||সাইফুল্লাহ খালিদ আলহুদা|| আল্লামা তক্বী উসমানী (হাফি:) এর একটি লেখা পড়েছিলাম, “যদি আমাকে বড় বড় মাহফিলে দাওয়াত না করা হয়, বা বড় কোন (...
||সাইফুল্লাহ খালিদ আলহুদা||
আল্লামা তক্বী উসমানী (হাফি:) এর একটি লেখা পড়েছিলাম, “যদি আমাকে বড় বড় মাহফিলে দাওয়াত না করা হয়, বা বড় কোন (পদবী’র) দায়িত্ব দেয়া না হয়, আমি মনে করব, এই কঠিন কাজগুলি আল্লাহ তাআলা আমার মাধ্যমে না করিয়ে অন্য মুসলমানের মাধ্যমে করিয়ে নিচ্ছেন, এবং আমাকে অন্য ভাল কাজ করার জন্য সময় সুযোগ করে দিচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ ”
আমার জানতে ইচ্ছে করে, কোন দ্বীনী সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদবীগুলো কি তাঁদের অতীত অবদানের ‘পুরষ্কার’ বা সংশ্লিষ্ট অঙ্গনে মর্যাদাগত অবস্থানের ‘স্বীকৃতি’ স্বরূপ দেয়া হয়ে থাকে, নাকি ভবিষ্যতের কর্মতৎপরতা সুচারুরূপে পরিচালিত হওয়ার জন্য যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কর্মনিষ্ঠদেরকে জাতির পক্ষ থেকে “দায়িত্ব” দেয়া হয়ে থাকে ?
যদি সামাজিক মর্যাদাগত অবস্থান অথবা অতীত অবদানের কারণে নিজেকে পদ পাওয়ার হক্বদার হিসেবে মনে করেন, তাহলে বুঝতে হবে ওই বুযুর্গ ব্যক্তির ইখলাছ শূন্যের কোটায়। আর যেসব মূর্খ ভক্তরা তাদের হুজুরদের পদ না পাওয়ার ক্ষোভে ‘গোস্বা’ দেখাচ্ছেন, তারাও ইখলাছ কী জিনিস, সেটার চর্চা করেননি।
বস্তুতঃ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য বা ইখলাছ এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়; যা প্রতিনিয়ত তাজদীদ বা নবায়ন করতে হয়। বিষয়টি এমন নয় যে, একবার একটি নিয়্যত করে রাখল, পরে অসংখ্যবার মানসিক ফাসাদের পরেও তা অক্ষুণ্ণ থাকল।
একই কথা ইসলামী দলগুলির ঐক্য অনৈক্যের বিষয়েও। পদলোভীদের কাঙ্খিত পদায়ন হয় না বলে উনারা ঐক্য করতে নারাজ। বা ঐক্য করলেও সামান্য মতানৈক্যে ‘গোস্বা’ দেখিয়ে পট করে ঐক্য ভেঙে ফেলেন। তাদের অনৈক্যের কারণে উম্মত যে যুগ যুগ ধরে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এখলাছবিহীন দুনিয়ালোভী তথাকথিত বুযুর্গ নেতারা এই সত্যটা অনুধাবন করতে পারেন না।
তারা এবং তাদের মূর্খ ভক্ত ও দলান্ধ অনুসারীরা ইসলামী সংগঠন ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচলিত ধারার বস্তুবাদ নির্ভর সংগঠন মনে করে থাকেন। এই জন্য সংগঠনের উসীলায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যম খুঁজে না পেলেও কমপক্ষে সম্মানজনক পদবী পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন। পদায়িত হতে না পারলে বা কাঙ্খিত পদ না পেলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেন এবং দল বা সংগঠন ভাঙ্গার জন্য মুনাফিকী করতে থাকেন। ঠিক যেন দুনিয়ার ব্যবসার মত; অর্থ বা সম্মান কোনটাই যখন লাভের পাল্লায় আসেনি, কাজেই ব্যবসা তথা সংগঠন ভেঙে দাও। আর বলদ অসুসারীরাও নেতাদের ঈমান-ইখলাছ না বুঝে —- তিন নাম্বার বাচ্চার মত লাফাতে থাকে; আমার নেতা এটা পাওয়ার —- । এই জন্য ভেঙেছেন ——- এই জন্য যাননি —– ইত্যাদি।
পুনশ্চ : সংগঠনের ‘পদ পাওয়া’ বা ‘পদবী গ্রহণ করা’ ইখলাছবিহীন কৃত্রিম পরিভাষাটি পরিত্যাগ করা উচিত। বরং ‘দায়িত্ব পালন’ বা ‘দায়িত্বশীল হওয়া’ পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই