Page Nav

HIDE

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Grid

GRID_STYLE

শিরোনাম

latest

মনস্তাত্ত্বিক ও মিডিয়া জিহাদ

এ ভূখন্ডে যাদেরকে আল্লাহ তাওহিদ ও জিহাদের ব্যাপারে হেদায়েত দান করেছেন তাদের সকলের জন্য আবশ্যক হল সাধ্যমত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অ...

এ ভূখন্ডে যাদেরকে আল্লাহ তাওহিদ ও জিহাদের ব্যাপারে হেদায়েত দান করেছেন তাদের সকলের জন্য আবশ্যক হল সাধ্যমত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। তাই সকল তাওহিদবাদী ভাই-বোনদের আমরা এ যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনের আহবান জানাচ্ছি। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন ময়দান হল মিডিয়া। মনস্তাত্ত্বিক ময়দানে তথা মিডিয়া জিহাদের ক্ষেত্রে মুজাহিদ ভাইদের বিশেষভাবে যে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজনঃ – সাধারণ মুসলিম জনগণকে সামনে রেখে মিডিয়া কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপন করুন। জনবিচ্ছিন্ন প্রচারণা, জনবিচ্ছিন্ন গেরিলার চাইতেও দুর্বল। মনে রাখুন, আমরা নিজেদেরকে উম্মাহর মাঝে অভিজাত কিছু বলে মনে করি না, বরং নিজেদেরকে উম্মাহর অংশ মনে করি। মিডিয়ার কার্যক্রম তখনই কার্যকর হয়, যখন তা গণমানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করা হয়।

আগ্রাসী ক্রুসেডার, যায়নবাদি ও ব্রাহ্মণ্যবাদি গোষ্ঠীর চক্রান্ত সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করে তুলুন। তাদের অনুগত শাসকগোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং কাফির-মুশরিকদের আজ্ঞাবাহী মিডিয়ার অপকর্ম জনগণের সামনে তুলে ধরুন।

তাওহিদের সম্পূর্ণ ও সঠিক ব্যাখ্যা উম্মাতের সামনে সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে ধরুন। বিধান এবং সার্বভৌমত্ব যে কেবল একমাত্র আল্লাহরই

এ বিষয়টি তাদেরকে জানিয়ে দিন। – গণতন্ত্রের বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতারণা, গণতন্ত্র ও ইসলামের সংঘাত এবং সর্বোপরি মানব রচিত ব্যবস্থার বিভ্রান্তির মোকাবেলায় আসমানী বিধানের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব মানুষের সামনে তুলে ধরুন। বিভিন্ন মানবরচিত মতবাদের অনুসরণকারী দলের সাহায্য-সমর্থনের ঈমান-বিধ্বংসী পরিণাম সম্পর্কে মুসলিম জনগণকে সচেতন করে তুলুন।

ইসলামভিত্তিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সকল ভূমিসমূহের মুসলমানদের ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করুন। উম্মাহর উপর ক্রুসেডার, হিন্দু, বৌদ্ধ ও ইহুদিদের আক্রমণের ব্যাপারে আপনার চারপাশের মুসলিমদেরকে, উলামায়ে কিরামকে নিয়মিত অবহিত করুন।

আল্লাহর রাহে ভালোবাসা এবং আল্লাহর রাহে শত্রুতার মূলনীতি সম্পর্কে উম্মাহকে অবহিত করুন। উম্মাহর এই কঠিন সময়ে যেন প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী উম্মাহর সাহায্যে এগিয়ে যায়, এর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করুন।

তাগুতী শাসনব্যবস্থা ও মুরতাদ শাসকগোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করতে উম্মাতকে উদ্বুদ্ধ করুন। নিশ্চয় এ হল নবীওয়ালা একটি দাওয়াতী কাজ। আর এরা তো এমন পর্যায়ের তাগুত যারা মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে মুশরিকদের আরাধ্য দেবী ‘দুর্গার’ কাছে প্রার্থনা করার আহবান জানায়। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোন উপাস্যের কাছে দুয়া করার আহবান জানানোর ধৃষ্টতা এ জমিনের অন্য কোন তাগুত এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। হে মুসলমানগণ, এদেরকে সর্বাত্মকভাবে পরিহার করুন।

শিথিলতা ও চরমপন্থা থেকে মুক্ত সঠিক মানহাজ, উম্মাহর কল্যাণের জন্য আত্মত্যাগকারী মুজাহিদিন এবং উম্মাহর উপর জোরপূর্বক কর্তৃত্ব দাবিকারীদের মাঝে পার্থক্য সাধারণ মুসলিমদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। নিশ্চয়ই এ দুটি অসম বিষয়কে সমান প্রমাণ করতে দাজ্জালী মিডিয়া সর্বদা সচেষ্ট।

উম্মাহর প্রতি নবীওয়ালা মহব্বত রেখে দাওয়াতী কাজ পরিচালনা করুন, কঠোরতা পরিত্যাগ করুন। দাওয়াত পৌছানোর ক্ষেত্রে উত্তম আদব বজায় রাখুন। অত্যাধিক হাসি-তামাশা, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ে বাক-বিতন্ডা ইত্যাদি পরিত্যাগ করুন। নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ছিলেন উত্তম আদব ও আখলাকের অধিকারী। তারা আরামপ্রিয় কিংবা অলস ছিলেন না। নিশ্চয় তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, যারা যৌবনে পদার্পনের পরও অধিকাংশ সময়ই কিশোরদের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন আমোদ-প্রমোদে মেতে থাকে। তারা ছিলেন উগ্রতা ও ভাঁড়ামিপূর্ণ আচরন থেকে মুক্ত।

অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাওয়াহ ইলাল্লাহ জারি রাখুন। বিভিন্ন ই-মেইল গ্রুপ, ফেইসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদির মাধ্যমে তাওহীদ ও জিহাদের দাওয়াহ, এ সংক্রান্ত বই, প্রশ্নোত্তর, অডিও, ভিডিও ছড়িয়ে দিন। মুজাহিদিনের প্রচারনার কাজে ইন্টারনেট, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে সময়ের অপচয় এবং অন্তরে নিফাক্ব ও রিয়া সৃষ্টির ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব ব্যাপক। এ হল এমন এক অস্ত্র যা অস্ত্রধারনকারী এবং শত্রু উভয়েরই ক্ষতি করতে সক্ষম। এ মাধ্যমকে কিভাবে আপনি ব্যবহার করবেন তা সম্পূর্ণভাবে আপনার সিদ্ধান্ত। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের এ ময়দানে আপনি সময় কাটাতে পারেন ইখলাসের সাথে আল্লাহর দ্বীনকে এবং মুজাহিদিনকে নুসরত করার কাজে অথবা আপনি এ মাধ্যমকে ব্যবহার করতে পারেন অলস বিনোদন, মূল্যহীন আড্ডা আর অপ্রয়োজনীয় কথার মাধ্যমে সময় নষ্ট করে।

❝অন্তরের ওষুধ ৫টি: . ১) তাদাব্বুরের সাথে কুর’আন তিলাওয়াত, ২) খালি পেট, ৩) কিয়ামুল লাইল, ৪) শেষ রাতের বিনীত প্রার্থনা, ৫) নেককারদের মজলিস❞ . ~ ইবরাহীম আল খাওয়্যাস [রাহ.] . . [ ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.), যাম্মুল হাওয়া, পৃ:৬৪; দারু ইবনিল জাওযী, কায়রো]

কোন মন্তব্য নেই