সম্প্রতি (কিছুদিন আগে) আফগানিস্তানে একাকী নারীদের দূরের পথ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালিবান । নির্দেশনায় বলা হয়েছে কোন নারী যদি সড়কপথ...
সম্প্রতি (কিছুদিন আগে) আফগানিস্তানে একাকী নারীদের দূরের পথ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালিবান । নির্দেশনায় বলা হয়েছে কোন নারী যদি সড়কপথে ৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দেয় তাহলে তার সাথে পরিবারের কোন পুরুষ আত্মীয়কে থাকতে হবে। এমনকি নির্দেশনায় আরও বলা হয় যে গাড়ির মালিকরা যেন হিজাব ছাড়া নারীদের গাড়িতে না তোলেন। [1]; [2]
কিন্তু এ নিয়ে ইসলামী ইমারতে আফগানিস্তানের মিডিয়ায় যতোটা না তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে আমাদের দেশীয় মিডিয়ায়। এই খবরে যেন রীতিমত গা জ্বলা শুরু করেছে তাদের। আমাদের দেশীয় ‘দালাল’ মিডিয়ার মতে এতে করে নাকি আফগান নারীদের ‘স্বাধীনতা’ হরণ করা হচ্ছে, কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের থেকে কথিত ‘নারী অধিকার’।
কিন্তু আসলেই কি নারীদের কাছ থেকে তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে তালিবান? আমাদের দেশীয় মিডিয়ার দাবি কি আসলেই সঠিক? চলুন একটু দেখে নেওয়া যাক যে কেনো নারীদের জন্য এমন নির্দেশনা জারি করলো তালিবান।
নারীদের জন্য এই নির্দেশনা তালিবান কেন জারি করলো সেটা বুঝতে হলে খুব বেশি বুদ্ধিজীবী হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণটি খুব সহজেই অনুমেয়। আর তা হলো নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। কিন্তু নারীদের এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি কেন জানি সহজেই মেনে নিতে পারছে না দেশীয় দালাল মিডিয়া এবং সেক্যুলাররা। কিন্তু কেন তারা মেনে নিতে পারছে না সেটাও একবার দেখে নেওয়া যাক।
‘কট্টর পন্থী’ (?) তালিবান আসার আগে কেমন ছিলো কথিত ‘গণতান্ত্রিক’ আফগানিস্তানের নারীরা?
প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির আমলে এক নারী সরকারী চাকরীর জন্য প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর কাছে গেলে সে সেই নারীকে নিজ অফিসে ডাকে এবং তাকে তার সাথে রাত কাটাতে বলে। এতে সেই নারী রাজি না হয়ে ফিরে আসে এবং তার ব্যপারে অভিযোগ করলে তাকে প্রত্যুত্তরে বলা হয় যে “মনে করো তোমার ব্যাংক একাউন্টে অনেক টাকা পাঠানো হয়েছে এবং তুমি তা প্রত্যাখ্যান করেছো”। [3]
আফগানিস্তানের নারী ফুটবলারদের কথা ধরা যাক। যে খেলাধুলাকে অস্ত্র বানিয়ে মিডিয়া এবং সেক্যুলার গোষ্ঠীরা এতো মায়াকান্না কেঁদেছে সেই নারী ফুটবলারদের অবস্থা কথিত গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের সময় কেমন ছিলো?
২০১৮ সালে আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা অভিযোগ করে যে তারা তাদের কোচ এবং কোচিং স্টাফদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এ অভিযোগের পরে ফিফা সেটি তদন্ত করে এবং সেখানে আসল সত্যটি বের হয়ে আসে। তদন্ত করে জানা যায় যে আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা জর্ডানে একটি ট্রিপের সময় দুজন পুরুষ প্রতিনিধির সাথে যায়। এদের একজন ছিলো ‘মহিলা ফুটবলের প্রধান’ এবং অন্যজন ছিলো ‘সহকারী কোচ’। তারা মেয়েদের বারবার যৌন হয়রানি করছিল কারণ তারা জানত যে এই মেয়েগুলো কথা বলবে না। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি কে এই বিষয়ে জানানো হলে সে সবাইকে চুপ থাকতে বলে এবং বলে তোমরা ফুটবল খেলে দেশে আসলে তাদের দু’জনকে শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু দেশে ফেরার পর উল্টো সে দু’জনের পদোন্নতি করা হয়। [4]; [5]
এমনকি বাচ্চা ছেলেরাও কথিত গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের সময় নিরাপদে ছিলো না। সে সময়ে বাচ্চা ছেলেদের দিয়ে আফগান সৈন্যরা ‘বাচ্চা বাজি’ করাতো। সেই বাচ্চা বাজিতে কম বয়সী ছেলেদের স্টেজে নাচাতো এবং পরে তাদের দিয়ে নিজেদের বিকৃত যৌনক্ষুধা নিবারিত করতো। [6]; [7]
এই হচ্ছে তাদের কথিত ‘নারী অধিকার’ যা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা মায়াকান্না কাঁদে। তারা মানুষদের বোঝাতে চায় যে আফগান নারীরা সুখে নেই। পশ্চিমা বিকৃত সংস্কৃতির প্রমোটারদের সাক্ষাৎকার দ্বারা তারা বিশ্বে উপস্থাপন করতে চায় সমগ্র আফগান নারীদের।
আসলে এই দালাল মিডিয়া এবং সেক্যুলাররা চায় না যে নারীরা নিরাপদে থাকুক। তারা চায় না যে ইসলামে নারীদের যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠিত হোক। বরং তারা চায় নারীদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে নারীদের নিজেদের সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে। যাতে করে তারা নারীদের পড়াতে পারে পরাধীনতার শেকল। যাতে করে তারা নারীদের নিজেদের ভোগ্যপণ্য বানাতে পারে ইচ্ছেমতো।
Reference Links:
1. Rukshana Media- Taliban banned women’s travel without Mahram
2. বিবিসি বাংলা- আফগানিস্তান: তালেবান একা নারীদের জন্য দূর পথ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে
3. BBC News- The sex scandal at the heart of the Afghan government
4. BBC News- Afghan women’s football dream turns into nightmare
কোন মন্তব্য নেই