Page Nav

HIDE

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Grid

GRID_STYLE

শিরোনাম

latest

মাওলানা মওদুদি : মূল্যায়ন ও সমালোচনা

উপমহাদেশে মাওলানা আবুল আলা মওদুদিকে যারা কাছ থেকে দেখেছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন শাইখ আবুল হাসান আলি নদবি রহি.। আর যারা একদম পাশে থেকেই মাওলান...

উপমহাদেশে মাওলানা আবুল আলা মওদুদিকে যারা কাছ থেকে দেখেছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন শাইখ আবুল হাসান আলি নদবি রহি.।

আর যারা একদম পাশে থেকেই মাওলানার চিন্তা ও কর্মকে জেনেছেন, উপলব্ধি করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন মাওলানা মনজুর নোমানি রহি.।

এ দুই মনীষী মাওলানার কর্ম ও চিন্তার সমালোচনায় দু’টো কিতাব লিখেছেন। এই দুইটি বইয়ে ব্যক্তি মাওলানা মওদুদি না কোন আক্রমণের শিকার হয়েছেন, আর না কোন বিদ্বেষের।

বরং এ বই দু’টোর পরতে পরতে শুধু মাওলানার চিন্তা ও কর্মই সমালোচিত হয়েছে। আমার চোখে মাওলানা মওদুদির বিপক্ষে যতো বই বা লেখা পড়েছে, উক্ত শাইখদ্বয়ের লেখার মতো এতোটা ইনসাফপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ লেখা আর দেখি নি। আমরা কি পারি না উনাদের মতো করে সমালোচনা করতে ? আমাদের কি উচিত নয়, মাওলানার ব্যাপারে আরো সংবেদনশীল হওয়া ? জানেন, তাকি উসমানি হাফিঃ ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমিরে মুয়াবিয়া’ বইয়ে কতো নম্র ভাষা ব্যবহার করেছেন ! বইটি লেখার সময় এভাবে নম্র ভাষায় সমালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ আল্লামা তাকি উসমানি হাফি: এর পিতা মুফতি শফি রহি.। মাওলানা মওদুদির অবদান সম্পর্কে বলতে গেলে আমাকে তুলোধুনো করা হবে জানি।

তাই এ সম্পর্কে সবাইকে পরামর্শ দিবো শাইখ নদবির ‘পুরানে চেরাগ’ পড়তে। আমি সমালোচনার ভয়ে শুধু মাওলানা বলেছি। কিন্তু শাইখ নদবি উস্তায ব্যবহার করেন স্বচ্ছন্দে। জানেন, এ মাওলানাকে ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে আমাদের আকাবিররাই ছাড়িয়ে এনেছেন। সেই মাওলানার ব্যাপারে দু’চারটা বলতে হলে আকাবিরকে সামনে রাখতে হবে।

না হয় আমরা মিসদাক হবো এ আয়াতের- ۖ وَلَا يَجۡرِمَنَّكُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ عَلٰٓى اَ لَّا تَعۡدِلُوۡا‌ ؕ” কোন কওমের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে বেইনসাফির অপরাধে জড়িয়ে না ফেলে!” ( মায়েদাঃ আয়াত নং ৮) আমি এ দুইজন শাইখের দৃষ্টিকোণ দিয়ে মাওলানা মওদুদিকে বিচার করার কারণ হলো- দেওবন্দি যেসব আলিমগণ মাওলানা মওদুদির সান্নিধ্যে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন, তাদের অন্যতম হলেন শাইখ নদবি ও শাইখ নোমানি।

তাই আমার মতে তারা মাওলানা মওদুদিকে যতোটা উপলব্ধি করেছেন, অন্যরা সেভাবে উপলব্ধি করতে পারেন নি। এটা স্বাভাবিক। এরপরও কেউ যদি এই শাইখদ্বয়ের সমালোচনাকে যথাযথ হয় নি বলে আক্ষেপ করে থাকেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলবো- এখানে শাইখাইনের ই’তিদালি মেজায কি যথার্থ ছিলো না? তারা কি মাওলানার প্রতি কোনরুপ শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন? তাহলে তো শাইখাইনের প্রতি ইলযাম এসে যাবে, তারা দ্বীনের স্পর্শকাতর বিষয়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন! নাউজুবিল্লাহ!

অথচ উনাদের দু’জনেরই কাদিয়ানির বিরুদ্ধে কট্টর ভাষায় লেখা কিতাব আছে! মাওলানার অনেক লেখার কারণে উম্মাহর ক্ষতি হয়েছে, এটা অনস্বীকার্য।মাওলানার কর্ম ও চিন্তার ভুল নিয়ে অনেক বড় বড় চিন্তাবিদরা লিখেছেন। আমাদের আকাবির তো লিখেছেনই।

জামাতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে জামাত ত্যাগ করে মাওলানার চিন্তা ও কর্মের সমালোচনা করেছেন। তাদের অন্যতম হলেন, ওয়াহিদুদ্দিন খান ও ডা. ইসরার আহমদ রহি.। এছাড়া ইখওয়ানের দ্বিতীয় মুর্শিদ হাসান হুদ্বাইবিও লিখেছেন তার ‘দুয়াত,লা ক্বুযাত’ বইয়ে। মাওলানা মওদুদি কর্তৃক নিযুক্ত উভয় পাকিস্তানের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহিম জীবনের সায়াহ্নে এসে জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক দর্শনের সমালোচনা করে নিজেকে জামায়াত থেকে পৃথক করে নিয়েছেন।

প্রকারান্তরে মাওলানা মওদুদির চিন্তা ও দর্শনকেই সমালোচিত করেছেন। তার চিন্তা ও কর্মের ভুলগুলো শুধরানোর জন্য তাকে শাইখদ্বয় চিঠিও পাঠিয়েছেন। সে চিঠির সন্তোষজনক জবাবও দিয়েছেন। শাইখ নদবির এক চিঠি পেয়ে বলেছেন- ‘ আমি ভুলের উর্ধ্বে নই। আমি আপনার কথা অনুসারে আমার সমস্ত লেখা আবার পুনঃ পর্যবেক্ষণ করবো’ দুঃখজনক বিষয় হলো, তখন মাওলানার জীবনের শেষ সময় ছিলো। জানি না, তিনি তার ভুলগুলো দেখেছেন কি না, বুঝতে পেরেছেন কি না। তবে শেষ জীবনের এ স্বীকৃতি তার ব্যক্তিত্বের কোন দিকটি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয়,তা আজকে নতুনভাবে আমাদের ভাবতে হবে।

১৯৭৯ সালের এইদিনে মাওলানা মওদুদি আমেরিকান একটি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। জানাজা পড়ানোর কথা ছিলো মসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ আব্দুল্লাহ বিন সুবাইল।( যিনি হাজি ইউনুস রহি. এর দাওয়াতে পটিয়া মাদরাসায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।) শাইখ সুবাইল কোন কারণে আসতে না পারায় মাওলানা মওদুদির নামাজে জানাজা পড়ান শাইখ ইউসুফ কারযাবি।* সেদিন মাওলানা মওদুদির স্মরণে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় একটি শোকসভার আয়োজন হয়। সেখানে মাওলানা মানজুর নোমানি রহি. দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। শাইখ আলি নদবি রহি. তখন দিল্লিতে ছিলেন বলে শোকসভায় যোগ দিতে পারেন নি। পরে সেই রাতে আরেকটি প্রোগ্রামে মাওলানা মওদুদির স্মরণে বিশেষভাবে আলোচনা করেন।

মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ হাফিঃ মাদরাসাতুল মাদিনার এক মজলিসে মাওলানা মওদুদির ভুলগুলো নিয়ে ভীষণ আফসোস করে বলেন, উম্মাহর সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি স্পর্শ না করলেই পারতেন। এছাড়া তিনি উম্মাহর অনেক বড় খিদমাত আঞ্জাম দিয়েছেন। আল্লাহ তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাত দান করুন। ( উক্ত মজলিসে অধম নিজেই উপস্থিত ছিলাম।

এই কথাগুলো বলার সময় উস্তাযে মুহতারাম আদিব হুজুর হাফি: এর কন্ঠ ও চেহারায় দরদ ও ভালোবাসা স্পষ্ট ছিলো) ★ মাওলানা মওদুদির যেসব লেখা পশ্চিমা চিন্তাধারাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বাধাগ্রস্ত করেছিলো এবং উম্মাহকে চরম এক সংকটের মোকাবেলা করতে সহজ করে দিয়েছিলো, সেই লেখার উসিলায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে তার প্রিয় বান্দাদের সাথে জান্নাতে একত্রিত করুন। আজকের দিনে হৃদয় থেকে এই প্রার্থনাটাই করতে চাই।

সার সংক্ষেপ:

উস্তদি সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদী রহ.
استاد سيد ابوالأعلي مودودي رحمه الله

১ম আমিরজামায়াতে ইসলামীর
অফিসে
২৬ আগষ্ট ১৯৪১ – অক্টোবর ১৯৭২
পূর্বসূরী
অবস্থান প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরী
মিয়াঁ তুফায়েল মোহাম্মদ
উপাধি
আমীরশাইখুল ইসলামইমামআল্লামাসাইয়েদমুজাদ্দিদআমীর
ব্যক্তিগত
জন্ম
২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩
আওরঙ্গাবাদ, মহারাষ্ট্রহায়দ্রাবাদব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু
২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ (বয়স ৭৫)
বাফেলো, নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র
ধর্ম: ইসলাম
যুগ :বিংশ শতাব্দী
আখ্যা :সুন্নি
বংশ: হুসাইন ইবনে আলী ও মঈনউদ্দিন চিশতীর মাধ্যমে মুহাম্মদের সরাসরি বংশধর
ব্যবহারশাস্ত্র:কুরআন হাদিস ইজমা
আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী
প্রধান আগ্রহ
তাফসিরহাদিসফিকহরাজনীতিঅর্থনীতিইসলামী আন্দোলনসংস্কৃতি
মুসলিম নেতা
যার দ্বারা প্রভাবিত[দেখুন]
যাদের প্রভাবিত করেন[দেখুন]
ওয়েবসাইট: www.maududi.org (আর্কাইভ)

কোন মন্তব্য নেই