উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহু আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. এর কিতাবুল জিহাদ (যা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ হাফি. কর্তৃক অনূদিত...
উস্তাদে মুহতারাম মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহু আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. এর কিতাবুল জিহাদ (যা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ হাফি. কর্তৃক অনূদিত)
এর ভূমিকায় জিহাদ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনার পর লেখেন: ‘জিহাদে আকবর কিসের নাম? উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই ঐসব লোকের ভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে গেছে, যারা “জিহাদ মা‘আল কুফফার” ও ক্বিতাল ফী সাবীলিল্লাহ”র গুরুত্বকে খাটো করার জন্য জিহাদে আকবর (বড় জিহাদ) ও জিহাদে আসগরের (ছোট জিহাদ) দর্শন ব্যবহার করেন।
তাদের বক্তব্য হলো নফসের (প্রবৃত্তি) বিরুদ্ধে জিহাদই বড় জিহাদ এবং ক্বিতাল ফী সাবীলিল্লাহ হলো ছোট জিহাদ! এই ভুল ধারণার ভ্রান্তি প্রমাণের জন্য নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলার পরিবর্তে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)- এর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা উদ্ধৃত করার প্রয়াস পাব।
হযরত বলেন- “আজকাল সাধারণভাবে মানুষের ধারণা এই যে, কাফেরদের সাথে লড়াই করা জিহাদে আসগর (ছোট জিহাদ) এবং নফসের মুজাহাদা (কুপ্রবৃত্তির দমন ও আত্মশুদ্ধি) জিহাদে আকবর (বড় জিহাদ)।
যেন তারা নিভৃতে নফসের মুজাহাদায় নিমগ্ন হওয়া থেকে কাফেরদের সাথে লড়াই করাকে সকল ক্ষেত্রেই নিম্নমানের মনে করে!
এই ধারণা ঠিক নয়; বরং বাস্তবে কথা হল, কাফেরদের সাথে লড়াই করা ইখলাস শূন্য হলে বাস্তবিকপক্ষেই তা নফসের মুজাহাদা থেকে নিন্মস্তরের কাজ। এ ধরনের লড়াইকেই জিহাদে আসগর এবং এর বিপরীতে নফসের মুজাহাদাকে জিহাদে আকবর বলা হয়েছে। কিন্তু কাফেরদের সাথে লড়াই যদি ইখলাসপূর্ণ হয়; তবে এই লড়াইকে জিহাদে আসগর বলা গাইরে মুহাকক্বিক (অগভীর জ্ঞানের অধিকারী) সুফীদের বাড়াবাড়ি; বরং এই লড়াই অবশ্যই জিহাদে আকবর এবং তা নিভৃতে নফসের মুজাহাদায় নিমগ্ন হওয়া থেকে উত্তম।
কেননা যে লড়াই ইখলাসপূর্ণ হবে তাতে নফসের মুজাহাদাও বিদ্যমান থাকবে। সুতরাং এতে উভয় জিহাদের ফযীলতই একত্রিত হচ্ছে।
সূত্র: (আল ইফাযাতুল ইয়াওমিয়্যাহ: খ: ৪, হিসসা: ৫, পৃ: ৮২, মালফূয: ১০৪১)
কোন মন্তব্য নেই