশনরাও (এখন) প্ররাস্ত/প্রতিহত, রাষ্ট্র তাদেরকে (প্রয়োজনীয়) অনুদান ও জীবিকা-সামগ্রী প্রদান করছে’। (একথা শুনে) আবু দারদা রা. বললেন: ‘তখন (মুসলমানদের) কেমন অবস্থা হবে, যখন তাদের অন্তরগুলো খলতমলত হয়ে যাবে, তাদের জবানগুলো পরষ্পরকে লা’নত দিবে, তাদের পরষ্পরের মাঝে দুশমনী সৃষ্টি হয়ে যাবে, তাদের পরষ্পরের মাঝে ফ্যাসাদ দেখা দিবে এবং তাদের একগোষ্ঠি আরেক গোষ্ঠির গর্দান উড়াবে’।? [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৫৬৯ হাদিস ৮৫৯৬; জুয মিন হাদিসি আওয়ায়ী, ইমাম ইবনু হাযলাম- ১/৯ হাদিস ৮]
# আবু তুফায়েলের সূত্রে.বর্ণিত হয়েছে, হুযাইফা রা. বলেছেন- أَنَا لِغَيْرِ الدَّجَّالِ أَخْوَفُ عَلَيَّ وَعَلَيْكُمْ ، قَالَ: فَقُلْنَا: مَا هُوَ يَا أَبَا سَرِيحَةَ؟ قَالَ: فِتَنٌ كَأَنَّهَا قِطَعُ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، قَالَ: فَقُلْنَا: أَيُّ النَّاسِ فِيهَا شَرٌّ؟ قَالَ: كُلُّ خَطِيبٍ مِصْقَعٍ، وَكُلُّ رَاكِبٍ مُوضِعٍ، قَالَ: فَقُلْنَا: أَيُّ النَّاسِ فِيهَا خَيْرٌ؟ قَالَ: كُلُّ غَنِيٍّ خَفِيٍّ، قَالَ: فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِالْغَنِيِّ وَلَا بِالْخَفِيِّ، قَالَ: فَكُنْ كَابْنِ اللَّبُونِ لَا ظَهْرَ فَيُرْكَبَ، وَلَا ضَرْعَ فَيُحْلَبَ . رواه الحاكم في المستدرك , , ذكر العلامات الخاصة للدجال : ٤/٥٢٩ رقم ٨٦١٢ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه و قال الذهبي في التلخيصه : علي شرط البخاري و المسلم ، و عبد الرزاق في مصنفه : ١١/٣٩٤ رقم ٢٠٨٢٧، وصححه الألباني في كتاب قصة المسيح الدجال ص ١٠٦ – “দাজ্জাল বাদে অন্য কিছুকে আমি আমার ও তোমাদের উপরে (মন্দ ফিতনা আকারে আপতিত হওয়ার) বেশি ভয় করি’। আবু তুফায়েল বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘হে আবু সারিহাহ (হুযাইফা), কী সেটা’? তিনি বললেন: ‘(মুসলীম উম্মাহ’র উপরে ঘন কালো অন্ধকারময় এমন) ফিতনা সমূহ (আপতিত হবে, যার একেকটা) যেন অন্ধকারময় রাতের (একেকটা) ফালি (খন্ড/অংশ)’। আবু তুফায়েল বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘সে সময়ে কোন (ধরনের) লোকজন মন্দ হবে’? তিনি বললেন: كُلُّ خَطِيبٍ مِصْقَعٍ – ‘প্রত্যেক চৌকুশ বক্তা’ এবং كُلُّ رَاكِبٍ مُوضِعٍ – ‘প্রত্যেক মাঠমাড়ানো আরোহী ব্যাক্তি’। আবু তুফায়েল বলেন, তখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘সে সময়ে কোনো (ধরনের) লোকজন উত্তম হবে’? তিনি বললেন: ‘كُلُّ غَنِيٍّ خَفِيٍّ – ‘প্রত্যেক গণী (অমুকাপেক্ষি) খফী (গুপ্ত/লুকায়ীত) ব্যাক্তি, (যারা ফিতনা থেকে নিরাপদ দূরুত্বে থাকার কষ্ট সহ্য করে হলেও স্বল্প হালালেই তুষ্ট থাকবে, এবং ফিতনাবাজ কাফের-মুনাফেক দিয়ে ভরা সমাজের সামনে আসা থেকে নিজেদেরকে যথাসম্ভব আড়াল করে রাখতে পারবে)। আবু তুফায়েল বলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘আমি তো অমুকাপেক্ষিও নই, গুপ্তও নই’। তিনি বললেন: ‘তাহলে তুমি এমন উটনী-সাবকের মতো হয়ে যাও, যার না আছে (উপযুক্ত শক্ত) পিঠ (যার উপরে কেউ) আরোহন কর(তে যা)বে, আর না আছে (দুধের) ওলান (বা বোটা, যা দ্বারা কেউ) দুধ ছেঁক(তে যা)বে”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫৩০; আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৯৪ হাদিস ২০৮৬৭]
ফায়দা: আরবী শব্দ خطيب (খতীব) অর্থ হল ‘বক্তা’ বা ‘বক্তব্য উপস্থাপনকারী’ এবং مِصْقَع (মিসক্বা’) অর্থ হল ‘চৌকুশ/পটু/মাহের/দক্ষ’। আমি خَطِيب مِصْقَع -এর অর্থ করেছি ‘চৌকুশ বক্তা’। ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী (মৃ: ৩৮৮ হি:) রহ. বলেন- الخطيب المصقع هو الَّذِي لا يرتج عليه ولا يتتعتع في كلامه يريد بالخطيب الداعي إلى الفتنة وأصله من الصقع وهو رفع الصوت ومتابعته – “(মূলত:) الخطيب المصقع – (খতীবে মিসক্বা’ বা চৌকুশ বক্তা) হল এমন (সুভাষি, সাবলীল ও বাকপটু) ব্যাক্তি যার কথা আটকায় না এবং যার কথায় জড়তা/আড়ষ্টতা বিরাজ করে না। (এই হাদিসের মধ্যে) ‘খতীব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ফিতনার দিকে আহবানকারী (চৌকুশ বক্তা)। (আরবী) الْمِصْقَعُ (মিসক্বা’) শব্দটি মূলত: الصقع থেকে নির্গত; সে এমন ব্যাক্তি যার কন্ঠস্বর উচ্চ/ভরাটে এবং তার কথায় আকর্ষনী-ক্ষমতা রয়েছে, (যা শ্রতার মনমস্তিষ্ককে তার তার কথার দিকে একাগ্র করে নেয়)”। [গারিবুল হাদিস, ইমাম খাত্তাবী- ২/৪৯৯] এই হাদিসে خَطِيب مِصْقَع (চৌকুশ বক্তা) বলতে সম্ভবত: এমন বক্তার দিকে ইশারা করা হয়েছে, যে তার আকর্ষনীয় কন্ঠ, বাচনভঙ্গি, উপস্থাপনা ও হৃদয়গ্রাহী যুক্তি দ্বারা মানুষকে বিভিন্ন ফিতনা’র দিকে আহবান করবে। এরকম একজন চৌকুশ বক্তার যুৎসই নমুনা হল ‘শেখ মুজিবুর রহমান’; সে বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের মাঝে আবাসিয়্যাত (জাতপাত), সেকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ) ও সোসালিজম (সমাজতন্ত্র)-এর যে দুর্গন্ধময় ফিতনার আবর্জনা এনে খাইয়ে দিয়েছে, তার মারাত্মক বিশ-ক্রিয়া গোটা দেশের মানুষের মনমগজকে অন্ধ করে দিয়েছে।
আর, আরবী শব্দ راكب (রাকিব) অর্থ ‘আরোহী ব্যাক্তি’ (- চাই উট বা ঘোড়া বা গাধার মতো কোনো প্রাণীর উপরে আরোহীত হোক কিংবা অন্য কোনো বাহনের উপরে)। আর موضع (মুওয়াযে’)-এর অর্থ সম্পর্কে ইমাম খাত্তাবী রহ. বলেছেন- الموضع: المسرع في الفتنة الساعي فيها يُقَالُ: أوضع الراكب إيضاعا – “(এই হাদিসে বর্ণিত) موضع (মুযে’) হল (এমন তৎপর ব্যাক্তি) যে ফিতনার মধ্যে দ্রুত/তড়িত পা মাড়িয়ে চলে। বলা হয়: أوضع الراكب إيضاعا – ‘আরোহী দ্রুত দৌড়ে গেল’। [গারিবুল হাদিস, ইমাম খাত্তাবী- ২/৪৯৯] এই হাদিসে সম্ভবত: যারা ফিতনা’কে প্রচার ও প্রসার করার জন্য বিভিন্ন ভাবে তৎপর থাকে, ময়দান গরম করে, প্রত্যক্ষ সাপোরর্টে নামে, ফিতনাটিকে যে কোনো রকমের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করার দায়িত্ব পালন করে, একাজের এজেন্টগীরী/দালালীতে লাগে ইত্যাদি, তাদের দিকেই ইশারা করা হয়েছে। আমাদের দেশীয় আঞ্চলীক পরিভাষায় এধরনের তৎপর ব্যাক্তিকে বলা হয় ‘মাঠমাড়ানো ব্যাক্তি’। এজন্য আমি এখানে رَاكِبُ الْمُوَضِع (রাকিবে মুওয়াযে’) -এর অর্থ করেছি ‘মাঠমাড়ানো আরোহী’। এখানেও আবাসিয়্যাত (জাতপাত), সেকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ), ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র), কমিউনিজম (সাম্যবাদ), সোসালিজম (সমাজতন্ত্র), ফেমিনিজম (নারীবাদ), ওয়ান ওয়ার্ল্ড রিলিজন (একক বিশ্ব ধর্ম) ইত্যাদি জঘন্য ফিতনাগুলোর কথাই চিন্তা করুন, এবং চোখ-কান খুলে ভেবে দেখুন গোটা বিশ্বে এসকল ফিতনার প্রচার ও প্রসার করার কাজে তৎপর বিভিন্ন মিডিয়া, সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের কর্মিবাহিনী, ময়দান গরমকারী বাহিনী, এদের এজেন্ট/দালাল বাহিনী, প্রত্যক্ষ সাপোরর্টে নামা আম পাবলিক, ফিতনাকে যে কোনো রকমের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া থেকে হেফাজত করা বা চিকিৎসা/মেরামত করায় তৎপর বাহিনী -এরাও رَاكِبُ الْمُوَضِع (রাকিবে মুওয়াযে’ বা ‘মাঠমাড়ানো আরোহী’-এর মধ্যে গণ্য। الله أعلم بالصواب
# ইয়াযিদ বিন আসাম সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হুযাইফা রা. বলেছেন- أَتَتْكُمَ الْفِتَنُ مِثْلَ قِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يَهْلِكُ فِيهَا كُلُّ شُجَاعٍ بَطَلٍ , وَكُلُّ رَاكِبٍ موْضِعٍ , وَكُلُّ خَطِيبٍ مِصْقَعٍ . رواه ابن أبي شيبة في مصنفه , كتاب الفتن : ٢٢/٣٥ رقم ٣٨٢٨٠ ، فيه يزيد بن أبي زباد , و هو الكوفي ضعيف – “(অচিরেই) তোমাদের (মুসলমানদের) কাছে (এমন এমন) ফিতনা সমূহ আসবে, (যার একেকটা হবে) অন্ধকার রাতের ফালি (অংশ/খন্ড)’র মতো (কালো)। তার মধ্যে বরবাদ হয়ে যাবে كُلُّ شُجَاعٍ بَطَلٍ – ‘প্রত্যেক সাহসী/নির্ভিক মুখ্য-ব্যাক্তি’, كُلُّ رَاكِبٍ موْضِعٍ – ‘প্রত্যেক মাঠমাড়ানো আরোহী ব্যাক্তি’, এবং كُلُّ خَطِيبٍ مِصْقَعٍ – ‘প্রত্যেক চৌকুশ বক্তা”। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৩৫ হাদিস ৩৮২৮০; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী- ১১/২২৫ হাদিস ৩১৩১৪]
ফায়দা: আরবী শব্দ شُجَاع – (শুযা’)-এর বিভিন্ন অর্থ হয়, যেমন: দু:সাহসী, নির্ভিক বা যে ব্যাক্তি ধৈর্যহারা হওয়ার সতো বিপদের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত ও অবিচল থাকে ইত্যাদি। আরবীতে بَطَل (বাত্বাল) শব্দ’টিও বিভিন্ন অর্থে ব্যাক্ত ব্যবহৃত হয়, যেমন: সাহসী, নির্ভিক, বিপদের সামনা করতে প্রথমে অগ্রসর হয় -এমন সাহসী, তারকা (hero), কোনো বক্তব্য বা কাজের মুখ্য কর্মী/খেলারী (the chief performer or player) ইত্যাদি। এই হাদিসের অর্থ বোঝার জন্য আপনি -সমাজের চোখে পরার মতো ওই সকল নেতা/ উপনেতা/পাতিনেতা/তারকা/মুখ্য ব্যাক্তি’দের কথা চিন্তা করে দেখুন, যারা সমাজে বিভিন্ন ফিতনার ধারকবাহক হয়ে তা প্রচার ও প্রসার করার কাজে মুখ্য ভূমিকা রাখে বা প্রধান কাতারে থেকে সাহসীকতার সাথে অবদান রাখে। الله اعلم بالصواب
# যায়েদ বিন ওয়াহহাব রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হুযাইফা রা. এরশাদ করেন- وُكِّلَتِ الْفِتْنَةُ بِثَلَاثٍ: بِالْجَادِّ النِّحْرِيرِ الَّذِي لَا يُرِيدُ أَنْ يَرْتَفِعَ لَهُ مِنْهَا شَيْءٌ إِلَّا قَمَعَهُ بِالسَّيْفِ، وَبِالْخَطِيبِ الَّذِي يَدْعُو إِلَيْهِ الْأُمُورَ، وَبِالشَّرِيفِ الْمَذْكُورِ، فَأَمَّا الْجَادُّ النِّحْرِيرُ فَتَصْرَعُهُ، وَأَمَّا هَذَانِ الْخَطِيبُ وَالشَّرِيفُ فَتَحُثُّهُمَا حَتَّى تَبْلُوَ مَا عِنْدَهُمَا . رواه نعيم بن حماد في الفتن : ١/١٤٢ رقم ٣٥٢ بإسناد صحيح، أخرجه ابن أبي شيبة في مُصنفه , كِتَابُ الْفِتَنِ : ٢٢/٤٢ رقم ٣٨٢٩٠، و أحمد في الزهد : ٢/١٣٦، و الداني في السنن الواردة: ١/٢٢٩ رقم ٢٨، و أبو نعيم في الحلية : ٢/٢٧٤ بإسناد صحيح كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ١/٢٥ – “নিশ্চই ফিতনার ওকালতী (প্রতিনিধিত্ব) হয় (বিশেষ ভাবে) তিন (ধরনের ব্যাক্তির) দ্বারা। (১) بِالْجَادِّ النِّحْرِيرِ الَّذِي لَا يُرِيدُ أَنْ يَرْتَفِعَ لَهُ مِنْهَا شَيْءٌ إِلَّا قَمَعَهُ بِالسَّيْفِ – “(এমন) পরিশ্রমী প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ (ব্যাক্তি)’র দ্বারা, যার সামনে কোনো কিছু উত্থিত হলে সে সেটাকে (নমনীয় রাস্তা পরিহার করে বরং) তরবারী দিয়ে দমন করা ছাড়া অন্য কোনো (ভাবে সমাধানের) ইচ্ছা পোষন করে না’, (২) بِالْخَطِيبِ الَّذِي يَدْعُو إِلَيْهِ الْأُمُورَ – “(এমন) বক্তার দ্বারা, যার দিকে (আঙ্গুল উঠিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক) বিভিন্ন বিষয়াদির আহবান রাখা হয়’, এবং (৩) بِالشَّرِيفِ الْمَذْكُورِ – “উল্লেখযোগ্য শরীফ (সুশীল/সমাজ-চোখের-ভদ্রলোক) ব্যাক্তির দ্বারা’। (এদের তিন জনের মধ্যে) ‘বিশেষ ধীমান-পন্ডিত-কর্মঠ (ব্যাক্তি)’র ব্যাপারে কথা হল, সে-তো ও(ই ফিতনা)টিকে (তার উগ্র/কঠোর মেজাজের কারণে কমপক্ষে) আছাড় মাড়ে/ধরাসায়ী করে। আর (বাকি) এই দুই (ধরনের) ব্যাক্তি (তথা) বক্তা ও শরীফ (ব্যাক্তি)’র ব্যাপারে কথা হল, তারা উভয়ে (ফিতনার সামনে) নতজানু হয়ে গেছে, ফলে তাদের দুজনের কাছে যা আছে তা তারা (দ্বারা) বালা মুসিবৎ সৃষ্টি করে”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/১৪২ হাদিস ৩৫২; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৪২ হাদিস ৩৮২৯০; আয-যহদ, ইমাম আহমদ- ২/১৩৬; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী- ১/২২৯ হাদিস ২৮; হিলইয়াতুল আউলিয়া, ইমাম আবু নুআইম– ১/২৭৪]
ফায়দা: এই হাদিসে বলা হয়েছে- وُكِّلَتِ الْفِتْنَةُ بِثَلَاثٍ – “নিশ্চই ফিতনার ওকালতী (প্রতিনিধিত্ব) হয় (বিশেষ ভাবে) তিন (ধরনের ব্যাক্তির) দ্বারা”। এর অর্থ হল, দেশ ও সমাজের বড় মাঝারি ছোট সকল স্তরের মানুষই ফিতনার প্রচার প্রসারে কম-বেশি ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু উল্লেখত তিন প্রকারের মানুষ ফিতনার প্রচার প্রসসারে প্রধান ভূমিকা বা সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে।
এই হাদিসে بِالْخَطِيبِ الَّذِي يَدْعُو إِلَيْهِ الْأُمُورَ – “(এমন) বক্তার দ্বারা, যার দিকে (আঙ্গুল উঠিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক) বিভিন্ন বিষয়াদির আহবান রাখা হয়’ বলতে যে বক্তা’র কথা বলা হয়েছে, তাকে সম্ভবত: উপরের হাদিসে- كُلُّ خَطِيبٍ مِصْقَعٍ – ‘প্রত্যেক চৌকুশ বক্তা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরবী النحرير (নাহির) শব্দটির অর্থ এভাবে করা হয়েছে- العالم الحاذقُ في علمه – “যে ব্যাক্তি তার ইলম/জ্ঞানে পরিপক্ক”। [আল-মু’জামুল ওয়াসিত্ব- ১/৯০৬] এর অর্থ আরো বিস্তারত এভাবে করা হয়েছে- الحاذق الماهر العاقل المجرب، وقيل: النحرير: الرجل الطبن المتقن الفطن البصير بكل شيء – “অসাধারণ সুদক্ষ বুদ্ধিমান-জ্ঞানী অভিজ্ঞ ব্যাক্তি। আরো বলা হয়েছে: পর্যাপ্ত ধীমান-মেধাবী সুক্ষদর্শী ব্যাক্তি”। [তাজুল আরুস- ৭/৫১২] এক কথায় النحرير (নাহির) হল এমন ব্যাক্তি, যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানগরিমার অধিকারী, অভিজ্ঞ সুদক্ষ এবং সুক্ষদর্শী। এসব সুন্দর বৈশিষ্টের অধিকারী কোনো ব্যাক্তি যদি –শরীয়ত যে যে ক্ষেত্রে ‘ধৈর্য স্থিরতা ও গাম্ভির্যতা’র সাথে পদক্ষেপ গ্রহন করতে বলেছে, সে সেসব ক্ষেত্রে যদি ‘উগ্র মেজাজ/ রগচটা মেজাজ/মাইরের উপরে কোনো ঔষধ নাই -এই মনমানসিকতা’ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করে, তার ব্যাপারেই বলা হয়েছে– الَّذِي لَا يُرِيدُ أَنْ يَرْتَفِعَ لَهُ مِنْهَا شَيْءٌ إِلَّا قَمَعَهُ بِالسَّيْفِ – “যার সামনে কোনো কিছু উত্থিত হলে সে সেটাকে (নমনীয় রাস্তা পরিহার করে বরং) তরবারী দিয়ে দমন করা ছাড়া অন্য কোনো (ভাবে সমাধানের) ইচ্ছা পোষন করে না’।
আরবী শব্দ الشَّرِيفِ– (শরীফ) অর্থ: ‘সুশীল’, ‘ভদ্রলোক’। এরা এমন ব্যাক্তি যার মানুষজনের মাঝে বিভিন্ন কারণে একটা উল্লেখযোগ্য সামাজিক মর্যাদা থাকে। ‘হিলইয়া’য় ইমাম আবু নুআইমের রওয়ায়েতে الشَّرِيفِ– (শরীফ)-এর স্থলে আছে السيد – (নেতা/সরদার/মোড়ল/সমাজপতি)। বস্তুত: শরীফ/সুশীল/ভদ্রলোক-এর নির্দিষ্ট কোনো সংগা নেই, বরং একেক সমাজের একেক মনমেজাজ ভেদে একজন ব্যাক্তিকে সেই সমাজের চোখে শরীফ/সুশীল/ভদ্রলোক বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। তবে, সকল যুগে সকল সমাজের চোখেই ‘শরীফ/ভদ্রলোক’ চিহ্নিত হয় এমন ব্যাক্তি- (ক) যার খানদান বা পরিবারও সমাজে শরীফ/ভদ্রলোক বলে পরিচিত থাকে, (খ) যারা শিক্ষা-দিক্ষায় সমাজে গ্রহনযোগ্য স্তরের, (গ) যার সামাজের লোকজনের সাথে আচার-ব্যবহার মার্জিত ও ভদ্র মানের, (ঘ) যে ব্যাক্তি এমন কোনো পাপ/অপরাধে লিপ্ত নয়, যা প্রকাশ পেলে সমাজের চোখে সে খারাপ/বদ লোক বলে পরিগণিত হতে থাকে (যেমন: খুন, মেয়ে-সঙ্গ, জেনা-ব্যাভিচার/ধর্ষন, চুরি-ডাকাতী, আত্বসাৎ, প্রতারণা ইত্যাদি। আবার ইসলামী দ্বীনদার সমাজে (যা মূলত শরীয়তেরও চাহিদা) ‘শরীফ/ভদ্র ব্যাক্তি’ হিসেবে এমন ব্যাক্তি গণ্য হয়ে থাকে যার মধ্যে উপরের গুণ-বৈশিষ্ট গুলোও রয়েছে, তার সাথে সাথে সে ও তার পরিবার ‘শরয়ী পর্দার সীমা’ রক্ষা করে চলে (বে-পর্দা লোক ও তার বে-পর্দা পরিবার’কে এই সমাজে ‘অ-শরীফ/অ-ভদ্র লোক’ হিসেবে গণ্য করা হয়)। কিন্তু এই শেষ জামানায় সামাজিক সর্বস্তরে পচন ধরার কারণে, ‘ভদ্রলোক’-এর ধারনা’টাই পাল্টে গেছে। এযুগে সমাজে ‘শরীফ/সুশীল/ভদ্রলোক’ মনে করা হয় এমন ব্যাক্তিক, যে শহরে গাড়ি বাড়ি/ফ্লাট নিয়ে থাকে, টাকাওয়ালা স্বচ্ছল, কলেজ/ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়া উচ্চ শিক্ষিত বলে পরচিত, আস্তে আস্তে গাম্ভির্যতা বজায় রেখে কথা বলে আবার কথার ফাঁকে ফাঁকে ইংরেজীর বুলি আওড়ায় -এমন ব্যাক্তি। আবার গ্রাম-গঞ্জে চেয়ারম্যান/মাতব্বর/মোড়ল পর্যায়ের লোক, নেতা/পাতিনেতা, বিরাট জমিওয়ালা লোক, বেশ বড় ব্যবসায়ী ইত্যকার বিভিন্ন কিসিমের লোককে মনে করা হয় ‘শরীফ/ভদ্রলোক/সুশীল’ লোক; এদিকে ভ্রুক্ষেপই করা হয় না যে, এরা কখন ক’জনের কত কত জমিজমা মেড়েছে, কার কার সাথে প্রতারনা বাটপারী করে কত অর্থসম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কোন কায়দায় সরকারী অর্থকড়ি ধানচাল গম ইত্যাদি মেড়ে দিয়েছে, কার কার খুনের পিছনে হাত ছিল, কতজন মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করেছে, কতজনের সংসার উজার করে দিয়েছে, অন্যায়ভাবে কতজনকে পথে বসিয়েছে, সূদ জুয়া ও প্রতারণার আবরণে কত টাকাপয়সা হারাম কামিয়েছে। সে যাই হোক, সমাজে মানুষের মনে বিভিন্ন কারণে এইসব সুশীল/ভদ্র লোকদের গ্রহনযোগ্যতা থাকায় এদের কথা/মতামত, মতাদর্শ, কাজ, আহবান সবকিছুই ভালো প্রভাব ফেলে গনমনে, বিধায় এরা কোনো ‘ফিতনা’র ধারক বাহক ও প্রচারকের ভুমিকা পালন করলে মানুষজনও তাদের কারণে সেই ফিতনা’টিকে গ্রহন করে নেয় খুবই সহজে। উপরের হাদিসে এসেছে- بِالشَّرِيفِ الْمَذْكُورِ – “উল্লেখযোগ্য শরীফ (সুশীল/সমাজ-চোখের-ভদ্রলোক) ব্যাক্তির দ্বারা’। الله اعلم بالصواب
# আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتْنَةٌ يُفَارِقُ الرَّجُلُ فِيهَا أَخَاهُ وَأَبَاهُ، تَطِيرُ الْفِتْنَةُ فِي قُلُوبِ رِّجَالٍ مِنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُعَيَّرُ الرَّجُلُ بِهَا، كَمَا تُعَيَّرُ الزَّانِيَةُ بِزِنَاهَا . أخرجه الطبرانى في المعجم الكبير: ١٣/٦٩ رقم ١٧٠، قال الهيثمى فى مجمع الزوائد : ٧/٣٠٧ : فيه محمد بن سفيان الحضرمى و لم أعرفه و ابن لهيعة لين ، و أخرجه نعيم بن حماد في الفتن : ١/١٦ – “অচিরেই (এমন) ফিতনা হবে, যার মধ্যে (এমনসব) ব্যাক্তি(ও) থাকবে, যে তার ভাই ও তার পিতা থেকে আলাদা হয়ে যাবে। ফিতনা’টি তাদের ব্যাক্তিবর্গের অন্তরগুলির মধ্যে পঙ্কিলতা সৃষ্টি করে দিবে -কেয়ামত পর্যন্ত। এমনকি সে(ই ফিতনা)টির কারণে (আক্রান্ত) ব্যাক্তি (সমাজের লোকজনের সামনে) এমন ভাবে লজ্জিত বোধ করবে, যেভাবে ব্যাভিচারিণী ব্যাভিচারের কাারণে (লোক সমাজে) লজ্জিত বোধ করে থাকে”। [আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১৩/৬৯ হাদিস ১৭০; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/১৬ হাদিস ২৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৭; কানজুল উম্মাল- ১১/১৮০ হাদিস ৩১১৩৩]
ফায়দা: এই হাদিসে যে ফিতনা’টির কথা বলা হচ্ছে, সেটা সম্ভবত: এই শেষ জামানায় ‘আল-কায়দা অথবা আইএসএস/দায়েশ’ নামের ছত্রছাঁয়ায় বিশ্ব জুড়ে জায়োনিষ্ট ইহূদী-খৃষ্টানদের দ্বারা সৃষ্ট সেই ‘ফিতনা’, যেটাকে আজ গোটা বিশ্ব জুড়ে সকলে মিলে ‘জঙ্গিবাদ/সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে থুঁথুঁ নিক্ষেপ করছে। ‘জঙ্গি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ -এটা এই জামানার এমন এক ‘গালি’, যা কোনো প্রকৃত সন্ত্রাসী হোক অথবা প্রকৃত মুজাহিদ হোক কিংবা সাধারণ মুমিন-মুসলমানই হোক -কেউই চায়না যে তার উপরে এই গালি’টি প্রয়োগ করা হোক। ‘জঙ্গি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নামক এই তকমা/লেবেল’টি যার ভাগ্যে জুটেছে, তার না নিজ পরিবারে জায়গা থাকে, না সমাজে, না মৃত্যুর পর তার জানাযায়, আর না কবরস্থানে। কেউ এই লজ্জার বোঝা কাঁধে নিতে রাজি নয় -চাই তার নিজের ছেলেই হোক না কেনো। আমার মতে, এই লজ্জাকর ফিতনা সম্পর্কেই বলা হয়েছে- يُعَيَّرُ الرَّجُلُ بِهَا، كَمَا تُعَيَّرُ الزَّانِيَةُ بِزِنَاهَا – “সে(ই ফিতনা)টির কারণে (আক্রান্ত) ব্যাক্তি (সমাজের লোকজনের সামনে) এমন ভাবে লজ্জিত বোধ করবে, যেভাবে ব্যাভিচারিণী ব্যাভিচারের কাারণে (লোক সমাজে) লজ্জিত বোধ করে থাকে”। লজ্জা শরম আছে -এমন নারী কারোর সাথে লুকিয়ে জেনা-ব্যাভিচার করার সময় লোকসমাজে ধরা পরে গেলে সেই সমাজে তার বসবাস করাটা যেমন চরমমাত্রার লজ্জাকর পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ায়, ঠিক তেমনি ভাবে আজকের সমাজে যদি কোনো প্রকৃত সন্ত্রাসী কিংবা প্রকৃত মুজাহিদ অথবা সাধারণ কোনো মর্দে-মুমিনের পিঠে একটি বারের জন্য হলেও ‘জঙ্গি/টেরোরিষ্ট/সন্ত্রাসী’ নামের তকমা’টি অঙ্কিত হয়ে প্রচারিত হয়ে যায়, তাহলে শুধু তার জন্য নয়, বরং তার পরিবার-পরিজন ও আত্বীয়-স্বজনের জন্যও ওই ব্যাভিচারিণী’র মতোই সমাজের সমানে অবর্ণনীয় লজ্জাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আমার তো মনে হয়, কারোর ছেলে ‘জঙ্গি/টেরোরিষ্ট/সন্ত্রাসী’ নামে অবিহিত হলে তিনি সমাজে মুখ দেখানোতে যতটা লজ্জা বোধ করবেন, ততটা লজ্জাবোধ হয় তো তার সেই ছেলেটিই কারোর সাথে জেনা-ব্যাভিচার করতে গিয়ে ধরা পরলে করবেন না।
‘আল-কায়দা অথবা আইএসএস/দায়েশ’ নামের ছত্রছাঁয়ায় বিশ্ব জুড়ে পরিচালিত ‘ফিতনা’টি যে জায়োনিষ্ট ইহূদী-খৃষ্টানদের পরিকল্পনায় সৃষ্ট ও পরিচালিত -একথা সকল সচেতন গবেষক মহলেরই জানা, উদ্দেশ্য হল ‘আল-কায়দা/আইএসএস/দায়েশ’-দের দ্বারা পৃথিবীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে পৃথিবীর মানুষকে দেখানো যে, যারাই ‘জিহাদ’-এ বিশ্বাসী ও তৎপর তারাই ‘সন্ত্রাসী’। পৃথিবী এই প্রপাগান্ডা গলদ্ধকরন করেছেও। ফলে যারা প্রকৃত ‘মর্দে-মুমিন দায়ী ও মুজাহিদ’ তারা কোথায় সহিহ ‘জিহাদ’ পালন করলেও সেটাকে অবলিলায় ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকান্ড বলে প্রচার করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এই ফিতনা ও প্রপাগান্ডার ধারা থামবে না যাবৎ না ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে এসে এর মূলৎপাটন করে ‘ইসলামী খিলাফত’কে গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই দিকে ইংগীত করেই হাদিসটিতে বলা হয়েছে- تَطِيرُ الْفِتْنَةُ فِي قُلُوبِ رِّجَالٍ مِنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ – “ফিতনা’টি তাদের ব্যাক্তিবর্গের অন্তরগুলির মধ্যে পঙ্কিলতা সৃষ্টি করে দিবে -কেয়ামত পর্যন্ত”।
আমার মতে এখানে- إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ – (কেয়ামত পর্যন্ত)– দ্বারা উদ্দেশ্য হল কেয়ামতের আগে আগে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমনের আগ পর্যন্ত পৃথিবীতে বিরাজমান ফিতনার পরিস্থিতি। যেমন, যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، قَالَ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا . فَيَقُولُ لاَ ، إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ . تَكْرِمَةَ اللَّهِ هَذِهِ الأُمَّةَ . رواه مسلم في الصحيح, كتاب الإيمان , باب نُزُولِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ حَاكِمًا بِشَرِيعَةِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم : ١/١٣٧ رقم ١٥٦ ; و أحمد في مسنده : ٣/٣٨٤ اسناده صحيح – “আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি কেয়ামত পর্যন্ত সর্বদা সত্যের উপর বিরাজমান (থেকে) জিহাদ করতে থাকবে’। তিনি বলেন: ‘পরে (শেষ জামানার মুসলমানদের) মাঝে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আসমান থেকে পূণরায়) নাজিল হবেন। পরে তাদের আমীর (আল-মাহদী তাঁকে) বলবেন: ‘(হে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. !) আসুন, (ইমাম হয়ে) আমাদেরকে নামায পড়ান’। তখন তিনি বলবেন: ‘না, নিশ্চই তোমাদের (মুসলমানদেরই) কেউ তোমাদের কতকের উপর আমীর হবে। (এটা) এই উম্মাহকে আল্লাহ’র (দেয়া বিশেষ) সম্মাননা”। [সহীহ মুসলীম- ১/১৩৭, হাদিস ১৫৬; মুসনাদে আহমদ- ৩/৩৮৪] ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর দ্বিতীয়বার আগমনের ঘটনা কেয়ামতের একেবারে লাগালাগা সময়ে ঘটবে বিধায় আরবী ভাষার প্রচলন অনুসারে ঈসা আ.-এর সময়টিকে إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ – (কেয়ামত পর্যন্ত) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। الله اعلم بالصواب
ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ হাসান সনদে হযরত যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَرْوَانَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ التَّنُوخِيِّ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ : “ تُقْبِلُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنَ الْمَشْرِقِ ، يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ ، أَصْحَابُ شُعُورٍ ، أَنْسَابُهُمُ الْقُرَى ، وَأَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، يَفْتَتِحُونَ مَدِينَةَ دِمَشْقَ ، تُرْفَعُ عَنْهُمُ الرَّحْمَةُ ثَلاثَ سَاعَاتٍ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٤, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥٠: اسناده حسن – ‘পূর্বদিক থেকে কালো পতাকা(ধারী একটি গোষ্ঠি)র আবির্ভাব হবে, (তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে, তারা হবে (লম্বা) চুলধারী, তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তারা (সিরিয়ার) দামেষ্ক দখল করবে, তাদের (অন্তর) থেকে তিনটি (বিশেষ) সময়ে দয়া-মায়া উঠে যাবে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৪]
ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. নিজ সনদে হযরত আলী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، وَرِشْدِينُ ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ ، عَنْ أَبِي رُومَانَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ” إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ فَالْزَمُوا الأَرْضَ فَلا تُحَرِّكُوا أَيْدِيَكُمْ ، وَلا أَرْجُلَكُمْ ، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ ضُعَفَاءُ لا يُؤْبَهُ لَهُمْ ، قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ ، هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ ، لا يَفُونَ بِعَهْدٍ وَلا مِيثَاقٍ ، يَدْعُونَ إِلَى الْحَقِّ وَلَيْسُوا مِنْ أَهْلِهِ ، أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، وَنِسْبَتُهُمُ الْقُرَى ، وَشُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ ، حَتَّى يَخْتَلِفُوا فِيمَا بَيْنَهُمْ ، ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْحَقَّ مَنْ يَشَاءُ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٧٣, و إسناده ضعيف جدا; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٣٠ – ‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে, তখন জমিনকে আঁকড়ে ধরে থেকো, (কোনো অবস্থাতেই) তোমাদের হাত’কে নড়াচড়া করো না, তোমাদের পা’কেও না। (তোমরা তাদেরকে কোনো রকম সাহায্য করবে না)। এরপর একটি দূর্বল গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, তাদের কোনো মূল্য থাকবে না, তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)। তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)। এরা না কোনো ওয়াদা/অঙ্ঘিকার পূরণ করবে, আর না কোনো চুক্তি। তারা আল-হক্ব (আল-কুরআন/দ্বীন ইসলাম)-এর দিকে আহবান করবে, কিন্তু (বাস্তবে) তারা (নিজেরা) তার ধারকবাহক হবে না, (তারা হবে মূলতঃ গোমরাহী ও ফিতনা-ফ্যাসাদে’র ধারকবাহক)। তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো। একসময় তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ দেখা দিবে। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আল-হক্ব (সত্য দ্বীনের বুঝ ও তাঁর কবুলিয়াত) দান করবেন’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৭৩; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫৩০]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আলী বিন আবি ত্বালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حدثنا ابن أبي هريرة عن أبيه عن علي بن أبي طلحة قال يدخلون دمشق برايات سود عظام فيقتتلون فيها مقتلة عظيمة شعارهم بكش بكش . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٥; قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥١: فيه مجهول; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٢٩ – ‘তারা কালো পতাকা নিয়ে (শাম/সিরিয়ার) দামেশকে ব্যাপক সংখ্যায় প্রবেশ করবে। পরে সেখানে তারা খুনাখুনি ও যুদ্ধবিগ্রহের মারাত্মক এক ময়দান/মৌসুম বানিয়ে ফেলবে। তাদের পরিচয়-চিহ্ন হবে, (তারা সামান্যতেই বলবে:) হত্যা করো, হত্যা করো’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৫; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫২৯]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حدثنا يحيى بن سعيد العطار عن ضرار بن عمرو عن إسحاق بن عبد الله بن أبي فروة عمن حدثه عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: تَأْتِيكُمْ بَعْدِي أَرْبَعُ فِتَنٍ ، الأُولَى يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالثَّانِيَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالثَّالِثَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالْفُرُوجُ ، وَالرَّابِعَةُ صَمَّاءُ عَمْيَاءُ مُطْبِقَةٌ ، تَمُورُ مَوْرَ الْمَوْجِ فِي الْبَحْرِ ، حَتَّى لا يَجِدَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ مِنْهَا مَلْجَأً ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى الْعِرَاقَ ، وَتَخْبِطُ الْجَزِيرَةَ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، وَتُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا بِالْبَلاءِ عَرْكَ الأَدِيمِ ، ثُمَّ لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ يَقُولُ فِيهَا : مَهْ مَهْ ، ثُمَّ لا يَعْرِفُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا انْفَتَقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ أُخْرَى . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٨٩, اسناده ضعيف جداً , اورده المتقي في كنز العمال: ١١/١٦٣ رقم ٣١٠٤٧ – ‘আমার পর তোমরা (মুসলমানরা) চারটি ফিতনার সম্মুখিন হবে। প্রথমটির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত’কে হালাল বানানো হবে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত ও সম্পদ’কে হালাল বানানো হবে। তৃতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত, সম্পদ ও লজ্জাস্থান’কে হালাল বানানো হবে। আর চতুর্থ (ফিৎনা)টি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে) রধির হয়ে দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা)। এমনকি (অবস্থা এমন হবে যে,) লোকেরা এ থেকে (নিরাপদ থাকার) কোনো আশ্রয় (খুঁজে) পাবে না। এ(ফিতনা)টি শাম-এর চার পাশ প্রদক্ষিন করবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে। সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে বালা-মুসিবতের দ্বারা চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে। (তখন জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো বালা-মুসিবত এত চরমে পৌছবে যে, এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ সে সময় টুহ্-টাহ্ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। অতঃপর তারা এ(ফিতনা)টির এক দিক চিনতে পারবে না – যাবৎ না এর অপর দিকটি উন্মুক্ত করা হয়’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৮৯ ; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/১৬৩ হাদিস ৩১০৪৭]
# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ : وَحَدَّثَنِي الْجُنَيْدُ بْنُ مَيْمُونٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : “ الْفِتْنَةُ الرَّابِعَةُ عَمْيَاءُ مُظْلِمَةٌ تَمُورُ مَوْرَ الْبَحْرِ ، لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى بِالْعِرَاقِ ، وَتَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، تُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا عَرْكَ الأَدِيمِ ، وَيَشْتَدُّ فِيهَا الْبَلاءُ حَتَّى يُنْكَرَ فِيهَا الْمَعْرُوفُ ، وَيُعْرَفَ فِيهَا الْمُنْكَرُ ، لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ ، يَقُولُ : مَهْ مَهْ ، وَلا يَرْقَعُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا تَفَتَّقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، وَلا يَنْجُو مِنْهَا إِلا مِنْ دَعَا كَدُعَاءِ الْغَرَقِ فِي الْبَحْرِ ، تَدُومُ اثْنَيْ عَشَرَ عَامًا ، تَنْجَلِي حِينَ تَنْجَلِي وَقَدِ انْحَسَرَتِ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ ، فَيَقْتَتِلُونَ عَلَيْهَا حَتَّى يُقْتَلَ مِنْ كُلِّ تِسْعَةٍ سَبْعَةٌ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٦٧٦, رجاله ثقات غير جنيد أو حميد بن ميمون أبو عبد الحميد لم يُترجم له غير الدولابي وخرج له الضياء في المختارة محتجا به، وقد ذكر أبو حاتم أن بقية روى عن أبي عبد الحميد، فالله اعلم ، وصفوان بن عمرو الحمصي ثقة صدوق، وقد ورد هذا الحديث عن ضرار بن عمرو أيضا وضرار ضعيف – ‘চতূর্থ ফিৎনাটি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে রধির হয়ে ও) দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা, যা) আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না, তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে, সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে, তখন (জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো) বালা-মুসিবত চরমে পৌছবে। এমনকি সেই ফিতনায় (এমন অবস্থা হবে যে, কুরআন-সুন্নাহ’র নির্দেশিত বহু) মা’রুফ (ভাল বিষয়)কে মুনকার (অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ) মনে করা হবে এবং (কুরআন-সুন্নাহ’র দৃষ্টিতে বহু) মুনকার (বাতিল/অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ বিষয়)কে ভাল মনে করা হবে। (এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ টুহ-টাহ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। এ(ফিতনা)র এক দিক ঢাকতে গেলে অপর দিক উন্মুক্ত করা ছাড়া তা (পুরোপুরি আচ্ছাদিত) করা যাবে না। তখন মানুষ সকাল কাটাবে মুমিন অবস্থায়, আর সন্ধা কাটাবে কাফের অবস্থায়। সেই ফেতনা থেকে শুধু ওই ব্যাক্তি বাঁচতে পারবে, যে সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় করা দোয়ার ন্যায় (আল্লাহ’কে) ডাক দিবে। এ অবস্থা বার বছর বহাল থাকবে। এটা গড়াতে গড়াতে (একসময়) ফুরাত নদী (তার বুক চিড়ে) স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করে দিবে। তখন লোকজন তা নিয়ে লড়াই করবে এবং প্রতি নয় জনের সাতজন মারা পড়বে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৬৭৬]
এই রেওয়ায়েত গুলোকে এবারে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্রের দাবীদার আইএস/দায়েশ’দের সাথে মিলিয়ে দেখিা যাক।
(১) বলা হয়েছে- إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ – ‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে….’। আইএস/দায়েশ’দের ঝান্ডা/পতাকার রং কালো -একথা সচেতন কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।
(২) বলা হয়েছে- يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ – ‘(তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে -পুরো মুখকে কাপড় দিয়ে ঢেকে শুধু চোখদুটোকে বেড় করে রাখার অভ্যাস উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।
(৩) বলা হয়েছে- شُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ – ‘তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে মেয়েদের মতো লেপানো লম্বা লম্বা চুল রাখার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।
(৪) বলা হয়েছে- أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى – ‘তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের নামগুলো আজ কুনিয়া/উপনাম (আবু অমুক, আবু অমুক) দিয়েই সমধিক পরিচিত। যেমন: আবু বকর আল-বাগদাদী (মূল নাম: ইব্রাহীম আওআদ ইব্রাহীম আলী), আবু আব্দুর রহমান আল-বাইলাবী (মূল নাম: আদনান ইসমাঈল), আবু বিলাল আল-মাসহাদানী (মূল নাম: সামির), আবু আইমান আল-ইরাকী, আবু আলী আল-আম্বারী, আবু মুসআব আল-আলুস, আবু উমার আশ-শিসানী, আবু নাসের আল-আমনী ইত্যাদি।
(৫) বলা হয়েছে- نِسْبَتُهُمُ الْقُرَى – ‘তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের পরিচয় বিভিন্ন শহর বা গ্রাম বা এলাকার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। যেমন: ইরাকের বাগদাদ শহরের সাথে সম্মন্ধযুক্ত করে বলা হয় আবু বকর আল-বাগদাদী।
(৬) বলা হয়েছে- قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ – ‘তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)’। এখানে পাথরের সাথে তুলনা না করে তার থেকেও শক্ত পদার্থ লোহার টুকড়োর সাথে তুলনা করা হয়েছে। তার মানে লোহার মতো শক্ত নির্দয় অন্তরের প্রমাণ দিতে হলে নারী পুরুষ ও শিশুদের সাথে কী পরিমাণ ভয়ঙ্কর দয়ামায়াহীন আচোরণ করতে হবে -একবার ভেবে দেখেছেন? আইএস/দায়েশ’রা কি জঘন্য ভাবে নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে হত্যা করেছে তার কিছু জ্বলজ্যান্ত ভিডিও দেখলে গা শিউরে ওঠে।
(৬) বলা হয়েছে- هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ – ‘তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)’। ২০০৬ ইং সালে আইএস/দায়েশ’রা তাদের প্রধান নেতা আবুবকর আল-বাগদাদী’র আবির্ভাবের পর তার নেতৃত্বে ৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে প্রথম ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ত (আই এসআইএল) গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়, পরে তারা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিরাট এলাকায় দখলদারী স্থাপন করে। ২৯ জুন ২০১৪ ইং সালে তাদের দখলকৃত এলাকাকে তথাকথিত ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) এবং আবুবকর আল-বাগদাদী’কে ‘খলিফা’ ঘোষণা করা হয়।
(৮) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَغْشَى الْعِرَاقَ – ‘ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে’। আইএস/দায়েশ’দের ফিতনা’র মূল ঘাটিই হল ইরাক। ইরাক দখল করার পরই তারা সেটাকে ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) নাম দিয়ে তার হর্তাকর্তা হয়ে বসেছে।
(৯) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تُطِيفُ بِالشَّامِ – ‘তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবে’। শাম বলতে এখানে ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ)ও উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার শুধু সিরিয়ার দামেষ্কও উদ্দেশ্য হতে পারে। (১) যদি শুধু সিরিয়ার দামেষ্ক উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ফিতনাটি তার চারপাশে ঘোরা/ প্রদক্ষিন করার অর্থ হয়তো দামেশকে ঢুকতে না পেরে তার চারপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৎপড় থাকা, যেমনটা দেখা যাচ্ছে যে, আইএস/দায়েশ’রা বাশার আল-আসাদের কর্তৃত্বাধীন দামেশক ও তার আশে পাশে অঞ্চলগুলোকে দখলে নিতে পারে নি, বাদ বাকি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরাট এলাকায় তারা দখলদারী স্থাপন করে নিয়েছে ও তৎপড়তা চালাচ্ছে। (২) আর যদি ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ) উদ্দেশ্য হয়, তাহলে হাদিসটির উদ্দেশ্য হয়তো এসব এলাকা জুড়ে শিয়া-সুন্নি কেন্দ্রিক সৃষ্ট হারাজ ও ফিতনা’র দিকে ইংগীত করা। এ দু’য়ের যে অর্থই নিন না কেনো তা ওখানকার বাস্তব অবস্থার সাথে দারুন ভাবে মিলে যায়। আল্লাহ’ই ভাল জানেন।
(১০) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا – ‘সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে’। রাসুলুল্লাহ সা.- এর সময়ে যেসব আরবী অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘জারিরাতুল আরব’ বোঝানো হতো, তা বর্তমান জামানায় এই দেশগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করে নিয়ে বিভক্ত: সৌদি আরব, ইয়ামেন, বাহরাঈন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কাতার, ওমান এবং কুয়েত, যা আজ Arabian Peninsula হিসেবে পরিচিত। আজ আমেরিকা, ইসরাঈল ও ইউরোপিয়ান দেশগুলো শিয়া-সুন্নির রক্তের উপর অস্ত্র-বিজনেস করার জন্য সুন্নি আইডিওলজীর সৌদি আরব, কাতার ও ইউনাইটেড আরব আমিরাতকে এতে মোটা অংকের বিনিয়োগ করিয়েছে এবং তারা সন্ত্রসী আইএস/দায়েশকে অস্ত্র, অর্থ, গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এদিকে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে ইরান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামেন ও লেবানন অর্থ, সৈন্য, অস্ত্র ইত্যাদি দিচ্ছে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে; আর এর সাথ দিচ্ছে রাশিয়া ও চিন। আর জর্ডানের কিং আব্দুল্লাহ এই যুদ্ধ মৌসুমে তার দেশে খুলে বসেছে অস্ত্র-মেলা; ধুমিয়ে ব্যবসা করে নিচ্ছে। আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হয়েছে।
(১১) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا – ‘আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না’। আইএস/দায়েশ’দের যাবতীয় অকাম-কুকামের কারণে পৃথিবীর কোনো আরব ও অনারব ঘর নেই, যারা তাদেরকে ভয় করে না। তারা গোটা মুসলীম উম্মাহর মুখকে বিশ্বের সামনে লজ্জিত করে দিয়েছে, তাদেরই কারণে সাধারণ মুসলমানদেরকে পৃথিবীর কোণে কোণে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ ও হেনস্ত হতে হচ্ছে। الله اعلم بالصواب
# আস-সাফর বিন নুসায়ের আল-আযদী রহ. (সাহাবী) হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণনা করেন যে- أَنَّهُ قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّا كُنَّا فِي شَرٍّ فَذَهَبَ اللَّهُ بِذَلِكَ الشَّرِّ ، وَجَاءَ بِالْخَيْرِ عَلَى يَدَيْكَ ، فَهَلْ بَعْدَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ” ، قَالَ : مَا هُوَ ؟ قَالَ : ” فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا ، تَأْتِيكُمْ مُشْتَبِهَةً كَوُجُوهِ الْبَقَرِ لَا تَدْرُونَ أَيًّا مِنْ أَيٍّ . رواه أحمد في مسنده, باقي مسند الأنصار , حديث حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم : ٥/٣٩١، و نعيم بن حماد في كتاب الفتن : ١/٢٨ رقم ٤ – “তিনি (একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে) জিজ্ঞেস করলেন (যে): ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (ইসলামের সুচনাকালে) আমরা মন্দ অবস্থায় ছিলাম। পরে আল্লাহ (তাআলা আমাদের মুসলমানদের উপর থেকে) সেই মন্দ (অবস্থা)কে দূর করে দেন, এবং আপনার হাত দ্বারা কল্যান আগমন করে। এই কল্যানের পরে কি (কোনো) মন্দ (অবস্থা) আসবে’? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘হ্যাঁ’ (আবারো মন্দ অবস্থা আসবে)’। হুযাইফা বললেন: ‘কী সেটা’। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘(বিভিন্ন) ফিতনা সমূহ (আসবে, যার একেকটা এমন হবে) যেন ঘন কালো অন্ধাকারময় রাতের টুকরা/ফাঁলি, যার একটার পিছে আরেকটি আসতে থাকবে। তোমাদের উপরে (কাফের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে একের পর এক অন্ধকারময় বিষাক্ত সব) সন্দেহ-সংশয় (খটকা/দ্বিধা) আসতে থাকবে, যেন গরুর মুখ (যার সবগুলোকেই একই রকম মনে হয় এবং একটি মুখ থেকে অন্যটিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে পড়ে)। তোমরা জানতে পারবে না (যে), কোন (ফিতনা)টি কোনটি থেকে (উৎপন্ন বা আগত হচ্ছে)”। [মুসনাদে আহমাদ– ৫/৩৯১ হাদিস ২৩৩৭৬; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/২৮ হাদিস ৪]
ফায়দা: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২]
# হযরত আলী রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা উভয়েই বলেছেন- إِِنَّ الْفِتْنَةَ إِِذَا أَقْبَلَتْ شَبَّهَتْ , وَإِذَا أَدْبَرَتْ أَسْفَرَتْ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف : ٢٢/٣٤١ رقم ٣٨٨٨٩، قال : رجاله ثقات حتي المنهال بن عمرو، و رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن : ١/١٤١ رقم ٣٤٨ : عن عبد الله موقوفا بسند حسن– “নিশ্চই যখনই কোনো ফিতনা’র আগমন ঘটে, (তখন) তা (জনমানুষের চোখের সামনে এমন) দ্বিধা/খটকা/সন্দেহ/সংশয়’জনক (অবস্থায়) থাকে (যার উপকারীতা বা ক্ষতির দিকেটি প্রাথমিক অবস্থায় মানুষের উপলব্ধিতে আসে না। এজন্য মানুষেরা শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে সেটাকে উপকারী ভেবে ফিতনায় নিপতিত হয়ে যায়)। আর যখন সে(ই ফিতনা)টি (তার ক্ষতি ও বরবাদি শেষ করে) পিছু ফিরে চলে যায়, তখন তা(র পরিনতি ও ফলাফল মানুষের সামনে) উন্মোচিত/উন্মুক্ত হয়ে পড়ে (যে, বিষয়টি আসলে ক্ষতিকরই ছিলো)”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৩৪১ হাদিস ৩৮৮৮৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১/১৪১ হাদিস ৩৪৮]
# আওফ বিন মালেক আল-আশযায়ী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, মুয়ায বিন জাবাল রা. বলেন- خَمْسٌ أَظْلَلْنَكُمْ مَنْ أَدْرَكَ مِنْهُنَّ شَيْئًا ، ثُمَّ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ ، فَلْيَمُتْ : أَنْ يَظْهَرَ التَّلاعُنُ عَلَى الْمَنَابِرِ ، وَيُعْطَى مَالُ اللَّهِ عَلَى الْكَذِبِ ، وِالْبُهْتَانِ ، وَسَفْكِ الدِّمَاءِ بِغَيْرِ حَقٍّ ، وَتُقْطَعُ الأَرْحَامُ ، وَيُصْبِحُ الْعَبْدُ لا يَدْرِي أَضَالٌّ هُوَ أَمْ مُهْتِدٍ . رواه الحاكم في المستدرك على الصحيحين , كتاب الفتن والملاحم , الترهيب من إمارة السفهاء: ٤/٤٢٣ ، وقال هذا حديث صحيح على شرط الشيخين و لم يخرجاه بهذه السياقة، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٨٨٧ – “(অচিরেই) পাঁচটি (এমন বিষয় ব্যপাক ভাবে প্রকাশ পাবে, যা) তোমাদের (তখনকার মুসলীম সমাজ গুলোকে)কে (ভিষন ভাবে) অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিবে। যে ব্যাক্তি ওগুলোর মধ্যে থেকে কোনো কিছুর দেখা পাবে, তার পক্ষে মড়ে যাওয়া সম্ভব হলে সে যেন মড়ে যায়। (সে জামানায় এসব বিষয়) প্রকাশ পাবে: (১) মিম্বর/মঞ্চের উপরে (দাঁড়িয়ে একে অন্যের উপরে, এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপরে) অভিশাপ প্রদান করবে, (২) আল্লাহ’র ধ্বনমাল মিথ্যা’র ভিত্তিতে প্রদান করা হবে, (৩) (একে অন্যের উপরে, এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপরে) অপবাদ আরোপ করবে, (৪) না-হক্ব ভাবে রক্ত বহাবে, (৫) রেহেম/আত্বীয়তা’র সম্পর্ক সমূহ কর্তন করবে, এবং (৬) বান্দার সকালে উঠে জানবে না যে, সে (ফিথনার দ্বারা) পথভ্রষ্ঠ হয়েছে, নাকি হেদায়েতপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়ে ছে”। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৪২৩]
# যায়েদ বিন ওয়াহবের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হুযাইফা রা. বলেছেন- إِنَّ لِلْفِتْنَةِ وَقَفَاتٍ وَبَعَثَاتٍ ، فَإِنَ اسْتَطَعْت أَنْ تَمُوتَ فِي وَقَفَاتِهَا فَافْعَلْ . رواه ابن أبي شيبة في مصنفه , كتاب الفتن : ٢٢/٣٠ رقم ٣٨٢٧٣ ، إسناده صحيح – “নিশ্চই ফিতনা’র ওয়াকাফাত (বিরতি কাল সমূহ) এবং বায়াছাত (ধেয়ে আসার মুহূর্ত সমূহ) থাকে। তোমার পক্ষে যদি তার ওয়াকাফাত-এ(র সময়ে) মড়ে যাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তুমি তাই করো”। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৩০ হাদিস ৩৮২৭৩]
ফায়দা: অন্য রেওয়ায়েতে যায়েদ বিন ওয়াহবের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে যে- قِيلَ لِحُذَيْفَةَ : مَا وَقَفَاتُ الْفِتْنَةِ ، وَمَا بَعَثَاتُهَا ، قَالَ : بَعَثَاتُهَا سَلُّ السَّيْفِ ، وَوَقَفَاتُهَا إغْمَادُهُ . رواه ابن أبي شيبة في مصنفه , كتاب الفتن : ٢٢/٤٣ رقم ٣٨٢٩٤ ، إسناده حسن – “হুযাইফ (রা.)কে জিজ্ঞেস করা হল: ফিতনার ‘ওয়াকাফাত’ কী? আর তার ‘বায়াছাত(ই-বা) কী’? তিনি বললেন: ‘বায়াছাত হল (গন্ডগোলের জন্য) তরবারী খাপমুক্ত করা, আর তার ওয়াফাকাত হল সেটাকে খাপের ভিতরে ঢুকানো”। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৪৩ হাদিস ৩৮২৯৪]
# আবু ইদ্রিস রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে , হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. এরশাদ করেন- إِنَّهَا فِتَنٌ قَدْ أَظَلَّتْ كَجِبَاهِ الْبَقَرِ يَهْلِكُ فِيهَا أَكْثَرُ النَّاسِ إِلاَّ مَنْ كَانَ يَعْرِفُهَا قَبْلَ ذَلِكَ . رواه ابن أبي شيبة في المصنف : ٢٢/٦٥ رقم ٣٨٣٥٠ إسناده صحيح، – “নিশ্চই (আখেরী জামানায় ঘন কালো অন্ধকারময়) ফিতনা সমূহ হবে, যা (মুসলমানদের ভালো মন্দ চেনার দৃষ্টিশক্তিকে) অন্ধকারচ্ছন্ন করে ফেলবে -(যেমনটা ঘটে থাকে কোনো ঘন অন্ধকারময় রাতে গরুর পালের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো) গরুর মুখ (খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে) -সেরকম (সুকঠিন)। ও(ফিতনা)র মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই (ইমান ও আমলের প্রশ্নে) ধ্বংস-বরবাদ হয়ে যাবে; কেবল সেই ব্যাক্তি ছাড়া যে -ও(ই ফিতনা)টি ঘটার আগেই- সেটাকে চিনে নিয়েছে”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৬৫ হাদিস ৩৮৩৫0; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মা- ১/১৯ হাদিস ৫; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী- ১১/২১৫ হাদিস ৩১২৭৯]
# মাশরুক রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এরশাদ করেন- لَيْسَ عَامٌ إِلَّا وَالَّذِي بَعْدَهُ شَرٌ مِنْهُ , لَا أَقُولُ : عَامٌ أَمْطَرُ مِنْ عَامٍ , وَلَا عَامٌ أَخْصَبُ مِنْ عَامٍ , وَلَا أَمِيرٌ خَيْرٌ مِنْ أَمِيرٍ , لَكِنْ ذَهَابُ عُلَمَائِكُمْ وَخِيَارِكُمْ , ثُمَّ يَحْدُثُ أَقْوَامٌ يَقِيسُونَ الْأُمُورَ بآرَائِهِمْ ؛ فَيُهْدَمُ الْإِسْلَامُ وَيُثْلَمُ . رواه أبو عبد الله محمد بن وضاح بن بزيع القرطبي في البدع والنهي عنها, باب كل محدثة بدعة : ١/٧١ رقم ٨١ اسناده ضعيف، والدارمي في مقدمة سننه برقم ١٩٤ من طريق مجالد بن سعيد به، ومجالد ضعيف، و قد أعلَّه الهيثمي في “مجمع الزوائد” : ١/١٨٠ بسب مجالد بن سعيد، وجاء أيضًا عن ابن مسعود رضي الله عنه عند البيهقي في “الكبرى” : ٣/٣٦٣ ، و له شواهد ذكر بعضها الحافظ ابن حجر في “الفتح” : ١٣/٢٧ و صحَّحه بها، فيكون صحيحًا بشواهده ، والله أعلم – “(আগত জামানা গুলোতে) এমন কোনো বছর (অতিক্রান্ত) হবে না, যার পরের (বছর)টি তার (পূর্বের বছরটি) থেকে আরো বেশি মন্দ না হবে। আমি বলছি না – ‘(পূর্বের) বছর(টি তার পরের) বছর থেকে বেশি বৃষ্টিপাত দিবে, (পূর্বের) বছর(টি তার পরের) বছর থেকে বেশি ফলন দিবে, (পূর্বের) বছর(টিতে বিদ্যমান) শাসক (তার পরেরর বছরে বিদ্যমান) শাসক থেকে বেশি উত্তম হবে। বরং (আমি বলতে চাচ্ছি, সেই জামানা গুলোতে) তোমাদের ওলামা(-ই-কেরাম) এবং তোমাদের ভালো লোকগুলি (একে একে দুনিয়া থেকে) বিদায় নিবেন। এরপর এমন সব গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, যারা (কুরআন ও সুন্নাহ’র শরয়ী বিধিবিধান গুলোকে পিঠের পিছনে ফেলে দিয়ে) তাদের (ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রিয়) বিষয়গুলোকে নিজেদের (নিছক বিবেকপ্রসূত যুক্তি-নির্ভর) মতামত সমূহের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিবে। ফলে ইসলাম (দুনিয়া থেকে) বিলুপ্ত(প্রায়) ও অথর্ব(প্রায়) হয়ে যাবে”। [আল-বাদউ, ইমাম ইবনে ওযায়হ- ১/৭০ হাদিস ৭৮; সুনানে দারেমী- ১/৭৬ হাদিস ১৯৪; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী- ১/৫১৭ হাদিস ২১০ ও ২১১; আল-মু’জামুল কাবীর, ইমাম ত্বাবরাণী- ৯/১০৯ হাদিস ৮৫৫১; সুনানুল কুবরা, ইমাম বাইহাকী- ৩/৩৬৩]; জামেউ বায়ানিল ইলম, ইমাম ইবনু আব্দিল বার- ২/১০৪৩ হাদিস ২০০৯]
কোন মন্তব্য নেই